August 2019
-
বিদায়ী কঙ্কাল
শামীম হোসেন হৃদপুরের মাস্টারমশাই খুলেছেন এক বিদ্যালয়। কেঁচোকে লিখতে দিয়েছেন ঘাসের রচনা। গাছগুলো চকখড়ি, আকাশকে সেস্নট করে এঁকে বোঝান বিন্দুধারণা। অন্ধশেয়াল হয়ে শেখান অংকের দ্যোতনা। ছাত্ররা সব জি জি করে। সমস্বরে হু-হু করে। এক কাঠবিড়ালি হঠাৎ করে বলে : স্যার, মহিষ কেন খেলো ওলের পাতা? ওই ছোড়াটা ভাঙলো ব্যাঙের ছাতা। বাঘের মতো কুকুরগুলো সব, সুই-সুতাতে…
-
সখ্য
গোলাম কিবরিয়া পিনু আমার নিভৃত কুঁড়েঘরের পাশে ডুমুরগাছটা নিয়ে আমি আছি, হ্যাঁ – আমি দুটি ছাগলও পালন করি, তারা দুগ্ধ দেয়, তাদের ভালোবাসি, ভালোবাসি কাঁঠালগাছে যে-পিঁপড়েরা বসত করে তাদেরও, ঘাসফড়িংও – যে বাবুই পাখিরা আমার খেজুরগাছে বাসা বেঁধে কিচিরমিচির করে, তারা আমারও প্রতিবেশী। উদ্ভিদ ও প্রাণীদের সখ্য নিয়ে আমি প্রতিফলিত ও পরিব্যাপ্ত – সেটা আমার…
-
গোপনীয়তা
রেজাউদ্দিন স্টালিন আঘাত যেখানে হোক চোখ কেঁদে ওঠে, রক্তে রুদ্র শোক অশ্রম্ন হয়ে ফোটে। বাধাই দেয়াল নয় অশ্রম্ন নয় শুধুই বেদনা, কী অর্থে বাঁচা কয় কিসে প্রণোদনা? এতো হত্যা দুঃখদাগ জন্ম তবে কেন দরকারি, কারো কর্ম দায়ভাগ নেবেন কি উত্তরাধিকারী? জীবিত জিজ্ঞেস করে মৃত্যুর পরের সরণি, আর জানলে কী করে তুমি এখনো মরোনি?
-
মৎস্যকুমারী
জরিনা আখতার হয়তো তার ডোরাকাটা শাড়ির পাড়ে চোরকাঁটা লেগে আছে কুয়াশায় ভিজে আছে আঁচল এলোচুল পিঠে ছড়ানো অথবা হাত-খোঁপা কপালে টিপ, চোখে কাজলরেখা হিজল গাছে ফুটে থাকা গুচ্ছ গুচ্ছ ফুলের মতো অলংকার-শোভিত শরীর, হয়তো নয় – অনিন্দ্যসুন্দরী, চোখ-ধাঁধানো রূপে আলোকিত করা চারদিক হয়তো কিছুই নয়; আমি তাকে দেখি না, দেখে না কেউ তবু…
-
দেবী
মৃণাল বসুচৌধুরী শব্দের শূন্যতা নয় তোমার পূর্ণতা নিয়ে সাজুক আকাশ সারাক্ষণ শুধু তাই নিজেকেই ভিখারি সাজাই যদি না বাড়ানো থাকে প্রার্থনার হাত ছিন্নভিন্ন মায়ার সন্ধানে যদি না ব্যাকুল হয় রাহুগ্রসত্ম মানুষের চোখ যদি না পায়ের কাছে পড়ে থাকে প্রতিবাদী সমসত্ম ধনুক নিভু নিভু বালির আগুন…
-
জন্মান্তরের বৃত্তে
শিহাব সরকার নিশ্চিত জানি আমি এখন দিব্যজ্ঞানে আছি কোনো না কোনো জন্মের সত্মরে, এ-ভার সহে না আর, সহে না, সহে না ঢুকে পড়ি জন্মান্তরের বৃত্তে, জন্মে জন্মে বৃত্ত পুরে গেলে পরম শান্তি। বড় কষ্ট, জীবন নষ্ট – লিখেছিল বালক কোনো গতজন্মে অন্য কোনো দেশে শতাব্দী পরে নবজাতকের কান্না, কাঁদে গতজন্মের ছেলে পাহাড়পলিস্নতে না হয় ভিননগরীর…
-
জন্মভূমিকে : তিরিশ বছর পর
শাহজাহান হাফিজ জন্মভূমির এই অশ্রম্নজল, ভালোবাসি আমি। স্মৃতি তুমি, তোমাকেও, নদী তুমি, তোমাকেও; ভালোবাসি, ভালোবাসি আমি! দূরে চাঁদ জ্বলে শুধু, জলের গভীরে তবু নৌকা ভেসে যায়! মাধবী কি ফিরে আসে, মাধবী কি স্বপ্নে ভেসে যায়! তিরিশ বছর কাঁদে অন্তরালে! স্মৃতিময় স্বপ্নসাধ যত, সে কি খুবই দামি? জন্মভূমির সেই শৈশব সংসর্গের সুখ-দুঃখ, …
-
ছোট্ট ছোট্ট প্রেম
শ্যামলকান্তি দাশঅন্ধকারে আগন্তুকের মতো ছোট্ট ছোট্ট প্রেম যাচ্ছে। পান্থশালায় জ্যোৎস্নারাত্রে ছোট্ট ছোট্ট বিবাহ। সিংহদরজার ওপাশে খুব সংক্ষিপ্ত আলো জ্বলছে, বাইরে তার উদ্ভাস নেই, আভা লাগছে না কারো গায়ে। ছোট্ট ছোট্ট সোনার থালায় কবজি ডুবিয়ে পরমান্ন খাচ্ছে লোকজন। এই ছোট্ট ছোট্ট মহৎ আয়োজনগুলো জড়ো করলেই চলিস্নশ ফর্মার কবিতা সংগ্রহ, বাষট্টি ফর্মার দুর্নিবার উপন্যাস।…
-
রচনা
জগতে তোমাকে স্থাপন করিনি আগে নিরুপায় হয়ে এখন করতে হলো মনে যদি কোনো সংশয় জেগে ওঠে আমাকে একটু ফিসফিস করে বোলো। অতি সাবধানে চোখে রেখো দুটি চোখ অক্লেশে রেখো হাতে নির্ভার হাত এ-জীবন যদি মনঃপূত না হয় কী কারণে তবে দিনভর যাতায়াত! কী কারণে এত দিগমেত্ম ছোটাছুটি বনের আড়ালে এতসব জলাশয় ফাঁকা ঘরবাড়ি রচনায় সম্মত…
-

একজন সৈনিক, তার মাতৃভূমি ও মা
[১৫ আগস্ট ১৯৪৫] আকিয়ুকি নোসাকা অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ মহাসাগরে জাপানের বহুদূর দক্ষিণে একফালি বালুময় দ্বীপ, এর একদিকে সাগর আর একদিকে গহিন বন, এরই বেলাভূমিতে পড়ে ছিল এক জাপানি সৈনিকের মৃতদেহ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই জাপানি সেনাবাহিনী এই দ্বীপে নেমেছিল এবং আরো দূর দক্ষিণে আক্রমণ চালিয়ে যাবার জন্য এই দ্বীপটিকেই তারা অবতরণ ঘাঁটি হিসেবে…
-

মারিয়াম নই
নাইমা পারভীন কড়কড়ে নোটগুলো আরেকবার গুনে মারিয়াম ইতসত্মত করল খানিকক্ষণ, শেষমেশ বলেই ফেলল, ‘একটা নোট বেশি দিছেন!’ শরীরে লোলুপ চোখ বুলিয়ে হাসল লোকটি, ‘ভুল হয় নাই! সন্তুষ্ট হয়েই দিছি, শামিত্ম দিছো মেলা! শরীরডা বড় সরস, বয়স কত তোমার?’ দ্রম্নত উঠে দাঁড়াল সে, এলোমেলো কাপড় ঠিক করে, আয়নায় দেখে নিল একবার নিজেকে, ‘আবার দরকার হলে ডাকবেন!…
-

নদীনামা
রুখসানা কাজল লাশটা উলটে দিয়েই লগি হাতে বসে পড়ে জয়নাল, এহ্হে রে! না বলতে চাইলেও মুখ দিয়ে ভেসে আসে কথাগুলো। চোখদুটো যেন পাথর হয়ে যাচ্ছে। রোমকূপগুলো ডগা ডগা হয়ে ফুলে উঠছে। ঠিক সে-সময় নদীটা ঢুকে গেল ওর মাথার ভেতর। পানির ভারে মাথা দুলছে জয়নালের। ছলছল পানির খলবল স্রোতে কলকল করে উঠছে নদী। কী যেন বলতে…
