June

  • আগুন-ছাই

    আগুন-ছাই

    আফরোজা সবসময় বিশ্বাস করতো – ভালোবাসা শুধু অনুভূতির বিষয় নয়, বরং তা অর্জন করতে হয়, আর অর্জনের পর তা ধরে রাখার জন্য কিছু অতিরিক্ত প্রয়াস লাগে। অর্জন শব্দটা সে ইচ্ছে করেই বেছে নিত। কারণ, তার কাছে ভালোবাসা হঠাৎ নেমে আসা কোনো অলৌকিক ব্যাপার ছিল না; বরং ছিল একধরনের শ্রমসাধ্য বিনিয়োগ, রুপার বাসনের মতো – যত্নে…

  • গল্পটা লাইলি মজনুর হলেও পারত

    গল্পটা লাইলি মজনুর হলেও পারত

    বাপের থান থেকে এক কাপড়েই বেরিয়েছে লাইলি। মাথায় আলুঝালু চুল, পরনের কাপড়টারও দিশ নেই – ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে দেওয়া যায় যেন জেদে ফুঁসছে ভেতরটা। সন্ধের ঠিক আগে দুপদুপিয়া নদী থেকে খালের জল কেটে ইঞ্জিন বোটগুলো ঘাটের কাছে ভেড়ে। পশ্চিমের আকাশ যখন লাল এবং সেই লালিম আভা যখন চরাচরে মিশছে, লাইলি তখন ইসমতের ট্রলারে…

  • নিথুয়া মংমা 

    নিথুয়া মংমা 

    আসুন, জ্যৈষ্ঠের এই বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় আমরা নিথুয়া মংমার গল্প শুনি। গল্পটি শুধু নিথুয়া মংমার নয়, সুশাং নকরেকেরও। এক বাসন্তী জ্যোৎস্নার রাতে, যখন শিমুল ফুলের মনমাতানো ঘ্রাণ আসছিল জানালাপথে, সুশাংয়ের মনে পড়ে গিয়েছিল নিথুয়া মংমার কথা। বহুদিন আগে, এমনই এক বাসন্তী জ্যোৎস্নার রাতে, নিথুয়া মংমাকে সুশাং দেখতে পেয়েছিল শিমুলতলায় – আহত, রক্তাক্ত দশায়। সুশাং বুঝতে পারছিল…

  • আগুনে আগুন পোড়ার শব্দ

    আগুনে আগুন পোড়ার শব্দ

    উঠোনটা সামনে নিয়ে বসে থাকে খেদের দাদা। ঘরে আর ওঠে না। ঘর মানে বাড়িটার চার ভাগের এক ভাগ, তিন ভাগ পুড়ে ছাই। কাঠবিড়ালি-খাওয়া পাকা পেঁপের গোড়ার দিকটা যেমন বোটা আটকে গাছের সঙ্গে লেগে থাকে, তেমনি আগুনে খাওয়া এঁটো বাড়িটার শেষ অংশটুকু জিদ ধরে টিকে আছে কিছুটা ছাই, কিছুটা স্মৃতি নিয়ে। পেছন ফিরে সেদিকে একবার তাকায়ও…

  • অন্তঃশূন্য

    অন্তঃশূন্য

    পুবের জোলায় টপাস টপাস করে লাটিম পড়ার শব্দ ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু শুনছে না বাদল। ওর ঘাড়ের পেছনে বিশ্বনাথের ক্ষুর সেই যে নেমেছে আর নড়ার নামগন্ধ নেই যেন। মনে মনে খুব বিরক্তবোধ করলেও মুখে কিছুই বলে না কখনো সে। বিশ্বনাথের কাজের ধারাই যে এমন। তাছাড়া বাড়ি বয়ে এসে এখন আর কে চুল কেটে দেবে?…

  • গিটার হাতে মেয়েটি

    গিটার হাতে মেয়েটি

    এক বসবার ঘর। আয়তনে চল্লিশ বাই পঞ্চাশ ফিট। বাইরে থেকে ঘরে ঢোকার দরোজা এখন বন্ধ। নীল পর্দা ঝুলছে। বসবার ঘর থেকে ভেতরে যাওয়ার দরজা দেখা যাচ্ছে, সেখানেও নীল পর্দা। দরজাটা ভেজানো। ঘরের ডানদিকে একটা জানালা। রিং দিয়ে নীল রঙের পর্দা রডের সঙ্গে লাগানো। জানালার কপাট বাইরের দিকে খোলা, সূর্যের আলো ঘরের পর্দার ভেতর দিয়ে ফিল্টার…

  • বিদ্যাসাগরের মন খারাপ

    বিদ্যাসাগরের মন খারাপ

    শনিবারের দুপুরটা ভারী পাথরের মতো বুকে চেপে বসে থাকে। শুক্র, শনি ছুটি বলে এই দুটি দিন আনন্দে ভরে ওঠার কথা, অথচ তা হয় না। পায়েল ব্যস্ত হয়ে থাকে প্রণীলকে নিয়ে। প্রদীপ আর পায়েলের একমাত্র সন্তান নীল – প্রণীলকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে ওর মা। পায়েল খুব কর্তব্যপরায়ণ। সংসারের কাজকর্ম করে মেশিনের মতো। ভোর থেকে ওর কাজ…

  • জাহালম গাছির গন্তব্য

    জাহালম গাছির গন্তব্য

    ত্রিভঙ্গ মুরারি খাঁজকাটা কণ্টকময় বৃক্ষ। একখান দুইখান না, সার সার। সুখে-দুঃখে তারা একাট্টা। জাহালমের খাজুর বাগান। ভদ্দরখোলের ছাওয়াল-পাওয়াল বুড়া-জোয়ান কেডা না চেনে। উত্তরা বাতাসের আগমনের আগ দিয়াই জাহালম গাছি কাছা মারে, শক্ত গিট্টু। ধেয়ানে থাকে গোটা হিমানি দিনগুলায়। রসের ধেয়ান, জিরান কাটা পাটালি গুড়ের ধেয়ান। ওস্তাদ গাছি। খেজুর গাছে ঠিলা লাগায়া রস নামান পানির মতো…

  • জাদুগাড়ি

    জাদুগাড়ি

    শেষমেশ আলী আক্কাস যখন ঠিক করে ফেলল কপালে যা আছে, বাড়ির ভিটি বেচে হলেও একটা ব্যাটারি রিকশা কিনে ফেলবে, বউ রমিজা আল্লা গো, এইডা কী কও বলে আঁতকে উঠলেও সে শোনার গরজ দেখাল না। চিন্তাটা এক-দুদিনের না, অনেকদিন ধরেই মাথায় ঘুরঘুর করছে। রোজ সকালে মহাজনের গাবতলি গ্যারেজ থেকে প্যাডেল রিকশাটা বের করে রাস্তায় নামতেই মনটা…

  • তৃষ্ণা

    তৃষ্ণা

    এক অনন্ত অনুতাপের ভার বহন করছিলাম আমি। পুকুর ঘাট থেকে কয়েক ধাপ সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে এলে যে সিমেন্টের বেঞ্চি, তাতে বসে আছি আমরা দুজন। আমি আর আমার ছেলে। আমার গা ঘেঁষে বসেছে খোকন, আমার একটি আঙুল তার হাতের মুঠোয়। সকালটা সুন্দর, কিন্তু কেমন বিষাদময় ও নিঃশব্দ। তার মধ্যেই হঠাৎ ছোট এক চিলতে খুশির আভা…

  • নাদিয়ার দিনকাল

    নাদিয়ার দিনকাল

    একটা ছোট তেলাপোকাকে হত্যা করে – এই রাজধানীর বা দেশের বিচিত্ররকমের তথাকথিত আধুনিক + পশ্চিমা ধাঁচের কাছাকাছি যাওয়ার সম-অসম প্রতিযোগিতায় রত আপাত শিক্ষিত কিছু নাগরিক, যারা কেবল ছায়ার ফিতে + লুঙ্গির গিট দেওয়ার পর্ব থেকে ট্রাউজারে বেল্ট লাগানো বা চেইন টানা শিখছে + প্রায়শই অমার্জিত মেজাজমর্জিতে সিদ্ধ হওয়া নানান সমাজ + ২২-২৩ রকম শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে…

  • গেলাপাগোস        

    গেলাপাগোস        

    তেজি কোনো রকম ভনিতা ছাড়া বলে বসে, প্রেমারিন মানে কি তুমি জানো তনু! তনু ক্যামেরার লেন্স ঠিক করতে করতে জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়, বলে, সকাল থেকে আমাদের কোনো কথা হয়নি, তাই না! – হুম, তাতে কী! কত সকালই তো আমরা কথা বলি না! – প্রেমারিন, কী সেটা! কোনো আগ্নেয়গিরি, এই কোটোপাস্কিতে, জীবন্ত কিংবা মৃত! কিংবা…