2022
-

একটি বৃহত্তর বৃত্ত
‘Documenta’ হলো সমসাময়িক শিল্পের একটি প্রদর্শনী, যা প্রতি পাঁচ বছর অন্তর জার্মানির কাসেল শহরে অনুষ্ঠিত হয়। এটি ১৯৫৫ সালে শিল্পী, শিক্ষক এবং শিল্পতত্ত্বাবধায়ক আর্নল্ড বোড শুরু করেছিলেন। এর প্রধান লক্ষ্য ছিল, নাৎসিবাদের সাংস্কৃতিক অন্ধকারকে নির্বাসনে পাঠিয়ে আধুনিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে জার্মানিকে গড়ে তোলা। আন্তর্জাতিক শিল্পমহলে প্রতি পাঁচ বছরে ১০০ দিন ধরে আয়োজিত এই শিল্প-প্রদর্শনী সমকালীন…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ৯ বাড়ির সামনে নেমে অবাক হয়ে গেল অবন্তি। এখানে সে অনেকবার এসেছে, কিন্তু এই বাড়িতে নয়। অনেক বছর আগে যখন এখানে আসতো সে, অংশু কিংবা ঋভুর সঙ্গে, তখন এটা ছিল একটা পুরনো দোতলা বাড়ি। দোতলায় বাড়িওয়ালা থাকতেন, নিচতলায় অংশুরা। একটা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ ছিল ওদের বাসাটায়, ততটা খোলামেলাও ছিল না। ছোট সেই বাসায় অনেক…
-

লাফিয়ে চলা প্রহর’ : আলেহান্দ্রা পিসারনিকের কবিতা
বিংশ শতাব্দীতে অন্তত তিনজন কবির নব-নব রূপে পুনর্জন্ম ঘটেছে মৃত্যুর পরে। তিনজনেই অকালমৃত। জীবিতকালে তাঁরা ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ কবি, কিন্তু মৃত্যুর পর অনেক দশক পেরিয়েও তাঁদের আমরা নতুন পরিচয়ে খুঁজে পাচ্ছি, আবিষ্কার করছি নতুন তথ্যরাশি, অজানা লেখার ট্রাঙ্ক, অভিলেখাগার ভরে উঠছে নতুন নতুন অভিজ্ঞানে, চলছে নতুন গবেষণা, নতুন অনুবাদ, নতুন প্রকাশনা। সমৃদ্ধ হচ্ছে বিশ্বসাহিত্য, পুলকিত হচ্ছেন…
-

যখন পূবালী হাওয়া বয়
ভাষান্তর : ওয়াহিদা নূর আফজা গ্রাসিয়া ডেলেড্ডার জন্ম ১৮৭১ সালে ২৭শে সেপ্টেম্বর ইতালির সার্ডিনিয়ার নুওরোতে। তাঁর মৃত্যু ১৯৩৬ সালের ১৫ই রোমে। ডেলেড্ডার জন্ম এক সম্ভ্রান্ত কৃষক পরিবারে। তাঁর বাড়ির বৈঠকখানায় বসতো গল্পের আসর। কিশোরী গ্রাসিয়া উৎসাহ নিয়ে তা শুনতেন। সে-সময়ের ইতালির নিয়মানুযায়ী মেয়ে হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছিলেন চার বছরের। বাড়িতে গৃহশিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকের অনুপ্রেরণায় মাত্র…
-

ইতালির গ্রীষ্ম বিদায়
প্রতিবছর ইতালি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে গ্রীষ্মের শেষদিন হিসেবে পালন করা হয় ১৫ই আগস্টকে। ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যাওয়া গ্রীষ্মের উত্তাপ এই দিনটির পর থেকে ধীরে ধীরে কমতে আরম্ভ করে। এর পরের দশদিনেই তাপমাত্রা বেশ সহনীয়, ৩০ ডিগ্রি অথবা তারও নিচে, নেমে আসে। সমুদ্রের বেলাভূমিতে শুয়ে-বসে, সময় কাটিয়ে যেসব নারী-পুরুষ সূর্যের আলো প্রতিটি অঙ্গে মেখে…
-
আদিবাসী জীবনের বৈচিত্র্যময় আখ্যান
হাত হায়তো গড় নেখে খেঁচা হায়তো মুড়া নেখে আবেদিনকে আগে দানে পালে, গিলকে খাত্রলা। অর্থাৎ, ‘হাত আছে গলা নাই, শরীর আছে মাথা নাই; সামনে যদি মানুষ পায়, অমনি ধরে গিলে খায়।’ ধাঁধার আসর বসেছে তুরিদের গ্রামে। ধাঁধার উত্তর খুঁজে না পেয়ে কেউ-বা মাথা চুলকাচ্ছে, কেউবা জেতার আনন্দে মুচকি হাসছে। ধাঁধার লড়াইয়ের ফাঁকে ফাঁকে চলছে ঢোল-মাদল…
-
সমকালীন ও নান্দনিক দ্রোহী শব্দাবলি
আহমেদ বাসার তরুণ কবি। তারুণ্যের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ আর সবকিছু তছনছ করে দেওয়ার একটা প্রবল মনোভঙ্গি তাঁর কাব্যচিন্তায় তীব্রভাবে ক্রিয়াশীল। জীবন ও জগৎকে ভিন্নভাবে দেখার অদম্য আকাক্সক্ষা আহমেদ বাসারকে এই সময়ের মধ্যেই চিহ্নিত করতে সহায়ক হয়েছে। তিনি বাংলা বর্ণের নানা অভিঘাত আত্মস্থ করে শব্দের গায়ে নতুন পোশাক পরাতে সচেষ্ট। বয়ঃসন্ধিতে কবি হওয়া আর পূর্ণজীবনে কবি হওয়ার…
-

শিরোনামহীন
মুর্তজা বশীর বাংলাদেশের আধুনিক চিত্রশিল্পের ধারার অন্যতম প্রধান স্রষ্টা, প্রথম প্রজন্মের শিল্পী। ঢাকার সরকারি চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৫৪ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর উচ্চশিক্ষা ফ্লোরেন্সের অ্যাকাদেমি দ্যেল্ বেল্লে আর্তিতে ১৯৫৬-৫৮ সালে এবং প্যারিসের ইকোল নাসিওনাল সুপিরিয়র দ্য বোঁজ আর্তে ১৯৭১-৭৩ সালে। দেশ-বিদেশে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা স্বাধীনতা পদক ও…
-

-

শোকে-আক্ষেপে আমাদের পনেরোই আগস্ট
দিনটির শুরু আকস্মিক শোকের বজ্রপাতে। বঙ্গবন্ধু আর নেই। লেলিহান শিখা গ্রাস করে তাঁর চারপাশে কাছে থাকা আপনজন সবাইকে। একই ছকের গ্রাস আরো কজন। ভিন্ন ভিন্ন বাসস্থানে। দিনটি পনেরোই আগস্ট। উনিশশো পঁচাত্তর। ঘটনার বিবরণ মোটাদাগে এখন সবার আয়ত্তে। এক সুপরিকল্পিত সেনা অভ্যুত্থানে খুব ভোরে আক্রান্ত হয় ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর আবাসস্থল। কোনো রাষ্ট্রীয় নিবাস তিনি…
-

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না, তাঁর নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র পেয়েছি। স্বাধীন জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। তিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। জীবনের একটা দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণে ডাক দিয়েছেন…
-

মুক্তিযোদ্ধার চোখে বঙ্গবন্ধু
যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিউজ্জামান। বাড়ি গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার ধরাল গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন একুশ-বাইশ বছরের যুবক। যুদ্ধ করেছেন আট নম্বর সেক্টরে, হেমায়েত বাহিনীতে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখার প্রথম ঘটনাটি আলিউজ্জামান বলেন ঠিক এভাবে – ‘গ্রামে আমগো পছন্দের মানুষ ছিল শেখ আবদুল আজিজ। উনি একদিন বললেন, ‘এক নেতা আসতে লাগছে। শেখ মুজিবুর রহমান কইত তহন।…
