2026

  • মায়ের পর আমার পালা

    মায়ের পর আমার পালা

    অমলেন্দু ডাক্তারের চিকিৎসায় মা সেরে উঠলেন। ভুগলেন প্রায় মাসখানেক। তারপর শরীর স্বাভাবিক হতে আরো এক মাস। সংসার চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। মায়ের সেরে ওঠাটা কত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এখন বুঝি। মা গত হলে আমরা ছ্যাওড় হয়ে যেতাম। এটা ঝামটিয়ার ভাষা। ছ্যাওড় মানে অভিভাবকহীন। আমরা তখন পরপর চার ভাই। সাত থেকে এক। কী দারুণ বা নিদারুণ অবস্থা। আমাদের…

  • বিশুদার গ্যারেজ

    বিশুদার গ্যারেজ

    কী রে, কনে গিছিলি ফাহাদ? – রাজেদের বাড়িতি গিইছিলাম। – কী অত্তি গিইছিলি সিয়ানে? – সিয়ানে মচ্ছব ছেল। খেইয়ে-দেইয়ে রওনা দিলাম। – তা কী খাওয়ালো? – অনেক অয়োজন ছেলো। ডাল, ভাজি, নাভ্রা, তরকারি, তেঁতুলির অম্বল, পায়েস; কত কিছু। – তা ভালোই হলো খাওয়া-দাওয়া, নাকি? – হয়। তো কিছুদূর আলি হেলিকাপ্টারডা গড়বড় কইরছে। দ্যাহো দি বিশুদা,…

  • ওরা জেগে আছে 

    ওরা জেগে আছে 

    গভীর রাতের নিগূঢ় স্তব্ধ অন্ধকারে অন্তহীন কালচে আকাশে অগণিত গ্রহতারা মিটমিট করছে। নিগূঢ় স্তব্ধতাকে কখনো অতল মনে হতে পারে আবার কখনো অগভীরও মনে হতে পারে। চোখের জ্যোতি অন্ধকার দেওয়াল ভেদ করে দিগন্ত লাগোয়া হাওরের দূরের গ্রামগুলোকে দেখতে পারে না। কেবল চেনা আলপথটুকু সামান্য দেখা যায়, এই আলপথ ধরেই হাঁটার সময় হানিফ আকাশের দিকে তাকিয়ে আদমসুরত…

  • গর্জনফুল

    গর্জনফুল

    ‘ছায়ারানি নাকিন তোরতুনও ভালা অভিনয় করে।’ বাউকুড়ানির মতো এলো খবরটা। বুকটা ধক্ করে উঠল। বুকের কোথায় যেন চিনচিন করে ওঠে। লক্ষ্মীর ওপর শুবনীর মেজাজ খারাপ হতে চায়। কিন্তু সে রাগ করে না। এই চা-বাগানে ওর মতো সয়ানি আর মিলবে না। ও খুব বিশ্বস্ত। ওর খবর ভিত্তিহীন হয় না। শুবনী মুখে কিছু বলে না। বড় বড়…

  • স্ট্যাচু মাদার

    স্ট্যাচু মাদার

    অক্টোবরের সকাল, ঠান্ডা হাওয়া বইছে, শীত আসছে। পাখির সুমধুর গান এবং শিওরে বসা টুনটুনের ডাকে ঘুম ভেঙে যায়। দেখি, মায়ের সুতি শাড়ির আঁচলের মতো ভোরের কুসুম কুসুম আলো আমার ঘরের দেয়ালে সেঁটে আছে। মায়ের আঁচল যেন এক মহাকাল, সন্তান যত দূরেই থাকুক সেখানেই ছায়া ফেলে। মায়েরা বোধকরি কোথাও যান না, তাঁরা সন্তানের কাছে ফিরে ফিরে…

  • প্রত্যাঘাত

    এখন আকাশে উড়ছে অগ্নিবাণ সিক্ত মাটিতে রক্তের হোলিখেলা ভূ-তলে উতল তপ্ত অগ্নিগিরি কত জীবনের ফুরায়ে গেল যে বেলা। প্রচণ্ড ঝড়ে আকাশ টালমাটাল ফুটছে লক্ষ বুলেটতপ্ত-খই নিরীহ প্রাণের শুনি যে তীব্রনাদ কি সে যন্ত্রণা মৃত্যু যাতনা বই! অস্ত্রের ঘায়ে ধ্বংস যে সভ্যতা মানবতা পদ-দলিত! ক্ষুব্ধ অতি ধাতু-বারুদের মিলিত শক্তিমোহ পরাজিত করে অতিমানবীয় গতি। অসহায় ভেবে হেনেছ…

  • ফাঁপর

    দীর্ঘ দীর্ঘ কবিতা লিখিয়াছি তবু তোমারে লিখিতে পারি নাই। অক্ষরফাটা জল ভেদে উঠিয়াছে সহস্র অবয়ব-রেখা মৃত ঘোড়াদের আর্তনাদ মৃত্তিকারন্ধ্র কাঁটা বিদ্যুৎ প্রবাহে তোমারই শত নাম, ডাহুকির ডাক তুমি তার কিছুই বোঝ নাই। হয়তো কৌশলে ভুল ছিল হয়ে গেছি এলোমেলো ওই বাহুদ্বয়ে ঠাঁই পেয়েও অভ্যুত্থান করেছি ব্যর্থ ফলে, তোমাকেই পাই নাই। ভেবেছি, তুমি যদি আসো কাছে…

  • এতো ঠুনকো বিচ্ছিন্ন ভঙ্গুর

    অতিথি পাখির দিনও শেষ হয়ে আসে মনে ঢেউ চিরচেনা স্বদেশে ফেরার বাড়ির নিজস্ব টান আলুথালু আবেগমিশ্রণ রোদ্দুর ছড়াতে ছড়াতে ক্লান্ত    সূর্যের বিশ্রাম চাই সুতরাং রাত্রি নামো, আপাতবিস্মৃতি দিয়ে     ঢেকে ফ্যালো চরাচর    ক্ষুদ্র জীবিকার চিন্তা    হানাহানি বিপণন    রক্তপুঁজ ঘেমো গাদ    কষ্ট ক্লেশ সূক্ষ্ম অভিমান! নির্দিষ্ট আয়ুর শেষ, ওই তো কাছেই…

  • পথ পরিক্রম

    পথ আর কতোটুকু চলতে চলতে ভাবি চিতার চৈতন্য জুড়ে জটিল বিন্যাস ভঙ্গি কাঠামো ও কলকব্জা দূরত্বেই থেকে যায় দুই কূলপ্লাবী পথ হয়তো সবটুকুই   পুরোটা জীবনই বুঝি পথ    হারিয়ে গন্তব্যদিশা    ভুলে গিয়ে প্রতিজ্ঞা শপথ    চলতে চলতে ভাবি    ভাবতে ভাবতে চলি     সেইসঙ্গে মনে মনে বলি পথে জন্ম মৃত্যুও পথেই তবে হোক…

  • কবির কথা

    কবিতার মতো প্রকাশক্ষম, অঙ্গীকারবদ্ধ ভাষায় প্রেম ও মুক্তিকে ভালোবেসে, নিরেট বিশ^স্ততায় বলতে চেয়েছি, সামান্য পাথেয় সঞ্চয় রাখা কবিকে দোষারোপ করা – নিপীড়নমূলক সমাজ সভ্যতার অভ্যাস। মানুষ সত্যকে লুকোছাপা করে, কত কৌশল করে বলে, শাশ্বত সত্যকে ভান করে না বোঝার! কবিকে বঞ্চনা করা অবিসংবাদিত শাসন ও শোষণের নামান্তর। দুঃশাসন কাউকে কোথাও একবিন্দু ছাড় দেয় না। আশ্চর্য…

  • হাটে ও বাজারে

    না-লেখা কবিতার মাঠে লাল রক্তজবা মিহিরোদ, অপার রহস্যঢেউ ভালোবেসে ডুব দাও গহন অতলে হয়তো ঝিনুক পাবে, মুক্তো কি পাবে না? কিছুদূরে হরীতকী বনজুড়ে পাখিদের আলাপচারিতা বাতাসের গুনগুন শিউলি গাছটি ঝড়ে-ভাঙা ডাল নিয়ে কতকাল উঠোনে দাঁড়িয়ে এই দেখে প্রতিদিন পাতা ঝরে যায় তারপরও গোধূলির আতর মেখে বিষণ্ন জোনাকি দৃশ্যের আড়ালে গিয়ে গহন বোধের দ্বিরালাপে খুঁজে পায়…

  • অপ্রকৃত অর্থলীলা

    মন বিনিময়ের সোনালি খড়ে একটু একটু করে গড়ে ওঠা বাতাসে দোদুল্যমান ঘরকম্পিত প্রেমের শিঞ্জন যেভাবে দূরত্ব অতিক্রমী অন্তর্জালে দেখি আমাদের মুখচ্ছবি গ্লাসস্ক্রিনে পরস্পর আর মুহুর্মুহু ক্ষুদে বার্তার তরঙ্গ হৃদয় যোজনা করে আমাদের যেন উদ্ভিন্ন প্রেমের সিদ্ধান্ত নেবার জন্য যথাযথ এই পরিসর, ভেবে স্বপ্ন বোনো তুমি আর আমাকেও নিতে চাও সঙ্গী করে তার। সহজ অর্থাগমের জাদু…