কবিতা
-
মরণের সাথে একত্রবাস
আলো-আঁধারিতে ডোরাকাটা রাত – বাঘ যেনো সাদাকালো!চিত্রা হরিণী পাশ ফিরে শোয়,চেতনাচেতনে, শয়নে-স্বপনে ধলপহরের আলো। দু-দুটি শাবক প্রসব করেও সন্তানহারা শেষে –একটি গিয়েছে চিতাদের পেটে,আরেকটা গেছে পাতকিনী ঝড় আইলার জলে ভেসে। মরণের সাথে একত্রবাস নিয়তির লেখা বিধি –হরিণের পিছে ধাবমান ভয়মহাসত্যের অকাট্য তথা প্রকাশ্য প্রতিনিধি।
-
সময়
অবিনশ্বর ধোঁয়ার মতোউড়ে যাচ্ছে সময় – হাওয়ায় হাওয়ায়মিলিয়ে যাচ্ছে রোরুদ্যমান শূন্যতাআকাশ ঢাকা আছে কুয়াশায়সাদা দিগন্তে ভোর হয় –খড়ি ওঠা জীবনের অফুরান দীনতায়জীবন গড়ায়!সারাদিন ঘাটে ফেরি আসেফেরি যায় মানুষেরআসা যাওয়ার নিঃশ্বাস জলেররেখায় জেগে থাকে – মুছে যায়লেখা হয় আবারো চলমানভাসমান পথিকজলের অক্ষরে পাখির গাননদীর দুপাশে ঘাস ও বৃক্ষদেরসাথে বেঁচে থাকা জীবনের ছবিসকাল বেলার জলের রেখায় আঁকা…
-
ভোর
মেঘ যদি ঢাকে সূর্যালোকের খ্যাতিঅন্ধকারের ঠোঁটে হেসে থাকে আলোমেঘমল্লারে স্বপ্নে বিষাদ মেখেউত্তাল নদে স্নান সেরে নেবে শীতে;পরিশুদ্ধতা আহ্নিকে হবে মাটি মেঘ কেটে যায়, আলোর আলোকরেখাজেগেছে মানুষ পাওনাটা বুঝে নিতেভাগ্যশিকলে বন্দি থাকাটা ভুলস্বনির্ভরতা নতুন সংবাদবাহী প্রত্যেকে তার আপন কর্মে ব্রতীবিপক্ষে গেলে বিপদ ঘনিয়ে আসেসত্য ও ন্যায় যুক্তি-তর্কে ম্লানভাগ্যের মোহে খুঁজো না হস্তরেখা মানুষ যখনি নিজের পরিধি…
-
উন্মোচিত হচ্ছি আমি
ভোরের আলোয়উন্মোচিত হচ্ছি আমি,পত্রপুঞ্জের অবগুণ্ঠন ভাঙছি ধীরে,গুমরে-ওঠা, আটকে-পড়া, নির্বাসনে পড়ে-থাকাশব্দ আমার চাই;অনুভবের জায়গা খালি –দূরাগত শব্দ কেন কাছে আসতে নাই?রক্তে বুঝি অভিজ্ঞতার রূপায়ণে ছোট্ট পোকা ডাকে,আকাশছোঁয়া শব্দদ্যুতি কোথায় লুকিয়ে থাকে? ঊর্ধ্বমুখী বৃক্ষ ছুঁয়ে সন্ধ্যা যখন নামে,উড়তে-থাকা শব্দগুলো রুদ্ধদ্বারে থামে;প্রেতের ছায়ায় অন্যরকম ভূমিচিত্র উঠছে জেগে,সতেজ শব্দ বাঁধছে বাসা হৃদয়জুড়ে;দিন-রাত্রির অস্তিগর্ভে নেতিবাদের অনুষঙ্গ ঘোরে,চকিতে ওই বিচ্ছুরণে জীবন-মৃত্যুর…
-
খালি ভেঙে যায়
বাড়ি যদি বলি,শান্তি তবে ওখানে থাকে না।সংসার ভর্তি বহু আগুনের ফুল,ভাঙি-ভাঙি চীনামাটি আছাড়ে উন্মুখ।অবস্থা এমন –প্লেটে নিয়ে মাছ-ভাত-ডাল, আসার সময়হাত ফসকে যা হওয়ার হলো।ছিটকে পড়া খাবারের সাথে,কর্ত্রীর আগুন আর কাজের মেয়ের থরোথরো মিলেমিশেকুড়ানো খিচুড়ি হলো।বেড়াল বেড়াতে গেছে,খাদ্য থেকেও নেই,প্লেট নেই, ফেভিকলও নেই । প্রাথমিকে নদী ছিল পাশে,মেঠোপথ ছিল, এখন তা ভাঙনে বিলীনফলে, পা দুটো দাঁড়িয়ে…
-
বিরহ আর ভালোবাসা অক্ষত থাক
আমি যখন তোমাকে ‘শুভ রাত্রি’ বা ‘শুভ সকাল’ জানাইতখন নিজেকে বড় বেশি দীনহীন বলে মনে হয়স্বাগত জানানোয় বিস্তৃত হতে থাকে আমার যত ফর্মালিটিএমনকি ধন্যবাদ জানানোর সময়ও মনে হয় দরিদ্রই আমিআসলে এইসব মামুলি শব্দে হয় না আমার। আমি যখন সম্ভাষণে জানতে চাই – কেমন আছো?এই জিজ্ঞাসায়ও ছড়িয়ে পড়তে থাকে পরিহাসের ঘ্রাণ‘দখলদার’ আর ‘বর্বর’ এই শব্দদুটিওবিস্তৃত হতে…
-
হুন্দাস্মৃতি
হুন্দাপাড়ে বসতের চিহ্ন আর খুঁজেও পাবে না।তেমন দলিল নেই, তিরোহিত পাথুরে প্রমাণ,প্রাচীরের প্রাচীন সীমানা যেন পুরাস্মৃতি প্রায়।রেনেলের সূক্ষ্ম চোখ এড়িয়ে গিয়েছে এঁকে দিতেভূমির শরীর। আমার দাদুর কণ্ঠে হুন্দা নামস্মৃতিচারী শৈশবের সমবেত সুখের ফোয়রা।জ্বলন্ত স্বাক্ষীরা নেই, দাদুর নিশ্বাসধ্বনি আজোগেঁথে আছে মর্মমূলে, যেন উপকথা-রূপকথা! ফল্গু নামে নদীটিকে কোথাও দেখি না আজকালকেবল পুরাণগ্রন্থে স্রোতস্বিনী হয়ে ফুটে আছেঢাকার বুকের…
-
কেনই বা এলাম
কেনই বা এলাম এইদিগন্তবিস্তৃত মাঠেকি যে নেব আর কীই বা দেবএই সৃষ্টি বুঝে ওঠার আগেইসময় ফুরিয়ে এলোএই দিগন্তবিস্তৃত মাঠসবুজে সবুজে ভরা …সবুজে বিলীন হতেইবিবর্ণ হলুদ দ্রুতবিদায় জানাতে আসে। কেনই বা এলাম এইদিগন্তবিস্তৃত মাঠে …
-
বৈশাখের ভোর
১বৈশাখের পরিপক্ব ভোর আনন্দের কথা নিয়ে সেতার-বাদনে হাঁটে।সর্বত্র সজাগ গতিবিধি; অত্যন্ত সহজ সত্যে সৃষ্টির বিষয়েঐক্যবদ্ধ করে দৃষ্টি। আলোক-উপমা হাসে, রুচি অনুসারেগাণিতিক অভিজ্ঞান মাধুর্যের বিশ্লেষণেও ওড়ে।এসব সম্পর্কযুক্ত বিশিষ্ট ক্রিয়াকলাপ আমাকে চিনিয়ে দেয় পথ।এইসব সাবলীল গুঞ্জনের চারিপাশ আমি বিনষ্ট করি না।নজরদারি ঋতুর স্বাক্ষরে নথিভুক্ত হয়েছেগ্রীষ্মকাল, স্বনামধন্যতার পক্ষে অরণ্যের প্রান্তর আলোময়;ব্যাখ্যার আবিষ্ট রূপ কী পথপ্রদর্শক সেজে মুখাপেক্ষী হয়নিজস্ব…
-
যুদ্ধে বিধ্বস্ত শহর
এই শহরে এখন সময় স্থির নয়,একটি ঝুলন্ত ঘড়ির কাঁটার মতোযার মুখ ভেঙে গেছে শার্পনেলের ছোঁয়ায়।গণকেরা বাতাসে খোঁজে জীবনের রেখা –একটি জুতো, অর্ধেক পোড়া পুতুল,দেওয়ালে আটকে থাকা হাতের ছায়া। তবু হঠাৎ, মধ্যরাতে জেগে ওঠেকঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাড়ি;তার কোনো জানালা নেই, তবু ভিতরে জ্বলেএকটি মোমবাতির নিঃশব্দ শিখা –যেন কেউ এখনো অপেক্ষা করেকারো ফিরে আসার। সময়…
-
আঁধারকাল
যে আলো মনের ভেতর খেলা করে সবটুকু জুড়েসে এখন চেনা আর অচেনা নগরে এসে ভিড় করে আঁধাররেখায়।যেমন বসে পড়ে শিশু তার মায়ের কোলেতেমনি আঁচলের সব আলো ঝরে পড়ে পৃথিবীর শৈশবপাড়ায়।যে ভোর ডেকে আনে রোদের আলোভরা চুমুর পরশ,সে কি না অতি দ্রুত চলে যায় বিষাক্ত প্রেমের হাট-ঘাট-মাঠেরোদ আর ছায়ার গোপন চুক্তির অচেনা নগরে এসে,পালিয়েছে মানুষ সুন্দরের…
-
বুড়ি সোনাই, রুক্ষ দুপানি
আমি কি বৃষ্টির সন্তান ছিলাম, নাকি প্রেমিক – কৃত্রিম ঝরনার কাছেএ খবর থাকবে না, শহুরে দৈনিকগুলোও ছাপবে না কোনো কিছু –মাঝে মাঝে নিজেকেও খুব অচেনা মনে হয়, শুধু খোলস আছেখোলসের ভেতর মানুষ, নাকি মাছি – কোথায় ছুটেছি কার পিছু? আমারও তো মাঝে মাঝে একা লাগতে পারে, এসব ওরা বোঝে নাএসির বাতাসে কীভাবে নেব বৃষ্টি-হাওয়ার স্বাদ,…
