কবিতা
-
অচিনকুমার
তুমি কি কাজলরেখা? হেরে গেছ দাসির নিকট তোমার প্রেমের জলে স্নান সেরে রাজার কুমার চলে যাচ্ছে ভিনগ্রহে, রাতভর মন্থর শকট মায়াবি লণ্ঠন এক দিচ্ছে তার আঁধার পাহারা তোমার চোখের নিচে গোধূলির কালি, ধূলি ওড়ে স্খলিত নক্ষত্র, পুড়ে গেছে নদী, ভস্মকন্যা তুমি আল্পসের হিম, মথুরার কান্না, একা হুতাশন প্রেম কি অলঙ্ঘ্য দূর? তুমি এক উপবাসভূমি সমস্ত…
-
স্কারলেট জাহাজ
মেটাফোরিক জাহাজ সমুদ্রকে ভিন্ন ভিন্ন রূপকশোভা দেখায়। আকাশ ছাড়ল – তখন কি ট্যাঙ্কশিপ ছিল না? হয়তো স্টেইনলেস মালহার ছিল, কাপতানও! কারও কারও কাছে সিম্যান মাত্রই উল্লাসরোগে অভিযুক্ত – এমন দশা ছিল বলেই কি স্পেসিফারের সঙ্গে মতবিনিময় খেলতে গিয়ে ওই প্রণালি ছিটকে এই পথে এসে লিলুয়া মাখাচ্ছিল? নীল নেট্রন ভেঙে আমরা যেখানে…
-
রেক্যুয়েম
আজ রাতে মৃতদের কথা ভেসে আসে দূর থেকে তাদের অস্ফুট আওয়াজ গড়িয়ে পড়ছে জীবনভূমিতে মেঘের ফাঁক থেকে কারা যেন ফিসফাস করে গাইছে রেক্যুয়েম পাপড়ির ভাঁজ থেকে উথলিত গন্ধ আজ ইশারা ছাড়াই ফুল্ল অবসানের কথা বলে। একটি কুকুরজীবন নিয়ে গড়িয়ে চলেছি কুকুরদিনের দিকে কত চৈত্রকাল পেরিয়ে, কত ফুলফোটা বসন্তের বিজনতা আলিঙ্গন করে, এসেছি ঋতু কালের প্রান্তরে!…
-
নিজেকে হারিয়ে
কিছু জিনিস ফেলে আসা ভালো সব নিয়ে এলে স্বার্থপর মনে হয় মনে হয় পেছনে পেছনে কেউ বলছে : পৃথিবীর সবকিছুকে প্রয়োজনীয় ভেবে এই যে যান্ত্রিক একটা লোক, আহা বেচারা জীবনের ভার বইতে বইতে বিধ্বস্ত তার করুণা প্রয়োজন! কিছু জিনিস হারিয়ে যাওয়া ভালো না হারালে বোঝাই যায় না কোনটা দরকারি আর কোনটা কেবলি মাথার বোঝা! কখনো…
-
তৃষ্ণা ও সন্তাপ
আমার অসতর্ক পথ কীভাবে পৌঁছে যায় তোমার তৃষ্ণার্ত গিরিখাতে যেমন বসন্তস্নানের ফোঁটা স্খলনে নেশাতুর থাকে অনুপুঙ্খ রোদের ভেতর দিন ফুঁড়ে রাত নেমে এলে তোমার গিরিখাতের শৃঙ্খলে পুড়ি আমি, আমার অসতর্ক পথ জেগে উঠি আগুন-শরীরে ভেতরে বাঘিনী, রক্তলোলুপ চোখ শুধু তোমাতেই বিঁধে থাকে
-
পরিভ্রমণ
তথ্য গোপনের দায়ে উৎসব স্রোতে ভাসছিল জলের উপত্যকা; বিপর্যয় ঠেকাতে রেশমমসৃণ হাত অবিরাম সন্ধ্যার কাল – দৃশ্যগত পিতা তড়িঘড়ি পাঠালেন উপহার; একটি বৃষ্টিসুষমা প্রকল্প বিষয়টি ব্যক্তিগত – বুঝলাম তারও রয়েছে ডালপালার টান। কল ও কলত্র’র প্রভাবে বিস্তারিত শাখা-প্রশাখা ধুয়ে – কালো, নীল, সবুজ, মেরুন সাদা-সাদায় দুর্মর-দুরন্ত দুলদুল ঘোড়া তিন তালের সুর-শেকড়ের সন্ধান … অনুমেয়, সে…
-
ক্রমাগত
ক্রমাগত নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে সব পথ ভাগ হয়ে যাচ্ছে নানাদিকে। নানাভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে পথের ঠিকানা – এখন এই দুপুরে – পথে পথে চিৎকার-হাঁক-ডাক জীবনের নানা ছলনায় নানাভাবে মানুষ এঁটেছে নানান মুখোশ বাইরে কুয়াশা-মলিন মাঘের আকাশ এই সকালে রোদ চলে যাচ্ছে তরতর করে নাগালের ওপারে – এই মেট্রোপলিটান শহরের সবকিছুই এখন নাগালের সীমার ওপারে শেয়ার…
-
প্রত্যাঘাত
এখন আকাশে উড়ছে অগ্নিবাণ সিক্ত মাটিতে রক্তের হোলিখেলা ভূ-তলে উতল তপ্ত অগ্নিগিরি কত জীবনের ফুরায়ে গেল যে বেলা। প্রচণ্ড ঝড়ে আকাশ টালমাটাল ফুটছে লক্ষ বুলেটতপ্ত-খই নিরীহ প্রাণের শুনি যে তীব্রনাদ কি সে যন্ত্রণা মৃত্যু যাতনা বই! অস্ত্রের ঘায়ে ধ্বংস যে সভ্যতা মানবতা পদ-দলিত! ক্ষুব্ধ অতি ধাতু-বারুদের মিলিত শক্তিমোহ পরাজিত করে অতিমানবীয় গতি। অসহায় ভেবে হেনেছ…
-
ফাঁপর
দীর্ঘ দীর্ঘ কবিতা লিখিয়াছি তবু তোমারে লিখিতে পারি নাই। অক্ষরফাটা জল ভেদে উঠিয়াছে সহস্র অবয়ব-রেখা মৃত ঘোড়াদের আর্তনাদ মৃত্তিকারন্ধ্র কাঁটা বিদ্যুৎ প্রবাহে তোমারই শত নাম, ডাহুকির ডাক তুমি তার কিছুই বোঝ নাই। হয়তো কৌশলে ভুল ছিল হয়ে গেছি এলোমেলো ওই বাহুদ্বয়ে ঠাঁই পেয়েও অভ্যুত্থান করেছি ব্যর্থ ফলে, তোমাকেই পাই নাই। ভেবেছি, তুমি যদি আসো কাছে…
-
এতো ঠুনকো বিচ্ছিন্ন ভঙ্গুর
অতিথি পাখির দিনও শেষ হয়ে আসে মনে ঢেউ চিরচেনা স্বদেশে ফেরার বাড়ির নিজস্ব টান আলুথালু আবেগমিশ্রণ রোদ্দুর ছড়াতে ছড়াতে ক্লান্ত সূর্যের বিশ্রাম চাই সুতরাং রাত্রি নামো, আপাতবিস্মৃতি দিয়ে ঢেকে ফ্যালো চরাচর ক্ষুদ্র জীবিকার চিন্তা হানাহানি বিপণন রক্তপুঁজ ঘেমো গাদ কষ্ট ক্লেশ সূক্ষ্ম অভিমান! নির্দিষ্ট আয়ুর শেষ, ওই তো কাছেই…
-
পথ পরিক্রম
পথ আর কতোটুকু চলতে চলতে ভাবি চিতার চৈতন্য জুড়ে জটিল বিন্যাস ভঙ্গি কাঠামো ও কলকব্জা দূরত্বেই থেকে যায় দুই কূলপ্লাবী পথ হয়তো সবটুকুই পুরোটা জীবনই বুঝি পথ হারিয়ে গন্তব্যদিশা ভুলে গিয়ে প্রতিজ্ঞা শপথ চলতে চলতে ভাবি ভাবতে ভাবতে চলি সেইসঙ্গে মনে মনে বলি পথে জন্ম মৃত্যুও পথেই তবে হোক…
-
কবির কথা
কবিতার মতো প্রকাশক্ষম, অঙ্গীকারবদ্ধ ভাষায় প্রেম ও মুক্তিকে ভালোবেসে, নিরেট বিশ^স্ততায় বলতে চেয়েছি, সামান্য পাথেয় সঞ্চয় রাখা কবিকে দোষারোপ করা – নিপীড়নমূলক সমাজ সভ্যতার অভ্যাস। মানুষ সত্যকে লুকোছাপা করে, কত কৌশল করে বলে, শাশ্বত সত্যকে ভান করে না বোঝার! কবিকে বঞ্চনা করা অবিসংবাদিত শাসন ও শোষণের নামান্তর। দুঃশাসন কাউকে কোথাও একবিন্দু ছাড় দেয় না। আশ্চর্য…
