কবিতা
-
প্রেমের চতুর্দশপদী
চঞ্চুতে চঞ্চুতে প্রেম হলে মন্দ নয়। পাখি সব যেমন প্রণয় করে পাখার ঘর্ষণে, পালকের স্পর্শ পেলে শিহরণ ঘটে যায়, তেমনি উড়ালে ভালোবাসা হবে আমাদের। খড়কুটো ঠোঁটে নিয়ে বাঁধব না কেউ ঘর, বাবুই পাখির কারুকাজ হয়ত হবে না। কোকিলের মতো ডিম পেড়ে যাব অন্য কারো ঘরে। পাখিরা জানে না কবে কার বাসে জন্মেছিল! কোথায় নিবাস ছিল…
-
সূর্যাস্তের রক্তরাগ
কী করে বলি ব্যর্থ জীবন জন্মেই পেয়েছি মাতার স্নিগ্ধ স্তন্য দু’চোখে দেখেছি শ্যাম সমারোহ চারিদিকে জনারণ্য। গ্রীষ্মে পেয়েছি সুশীতল ছায়া শ্রাবণে পেয়েছি বৃষ্টি যৌবনে দেখেছি প্রেয়সীর মুখ গীতি-সুধাময় দৃষ্টি। আজকে যখন রক্ত ভাটায় নিঃস্ব তখনো দেখি, কী গভীর প্রেমে সজ্জিত এই বিশ্ব। জোয়ারের শেষে তাই তোমার আমার সন্ধি বয়েস খাঁচায় আমরা হবো না বন্দি। সৃষ্টির…
-
কথা
বুকের কাছেই রেখো, জমা করো; একদিন এসে তুলে নেবো। নেবো নেবো করে, অনেক বৈশাখ খসে গেছে চৈত্রের বাদামি পাতায়। আমিও রেখেছি ধরে বুক-বরাবর এক টুকরো দীর্ঘশ্বাস। সারাক্ষণ হারানোর ভয়। কথাগুলো যত্নে রাখা খুব দরকার। পকেট সেলাই করা খুব দরকার। ঝরে দিন চৈত্রের পাতায়। একটা পকেটে আর কতই-বা ধরে যায়। যেতে হবে দর্জির দোকানে; পকেট সেলাই…
-
ধ্বনির রণসংগীতে
দেখতে পাচ্ছি চারিদিকে জবুথবু ছাইপাশ বহুকাল অস্পষ্ট ধোঁয়া গিলছে মানুষ গুলিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নদুঃখ ওড়ে পাথর হাওয়া এ কোণ পরিমণ্ডলে – মানুষের কথা বলি মুছে যাবে কীভাবে জেগে উঠছে সম্মুখে আদিঅন্ত আলোর ছায়া জেগে জেগে ফুঁসে ওঠে ছায়াপাক কুণ্ডলীগুচ্ছ ধোঁয়া সে-ছায়াপথের আলোরেখা ফোটে – জীবররক্তে নিশ্চিত প্রসরেণু ছুটে যাবে আলোর সাম্পান ঘিরে তাহাদের সাথে …
-
কবিতার আসা-যাওয়া
কাব্যদেহে দোল খায় যেন অনবদ্য শব্দের সংগীত হৃদয়ে অবাক সুর, বুকভরা স্বপ্নের বাগানে ফোটে ফুল পৃথিবীর অনবদ্য বকুল তলায় খুঁজি, ঝরে পড়া কুঁড়ি কবিতা কন্যার হৃদয়-মথিত মুঠোবন্দি অকিঞ্চিৎ ধন। ছন্দের বাগানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শব্দমালা গান বুকের অলিন্দে ঝুলে থাকা সবগুলি মুগ্ধ পারিজাত করতলে রাখা স্বপ্ন গল্প সংগীতের নিটোল মুদ্রার শব্দাবলি ভালবাসা দিয়ে গাঁথা বাগানের সবটুকু…
-
তুমি কি ফিরে যেতে চাও শালবীথি তলে
তুমি কি ফিরে যেতে চাও শালবীথিতলে – যেখানে এক ভিন্ন আকাশ, কারোর সান্নিধ্যে কালের কপোল নীল, নীলাভ অধরে লিখিয়েছ নাম? জানতো বিষয়টি শুধুই কালের শম্পার পায়ের দীর্ঘশ্বাস, হু-হু নীরবতা, সাঁওতালি পথের গ্রীবার পাশে সেই নীলধ্বজ, মৃত্তিকার গাও ঘেঁষে সুদূরের ঘ্রাণ – হতে পারে অনুভূত হৃদয়ের দুরূহ সংগীত – খোয়াইয়ের ধার; পূর্বপল্লি মাঠ – মৃণালিনী হয়ে…
-
জীবনের ইতিকথা
আমি কার, কে আমার – না জেনেই আয়ুরা ফুরায়। জীবনের ইতিকথা শূন্যহাতে ফোটে আর রিক্তহাতে ঝরে। অগণন প্রাণকথা আজীবন নিরক্ষর থাকে। স্বাক্ষর হয়েও কত পাণ্ডুলিপি চিরকাল অগ্রন্থিত আশা। কত প্রেম ব্যর্থ হয় ইচ্ছেকে উড়ালডনা দিতে। কত সাধ স্মৃতি হয় প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই। কুড়িতেই বুড়ি হয় অগণন স্মৃতির পুরাণ। সেখানে প্রত্যহ কেউ বেহালায় করুণ বিষাদ। সেখানে…
-
বেহিসাবি ঘর
পরের আপন আছে; আপনেরও স্বার্থদুষ্ট পর। পুরাণের কুরুক্ষেত্র আপনে আপনে হানাহানি। পরের আপনকথা জগতের সিংহভাগ প্রেম। দুদিনের পরিচয়ে জোড় বাঁধে কতশত মন। জোড়ায় জোড়ায় রোজ কত স্বপ্ন হাত-ধরাধরি। জোড়ায় জোড়ায় রোজ কত ঠোঁট প্রথম চুম্বন। কত পর এভাবেই আপনের চেয়ে বেশি আপনে গড়ায়। রক্তের সম্পর্ক তাই বন্ধনের শেষকথা নয়। একছাদ-একঘরও প্রণয়ের বায়োডাটা ছিল না কখনো।…
-
বিস্ময়
এখন আর ফেরার সময় নেই ডাকছে কুশার মিষ্টি মেয়ে দীর্ঘ তার চুল মরুভূর বিস্ময় সে জানে আমি ফিরবো না যুদ্ধের গুজবে ভরে গেছে শহর সাবওয়েতে উথলে উঠছে উন্মত্ত অ্যালার্ম আর আমি তার চোখের নীলনদ পার হয়ে যাচ্ছি সহস্র বছর নিরাসক্ত ঠান্ডা বরফহৃদয় শোকের সাদা সমুদ্র পার হয়ে শেকলের গলায় যিশুর মহত্ত্ব চাপিয়ে পার হয়ে যাচ্ছি…
-
কী ঘটে?
যখন উজ্জ্বল আলোগুলো হঠাৎ নিভে যায় আমাদের খড়কুটো অবিশ্বাস স্ফীত হয় অনেক ওপরে উঠে যাওয়া গ্যাসবেলুনের ফেটে যাওয়ার আগে কী ঘটে যখন শহরের সেরা ধনী লোকটা উচ্চাঙ্গসংগীতের মানে বোঝে না! অবহেলা তার সীমা ছাড়িয়ে গেলে টান-টান হয়ে থাকা ধৈর্য ছিঁড়ে যায়; যখন বহুতল ভবনের ছাদ থেকে গলিপথের খিস্তি-খেউড়ের ভেতর এসে পড়ে অপ্রস্তুত চাঁদ, তখন কী…
-
রোদ-চশমার ফাঁদ
রোদ-চশমার ফাঁদ যেভাবে পেতেছিস – সামনে পাক-খায়, গড়ায় থিম উত্তাপ উত্তাল – উড়ালে পাখি-রোদ – ঝরছে ঝিলমিল মেঘের হিম যেই গান, যেই সুর দুচোখে মেখেছিস – উড়বে ঠিকঠিক প্রেমের চিল লাল-নীল ঘুড্ডির মতো কি মনে হয়? জানতে চুপচাপ ছুড়িস ঢিল পাখনায় লাগলেই হৃদয়ে আলোড়ন – উষ্ণ আঁচ চায় বুকের বক ধুকপুক-ধুকপুক শিরাতে শিহরণ – দেখছি…
-
আমি তবে ভালোবাসি কাকে?
কোনোকিছু নয় আর পুরোপুরি মনের মতন আত্মীয়-স্বজন সব পরাক্সমুখ, তাই করি কথোপকথন একান্তে, নিজের সঙ্গে। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ বা অন্তরঙ্গ হৃদয়ের খোঁজে করি না ভ্রমণ বা করি না মায়ামৃগ বনে অন্বেষণ। বুকের বোতাম খুলে ঢুকে পড়ি গূঢ় অন্তর্দেশে ঔদাস্যপ্রবণ এক বাউলের বেশে কখনো তা অন্তহীন অতল সাগর সেইখানে আছে কত বর্ণময় ঘর কাঠামো-বিহীন – থাকি রাত্রিদিন। কখনো…
