শ্রদ্ধান্জলি

  • মুর্তজা বশীরের চিত্রভুবনে ও স্মৃতিকথায়

    মুর্তজা বশীরের চিত্রভুবনে ও স্মৃতিকথায়

    মুর্তজা বশীর এই অঞ্চলের প্রথম প্রজন্মের শীর্ষ শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। এই সেদিন (১৫ আগস্ট ২০২০) তাঁর প্রয়াণ হলো। দীর্ঘদিন থেকে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করেছেন। আট বছর আগে একবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ফিরে এসেছিলেন ফার্মগেট-সংলগ্ন মনিপুরিপাড়ায় নিজ গৃহে ও স্টুডিওতে। শরীরে অক্সিজেন পরীক্ষার যন্ত্র বসানো হয়েছিল। সর্বক্ষণ পরীক্ষা…

  • মুর্তজা বশীর – কেবল শিল্পের কাছেই হাত পেতেছেন

    মুর্তজা বশীর – কেবল শিল্পের কাছেই হাত পেতেছেন

    গত ১১ ফেব্রুয়ারি চিত্রচর্চা বইটি নিয়ে শিল্পী মুর্তজা বশীরের মনিপুরিপাড়ার অ্যাপার্টমেন্টে যাই – সে-দিনটির কথা খুব বেশি মনে পড়ছে। একজন বড়মাপের মানুষ, যিনি এ-দেশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তরুণ বয়স থেকে। ভাষা-আন্দোলনের ওপর প্রথম যে-কজন ছবি এঁকেছেন, এর নান্দনিক দিক ও চেতনার রংকে ভাষায় রূপ দিয়েছেন, তিনি তো তাঁদেরই একজন। ৮৭ বছরে এসেও সৃজনে নির্মাণে…

  • মুর্তজা বশীর : শিল্পভুবনের ব্যতিক্রমী নক্ষত্র

    মুর্তজা বশীর : শিল্পভুবনের ব্যতিক্রমী নক্ষত্র

    শিল্পী মুর্তজা বশীর বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পচর্চার অন্যতম পুরোধা। পঞ্চাশের দশক থেকে তাঁর চিত্রকর্ম এদেশের আধুনিক শিল্পকলায় নতুন মাত্রা সংযোজন করে এসেছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও তাঁর কর্মস্পৃহা স্তিমিত হয়ে যায়নি। বার্ধক্য তাঁর তরুণ মনকে অবদমিত করতে পারেনি। এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্বের অধিকারী এই শিল্পী তাঁর মেধা ও মননকে সঙ্গী করে শিল্পাঙ্গনের চড়াই-উতরাই সাবলীলতায় পাড়ি দিয়েছেন। তাঁর…

  • পাখি হতে চেয়েছিল  ডানা ছিল না

    পাখি হতে চেয়েছিল ডানা ছিল না

    আমার বড় চাচা বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের বন্ধু ছিলেন মুর্তজা বশীর। আমার আব্বার বাসা ছিল তখন (১৯৫১-১৯৫৬) স্বামীবাগে। সেখানে আব্বা, আম্মা, আমি ছাড়াও থাকতেন আমার বড় ও মেজো চাচা মহীউদ্দিন খান আলমগীর ও আমার ছোট ফুপু নীলুফার বেগম। সে-বাসায় আমার বড় চাচার বন্ধুরা – হাসান হাফিজুর রহমান, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী থেকে মুর্তজা বশীরের ছিল নিত্য আসা-যাওয়া।…

  • মুর্তজা বশীর : স্বাতন্ত্র্য ও বৈচিত্র্যের বিরল সমন্বয়

    মুর্তজা বশীর : স্বাতন্ত্র্য ও বৈচিত্র্যের বিরল সমন্বয়

    বাংলাদেশের দৃশ্যকলা জগতে সৃজনশীলতায় সবচেয়ে ঝলমলে ও বর্ণাঢ্য চরিত্রের মানুষটি চলে গেলেন। চলে গেলেন মুর্তজা বশীর, পঞ্চাশের দশকের একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পীর শেষ জন, সম্ভবত সর্বাপেক্ষা স্বতন্ত্র ও বৈচিত্র্যময় প্রতিভার মানুষটি। অবসিত হলো বাংলাদেশের দৃশ্যকলা জগতের সূচনাপর্বের একটি তারকাখচিত যুগ। বাংলাদেশের শিল্পকলার পরিসরে মুর্তজা বশীর আজ অপরিহার্য ও অবশ্য-উল্লেখ্য নাম। ১৯৪৭-এর দেশবিভাগের পর সদ্য বিকাশমান এই…

  • মুর্তজা বশীর : বিরল প্রতিভা

    মুর্তজা বশীর : বিরল প্রতিভা

    এক পনেরোই আগস্টেই যেতে হলো বাংলাদেশের এক শ্রেষ্ঠ সন্তান মুর্তজা বশীরকে। এবং তাও সকালের দিকেই। তাঁর জন্মও হয়েছিল আগস্ট মাসে, সতেরোই আগস্ট ১৯৩২। পনেরোই আগস্ট বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে শোকাবহ দিন। এই দিনেই বাংলার শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও শিক্ষা জগৎ হারালো মুর্তজা বশীরকে। তাঁর মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবে অসংখ্য জনের মতো আমিও দুঃখভারাক্রান্ত। আমি তাঁকে চিনতাম, জানতাম সেই ১৯৫০…

  • বটবৃক্ষের ছায়া যেমন

    বটবৃক্ষের ছায়া যেমন

    আনিসুজ্জামান স্যারের সঙ্গে কবে যে পরিচয়, সে-কথা মনে পড়ে না। কবে যে ঘনিষ্ঠতা বা তাঁর স্নেহের ছায়ায় আশ্রয় মিলল, সে-কথা মনে পড়ে না। মনে হয় জন্মের পর থেকেই তিনি আমার মাথার ওপর ছিলেন। আমার দশ দিক জুড়ে ছিলেন। স্যার ছিলেন বটবৃক্ষের মতো। তাঁর ছায়ায় দাঁড়িয়ে তনুমন জুড়িয়েছে। তাঁর মুখপানে তাকালে যে-আলোর ছটা দেখা যেত সেই…

  • জনগণের বুদ্ধিজীবী’ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

    জনগণের বুদ্ধিজীবী’ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

    ভরসার বাতিঘর, জাতির বিবেক, পথপ্রদর্শক, ধর্মান্ধতা ও কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে সাহসী যোদ্ধা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তবুদ্ধি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সংরক্ষণে সদা সক্রিয় আমাদের প্রিয় আনিসুজ্জামান স্যার চিরবিদায় নিয়েছেন। তারপর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে যে-শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা অপূরণীয়। বিশেষ করে এই করোনা-দুর্যোগের সময় তাঁর মতো প্রজ্ঞাবান জাতীয় ব্যক্তিত্বের অভাব খুবই অনুভূত হচ্ছে। স্যারের সঙ্গে…

  • আনিসুজ্জামান : এক মানবভাষার সন্ধানে

    আনিসুজ্জামান : এক মানবভাষার সন্ধানে

    নক্ষত্রমালা থেকে এক অন্ধকার স্বচ্ছতা নেমে আসছে, সাদা বাষ্পে ঢেকে যাচ্ছে আমাদের অস্তিত্ব, এক মারণ জীবাণু এসে আমাদের নিঃস্ব মৃৎপাত্র দিয়েছে ভেঙে। যখন আমরা পাসকালের মতো ভাবছি, আমরা এখন তবে কী করব, তখনই আমাদের সর্বনাশের পাল্লা ভারি হতে শুরু করছে, নিভে যাচ্ছে একটির পর একটি আলোকস্তম্ভ, যাদের একজন স্বয়ং অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। আমাদের চারপাশে যখন ক্ষয়…

  • জীবনপঞ্জি : আনিসুজ্জামান

    জীবনপঞ্জি : আনিসুজ্জামান

    ১৯৩৭ ১৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৭-এ কলকাতায় আনিসুজ্জামানের জন্ম। তাঁর পুরো নাম আবু তৈয়ব মোহাম্মদ (এ. টি. এম) আনিসুজ্জামান। পৈতৃক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার মোহাম্মদপুর গ্রামে। পিতামহ সুধাকর, মিহির, হাফেজ, মিহির ও সুধাকর, মোসলেম হিতৈষী প্রভৃতি পত্রিকার সম্পাদক এবং হজরত মহম্মদের জীবনচরিত ও ধর্ম্মনীতি (১৮৮৮) প্রভৃতি গ্রন্থের লেখক শেখ আবদুর রহিম (১৮৫৯-১৯৩১)। পিতা খ্যাতনামা…

  • বাংলার যুগপুরুষ আনিসুজ্জামান

    বাংলার যুগপুরুষ আনিসুজ্জামান

    বাংলা সাহিত্য ও ভাষার ইতিহাস রাষ্ট্রের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থেকেও কোনো রাষ্ট্র-সীমান্ত দ্বারা বদ্ধ নয়। সাহিত্য সীমান্ত নয়, দিগন্ত। আনিসুজ্জামানের দীর্ঘ কর্মজীবন এবং পুস্তকসমূহে তিনি আমাদের এই চরম শিক্ষা দিয়েছেন। আনিস স্যারের সঙ্গে আমার প্রথম আলাপ হয় ঢাকা শহরে আমার ডক্টরাল গবেষণাকালে। ২০১৭ সালের আগে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্বন্ধে আমি যা জানতাম সবই বইপড়া বিদ্যা।…

  • তিনিই তো বসন্তজাতক আনিসুজ্জামান

    তিনিই তো বসন্তজাতক আনিসুজ্জামান

    আনিসুজ্জামানের স্বরূপের সন্ধানে বইটি যে-বয়সে পড়ি তার মর্মবস্তু পুরোপুরি অনুধাবনের বয়স সেটি ছিল না। কুমিল্লা জেলার সরকারি গ্রন্থাগারে এক দুপুরে সদ্য স্কুল-পেরুনো আমি বইটির সাদামাটা নামের মধ্যেই যেন কী এক আকর্ষণ খুঁজে পেয়ে পড়তে শুরু করি। গুরুভার বিষয়ে নদীজল-তরতর ভাষার নিপুণ ব্যবহারই যে আমাকে দিয়ে বইটি শেষ অবধি পড়িয়ে নিয়েছিল তা নিশ্চিত একেবারে। এরপর সেই…