November-December 2025
-

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : একান্ত স্মরণ
সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘দুর্গাকুমার পাঠশালা’য় না পড়লেও এর প্রতি আমি কেমন এক আকর্ষণ বোধ করি। এর একটিই কারণ – এই পাঠশালা উনিশ শতকের সিলেটের একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ দুর্গাকুমার বসুর নাম ধারণ করে আছে। সিলেটে বালকদের একটি সরকারি স্কুল ১৮৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও স্কুলটি ভালো চলছিল না। সিপাহী বিদ্রোহের পর, ১৮৫৮ সালের মে মাসের…
-

কাচভাঙা রাতদিনের মর্সিয়া
‘কোনো কোনো মৃত্যু হয় পাহাড়ের মতো ভারী, আর কোনো কোনো মৃত্যু হয় পাখির পালকের মতো হালকা।’ মহামতি মাও সে তুং-এর বলা এই কথাটির সত্যাসত্য জীবন-পথপরিক্রমায় হাড়েমজ্জায় অনুভব করেছি। অত্যন্ত কাছের মানুষের মৃত্যু অবলোকন করা আর নিজে মরে যাওয়া বুঝি-বা একই সমান্তরালে চলে। ২০০২ সালে আব্বাকে যখন কবরে শুইয়ে এলাম, বুঝতে পারছিলাম না, আমি বেঁচে আছি…
-

একজন ভালোবাসাভরা মানুষ
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম চলে গেলেন। চলে গেলেন আক্ষরিক অর্থেই অকালে। এই যুগে ৭৪ বছর কি বিদায় বলার মতো কোনো বয়স? ৩রা অক্টোবর সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের যখন হার্ট অ্যাটাক হলো, তখন দেশে তিনি কার্যত একা। তাঁর একমাত্র ছেলে সাফাকাত ইসলাম বহুদিন আগেই প্রবাসে সংসার পেতেছেন। স্ত্রী সানজিদা ইসলামও অল্প কয়েক দিন হলো বিদেশে গেছেন, ছেলের সান্নিধ্যে।…
-

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম : প্রেরণার বাতিঘর
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আমাদের মাঝে নেই! না না! এটা কী করে সম্ভব! এই সেদিনও তিনি খবরের কাগজ-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন। কী চমৎকার কথা খবরের কাগজ সম্পর্কে বললেন! কথাগুলো এখনো আমার কানে বাজে। স্যারকে নিয়ে আমি সত্যিই একটা ঘোরের মধ্যে আছি। আমি দিব্যচোখে দেখতে পাচ্ছি স্যার আমার অফিসে এলেন। বসলেন। তারপর চা খেতে খেতে…
-

প্রেমে ও প্রার্থনায়
‘ছোটবেলায় সিলেট ডিস্ট্রিক্ট জেলের সামনের মাঠে ক্রিকেট খেলতাম। আমার বন্ধু গৌস সুলতানের বাবা ছিলেন জেলের ডাক্তার। সেই সুযোগে অনেক কয়েদির সঙ্গে পরিচয় হয়েছে। তারা সবাই বেতের জিনিসপত্র বানাত। সেগুলো জেলের সামনের রাস্তার পাশে ‘কেইন শপ’-এ বিক্রি হতো। কেন জানি এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেই ছোটবেলাতেই, যে, কয়েদিদের তৈরি চেয়ার-মোড়ায় কখনো বসবো না। বড়ো হলে এসব…
-

জীবন ও সাহিত্যের আন্তরিক মানুষ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
লেখকের সঙ্গে প্রকৃত পরিচয় ঘটে তাঁর লেখার মাধ্যমেই। যদ্দুর মনে পড়ে আরো অনেকের মতো সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় আশির দশকের শেষে সংবাদ-এর সাহিত্য পাতায় ছাপাশিল্প-সাহিত্যবিষয়ক কলাম ‘অলস দিনের হাওয়া’ পাঠের মাধ্যমে। সাধারণ ভাষায় বিদেশি সাহিত্য ও সমাজ ভাবনাসহ বিচিত্র বিষয়ে লিখতেন তিনি। তারপর নব্বইয়ের দশকে। যখন আমরা নবীন লেখক। তাঁর নাম…
-

হঠাৎ ফাঁকা করে চলে গেলেন
যে-পাশে মনজুরভাই বসতেন সেদিকেই জানালা। কী ভেবে আসনটা হঠাৎ ফাঁকা করে চলে গেলেন তিনি। ঘরের পাশ দিয়ে যেতে যেতে দরমার ওপাশে সাদা আকাশে চোখ পড়লেই মনে হয়, পরের মঙ্গলবার নিশ্চয়ই মনজুরভাই আসবেন। শিল্পকলা একাডেমিতে সুবীর চৌধুরী যখন পরিচালক তখন তাঁর অনুরোধে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বেশ কিছু চিত্রকলাবিষয়ক লেখা লিখেছিলেন। সে-সময়ে নানা সংকটের মধ্যে সুবীরদাকে কাজ…
-

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সঙ্গ ও সম্পর্ক
কথাসাহিত্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম টিকে থাকবেন। টিকে থাকবেন তাঁর চিন্তা-প্রবন্ধের আলোকে, তাঁর সজ্জন-স্বভাব বিস্তারের কারণেই। নশ্বর পৃথিবীতে এ কম বড় ব্যাপার নয়। … তাঁর সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মৃতি,স্মৃতি-সমগ্র জমে আছে মাথায়। কথাসাহিত্যিক, শিল্প-সমালোচক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের প্রয়াণের পরে সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকের নিউজফিড শোকে আচ্ছন্ন হয়ে গেল। সাধারণত শিল্পসাহিত্যের গুণী ব্যক্তিত্ব কেউ চলে গেলে,…
-

মনে ও মননে উত্তরাধুনিক একজন
তাঁকে নিয়ে লিখব, যিনি আমাকে লিখিয়েছেন। তাঁর শিক্ষকজীবন, তাঁর লেখকজীবন, সমূহ বক্তৃতা আরসভা-সেমিনারের শোভনীয় বয়ান নিয়ে উচ্ছ্বাস কিংবা আক্ষেপ সবই হচ্ছে। যখন তিনি অতর্কিতে হারিয়ে গেলেন, আমাদের অপ্রস্তুত রেখে, আমাদের অতৃপ্ত রেখে। চুয়াত্তর বছর অতিক্রান্ত একজন পরিপূর্ণ মানুষ, জীবনের একটি দিন যাঁর কর্মহীন ছিল না, তাঁর চলে যাওয়া আমাদের অপ্রস্তুত করে দিলো! অতৃপ্তি আর আফসোসের…
-

একজন সংস্কৃতিমান শিক্ষকের প্রস্থান
আশি ও নব্বইয়ের দশকে দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সাময়িকীটি ছিল উল্লেখযোগ্য। স্কুলে পড়ার সময় ওই সাহিত্য সাময়িকীতে প্রথম সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখা পড়ি। ‘অলস দিনের হাওয়া’ নামে তিনি একটি পাক্ষিক কলাম লিখতেন। বিশ্বসাহিত্য, কখনো কখনো চিত্রকলা সম্পর্কে বিশ্লেষণ করতেন। পরে জেনেছি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক। কথাসাহিত্য, নন্দনতত্ত্ব, প্রবন্ধ, চিত্রকলা ইত্যাদি তাঁর সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্র। সৈয়দ…
-

বহুমাত্রিক শিক্ষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র না হয়েও আমি সে-বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ছাত্র। বিষয়টি শুনতেই কেমন খটকা লাগে! অথচ সত্যি, নন্দনতত্ত্ব, গবেষণা পদ্ধতি, গল্প লেখার কৌশল, সমালোচনা বিদ্যা, সাহিত্যতত্ত্ব-নাট্যতত্ত্ব নানা বিষয়ে নানা প্রতিষ্ঠানে আমি মনজুরুল ইসলাম স্যারের ক্লাস পেয়েছি। শিক্ষক হিসেবে মনজুরুল স্যার কেমন ছিলেন বা তাঁর শিক্ষাপদ্ধতি কেমন ছিল, তা তাঁর বিভাগের শিক্ষার্থীরা…
-

আমাদের প্রিয় এসএমআই স্যার
নব্বইয়ের দশকে, মানে ১৯৯২ সাল থেকে, আমরা যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়তে শুরু করলাম, বিভাগের তখন স্বর্ণযুগের মধ্যম পর্যায় বলা যায়। কারণ এর আগেরও খুবই উজ্জ্বল সময়ের গল্প চালু রয়েছে বিভাগজুড়ে এবং সেই সুবর্ণধারা তখনো প্রবাহিত। এত এত স্বনামধন্য শিক্ষক প্রতিদিন ক্লাস নিচ্ছেন, কলাভবনের দোতলায় ইংরেজি বিভাগের লম্বা করিডোর দিয়ে তাঁরা এ-ক্লাস থেকে সে-ক্লাসে…
