February

  • সনৎকুমার সাহার মনীষাদীপ্ত রবীন্দ্রচর্চা

    সনৎকুমার সাহার মনীষাদীপ্ত রবীন্দ্রচর্চা

    প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের শান্ত সমাহিত চিত্তের গভীর উপলব্ধির কথা বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ জানিয়েছিলেন, ‘মানুষের মধ্যে বৈচিত্র্যের সীমা নেই। সে তালগাছের মতো একটিমাত্র ঋজুরেখায় আকাশের দিকে ওঠে না, সে বটগাছের মতো অসংখ্য ডালে-পালায় আপনাকে চারদিকে বিস্তীর্ণ করে দেয়। তার শাখাটি যেদিকে সহজে যেতে পারে তাকে সেই দিকেই সম্পূর্ণভাবে যেতে দিলে তবেই সমগ্র গাছটি পরিপূর্ণতা লাভ করে।…

  • মহাদেব সাহার কবিতা : স্বদেশের মুখের দিকে ফিরে এবং আরো

    মহাদেব সাহার কবিতা : স্বদেশের মুখের দিকে ফিরে এবং আরো

    বিংশ শতকের ষাটের দশক বাংলাদেশের কবিতায় এক যুগান্তকারী দশক। যে-দশক ফুলে-ফলে ভরিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের কবিতার জমিন। কবিতা যাঁরাই লিখেছেন এই সময়ে, তাঁরাই কবি হয়ে উঠেছেন, বিষয়টি এমন নয়; কিন্তু যাঁরা এই সময়ে কবি হয়েছেন, তাঁরা হয়ে উঠেছেন অপ্রতিরোধ্য, নানা বিচার-বিবেচনার নিক্তিতে। এমন একসময় সমগ্র বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছিল, যে-সময় কেবল শোষিত-নিপীড়িত হওয়ার বিপরীতে বিপ্লব-বিদ্রোহ আর স্বাধিকার…

  • সামসুল ওয়ারেস : বিমূর্ত আধুনিকতার দার্শনিক

    সামসুল ওয়ারেস : বিমূর্ত আধুনিকতার দার্শনিক

    সামসুল ওয়ারেসকে সবাই চেনে স্থাপত্যকলার একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে, যিনি স্থাপত্যকে মনে করেন আধুনিকতার এক ধরনের দর্শন, যেখানে নির্মাণশিল্পকে দেখা হয়েছে বিংশ শতাব্দীর বিমূর্ত নান্দনিকতা, প্লেটোনিক বিশুদ্ধতা আর সর্বজনীন মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে। এই পরিচিতির আরেকটি অন্যতম দিক হচ্ছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের একজন আধুনিকমনস্ক শিক্ষক হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত বিকাশ ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক…

  • প্রসঙ্গ নন্দনতত্ত্ব

    প্রসঙ্গ নন্দনতত্ত্ব

    নন্দন – পুত্রসন্তান। রঘুনন্দন – শ্রীরামচন্দ্র। চট্টগ্রাম শহরে রিয়াজুদ্দিন বাজারের পাশে অবস্থিত ছিল – নন্দনকানন। মেয়েদের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও আছে ওই নামে। স্বর্গের-উদ্যান যার অধিপতি দেবরাজ ইন্দ্র : নন্দনকানন। নন্দনের সঙ্গে সুন্দরের একটা সংযুক্ততা আছে। আছে ভিন্ন অর্থও। সন্তানলাভ ভাবগত অর্থে আনন্দ-সংবাদ। এসব উচ্চমানের জায়গা ছেড়ে আমরা মানুষের জীবনের যাত্রাবিন্দুতে পৌঁছতে চাই। সেখানে নন্দন ছিল না।…

  • আলোকিত অন্ধকার

    আলোকিত অন্ধকার

    সন্ধেয় যখন জানতে পারে সাঈদুল, ভালো এক খবর, যাব কি যাব না ভাবনায় আরো একবার এদিক-ওদিক তাকিয়ে শেষমেশ পুরনো মাফলার দিয়ে মুখ-নাক ঢেকে বের হয়ে যায়। তখন আলিয়া পেছন থেকে ডাক দেয় – ‘বাবা এই সন্ধ্যার সময় কোথায় বের হলে? যা শীত পড়েছে, তোমার তো কোট-জ্যাকেটও নেই, আদ্যিকালের এক সোয়েটার, শীত কাটে না; কিছু লাগলে…

  • শতবর্ষের অভিমুখে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ ও শিখা

    শতবর্ষের অভিমুখে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ ও শিখা

    ‘বাংলার রেনেসাঁস’ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এর ভূমিকায় অন্নদাশঙ্কর রায় উল্লেখ করেছেন : ‘এতকাল আমরা যেটাকে বাংলার রেনেসাঁস বলে ঠিক করেছি বা ভুল করেছি, সেটা ছিল অবিভক্ত বাংলার ব্যাপার। পার্টিশনের পর পূর্ব বাংলা – এখন তো বাংলাদেশ – নতুন করে জেগে ওঠে। সেখানে দেখা দেয় দ্বিতীয় এক রেনেসাঁস। প্রথম রেনেসাঁসে নায়কদের মধ্যে ইউরোপীয় ছিলেন, খ্রিষ্টান…

  • জীবনানন্দ দাশের দীর্ঘ কবিতা

    জীবনানন্দ দাশের দীর্ঘ কবিতা

    ১৯৩৮-এ অনেকগুলো খাতায় কবিতা লিখেছিলেন জীবনানন্দ দাশ; তখন বসবাস করছিলেন বরিশালে। এসব খাতার বেশ কয়েকটি কলকাতায় ভারতের জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে ‘রেয়ার কালেকশন’ সেকশনে সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানে সংরক্ষিত জীবনানন্দ দাশের খাতাগুলোয় নম্বর দেওয়া আছে ১ থেকে ৪৭। ৩৫ নম্বরে ক এবং খ দুটি। এর মধ্যে ১৮-সংখ্যক খাতায় মে-জুন মাসে কয়েকটি কবিতা লিখেছিলেন জীবনানন্দ। খাতাটির প্রথম পাতায় ইংরেজিতে…

  • মানচিত্রের বি-উপনিবেশিকায়ন

    মানচিত্রের বি-উপনিবেশিকায়ন

    ভাষ্য ও ভূমিকা : সুরেশ রঞ্জন বসাক ভাষ্য সাহিত্যে মানচিত্র বা দেশকে রূপকথা নয়, রূপক ও রূপকল্প হিসেবে ব্যবহার ব্যাপক না হলেও দুর্লক্ষ্য নয়। গার্সিয়া মার্কেস – বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার লিটল তাঁর ঔপনিবেশিক/ উত্তর-ঔপনিবেশিক/ নব্য-উপনিবেশবাদ-বিরোধী একটি পাঠে (‘Er endira  in the Middle Ages : The Medievalness of Gabriel Garcia Marquez’১) দেখিয়েছেন কিভাবে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের অসাধারণ…

  • হৃদয়ে রহো

    (রবীন্দ্রনাথের প্রতি আন্না তড়খড়) পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে চেনা গন্ধ, চুমুর আওয়াজ ভুলেও তোমার চোখ তাকাল না কেন?! একদিন, দুপুর-সময় নির্জনতা কোলে নিয়ে পুরো বাড়ি ঘুমে আমিও তোমার কোলে মাথা পেতে আছি পাত্র থেকে উপচে পড়া জলের মতোন সরল আনন্দ নিয়ে বলি : আমার দোপাট্টা যার মুঠোগত হবে      সে-ই পাবে শর্তহীন চুমুঅধিকার যথেষ্ট আকাক্সক্ষা…

  • সমাচার

    ললাটের কী বা দোষ লিখতে হবে ওইখানে সব! আশপাশে জায়গা অনেক যা ইচ্ছে, যেমন খুশি ঘাসের ওপর কিছুটা আলো ও কুয়াশামাখা আঁধার। কলমে নামুক শব্দমালা চিত্তদ্বারে চরণের চিহ্ন এঁকে যার – মাথা ভর্তি এই সে কপালে মাথা ভর্তি এই সে কপাল। সেই-ই তো ভালো, দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে আলো কপাল ঠুকে যে নেমেছে, ডাকো।

  • জেন-জি

    বেলা অবেলা নেই, যেন অন্বেষণ ঘূর্ণমান সিঁড়িতে উঠছে নামছে, পাশের বাসার মেয়েটি, কী রূপকথা সে, কখনো দেখিনি, পূর্ব-পশ্চিমের মিউজিক আর গানে নিজেকে বারবার রচনা করে উপসংহারহীন। আমার ঘরের নীরব শূন্যতায় উড়ে আসে ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’র ডানা। দিগন্তে কোন অচেনা উড়ে গেল?  পর্দা তুলে ঢুকে পড়ে : ‘ইউ ও’ন্ট ব্রেক মাই সোল’।  কে তুমি রাখবে…

  • মাঝে মাঝে

    মাঝে মাঝে কোনো একলা বিকেলে করুণ মূর্ছনার মতো বাজতে থাকি নিজের ভেতরে রোদ নেমে যায় দৃশ্যাতীত পথের ওপারে; তখন কুয়াশা নামে সন্ধ্যায় – আর চারপাশে  শুকনো ধুলো ওড়ে,           ধূসর বেদনার মতো শুকনো ধুলো ওড়ে; আমার দুঃখভরা গান কুয়াশায় ঢাকা জ্যোৎস্নার মতো তাকে ফেলে রেখেছি কুঁকড়ে-থাকা শীতের ভেতরে তার ম্রিয়মাণ অস্পষ্ট অন্তরাল আমাকে লুকিয়ে রাখে…