September
-

ইতালির গ্রীষ্ম বিদায়
প্রতিবছর ইতালি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে গ্রীষ্মের শেষদিন হিসেবে পালন করা হয় ১৫ই আগস্টকে। ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাওয়া গ্রীষ্মের উত্তাপ এই দিনটির পর থেকে ধীরে ধীরে কমতে আরম্ভ করে। এর পরের দশদিনেই তাপমাত্রা বেশ সহনীয়, ৩০ ডিগ্রি অথবা তারও নিচে, নেমে আসে। সমুদ্রের বেলাভূমিতে শুয়ে-বসে, সময় কাটিয়ে যেসব নারী-পুরুষ সূর্যের আলো প্রতিটি অঙ্গে মেখে…
-
আদিবাসী জীবনের বৈচিত্র্যময় আখ্যান
হাত হায়তো গড় নেখে খেঁচা হায়তো মুড়া নেখে আবেদিনকে আগে দানে পালে, গিলকে খাত্রলা। অর্থাৎ, ‘হাত আছে গলা নাই, শরীর আছে মাথা নাই; সামনে যদি মানুষ পায়, অমনি ধরে গিলে খায়।’ ধাঁধার আসর বসেছে তুরিদের গ্রামে। ধাঁধার উত্তর খুঁজে না পেয়ে কেউ-বা মাথা চুলকাচ্ছে, কেউবা জেতার আনন্দে মুচকি হাসছে। ধাঁধার লড়াইয়ের ফাঁকে ফাঁকে চলছে ঢোল-মাদল…
-
সমকালীন ও নান্দনিক দ্রোহী শব্দাবলি
আহমেদ বাসার তরুণ কবি। তারুণ্যের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ আর সবকিছু তছনছ করে দেওয়ার একটা প্রবল মনোভঙ্গি তাঁর কাব্যচিন্তায় তীব্রভাবে ক্রিয়াশীল। জীবন ও জগৎকে ভিন্নভাবে দেখার অদম্য আকাক্সক্ষা আহমেদ বাসারকে এই সময়ের মধ্যেই চিহ্নিত করতে সহায়ক হয়েছে। তিনি বাংলা বর্ণের নানা অভিঘাত আত্মস্থ করে শব্দের গায়ে নতুন পোশাক পরাতে সচেষ্ট। বয়ঃসন্ধিতে কবি হওয়া আর পূর্ণজীবনে কবি হওয়ার…
-

-

‘বিদ্রোহী’ – শতাব্দীর কণ্ঠস্বর
একশ বছর মহাকালের হিসাবে কম সময়; কিন্তু মানবেতিহাসের অঙ্কে এক শতাব্দী। এই একশ বছর নেড়ে দেখলে আমরা পাব প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, জাতিগত দাঙ্গা, দেশভাগ, ভাষা-আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম। এই একশ বছরে দুজন কবি আমাদের সংস্কৃতিজগতে দারুণভাবে আলোচিত ও প্রভাবদায়ী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম। নজরুল ইসলাম ১৯২০ সালে অতর্কিতে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা…
-

নজরুল জিজ্ঞাসুর তদবির
কবির দায়বদ্ধতা ও নজরুল কবির দায়, কবিতার দায় শিল্পের শর্তকে যদি এতটুকু মোচড় না দেয়, প্রচলিত সমাজব্যবস্থার শাসন ও শোষণের কেন্দ্রীভূত নিয়মতান্ত্রিক নিগড়কে যদি ভেতর থেকে আলোড়িত না করে, তাহলে নজরুল-পাঠ একপ্রকার অনৈতিক ও অমূলক। অ্যারিস্টটল একবার বলেছিলেন, কবিকে রাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করাই শ্রেয়। কেননা সাহিত্য ও শিল্পচর্চার অন্যান্য মাধ্যমের থেকে কবিতা ও সংগীতের প্রভাব…
-

শতবর্ষে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা : ফিরে দেখা
সময় ও স্থান মাহাত্ম্য ঠিক কোন দিনে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লেখা হয়েছিল! তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তবে ‘বিদ্রোহী’ কোন সালে লেখা হয়েছিল – তা আজ স্পষ্ট হয়েছে। তারিখ নিয়ে যতই সমস্যা হোক – ‘বিদ্রোহী’ কবিতা লেখা হয়েছিল ডিসেম্বর মাসের শেষে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ মানে ২৫ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর। পরাধীন ভারতবর্ষে, ব্রিটিশশাসিত কলকাতায় তখন ডিসেম্বরের…
-

কবি শামসুর রাহমান কবিদের জন্যে তিনি ছিলেন রাহমান ভাই …
এক : ব্যক্তিগত স্মৃতি আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান কবির মুকুটে যিনি শোভিত ছিলেন সর্বক্ষণ, সেই অগ্রজ, প্রায় প্রত্যেক অনুজ কবির কাছে প্রিয় রাহমান ভাই হিসেবে অধিক পরিচিত ও ততোধিক আপনজন। সুস্মিত সেই অনাবিল হাসির কাছে যেন অবলীলায় সব আবদার পেশ করা যেত অনায়াসে। দৈনিক বাংলার অফিসে কিংবা তাঁর শ্যামলীর বাড়িতে গেলে প্রথমেই দেখতে পেতাম…
-

শামসুর রাহমানের রাজনৈতিক দর্শনের সংস্কৃতি
শামসুর রাহমান কবি। বিশ্বজনীনতার বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল তাঁর কবিতা। তিনি আজীবন কবিতার সাধনা করে গেছেন। কবিতার সাধক তিনি। ত্রিশের নতুন যে-কাব্যভাষা বাংলা কবিতায় নতুন নির্মাণের পথ সৃষ্টি করেছিল তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি পরবর্তী দশকে। চল্লিশের দশকের সাম্যবাদী কাব্যভাষা নিয়ন্ত্রণ করেছে পুরোপুরি রাজনৈতিক আদর্শকে। তবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান – এই দুটি…
-

সতীনাথ ভাদুড়ী : খুঁজে ফেরা
বহুদিন আগে সতীনাথ ভাদুড়ীর ওপর সংক্ষিপ্ত একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। লেখাটি পত্রিকায় (‘সংবাদ সাময়িকী’) ছাপা হয়েছিল। আমি নিজে জানতাম ওটা কিছু হয়নি। বালখিল্যতায় ভরা। ঢোঁড়াই প্রথম চরণ পড়ার পর মুগ্ধতা আর আবেগের অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ ছিল ওই লেখায়। মনে আছে, চ্যাপম্যানের অনুবাদে হোমার পড়ার পর কিট্সের যে-আনন্দানুভূতি তার সঙ্গে আমার ঢোঁড়াই পড়ার আনন্দের একটা মিল খুঁজে পেয়েছিলাম।…
-

আহমদ রফিকের কবিতা : সময়ে সমর্পিত বোধের পারিজাত
মোস্তফা তারিকুল আহসান একজন কবি কবিতা লেখার জগতে নিজেকে সমর্পিত করার পর তাঁর সামনে অজস্র সমস্যার জন্ম হয়; অনেকে অভ্যাসবশত কবিতা লিখে চলেন কবিতার শাশ্বত সুষমার বা গঠনের কথা না ভেবে। আর যাঁরা সচেতন এবং কবিতার দীর্ঘ ব্যঞ্জনাময় ইতিহাস জানেন, জানেন যে খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে কবিতার চলমান প্রক্রিয়ার সঙ্গে কী কী অনুষঙ্গ অন্বিষ্ট হয়েছে, অথবা কীভাবে কবিতার…
-

কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর প্রবাহিত মনুষ্যত্ব
সময়ের উত্তাপ শুধু কবিতারই নয়, কবিরও নবজন্ম ঘটায়। বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়েরও নবজন্ম আমরা নানাভাবে দেখতে পেয়েছি সত্তরের দশকে এসে। তাঁর কাব্যচেতনারও এক পরিবর্তন আমরা দেখতে পাই, যে-পরিবর্তনের নেপথ্যে এক ধরনের ক্ষোভ/ ভালোবাসা – দুটোই জড়িয়ে ছিল। দুই ক্ষোভের কারণ সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও তাঁর ‘জবাবদিহি’ থেকে আমরা সেটি বুঝে নিতে পারি। চোখের সামনেই তিনি দেখতে…
