January
-

আবুল হাসনাত কিংবা মাহমুদ আল জামান
এ কেমন আকাল! এ কোন করোনাকাল! অনাদি অনন্ত অক্সিজেন আমাদের শ্বাসকষ্ট ঘোচাবে না? একটুখানি শ্বাসকষ্ট নিয়েই হাসনাতভাইকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল, তিনি হাসপাতালে থাকতে চাননি, বাসায় ফিরতে চেয়েছেন। বাসায় ফেরা হয়নি; তবে তাঁকে হাসপাতালেও আর যেতে হবে না। তাঁকে যে যেতে হবে না – এটাও তো একটা ভালো খবর। টোয়েন্টি টোয়েন্টির মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত…
-

কবি ও সম্পাদক আবুল হাসনাত
কবি মাহমুদ আল জামান নামটি ছদ্মাবরণ হলেও খুব কি অচেনা? নিশ্চয় নয়। নিভৃতচারী এই কবিকে ছদ্মনামেই চেনে বাংলাভাষার কাব্যবিশ্ব। অপরদিকে আদর্শবান এক সাহিত্য-সম্পাদক, যিনি আবুল হাসনাত নামে অধিক পরিচিত। অত্যন্ত বাক-প্রমিতি, নির্মোহ ও নিরপেক্ষ মননের এক অসাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি দেশের কবি, লেখক, সাহিত্যিকদের মনে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছিলেন সগৌরবে। ফলে পোশাকি নামটি পরিচিতি পেয়েছে…
-

সৃষ্টি-সন্ধানী আবুল হাসনাত
আমৃত্যু আবুল হাসনাত স্বভাবে ছিলেন নিভৃতচারী এক কর্মযোগী। তাঁর বহুপল্লবিত সৃষ্টিশীল সুকৃতি ও উত্তম সম্পাদনা সারস্বত সমাজে ক্রমশ সুখ্যাত হয়ে ওঠে। তাঁর মতো তন্নিষ্ঠ, পরিশ্রমী, পরিচ্ছন্ন সাহিত্য সম্পাদক বরাবর এদেশে বিরল। প্রকৃত সাহিত্য-শিল্পের নিপুণ সমঝদার ছিলেন এই স্বল্পবাক মানুষটি। প্রকাশযোগ্য লেখা নির্বাচন তিনি নিয়ত যত্নশীল পাঠে নির্ধারণ করতেন। অধ্যবসায় থেকে তিনি অর্জন করেন নিজস্ব ধীশক্তি।…
-

বিদায়ব্যথার ভৈরবী
আবুল হাসনাতকে আমি বরাবর ভাই বলতাম, তিনি বলতেন বন্ধু। যদিও বয়সে আমি ছোট, তিনি বরাবর ‘আপনি’ এইভাবে সম্বোধন করতেন, বলেকয়েও তাঁকে দিয়ে ‘তুমি’ বলাতে পারিনি। প্রথম পরিচয় ১৯৭২ সালে, মুক্তিযুদ্ধের পর পুরানা পল্টনে ছাত্র ইউনিয়নের নতুন কার্যালয়ে। আমরা তখন ব্যস্ত জয়ধ্বনি এই নামে একটি ট্যাবলয়েড সাইজের কাগজ ছাপাতে। প্রায় প্রতিদিন বিকালে এখানে আসা হয় অভিন্নহৃদয়…
-

মৃত্যুঘোর : আমাদের সব গোলমাল হয়ে গেল হাসনাতদা
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিখ্যাত ‘কেন?’ কবিতায় এই বাক্যগুলো লিখেছিলেন – কেন অবেলায় যাবে? বেলা হোক, ছিন্ন করে যেও সকল সম্পর্ক। যেন গাছ থেকে লতা গেছে ছিঁড়ে একটি বিষণ্ন লোক থাকে যেন হাস্যময় ভীড়ে কেন অবেলায় যাবে? বেলা হোক, ছিন্ন করে যেও সকল সম্পর্ক। এই কবির মতোই, তিন অভিন্নহৃদয় বন্ধু অবেলায় পরপর চলে গেলেন। প্রথমে…
-
অন্য এক শমীবৃক্ষ
১. আঠারোটা বছর কম নয় অনন্ত শাবকও সারস বনে যায় এভাবেই আপনার সুপটু মসিতে একদিন বেড়ে উঠেছিল, শমীবৃক্ষ কালের ধ্বনিতে বেজে ওঠে সেই কালি ও কলম প্রসন্ন আকাশে উজাগর নক্ষত্রের মতো কাটালেন সত্তরটা বছর … অভাবনীয় পারদর্শিতায় ভাসালেন দু-পার বাংলা ভাষার চৌহদ্দি ছাড়িয়ে আজ আপনি পুবালি দিগন্ত আপনার সুপটু লেখনীতে একাকার বাংলার উপকূল নির্মাণে গড়ে…
-
এক মাঠ বেদনার হেমন্ত আকাশ
(কবি মাহমুদ আল জামান স্মরণে) হেমন্তের বুকজুড়ে খেলে যায় বেদনার গোপন শিশির। তাই জ্বালাময়ী দুঃখগুলো একদিন পাখা মেলে উড়ে গিয়ে বসেছিল রোদ্দুরের দহন জ্বালায়। সেই থেকে আমার চোখের প্রান্তরে উন্মুখর রূপ-রস-ছন্দের ঢেউ জেগে ওঠে – জেগে ওঠে কাকলিতে পুষ্পের সমারোহে দিগন্তের মনখোলা মাঠ। সবদিকে সবখানে ভরেছিল প্রজাপতির প্রাণখোলা হাসি। অথচ প্রকৃতির ঢেউখেলা গোপন আঁধারঘরে যন্ত্রণার…
-
স্মরণ করি
মেঘের জন্ম আকাশে ঝরে গেছ বর্ষণ ধারে। গাছের পাতা সবুজে ঝরে গেছ মাটিরও ’পরে। পৃথিবী ছেড়ে পৃথিবীর ওপারে। তোমাকে অভিষিক্ত করে স্মরণসুধায় বারংবার নমস্কারে
-
দৃশ্যের ভেতরে দৃশ্য
(শ্রদ্ধেয় আবুল হাসনাত স্মরণে) আষ্টেপিষ্ঠে বেঁধেছিলে বলে সার্থক এ-জীবন তোমার চারিদিকে ঘুরেই ফিরেছি তোমাকে দেখি আর মনে মনে ভাবি কিভাবে আমাকে তুমি গ্রহণ করেছিলে? ভোরের আলোর মতন তুমি উদার আকাশ তোমার সৃজনে ওঠে পাতার ঝংকার ওঠে ঝড়, তোলপাড়, জেগে ওঠে বজ্রবিদ্যুৎ দীপ্ত সোচ্চার শুনি জীবনকথায়। তোমার কল্পনাশক্তি আজো দোলা দেয় তোমার স্বপ্নদৃশ্যে ওঠে কালি ও…
-
প্রকৃত কালপুরুষ
(আবুল হাসনাত স্মরণে) এইমাত্র যে-তারাটি আমি দেখতে পাচ্ছি আকাশে, চোদ্দো হাজার বিলিয়ন আলোকবর্ষের দূরে বসে ঢাকা কিংবা কলকাতা শহরের মাথার ওপর সে নিভে গেলেও তাঁর উজ্জ্বলতা ফালা করে দিচ্ছে অন্ধকার। শব্দের পাখায় ভর করে উড়ে বেড়িয়েছে শীতল অঙ্গার কবিতার নরম স্পন্দন থেকে কুয়াশা সরানো তীব্র গদ্যের চাবুক হৃদপিণ্ড অস্থির করে দিয়েছে দর্পণে। শান্ত অবয়ব স্থির…
-
স্মৃতির গোলাপ
(কবি ও সম্পাদক আবুল হাসনাত সম্মানিতেষু ) মনে হচ্ছে এই সেদিন আপনার সাথে দেখা হলো। আগের মতোই স্মিত, স্বল্পবাক, আন্তরিক আড্ডায়, সভায় উজ্জ্বল অতিথি নিউইয়র্কের ঠান্ডায় ঈষৎ কাবু নিজেকে আড়াল করার স্বভাবজাত আনন্দে নমিত তবু নৌবিহারে সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় উচ্ছল হয়েছিলেন সেদিন। মনে পড়ে যখন ‘সংবাদ সাময়িকী’র ঈর্ষণীয় সাহিত্য সম্পাদক আপনি মফস্বলের অচেনা কবি যশোপ্রার্থীর…
-
তবুও খোঁজে
(কবি ও সম্পাদক আবুল হাসনাত স্মরণে) অক্সিজেনের মিটারে ক্লান্ত চোখ রেখে রেখে বিপন্ন পাখির উড়াল ভোরের হাওয়ায় ছায়াময় ভুবনডাঙায় একবারও মনে পড়েনি প্রিয় কন্যা, প্রিয় জীবনসঙ্গী বাঁচবে কার ছায়ায়? থরে থরে সাজানো বইপত্তর দেয়াল মোড়ানো চিত্রকলা ঘরময় নীল বিষণ্নতা ছড়ায় ভুবনডাঙার মেঘ ভালোবেসে আপনি আছেন ঘুমের আবেশে সাহিত্য ও শিল্পের বিশাল চত্বর জুড়ে শূন্যতার হাহাকার…
