সৌভিক রেজা
-
বাড়ির পাশের কবি
সৌভিক রেজা শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে এক লেখায় শঙ্খ ঘোষ তাঁকে শহর কলকাতার ‘রাখাল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। বলেছিলেন : ‘আধুনিক এই শহরের পথে চলতে গিয়ে সে-মানুষ যেন গেয়ে চলেছে শুধু অন্তহীন কোনো রাখালিয়া গান, হৃদয়পুরের জটিলতায় ভরা।’ কবি আসাদ চৌধুরীকেও আমরা বলতে পারি শহর ঢাকার তেমনি এক রাখাল। আসাদ চৌধুরী বাস করেন শহরে, আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলা…
-
ওপার-এপার
সৌভিক রেজা ময়-মুরুব্বিরা বলতেন বালাই ষাট; সেই ষাটের উলটোদিকে দাঁড়িয়ে তোমার ঝলমলে ডালপালাগুলো দেখি, পাতা আর ছায়াগুলো দেখতে-দেখতে বাইরে যাই। দেখি জারুলের বেগুনিময় ফুলের আলো। বালাই ষাট। মাঝে মাঝে আলো আর বাতাসের কাছ থেকেও দূরে সরে থাকি। এদিক-সেদিক যাই, তোমার ছায়া নিয়ে নিজের ছায়ায় ফিরতে চাই। হেনা, তুমি ষাটের ঘাটে ফুটে-ওঠা আঁধার-আলো-ছায়া
-
কৈশোর থেকে সামনের সদর দরোজার দিকে
সৌভিক রেজা কথাসাহিত্যিক দেবেশ রায়ের মতে, ‘যে-কোনো ব্যক্তিই তো ভাবতে পারেন তিনি যে-জীবনটা কাটিয়ে এলেন সেই কথাটা একটু বলে যাবেন। মানুষের অমরতার আকাঙ্ক্ষা অনন্ত। মৃত্যুর নিশ্চয়তা মানুষকে সেই অমরতা থেকে সরিয়ে আনে। যে-কোনো ব্যক্তির আত্মজীবনীই মৃত্যুকে অস্বীকার করার চেষ্টা আর সেই ব্যক্তির অমরতার আকাঙ্ক্ষার মানবিক উচ্চারণ। বেশিরভাগ আত্মজীবনী বা স্মৃতিকথাই তাই বেশি বয়সের রচনা –…
-
ছায়ালোক-৩৫
সৌভিক রেজা কিছু হওয়া না-হওয়ার কথা ভাবি। সবকিছুতেই একটা দায়সারাভাব লেগে থাকে, যেন অন্ধকারে অচেনা মলিন কোনো বারান্দা। মাঝে মাঝে যারা ফোন করেন, তাদের সঙ্গে কথা বলতেও ক্যামন যেন ক্লান্তি। অচেনা কোনো গলিতে, কোনো অচেনা নদীর মাঝখানে, ভাঙা লাল রাস্তায় নিয়ে যেতে পারে যারা তারা এখন কোথায়, কোথায় তাদের আবাস-নিবাস? যার কাছে যাই সে-ই…
-
স্বচ্ছ মননের হাওয়া
সৌভিক রেজা প্রদ্যুম্ন ভট্টাচার্যের (১৯৩২-২০১৬) কথা ভাবতে গেলেই কপিল ভট্টাচার্যের (১৯০৪-৮৯) কথা মনে না-পড়ে যায় না। এমন তো নয় যে, পিতার সূত্রেই পুত্রের পরিচয়টা বড় হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়ায়, কিংবা, পুত্রের সূত্রে পিতার পরিচয়টা বড় হয়ে ওঠে। না, তা নয়। বরং, বলা যায় যে, পিতা-পুত্র দুজনেই নিজের নিজের মতো করে যার-যার কাজের ওপরে দাঁড়িয়ে আছেন।…
-
কবি সমর সেন ও তাঁর কবি-ব্যক্তিত্ব
সৌভিক রেজা মানুষের ব্যক্তিত্বের গড়নটা ব্যক্তিভেদে নানারকমের। আবার সেই ব্যক্তিত্বের যে-জোরের কথা আমরা বলে থাকি, সেটিও সবার সমান নয়। সমর সেন ছিলেন সেই ধরনের একজন মানুষ, যাঁর বেলায় ওই জোরটুকু নানাভাবে অনুভব করা যেত। আর সে-কারণেই যখন তিনি কবিতা লিখেছেন, তাঁর প্রতি পাঠক-সমালোচক মহলে একটা আগ্রহ বজায় ছিল; যখন তিনি অনুবাদ করছেন, গদ্য লিখছেন কিংবা…
-
শহীদ কাদরীকে নিয়ে কয়েকটি অতিপরিচিত কথা
সৌভিক রেজা উত্তরাধিকার তোমাকে অভিবাদন, প্রিয়তমা, কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই – শহীদ কাদরীর এই ত্রয়ী কাব্যের শেষটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। তারপর এই আটত্রিশ বছরে শহীদ কাদরীকে নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সেসব আলোচনায় শহীদ কাদরী ও তাঁর কবিতা নিয়ে প্রাসঙ্গিক সব কথার বেশিরভাগই বলা হয়ে গেছে বলে ধারণা করা যায়। আমরাও এখন যা বলব সেসবের…
-
ছায়ালোক-৩
সৌভিক রেজা বেগুনি জারম্নল; এবার আর জারম্নলের কোনো গল্প নেই। যেন এক বরফযুগ। আর আমাদের নদীগুলো দুঃখ-অভিমুখী। কথাগুলো শুধু হেনাদিকেই বলি। বলি যে চারদিকে অন্ধকার। সবার হাত-চোখ-মুখ অন্ধকারে অন্ধকার হয়ে ওঠে। শুকনো ডালপালায় আগুন আর আগুন থেকে যে ধোঁয়া, তাতে নিজের ছায়াও ক্রমে-ক্রমে অন্ধকারে হারিয়ে যায়।
-
উৎপলকুমার বসু : ভ্রাম্যমাণ এক কবি
সৌভিক রেজা জার্মান কবি রিলকে-সম্পর্কে উৎপলকুমার বসুর শ্রদ্ধার কথা অনেকেরই জানা আছে। সেই রিলকে তাঁর মালটে লরিডস ব্রিগের নোটবুকে (The Notebooks of Malte Laurids Brigge) বলেছিলেন, ‘শুধু আবেগ নয়, কবিতা আমাদের অভিজ্ঞতা। একটি কবিতা লেখার জন্য তোমাকে দেখতে হবে অনেক শহর, মানুষ আর বস্ত্ত, জানতে হবে কোন ইশারায় ফোটে ভোরের ফুল; অপরিচিত স্থান সব, অচেনা…



