শ্রদ্ধান্জলি
-

মোবারক হোসনে খান শিল্পসাহিত্যের বরেন্যজন
মোবারক হোসেন খানের জন্ম ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৮ এবং মৃত্যু ২৪ নভেম্বর ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ। বর্ণাঢ্য ও সৃষ্টিশীল জীবনকর্ম রেখে পরিণত বয়সেই হয়েছে তাঁর পরকালযাত্রা। তাঁর জন্মভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। লেখাপড়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি ইতিহাসের ছাত্র। তাঁর সময়ে অনেক মেধাবী ছাত্র ইতিহাস বিষয়ে অধ্যয়নশেষে সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদে চাকরি করতেন। মোবারক হোসেন খানও তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি…
-

বিদায় বন্ধু রবিউল
রবি। রবিদা। রবিউল হুসাইন। স্থপতি-কবি অথবা কবি-স্থপতি রবিউল হুসাইন। জন্ম ৩১শে জানুয়ারি ১৯৪৩, মৃত্যু : ২৬শে নভেম্বর ২০১৯। মৃত্যুর সময় বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর, ৯ মাস, ২৬ দিন। জন্ম : আদিনিবাস, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলায় কাঁচের খোল ইউনিয়নের রতিডাঙ্গা গ্রামে। বাবা তোফাজ্জল হোসেন, মা বেগম লুৎফুন্নেসা। স্থায়ী বসবাস কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায় শশীভূষণ প্রামাণিক সড়কের শেষ…
-

নবনীতা দেবসেন : জীবনতৃষ্ণার বাতায়ন
এই তো সেদিন ছিল সাত তারিখ। মানে ৭ নভেম্বর ২০১৯। আকাশে তেমন মেঘ ছিল না, হয়নি কোনো বৃষ্টি। কিন্তু প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় সবকিছু ল-ভ- করে দিয়ে গেল এক মেঘ। যে-মেঘের কোনো ইঙ্গিত থাকে না, থাকে না কোনো সংকেত কিংবা কোনো পূর্বাভাস। মৃত্যু নামক মেঘের তা-বে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল বাংলা সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বাংলা সাহিত্যের…
-

নবনীতা দেবসেন এবং ব্যক্তিগত
নবনীতাদি আমার বিয়েতে একটি সাদা খাতা দিয়েছিলেন। পাতাগুলো ছিল হালকা নীল তুলোট কাগজের। ভেতরে লেখা ছিল, ‘কবিতার খাতা’ আর যাওয়ার সময় কানে কানে বলেছিলেন, ‘আমার দেওয়া খাতাটা যেন ভর্তি হয়।’ বিয়ের পর এদেশেই থাকব জানলে হয়তো কবিতা লেখার খাতা দিতেন না। জানতেন বিদেশে থাকব। বিদেশে থেকে আর যা-ই হোক কবিতা লেখা বেশ শক্ত। কারণ কবিরা…
-

বিদ্যাবতী ও ভ্রামণিক নবনীতা দেবসেন
২০০৭ সালে কলকাতার ধ্রুবপদ সাহিত্য পত্রিকা ‘অন্যরকম বাঙালি’ নামে ৪৩৬ পৃষ্ঠার একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছিল। সাহিত্য-শিল্প ও সামাজিক আন্দোলনে ষোলোজন অন্যরকম বাঙালির জীবন ও কর্ম নিয়ে ছিল এই সংকলন। সম্পাদকের ভাষায়, ‘অন্যরকম বলতে গড়পড়তা জীবন নয় যাঁদের, বেশ ব্যতিক্রমী ও উদাহরণীয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে হয়তো অননুসরণীয় বটে, তাঁদের জীবনকথা এবারের উপজীব্য।’ সংখ্যাটি নানা দিক…
-

বুদ্ধিযুক্তিমেধার করাতে যিনি কেটে ফেলতেন অন্ধকারকে
শুধু তুমি সুস্থ হবে। আমি দিয়ে দেবো আমার কোজাগরীর চাঁদ, শাদা দেয়ালের ময়ূরকণ্ঠী আলো, দিয়ে দেবো বিগত বছরের মরা পাখির মমতা, আর আগামী বছরের কলাগাছটির স্বপ্ন। (‘আরোগ্য’, নবনীতা দেবসেন) একটি উজ্জ্বল প্রাণবন্ত হাসি ও দুই মেধাবী চক্ষুর ছবিটি রয়ে গেল পাঠকের চিত্তে। এই লেখা যখন লিখছি তার ঠিক ঘণ্টাতিনেক আগে জেনেছি তিনি নেই। তিনি যে…
-

আমার রবিউলভাই
কালকে রাতে আমি কথা বলছিলাম শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বন্ধু মন্দিরা ভাদুড়ির সঙ্গে। মন্দিরা বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত লেখক সতীনাথ ভাদুড়ির নাতনি। মন্দিরাকে বলছিলাম, আমি পড়তে খুব ভালোবাসি। বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা কিছু লেখক আছেন, যাঁদের লেখা পড়ে চোখ বন্ধ করে তা অনুভব করি। তাঁদের লেখার ফর্ম বা রূপ, বানানরীতি, যতিচিহ্নের ব্যবহার, কমা, দাড়ি, হাইফেন, লম্বা হাইফেন, কোলন,…
-

আমগ্ন কাটাকুটির কবি
ক্ষুধার্ত ক্রুদ্ধ লাবণ্যের কবিতা যার হাতে গড়ে ওঠে মানুষের বাস্তু-সংস্থান, একটা জাতির কীর্তি, স্মৃতিস্তম্ভ, সৌধমালা, গগনস্পর্শী ঘরবাড়ি আবার সেই হাতেই যখন রচিত হয় অনর্গল ধারায় কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ভারী ভারী নিবন্ধ সন্দর্ভ, কলা সমালোচনা Ñ তখন যে কোনও বিশেষণই তার জন্য বাহুল্য মাত্র। রবিউল হুসাইনের কবিতার নির্মাণ স্থাপত্যশিল্পের মতোই হিমায়িত ধ্রুপদী সঙ্গীত। বাংলাদেশের রাজনীতি ও…
-

কবি রবিউল হুসাইন কিছু অনুভব ও তাঁর কালজ্ঞান নিয়ে কবিতা
গত ২৬ নভেম্বর কেন জানি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছিলাম, উঠে ফোনটি হাতে নিয়ে ফেসবুকে চোখ রাখতেই আমাদের প্রিয় মানুষ কবি রবিউল হুসাইনের মৃত্যুসংবাদটা চোখে পড়ল, তখনই শোকবিহ্বলতায় চোখে জলও এসে পড়ল, খানিকটা কান্নারও শব্দ উচ্চকিত হলো, আমার জীবনসঙ্গী এসে বলল, ‘কী হলো তোমার?’ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করল সে। এমনটা হয় না সচরাচর, কারো মৃত্যুসংবাদে। এমন…
-

রবিউল হুসাইনের কবিতা ওড়ে জীবনের শত পতাকা
ক থাটা বলেছিলেন বোর্হেসই, একটা বিশেষ সময়ে একজন ব্যক্তিমানুষ যে-অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে তাঁর সময়টা অতিক্রম করেন, সে-অভিজ্ঞতাই তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হয়। শুধু বোর্হেস নন, শিল্পসাহিত্যে নিবেদিত প্রত্যেক মানুষের কথা এটি। বোর্হেস এ-বিষয়টিকে আয়নার রূপকে তুলে ধরেছেন, ‘শিল্প হচ্ছে সেই আয়না যা আমাদের মুখটাকে দেখতে সাহায্য করে।’ এই মুখ, বলা বাহুল্য, আমাদের মনোজগতের প্রতিবিম্ব, অর্থাৎ সৃষ্টিশীল…
-

কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন
কবিতা পরিষদের মাধ্যমেই আমার তাঁর সঙ্গে পরিচয়। এবং প্রথম দিন থেকেই তাঁর অমায়িক ব্যবহার, ভদ্রতা, সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং কবিতার প্রতি তাঁর আনুগত্য আমাকে আকর্ষণ করেছে। তিনি ছিলেন আমাদের একজন প্রিয় মানুষ। সদাহাস্য তাঁর চেহারা এখনো আমার চোখের পাতায় ভাসে। আমার চেয়ে অনুজ তিনি। কীভাবে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন? এই শোক তো সহজে কাটিয়ে ওঠার নয়।…
-

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের রবিউল
রবিউল হুসাইনের বড় পরিচয় তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত কবি, চিত্র-সমালোচক ও বিশিষ্ট স্থপতি। অবশ্য তিনি হৃদয়ের গভীরে লালন করেছেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে নিরন্তর আগ্রহ এবং যে-ভাবাদর্শের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে তার প্রতি গভীরতর আকুতি। এটি রবিউলের কোনো পৃথক সত্তা নয়। তাঁর অধিকাংশ কবিতায় মানব-মানবীর আন্তঃসম্পর্ক ও প্রত্যেকের অন্তরের নানা বিচিত্র অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।…
