November-December 2025
-

প্রায় বছর কুড়ি আগে, বইপত্র নিয়ে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সঙ্গে আলাপন
২০০৭ সালের আগস্টে অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন কবি পিয়াস মজিদ। সেই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছিল সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চাসহ দেশ-বিদেশেরসাহিত্য-সংস্কৃতি এবং পাঠাভ্যাস নিয়ে তাঁর ভাবনা। সাক্ষাৎকারটি এ-সংখ্যায় পত্রস্থ করা হলো। আপনার প্রথম লেখা কোথায় প্রকাশিত হয়? যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি, ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত শিক্ষাবার্তা নামে একটি ম্যাগাজিনে। একটি গল্প। শিক্ষাবার্তার ওই…
-

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম – আজগুবি রাত ও অপরাপর কথা
বছর পাঁচেক আগে গল্পকার কুলদা রায়কে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম তাঁর শৈশবে দেখা এক গল্পকথকের কথা বলেছিলেন। সেই গল্পকথক এক বয়স্কা হিন্দু বিধবা, যাঁকে তিনি ও তাঁর সহপাঠীরা ‘দিদা’ বলে ডাকতেন। উলের জামা বুনতে বুনতে, অথবা জাঁতা দিয়ে সুপারি কাটতে কাটতে, অথবা পান বানাতে বানতে দিদা তাঁদের গল্প শোনাতেন। বলতে বলতে হঠাৎ…
-

স্মৃতিসত্তায় সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
মঙ্গলবার যথারীতি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এসেছিলেন কালি ও কলম অফিসে। ছিলেনও অনেকক্ষণ। তারপর বেলা ১টার দিকে চলে গেলেন – যেমন সবসময় যান। এমনটাই হয়ে আসছে। আমরা জানতাম – আগামী মঙ্গলবার মনজুর আবার আসবেন। কালি ও কলমের লেখাগুলি দেখবেন। যথেষ্ট কাটাছেঁড়া করবেন। ভুলগুলি ঠিক করে দেবেন। যেমনটা তিনি নিয়মিত করেন। এইটিই ছিল মনজুরের বিশেষত্ব। যখন যে-কাজ…
-

মঙ্গলবারের হাওয়া
এমেরিটাস অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কর্ম ও জীবন নিয়ে বহু লেখা হয়েছে এরই মধ্যে এবং নিশ্চয়ই আরো হবে। তাঁর জীবৎকালে এবং প্রয়াণের পর অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী, বন্ধু-স্বজন তাঁকে নিয়ে লিখেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। ২০২০ সাল থেকে আমৃত্যু কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আমার এই লেখাটি তাঁর সঙ্গে কালি ও কলম এবং আমার সংযোগের…
-

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে যেমন জেনেছি
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম আজ আমাদের মাঝে শুধুই স্মৃতি। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবকতুল্য। আমাদের একান্ত কাছের লোক। কালি ও কলমের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন তিনি। সপ্তাহান্তে দু-একবার দেখা হতো তাঁর সঙ্গে। যতটুকু সময় থাকতেন, গল্পে, আলাপ-আলোচনায় আমাদের মাতিয়ে রাখতেন। আমাদের সৌভাগ্য যে, তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে আমরা আসতে পেরেছিলাম। মনজুরুল ইসলাম সম্বন্ধে যতটুকু জেনেছি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে…
-
মনজুর, তার চেয়ার
মাদুর কিংবা পিঁড়ি জলচৌকি, সে যাই হোক চেয়ারের হাতছানিতে মৌতাতে উড়ুউড়ু মন, তমাল-তরুর ছায়ায় চেয়ারে বসা মনজুর মায়ামর্মর শোনে অবাক ঝাউবনে, তেপান্তরে দূরসমুদ্রের সুবাসে গুরু-গুর্বীরা বিভোর ধূপধুনোর ধোঁয়ায় আচার্যেরা দিব্য জ্যোতির্ময় নামতে থাকেন কখনো বা অজানা বিবরে। পথভোলা জ্ঞানার্থীকে মূল পথ চেনাতে চেনাতে এইসব মানুষেরা হাঁটে রেনেসাঁসের রৌদ্রে হারানো নগরীর আলোচ্ছায়া পরগণায়। চৈত্রদুপুরে আগুন, পুড়ছে…
-
থাকা না-থাকার শূন্যতা পার হয়ে
নদী মরে গেলে থেকে যায় তার সামান্য কিছু রেখা সেখানেই নদী, স্মৃতি খুঁজে পাই। শুধু মানুষ রাখে না, বিস্মরণেই মুছে যায় একা একা যেন বালিয়াড়ি খাঁ-খাঁ শূন্যতা, জোছনায় জ্বলে ধু-ধু! এই ধারণার বিপরীতে এই পৃথিবীতে কেউ কেউ রেখে যায় স্মৃতি-বিস্মৃতিময় স্মরণের কত কিছু নদী মরে গেলে মুছে যায় জানি ছোট বড় সব ঢেউ কিছু মানুষের…
-
যে-আলো অন্ধকার হয় না
বোদলেয়ার কিংবা সঞ্চয়িতার পাতা ওড়াউড়িতে মধ্যরাতের নক্ষত্র নিভে যাওয়া বিপন্ন সময়ের, অনির্বাণ প্রতিদ্বন্দ্বী ‘উজ্জ্বল উদ্ধারে’ – আপনাকে মনে পড়ে খুব মন পোড়ে, হঠাৎ তীক্ষè অন্ধকার চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে আপনার আর কোথাও না-থাকার নিরীহ ধুলোপথ শেষে ফিরে না-আসা ভ্রমণ সর্বনাশের শেষ শব্দ – মৃত্যু যার শেষে ব্যাকরণ দাবি করে না কোনো বিরাম চিহ্ন। জলের মতো…
-
কিছু কিছু মানুষ
কিছু কিছু মানুষ আছে আলো জ্বালাতে আসেন একা একটি প্রদীপ হাতে অসংখ্য প্রদীপ প্রজ্বালনে উৎসাহ জোগাতে আসেন, স্তূপ স্তূপ অন্ধকারে নিমজ্জিত গাঁয়ের প্রান্তে কুঁড়েঘরে মাটির প্রদীপে সলতে হতে আসেন দূর নক্ষত্রের আলো হয়ে অরুন্ধতীর দ্যুতি হতে আসেন, মানবতার প্রহরী হয়ে ঘরে ঘরে মানব চিন্তক হতে আসেন; নিভৃতে গানের পাখি হয়ে দাঁতাল আঁধারের বিরুদ্ধে গিয়ে মানব…
-
আত্মস্থ সরলরেখায়
অসুন্দর সরলরেখায় আপনি কখনো ছিলেন না বিন্দু থেকে সরলরেখায় কোনো জটিলতা নেই আপনার সমুদ্র থেকে অনায়াসে আমরা পেতাম মধুর নির্যাস আলোকের ঝর্নাধারায় নিজেকে চিনতে গিয়ে যখন খুঁজে ফিরি নানা জিজ্ঞাসা বিন্দু থেকে সরলরেখায় দাগ পড়ে গিয়ে আলোকের বিপরীতে অর্ধসত্য জনারণ্যে ঘোরে তখন আপনি এসে বিভাজিত সরলরেখাটি উল্টে দিয়ে স্পষ্ট করে তুলে বলে দেন – এইবার…
-
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
দূরগামী উড়োজাহাজের ভেতর সময় এবং ঘুম ঘনিয়ে আসে আর স্বপ্নরা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় কথায় কবিতায় পৃথিবীর মানে শুধু মাটি নয় পানি নয় হাওয়া নয় অপার অনিকেত শূন্যতাও নয় অনাত্মীয় প্রতিবেশী বেদনাকে আশৈশব চিনি আমি অভিন্ন নদীর টানে মানুষ যেখানে মানুষের হয়ে কথা বলে বসুধায় সেখানে আমার গ্রাম সেই গাঁয়ে একবার অতিথি হয়ে আসেন সৈয়দ…
-
শেকড়
এই দেশ এই বনভূমি এই নদী এই সংগীত চিরদিন আমাদের ছিল প্রিয় ভাষা? সে তো মায়ের ভাষা! চিবুকের রেখা বরাবর সবকিছু স্বাভাবিক ছিল! যেদিন থেকে বিশ্বাস আলাদা হলো ভালোবাসা বেঁকেচুরে চিরসত্য জীবনের মায়া মৃত্যু এসে নিয়ে গেল, জ্ঞান ও যাপন সেই থেকে বুঝেছি, আলগা হতে থাকে শেকড়। নিয়তি হাঁটু মুড়ে বসে পাশ ঘেঁষে সংঘবদ্ধতার থেকে…
