স্বপ্নব্যাখ্যা-প্রকল্প

কোনো পেশায় সুবিধা করতে না পেরে অবশেষে তারা তিনজন স্বপ্নব্যাখ্যা-বিষয়ক একটি প্রতিষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও এর কার্যপদ্ধতি, উদ্দেশ্য এবং ফলাফল নিয়ে পরস্পরে ব্যাপক মতপার্থক্য থেকেই যায়। তবে তারা প্রত্যেকেই তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, দূরদর্শিতা তথা মেধার ওপর পূর্ণ আস্থাশীল।

সাদাফ সাইকিয়াট্রিস্ট, বয়স ত্রিশের কোঠা পার হতে-না-হতে এতদ্বিষয়ে তার বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়া হয়ে গেছে। ও জানে, তার বংশগত একটি জিন আছে, যা অত্যন্ত সূক্ষ্ম বুদ্ধির ধারক। তবে বংশে নগণ্য দু-একটি উদাহরণ ছাড়া এর প্রবণতা সুপ্তির দিকেই। তার দাদার এক ভাইয়ের মধ্যে জিনটির প্রকাশ ঘটে। তিনি ব্রিটিশ আমলে ব্রিটিশবিরোধী দল থেকে প্রাদেশিক পরিষদে মেম্বার হন। ওদিকে ব্রিটিশ সরকার সামাজিক অবদানের (নাকি দালালি!) জন্য তাঁকে খান বাহাদুর উপাধিও দেয়। সাদাফের এক চাচাতো চাচা, যাঁর সময়টা ব্রিটিশ-পাকিস্তান মিলিয়ে, তার কবর এখন প্রত্নচিহ্ন বা কিংবদন্তির স্মারক – এর পাশ দিয়ে যেতে যেতে কতজনা যে বলে, ওনার পরামর্শ আমার বাবারে/ আমারে মহাসংকটতে উদ্ধার করছিন। অবশ্য দেশভাগের সময় আশেপাশের কোনো হিন্দুই নামমাত্র দামে তাকে ভিটাবাড়ি-জমিজমা না দিয়ে ব্যাটার প্যাঁচ ফেড়ে আর কারো কড়ি নিয়ে ওপারে পাড়ি দিতে পারেনি। এ-সবই অবশ্য ওই জিনের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সুবাদে। সাদাফের বিশ্বাস বংশগতির এই জিন তার মধ্যে প্রকাশিত এবং সে এর ক্ষমতাকে ব্যবহার করতে পারে স্বপ্নব্যাখ্যার মতো একটি বাস্তব কাজে।

স্বপ্নব্যাখ্যা-প্রকল্পের দ্বিতীয় সদস্য আমানউল্লাহ্ ফরায়জী। তার পূর্বপুরুষ বংশপরম্পরায় রুহানিয়াত হাসিল করা সাধক, যাঁরা জানতেন, নবীজীর পর আর কারো কাছে কোনো ওহি নাজেল হবে না। কিন্তু খোদা তাঁর নেককার বান্দাদের স্বপ্নের মধ্য দিয়ে দিকনির্দেশনা ফরমাবেন। তো তাঁরা স্বপ্নের ব্যাখ্যা, প্রয়োজনে এস্তেখারার মাধ্যমে, দিয়ে প্রভূত খ্যাতি ও ভক্তি যুগপৎ সম্পদ অর্জন করেন। আমানউল্লাহ্র বিশ্বাস সে-ও যদি এই সাধনায় ব্রতী হয়, যশ, অর্থ দ্বিবিধ সাফল্য সম্ভব। তার সম্পর্কে এসব জানা সত্ত্বেও সাদাফ ও প্রকল্পের তৃতীয় সদস্য জয়িতার তাকে প্রকল্পের জন্য অপরিহার্য ঠেকে। কারণ তাদের মধ্যে এমন একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার অর্থ-জোগানে সমর্থ কেবল ও-ই। তবে সাদাফের বিশ্বাস তারা তাকে এমন বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে একদিন সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারবে। কিন্তু জয়িতা জানে, জগতে এর হেদায়েতের কাজটিই একদিন সবচে কঠিন বলে প্রমাণিত হবে।

জয়িতা ইংরেজি সাহিত্যের এম. এ.। ডক্টরেট করেছে ‘নাটক ও উপন্যাসে মনোজগৎ’-বিষয়ে। হ্যামলেট বলছেন, স্বপ্ন হচ্ছে বাস্তবের ছায়া। জয়েসের ফিনেগন্স ওয়েক – মানুষের আসল মানুষ ধরা দেয় স্বপ্নে। স্বপ্নে সমন্বিত অচেতন, যাতে মানুষের ক্রমবিবর্তনের সঞ্চিত অতীতও, উঠে আসে অবাধে। তাতে তার সুপ্ত, গোপন সব বৈশিষ্ট্যও প্রকাশ হয়ে পড়ে। সুতরাং স্বপ্ন থেকে মানুষের সমস্যা-শনাক্তি যে-কোনো দশার চেয়ে লক্ষ্যভেদী হতে পারে। ফ্রয়েডের ইন্টারপ্রিটেশন অব ড্রিমস স্বপ্নতত্ত্বের এক মৌলিক আকর। এখন ও সাদাফের সহযোগিতায় মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক নানা গ্রন্থ থেকে স্বপ্ন-বিষয়ে পাঠ নিচ্ছে।

সাদাফ-জয়িতা জানে, এই প্রকল্প কারো কারো কাছে বিভ্রান্তিকর বা উদ্ভট ঠেকতে পারে। কারণ ওরা প্রচলিত খোয়াবনামার সঙ্গেই পরিচিত। এর ঊর্ধ্বে যে, অথচ সংকেত বোঝার কৌশল জানা নেই, তার কাছেও স্বপ্ন দুর্বোধ্য একটি গোলকধাঁধা। স্বপ্নব্যাখ্যা অবশ্যই এক দুর্ভেদ্য, জটিল বিজ্ঞান। তীক্ষè উদ্ভাবনী ক্ষমতাধর কোনো মনোবিজ্ঞানীই কেবল এটিকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন। স্বপ্নব্যাখ্যার এমন আইডিয়ার যে তারাই জনক, তেমন দাবি তাদের নেই। বরং পাশ্চাত্যে এমন ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে – তারা স্বীকার করে। এই স্বীকারোক্তি তাদের যেমন খুব দূরবর্তী হলেও একটি শক্ত ভিত পাইয়ে দেয়, তেমনি প্রতিষ্ঠানের সততাকেও প্রতিষ্ঠা দেয়। পাশ্চাত্যে যে-প্রতিষ্ঠানটি এ-ক্ষেত্রে সবচে বেশি সুনাম কুড়ায়, তা ইন্টারপ্রেটার অব ড্রিম। এর স্বপ্ন-ব্যাখ্যাতাদের পদ্ধতিটি হলো, তারা ক্লায়েন্টকে প্রথমে বলে, আপনি আপনার স্বপ্নটি বর্ণনা করুন। এরপর স্বপ্নদর্শীর মুখেই তার বাস্তব সমস্যার বয়ান। এবার দুপক্ষ মিলে স্বপ্ন ও বাস্তবের সম্পর্ক নিয়ে অঙ্ক কষার পালা। পরিশেষে ব্যাখ্যাকার ক্লায়েন্টের মুখ দিয়ে সমাধান বের করার জন্য বলেন, এখন আপনিই বলতে পারেন আপনাকে কী করতে হবে – তো বলুন।

স্বপ্নব্যাখ্যা-কেন্দ্র। নগরীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস ভাড়া নিয়ে তা সাজাতে সাজাতে বহুলপ্রচারিত সব দৈনিকে বিজ্ঞাপন দেয় তারা। কেন্দ্র-উদ্বোধন হতে যদিও আরো সাতদিন, কিন্তু দেখা যায় বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ হতে-না-হতেই লোকজন এসে ভিড় করছে। এ-সাড়া অপ্রত্যাশিত – আশাতীত। দ্রুত তারা অ্যাপয়েন্টমেন্টের একটি বুথ খুলল। কিন্তু কাজের মানের স্বার্থে স্বপ্নব্যাখ্যা-প্রার্থীর রোজকার সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমায়িত।

কিন্তু প্রথম কার্যদিবসে সাদাফ ও জয়িতা বিব্রত। ক্লায়েন্টরা যেন প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেনি। তারা বিষয়টিকে তথাকথিত খোয়াবনামা বা জ্যোতিষশাস্ত্রের আধুনিক তথা নগরসংস্করণে ঘুলিয়েছে! দুজন বিজ্ঞাপন খুঁটিয়ে বুঝতে চেষ্টা করে তাতে কোনো ভুল বা ঘাটতি আছে কি নেই।

আমি যা স্বপ্ন দেখি তা ঠিক ঠিক ফইলা যায়।

পরদিন প্রথম ক্লায়েন্টের কথায় তিনজনই বিস্মিত।

একটি উদাহরণ দেন। সবার চেয়ে উদ্গ্রীব আমানউল্লাহ্।

আমার গতরাতের স্বপ্নে তার আগের রাতের স্বপ্নের কথা ঠিক ঠিক মনে পড়ল, এমনকি তা থেইকা আসা একটা কুসংকেত যে দিনভর আমারে তাড়াইছে তা-ও। তবু আমি চাকরির জন্যই জি অ্যান্ড জি কোম্পানিত গেলাম। এম ডি সাব ত আমারে দেহা করতে দিলই না এমুনকি আমি তার পি এ, পিয়ন দ্বারা অফমানিত হইলাম এইভাবে বারবার ধন্না দেওয়ার অপরাধে। পরপর দুইরাতের ওই স্বপ্ন মনে থাহা সত্ত্বেও আইজ সহালে আমি জি অ্যান্ড জিতে গেলাম এবং ঠিক গতরাতের স্বপ্নের অফমানডা পাইলাম।

আপনি প্রকৃতই দূরদর্শী, এই স্বপ্ন তার প্রমাণ। সাদাফ বলে।

বুঝলাম, কিন্তু তাতে ফলডা কী! আমার প্রয়োজন একটা সফল স্বপ্ন – আমার স্বপ্ন যেহেতু ফলে সেইহেতু তাই আমার জইন্য যতেষ্ট। এখন আপনেরা বলেন, তেমন স্বপ্ন আমি কেমনে দেখতে পারি।

আমাদের সমাজের সবচে বড় ট্র্যাজেডিটা কি জানেন? জয়িতা বলতে চায়।

আপনেই কইন।

তারা কাজ চায়, কাজ করেই বাঁচতে চায়, কিন্তু তা পায় না। এই ধরুন আপনার মতো মেধার…

ফিস দেয়া আমি কিন্তু এইগুলো হুনতে আই  নাই – আইছি একটা সুন্দর স্বপ্ন দেহার দাওয়াই নিতে।

আমরা তো তেমন দাওয়াই দেই না। জয়িতা বলে।

তাইলে সাইনবোড লাগায়া বইছেন ক্যা?

স্বপ্নব্যাখ্যার জন্য।

ব্যাখ্যা নি তাবিজ যে এইডা ধুইয়া পানি খাইলেই…

এই যে আপনার মতো কর্মক্ষম মানুষ যারা ডিরেইল্ড হয়ে যাচ্ছে তাদের সঠিক পথ…

ওফ্! আমি নিশ্চিত বাস্তবে কুনু পথঅই নাই তবু ক্যান…

বাস্তবতা তা-ই – সাদাফ ও জয়িতা কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না। এতক্ষণ আমানউল্লাহ্র কৌশলবুকের ভিতর মাথা কুটছিল, দুজনকে বেকায়দায় দেখে এবার বেরিয়ে পড়ার সুযোগ নেয়। সাফল্যজনক একটা স্বপ্ন দেখার পথ আমি আপনাকে বাৎলে দিব।

সেইটাই ত আমি চাই।

আপনাকে এস্তেখারা করতে হবে।

মানে?

এর নিয়ম আমি আপনাকে বলে দিচ্ছি। সে-অনুযায়ী যদি আপনি নির্ধারিত নফল নামাজ, দোয়া পড়ে ঘুমাতে যান…

আমান সাহেব, আপনি এসব কী বলছেন! জয়িতা আর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারে না।

আপনি হিন্দু, এসবের মহিমার কী বুঝবেন! হ্যাঁ, অতঃপর আমানউল্লাহ্ ক্লায়েন্টের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলে, বিশ্বাসে মেলে ধন তর্কে বহু দূর। এস্তেখারার ত্রুটির কারণে যদি সফল না হন সাতদিন পরে আসেন।

এভাবে স্বপ্নব্যাখ্যা নিয়ে তাদের মতপার্থক্য-বিতর্ক বাড়তেই থাকে। কখনো ক্লায়েন্টের সামনেই ত্রিমুখী ব্যাখ্যা। আর তিনজন যখন পাশাপাশি বসে আমানউল্লাহ্র কেবলই মনে হয়, জয়িতার বাহু, ঠোঁট, চোখ সাদাফের জন্য উন্মুখ, ব্রার নিচে স্তন, পেটিকোটের তলায় যোনি সব ওর জন্য নগ্ন। এমন অস্বস্তিকর দশায় বসে কাজ করা যায়! শিগগির ওকে পর্দানশীন করা উচিত।

জয়িতাও মুখ দেখে ফিজিওনমিস্টের মতো আমানউল্লাহ্কে পাঠ করে ফেলে – ব্যাটার মতলব তাকে বিয়ের নামে ঘরবনিতা করা, যদিও এখন তার তা বলারই পরিবেশ নেই।

একপর্যায়ে তারা সমঝোতায় আসে। কেন্দ্রে তিনজন বসবে তিনটি চেম্বারে এবং ক্লায়েন্টরা পছন্দমতো তাদের স্বপ্নব্যাখ্যাতা বেছে নেবে। তারা যার যার মতোই স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেবে। তবে সহযোগিতার জন্য একে অন্যকে ডাকতে পারবে, প্রয়োজনে দুই বা তিনজন একসঙ্গেও বসতে পারে – অবশ্য তা সাময়িক।

তিনটি চেম্বার হয়, প্রত্যেকটির কপালে আলাদা সাইনবোর্ড।

ত্রিশের মতো বয়স, মহিলাটি যখন চেম্বারে ঢুকছে জয়িতার মনে হয় কোনো অস্বাভাবিক স্বপ্ন নিয়ে এসেছে ও। তরুণী কী বুড়ি, যে-কোনো নারীর,  অন্তত বিষয়টি যার একান্ত গোপনীয়, তাকেই বেছে নেওয়ার কথা। বাস্তবে সাদাফের চেয়ে তার নারী ক্লায়েন্ট কম নয়, কিন্তু আমানউল্লাহ্র তুলনায় নগণ্য। মহিলাটিকে স্বপ্নের কথা বলতে বললে সসংকোচে সে শুরু করে, আমি বারবার অতিকায় এক পুরুষাঙ্গঅলা ধর্ষককে স্বপ্ন দেখি, এমনকি যদি অন্য কাউকেও স্বপ্ন দেখি, ঘটনাক্রমে কিংবা যেন তা ভৌতিক, ও বদমাইশে রূপান্তরিত হয়ে যায়। হয়তো শুনলাম বাবা ডাকছে, দরজা খুললাম, অথচ বাবার বেশে ঢুকে লোকটা আমাকে ঝাপটে ধরল। আমি তার হাত থেকে রেহাই পেতে প্রাণপণ লড়ছি। কিংবা ছুটছি তো ছুটছি। সহসাই টের পাই বোবা ধরেছে আমায়। সবচে আশ্চর্য, স্বপ্ন না, পথে-ঘাটে কোনো কোনো লোক কামে হরর ক্যারেক্টারের মতো ভয়াল হয়ে…

মহিলা কি লিবিডো-তাড়িত? অবদমিত যৌনতার প্রতীকী প্রকাশই যদি হয় স্বপ্ন তবে… সহসাই জয়িতার মনে হয় এ-বিকৃতির প্রতীকায়ন। আচ্ছা, আপনি কি কখনো ধর্ষণের শিকার হন?

মহিলা নির্বাক। চাপা আর্তি বুকের ভেতর থেকে ঠেলে বেরিয়ে আসে, আমি এ-থেকে রেহাই চাই।

মনে করুন এটা নিছক দৈহিক আক্রমণ – দেখবেন একদিন আপনার দেহের, মনের জখম, ক্লেদ – সব মুছে গেছে।

না, ইচ্ছা করলেই আমি তা মুছতে পারি না। ঘরে ঘরে এ-নিয়ে মুখরোচক আলোচনা, আমাকে দেখলেই লোকে আঙুল তুলে দেখায়…

মহিলার কণ্ঠই তার কথা চেপে ধরে যেন। সৃষ্টিশীল, সুন্দর স্বপ্ন মনের ভার লাঘব করে, আনন্দ বা অনুপ্রেরণাদায়কও। বিপরীতে অনেক মানসিক রোগের কারণ হচ্ছে বিকৃত স্বপ্ন। বিকৃত স্বপ্নের সংকেত থেকে মনোরোগের স্বরূপ-নির্ণয় সম্ভব। জয়িতা তার ক্লায়েন্টের জন্য কোনো একটি সমাধান খোঁজে, বেশ কিছু মুহূর্ত গড়িয়ে যায়, পায় না। এভাবে সময় নেওয়া পেশাগত ব্যর্থতাই প্রমাণ করবে। জয়িতা একটি স্লিপে সিডেটিভ-প্লাস-অ্যান্টিঅ্যাংজাইটি পিলের নাম (সাদাফের কাছে শেখা) লিখে বলে, এগুলো খান – দেখা যাক কী হয়। তবে মনে রাখবেন, এসব ক্ষেত্রে নিজের সঙ্গে বোঝাপড়াই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ট্রিটমেন্ট। জয়িতা সাদাফের স্মরণ নেয়।

 দেখতে দেখতে সাদাফ ও জয়িতা অনেকটাই পরস্পর নির্ভরশীল। সাদাফ বোঝে তার   চেহারাটি অপরিচিতজনের কাছে কাঠখোট্টা – আনইমপ্রেসিভ। জয়িতার কণ্ঠ, ভ্রƒকুটিতে সম্মোহন – ও এক বিশ্বাস্য দেবীর প্রতীক। কিন্তু জয়িতার সম্মোহিত করার মেথড জানা নেই। সাদাফের আছে। অথচ তা দিয়ে কাউকে ও সম্মোহিত করতে পারে না। কৌশলগুলো যদি জয়িতাকে দিয়ে প্রয়োগ করে লোকগুলো কতো সহজেই না প্রভাবিত। তারা মানুষের সমস্যা-নির্ণয় এবং তার সমাধানে সম্মোহন-বিদ্যাকেও কাজে লাগানোর কথা ভাবে। এখন ঘুরেফিরে প্রায় সময়ই দুজন একসঙ্গে বসে। তবে কখনোই দুয়ের কেউ আমানউল্লাহ্র সঙ্গে নয়। অথচ ও ধরে নিয়েছিল, যেহেতু নারীরা স্বার্থান্বেষী, সেহেতু যার অর্থে এই কেন্দ্র চলে জয়িতা এমন ভাগাভাগিতে তার কোটায়ই ঢুকবে।

স্বপ্ন দূরে কোনো দুঃস্বপ্নও যে আমারে ধরা দেয় না, সাদাফ ও জয়িতার সামনে বসা লোকটি বলে, আগে আমি স্বপ্ন দেখবার দাওয়াই চাই।

কিন্তু আমরা তো কেবল স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেই, স্বপ্নহীনতার ট্রিটমেন্ট… বলতে বলতে সাদাফের মনে হয়, স্বপ্নব্যাখ্যার চেয়ে সুন্দর স্বপ্ন দেখানো কম গুরুত্বপূর্ণ নয়, কারণ স্বপ্ন-অনুযায়ীই ভবিষ্যৎ তৈরি হয়। কিন্তু তা কীভাবে সম্ভব সহসাই ভেবে উঠতে পারে না, চিন্তার বাঁকবদল করে বলে, শুনুন, স্বপ্ন জীবনেরই অনিবার্য অংশ – স্বপ্ন দেখে না এমন মানুষ নেই। কিন্তু অনেকে তা মনে রাখতে পারে না কারণ তার চেতন এতো ক্রিয়াশীল যে, অচেতনে ফোটা স্বপ্নকে দ্রুত ভাসিয়ে নেয় – আপনার সমস্যাটা ওখানেই।

এইটা কি কোনো মানসিক প্রতিবন্ধিতা?

নো।

যাক, জয়িতার পরামর্শ, আপনি এমন কোনো সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যান যার কারবার স্মৃতি-বিস্মৃতি নিয়ে।

তাইলে আপনেরা মিয়া-বিবি এমুন ভাওতাভাজির দোকান খুইলা বইছেন ক্যা?

দেখুন, স্বপ্ন-উদ্দীপক ওষুধ আমরা আপনাকে দিতে পারতাম, সাদাফ ক্ষুব্ধ, তাতে আপনি শুধু ঘুমে নয় জেগেও স্বপ্নে ডুবে থাকতেন, কিন্তু তা যে আপনার হাতে ড্রাগ ধরিয়ে দেওয়ার শামিল!

ফি ফেরত দিয়েও তাকে বিদায় করা কঠিন হয়।

পরের জন ঢুকলে প্রথমেই জয়িতা জানতে চায়, আপনি আদৌ কোনো স্বপ্ন দেখেন কি?

না। যুবকটি বলে, আমি যা দেখি সবই দুঃস্বপ্ন।

দুঃস্বপ্নও একধরনের স্বপ্নই, সাদাফ বলে, যদি তা প্রকৃত ঘুমে…

ঘুমটি প্রকৃত না কৃত্রিম তা কেমনে বুঝি!

আপনি কি নেশা করেন?

না।

আপনাকে কি কেউ সম্মোহিত করে কিংবা আপনি এমনি এমনি তেমন দশায়…

এমনি এমনি…

সোমনাবলিজম, মানে আপনি কী ঘুমের মধ্যে হাঁটেন?

না।

এবার তবে আপনার দুঃস্বপ্নটা কী বলুন।

আমি মহাশূন্যের মতো বিশাল এক শূন্যতায় কেবলই তলিয়ে যাচ্ছি। আমার কোনো অবলম্বন নাই, আশা নাই। পরকালের মতো পরপারহীন এক শূন্যে আমি চিরনির্বাণহীন।

কোনো কারণে পরকালবোধে এগোরাফোবিয়ার আক্রমণ। যাক, জাগরণে আপনি কেমন বোধ করেন?

ব্যাখ্যা করা খুব কঠিন। তবে একটি গল্প আর একটি কবিতার নায়কের উপলব্ধির সঙ্গে এর সাংঘাতিক মিল আমি খুঁজে পাই।

প্রথমে আপনি গল্পের নায়কের সঙ্গে মিলের বিষয়টা বলুন।

নায়কটি অনুভব করে তার চোখে একটি মৃত্যুর লেন্স সাঁটা হয়ে গেছে। তাতে ও দেখে, মানুষ-বৃক্ষলতা-আকাশ – তাবৎ জগৎ অর্থহীন এক অদ্ভুত মৃত্যুর উপকরণে গড়া। আমার ব্যাপারটিও প্রায় তেমনি।

আর কবিতার…

কবি বলছেন, প্রেম ছিল, শিশু ছিল, তবু আত্মহত্যার মানসিকতা তৈরি হলো লোকটার, কারণ মাথার ভিতরে এক বোধ কাজ করে –

না, কবির এই ধারণা ঠিক নয়। কারণ প্রেমই হচ্ছে জগতের পরম আনন্দ। এবং যার প্রেম আছে তার ভেতর এমন বোধ তৈরি হতে পারে না। আসলে এই কবির দাম্পত্যজীবনের দিকে তাকালেই প্রকৃত সত্যটি ধরা পড়ে। তার জীবনে প্রেম ছিল না বলেই তিনি এমন এক মৃত্যুবোধে আক্রান্ত হন এবং শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেন।

আত্মহত্যা!

ব্যাপারটি হয়তো বিতর্কিত, কিন্তু আমার বিশ্বাস তার মৃত্যুটা দুর্ঘটনার নয়, তিনি আত্মহত্যাই করেন। কবিতাটিতে দেখবেন ওই দশা থেকে বেরিয়ে আসার কোনো নির্দেশনা নেই।

সেটি কবির দায়িত্ব নয়।

রাইট। কিন্তু গল্পের নায়কটিকে দেখুন শেষে সে নায়িকার কাছেই গেল – বলল, কবিতা-দর্শন- ধর্ম – কেউ আমাকে উদ্ধার করতে পারল না, একমাত্র তুমিই পারো… আর আপনি জানেন কিনা, ওই গল্পের লেখক কিন্তু আত্মহত্যা করেননি।

তো আমার উপায়?

আপনারও মুক্তি হচ্ছে প্রেম।

মাসখানেক পর যুবকটি আবার এলো। এবার তাকে অসুস্থই দেখায়। আপনেরা আমারে এইটা কী দাওয়াই দিলেন!!

মানে!

প্রেম কোথায় আছে দুনিয়ার! প্রেমের মায়াবী খোলসে তো খালি স্বার্থের বেশ্যামি।

সত্যি ভুল হয়ে গেছে। দাওয়াই না দিয়ে প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করা উচিত ছিল। এখন তারা তা করার প্রয়াস নেয়। আসলে প্রেম পাওয়ার মতো যোগ্যতাই সে অর্জন করতে পারেনি। দোষটা তারও নয়, পারিবারিক দৈন্যদশা। মাঝ থেকে প্রেমলাভের প্রয়াস পরিহাস হয়ে দাঁড়াল। রাস্তায় ভার্সিটিগামী যে-সুন্দরীকে ও প্রেমনিবেদন করেছিল তার অভিযোগে পাড়ার মস্তানরা ওকে পেদিয়েছে। এতদিনে অবস্থা যা তাতে তাকে নেশানিরাময়-কেন্দ্র বা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করানো অপরিহার্য।

আমি একজন পেশাদার খুনি।

কী দুঃসাহস আপনার!

দুঃসাহস মানে! আমার পিছনে কে জানেন? আর আপনেরা তো পুলিশও না! হইলে আরো ভালা,  অন্তত এই মুহূর্তে আমি শত্রুর কাছতে একটু নিরাপদ। আর আমার সব ঠিক ঠিক না জানলে সঠিক পথ বাতলাইবেন কেমনে!

রাইট। এবার আপনার স্বপ্নটা কী বলুন।

এইটা স্বপ্ন না বাস্তব জানি না।

ব্যাপারটা বলুন।

দেহি আমি যাগরে খুন করছি তারাই কেউ কেউ আমারে খুন করতে আইতাছে। অনেক সময় হেরা হেগর স্বজনগর বেশ লয়। ঘটনাডারে স্বপ্ন মনে কইরা মাঝে মাঝে দেহি স্বপ্ন না, সত্যই কেউ আমারে ফলো করতাছে, লগে রক্তমাহা যে-অস্ত্র হেইডা দেয়া আমি তার মানুরেই খুন করছি।

ইয়েট হেয়ার ইজ এ স্পট।

কী কইলেন মেডাম… কইন, আমি অহন কী করি?

সাদাফ ও জয়িতা বোঝে নানা দিক থেকেই কেসটি জটিল। একে যদি সারিয়ে তুলতে পারেও পেশা থেকে ফেরানো নিশ্চয়ই অসম্ভব। আর সারিয়ে তুলতে না পারলে তাদের ওপর ক্রুদ্ধ ছোবল অসম্ভব নয়। আপনার জন্য আমাদের কিংবা অন্য কারোরই কিছু করার নেই, সাদাফ বলে, এ-থেকে আপনি আর কক্ষনো রেহাই পাবেন না।

কী! আপনেরা মনে করছেন আপনেগর ভাবগতি আমি বুঝি নাই? খাড়ন, আগে আপনেরার হেড কী জবাব দেয় হুইনা লই। লোকটা আমানউল্লাহ্র কক্ষের দিকে ধাবিত।

খুনি বেরিয়ে যেতে-না-যেতে তিন মস্তান। হয়তো খুনিকে চেনে বলে এতক্ষণ তার বেরুনোর প্রতীক্ষায় বাইরে। আমরার মাসিক চান্দাডা দেইন।

মানে!

মানে এতদিন একলগে ছিলেন, এখন যার যার তার তার।

আগে কি চাঁদা দেওয়া হতো নাকি!

প্রথমে ফিন্যান্সিয়ার হিসেবে আমান সাব দিতেন। যা হোক, এখন তার দিতে হয় না কিন্তু আপনাদের ত আর আমরা বাদ দিতারি না।

এমনিতেই প্রফেশনটা তারা যেভাবে জমিয়ে তুলবে ভেবেছিল – হয়নি। আসলে অতীত-অভিজ্ঞতার আলোকে স্বপ্ন ভবিষ্যতের ক্ষীণ ইঙ্গিত দেয় মাত্র। তা-ও আবার বিভিন্ন উদ্দীপনা, বিকৃতি, একই ফিল্মে তোলা কয়েকটি ছবির মতো অস্পষ্টতা ইত্যাদি থেকে তা তুলে আনা বড় কঠিন। ওদিকে ইনস্টিটিউট অব কোয়ান্টাম মেথড নামে মেডিটেশনের ব্যবসা খুলে এক লোক কী করে যে দেদার কামাচ্ছে! কিন্তু স্বপ্নকে পুঁজি করে সে-ধরনের ফাঁদ তৈরি নিশ্চয়ই অসম্ভব। এরই মধ্যে এইসব অবাঞ্ছিতরা!

মধ্যবয়সী লোকটি যখন চেম্বারে ঢুকছে সাদাফের ওকে দুর্বোধ্য ঠেকে – তবু দেখা যাক তাকে তার স্বপ্ন থেকে শনাক্ত করা যায় কিনা!

আমি গতরাতে স্বপ্ন দেখলাম সংসদ করতেছি। বাইরে ড্রাইভার পাজেরো ওয়েট করতাছে, অধিবেশন শেষ হইলে আমি আমার ইন্ডাস্টির অপিসে যাইয়াম। মাইনে আমি তেমন বড়লোকও হইছি। অথচ পার্টিতে অহনও মেডামের নজর পর্যন্তই পৌঁছতাল্লাম না। নেতারা একদিকে আমারে ব্যবহার করতাছে অন্যদিকে টাউট-মাস্তান কইয়া পিছে ঠেলতাছে। আপনেগর শর্তমতো স্বপ্ন-বাস্তব সব কইলাম – অহন কইন এই স্বপ্নের অর্থ কী?

এটা পাপ-স্বপ্ন।

পাপ-পুণ্য আপনেগর কাম কী! আপনেরা ত আর হাশরের বিচার বহান নাই। স্বপ্নডা ফলব কিনা কইন।

এভাবে স্বপ্নফল বলা তাদের কাজ নয়। যাক, সাদাফ বলে, পাপ-স্বপ্নের ব্যাখ্যা আমরা দিই না।

কী! এই কেন্দ্র আমি আপনেগর হাওয়ার ভিত্রে হান্দায়া দিয়া আমার স্বপ্নের ফল বাইর করবাম। চিনেন না ত আমারে! খাড়ন একটু, আপনেগর চেম্বার আমি গুঁড়াইয়া দেয়াম।

দিনে দিনে তাদের দুজনারই ক্লায়েন্ট কমে অস্বাভাবিক পর্যায়ে। বিপরীতে আমানউল্লাহ্র চেম্বারে নারী-পুরুষ গিজগিজ করছে। একদিন তার চেম্বারে প্রধান মৌলবাদী দলের প্রধানকে দেখা গেল। কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্লায়েন্ট সবার চোখ সেদিকে। আমানউল্লাহ্র পেশাগত দক্ষতা তবে এমন লোককেও ক্লায়েন্ট করতে পেরেছে!

না। তিনি চলে গেলে প্রকাশ, সফরটি রাজনৈতিক।

পরদিন আমানউল্লাহ্ স্বাক্ষরিত দুটি নোটিশ আসে সাদাফ ও জয়িতার কাছে। স্বপ্নব্যাখ্যা-কেন্দ্রের চেম্বার ছেড়ে দিতে হবে দুজনকে।

এমন অধিকার তার নেই, ক্ষুব্ধ জয়িতা, চুক্তির শর্তবহির্ভূত এই নোটিশের জন্য আমরা তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করব।

সাদাফ নিরুত্তাপ, তা না হয় করলাম এবং জিতলাম, কিন্তু ফলটা কী হচ্ছে?

মানে!

ব্যবসায়িক ব্যর্থতার জ্বালা চেপে সাদাফ বলে, ক্লায়েন্টকে আমরা সমস্যা শনাক্ত করে পথ বাতলে দিচ্ছি কিন্তু বাস্তব যে তাকে এগুতে দিচ্ছে না।

সে-বাধা কীভাবে দূর…

কিন্তু ওই দায়িত্ব আমাদের নয়।

কার?

রাজনীতিবিদ, আমলা, সমাজকর্মী…

তারা তো এখন আমানউল্লাহ্র ধারার খোয়াবে বেদিশা।

যা-ই হোক, এই পর্যায়ে আমাদের এমন স্বপ্ন-ব্যাখ্যা আসলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণার শামিল কিংবা বাতুলতা মাত্র।

এখন কি তুমি কেন্দ্র বিলুপ্ত করে দিতে চাও!

আমরা ইচ্ছা করলেই কি তা পারি! প্রমাণ…

প্রমাণ এই নোটিশ। হয়তো আমরা থাকলাম না, কিন্তু কেন্দ্র থাকবে।

তা-ই।

কিন্তু আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে কেন্দ্র সমূলে নির্মূল।

তা কীভাবে সম্ভব?

আমরা আদালতে আরজি পেশ করব।

কিন্তু তাতে এমন একটি প্রতিষ্ঠান করার দায়ে আমরাও যে ফাঁসব।

আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা প্রকৃত সত্য তুলে ধরব।

ভুলে যাচ্ছ কেন আমাদের প্রতিপক্ষ প্রকৃতই এখন ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতাধর।

আদালতকে আমরা বলব ওই ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা দিয়ে কীভাবে ওরা নরকের ভয় আর স্বর্গের হুর-মদ-মাংসের লোভ ঢুকিয়ে মানুষের স্বপ্নকে বিভ্রান্ত, দূষিত, বিকৃত করে ভুল…

কিন্তু খানকা, দরগা, আখড়ার নামে আরো কতো কিছু হচ্ছে তারই কোনো বিচার নেই…

আমরা লড়ে যাবো।

লড়তে হবে না তোদের।

এ-সময় সশস্ত্র ছয়-সাতজন যুবক ঢোকে। সঙ্গে হুমকি দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া সেই খুনি ও মস্তানরা। এক্ষুনি এগুলোয় সই কর, তারা কেউ পিস্তল কেউ কাগজ তাদের দিকে বাড়িয়ে বলে, থানা-কউটের কথা চিন্তা কইরা সময় নষ্ট কইরা লাভ নাই। করলে যদি পরকালেও পাঠায়া দেই কেউ…তারা ভেবেছিল কাগজে সই করে পার পাবে, কিন্তু সই শেষ হতে-না-হতেই ওরা তাদের চেয়ার থেকে টেনে ওঠায় এবং দুজনকে দুদিকে টেনে-হেঁচড়ে নিতে শুরু করে। সাদাফকে ধরে গেট পর্যন্ত এমনভাবে নেয় যেন হাতেনাতে ধরাপড়া প্রতারক। তবে ও একবার পেছনে তাকানোর সুযোগ পায়। জয়িতাকে ঢুকানো হচ্ছে আমানউল্লাহ্র চেম্বারে। সাদাফ ভাবে, আগে থানায় যাবে না সোজা আদালতে। সহসাই তার মনে হয় থানা, আদালতের ভয় থাকলে তাকে আর ছেড়ে দেয়! গুম। এরই মধ্যে স্বপ্নব্যাখ্যা-কেন্দ্রের সাইনবোর্ড নেমে গেছে। সাজগোজ মিলে বাড়িটাকে এখন কোনো খানকার মতো লাগছে, যেন সহসাই সেখানে জ্বলে উঠবে নিয়ন সাইন – খানকায়ে আমানউল্লাহ্। কিন্তু কী বিস্ময়কর, বাড়িটির এহেন রূপান্তর সামনের পথচারী কারো চোখেমুখে অস্বাভাবিকতার কোনো বুদ্বুদই সৃষ্টি করে না। ইতোমধ্যে সবাই অদ্ভুত স্বপ্নের বলি!