January 2021
-
স্মরণ করি
মেঘের জন্ম আকাশে ঝরে গেছ বর্ষণ ধারে। গাছের পাতা সবুজে ঝরে গেছ মাটিরও ’পরে। পৃথিবী ছেড়ে পৃথিবীর ওপারে। তোমাকে অভিষিক্ত করে স্মরণসুধায় বারংবার নমস্কারে
-
দৃশ্যের ভেতরে দৃশ্য
(শ্রদ্ধেয় আবুল হাসনাত স্মরণে) আষ্টেপিষ্ঠে বেঁধেছিলে বলে সার্থক এ-জীবন তোমার চারিদিকে ঘুরেই ফিরেছি তোমাকে দেখি আর মনে মনে ভাবি কিভাবে আমাকে তুমি গ্রহণ করেছিলে? ভোরের আলোর মতন তুমি উদার আকাশ তোমার সৃজনে ওঠে পাতার ঝংকার ওঠে ঝড়, তোলপাড়, জেগে ওঠে বজ্রবিদ্যুৎ দীপ্ত সোচ্চার শুনি জীবনকথায়। তোমার কল্পনাশক্তি আজো দোলা দেয় তোমার স্বপ্নদৃশ্যে ওঠে কালি ও…
-
প্রকৃত কালপুরুষ
(আবুল হাসনাত স্মরণে) এইমাত্র যে-তারাটি আমি দেখতে পাচ্ছি আকাশে, চোদ্দো হাজার বিলিয়ন আলোকবর্ষের দূরে বসে ঢাকা কিংবা কলকাতা শহরের মাথার ওপর সে নিভে গেলেও তাঁর উজ্জ্বলতা ফালা করে দিচ্ছে অন্ধকার। শব্দের পাখায় ভর করে উড়ে বেড়িয়েছে শীতল অঙ্গার কবিতার নরম স্পন্দন থেকে কুয়াশা সরানো তীব্র গদ্যের চাবুক হৃদপিণ্ড অস্থির করে দিয়েছে দর্পণে। শান্ত অবয়ব স্থির…
-
স্মৃতির গোলাপ
(কবি ও সম্পাদক আবুল হাসনাত সম্মানিতেষু ) মনে হচ্ছে এই সেদিন আপনার সাথে দেখা হলো। আগের মতোই স্মিত, স্বল্পবাক, আন্তরিক আড্ডায়, সভায় উজ্জ্বল অতিথি নিউইয়র্কের ঠান্ডায় ঈষৎ কাবু নিজেকে আড়াল করার স্বভাবজাত আনন্দে নমিত তবু নৌবিহারে সমুদ্রের নোনা হাওয়ায় উচ্ছল হয়েছিলেন সেদিন। মনে পড়ে যখন ‘সংবাদ সাময়িকী’র ঈর্ষণীয় সাহিত্য সম্পাদক আপনি মফস্বলের অচেনা কবি যশোপ্রার্থীর…
-
তবুও খোঁজে
(কবি ও সম্পাদক আবুল হাসনাত স্মরণে) অক্সিজেনের মিটারে ক্লান্ত চোখ রেখে রেখে বিপন্ন পাখির উড়াল ভোরের হাওয়ায় ছায়াময় ভুবনডাঙায় একবারও মনে পড়েনি প্রিয় কন্যা, প্রিয় জীবনসঙ্গী বাঁচবে কার ছায়ায়? থরে থরে সাজানো বইপত্তর দেয়াল মোড়ানো চিত্রকলা ঘরময় নীল বিষণ্নতা ছড়ায় ভুবনডাঙার মেঘ ভালোবেসে আপনি আছেন ঘুমের আবেশে সাহিত্য ও শিল্পের বিশাল চত্বর জুড়ে শূন্যতার হাহাকার…
-
সকলেই যায় … তুমিও
(প্রিয় মানুষ, শ্রদ্ধেয় হাসনাতভাই …) সকলেই যায় … তুমিও যাবে, ও-পথ কি এত প্রিয় প্রিয় সান্নিধ্যের টানে আকুবাকু করছিল মন ভেতরে ভেতরে তাই আকাশকে সাক্ষী রেখে ধণুর্ভঙ্গ পণ … আর সব থাক, তুমিও চললে পথে আর সব বট প্রাচীন পথের পাশে বটের দাওয়ায়? তুমিও হাজির হলে কেউ বুঝি ডেকেছিল এত তীব্র আহ্বান সত্তর ছুটে গেলে…
-
আবুল হাসনাত বাড়ি নেই
No day is safe from news of you – Sylvia plath. ‘ইস্টিমার সিটি দিয়ে যায়’ – পৃথিবীর এত আলোর নিচে হারানো পথের দীর্ঘ বিস্তার চোখে প্রত্ন মেঘের কুহক আপনি কোন হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে ব্যস্ত – মুখর শূন্যতার ছায়াশব্দের ভিড়ে, আপনার সেই আগানবাব দেউড়ি নিরুত্তর প্রিয় ৯২ যুগীনগর বলেছে, ‘হাসনাত বাড়ি নেই’ শুধু ধু…
-
আশ্চর্য সম্পাদক
হয়তো-বা দ্বিধা নিয়ে, খানিকটা সংশয় নিয়ে একসঙ্গে পাঠিয়েছি কয়েকটি কবিতা। বলেননি একবারও, কিছুই হয়নি, বলেননি কোনোদিনই, বিবেচনাধীন, বলেননি, জমে আছে বিস্তর কবিতা, দেখা হয়নি, দেখে উঠতে সময় লাগবে। আপনি সত্যিই এক আশ্চর্য সম্পাদক, সমীহজাগানো, স্নিগ্ধ উদারতা নিয়ে বারবার ছেপেছেন আমার কবিতা। পত্রিকার মূল্যবান সাদা পাতা ভরে গেছে তৃণতুচ্ছ কবিতায় ক্রমশই গাঢ়তর হয়েছে বিস্ময়। এত ভালোবাসা…
-
কবি-সম্পাদকের প্রয়াণে শোকপঙক্তি
(সম্পাদক আবুল হাসনাত ও কবি মাহমুদ আল জামান। একই বৃন্তে যুগল কুসুম) ধ্যানেজ্ঞানে কায়মনে আজীবন ছিলে তুমি নিঃসঙ্গ উদ্ভিদ ব্রতী ছিলে সম্পাদনে, একেলা নির্জন কবি তপস্যামগন, নিভৃতিপ্রিয়তা ছিল চিরসঙ্গী যেন শান্ত নিঃশব্দ ঘুঙুর হয়তো কোনো বহতা নদীর নাম, মর্মরিত দোলায়িত হাওয়ার বেহালাছড়ে বেজে উঠছে তোমার না-থাকা, আকস্মিক মৃত্যুর ছোবল এত ভয়াবহ কেন হয় কেন এই…
-
ভুবনডাঙায়
(প্রিয় অগ্রজ আবুল হাসনাত স্মরণে) এখনই ফিরে যাব? এত যে বৃষ্টির অবিরল ধারা আকাশ কী দুঃখ পেল শুধুই কি আলো জ্বেলে গেছি নিভন্ত কলমে? নরম মাটির টানে কুমোরের হাত চলে যেত কাব্যের শরীরে গনগনে অক্ষরের ছাঁচে গড়েছি প্রতিমা উত্তাল ঊনসত্তর, মিছিলের ঘর্মাক্ত মুখ যুদ্ধদিনের ধূসর দুপুর, কোথায় হারিয়ে গেছে বিসর্জন প্রথম অর্জন কোনো এক জীবনের!…
-
সেই বৃক্ষমহিম
(আবুল হাসনাত স্মরণে) জোছনার তবক জড়ানো একজন সৌম্য চলে গেলেন পশ্চিমে সেই বৃক্ষমহিম প্রকাণ্ড গুঁড়ি পাতা ভর্তি ডালপালা সরল পাখি পাখির সুস্থ বাসা বৃষ্টি না-হারানোর কথা ছিল গহিন শিকড়ে প্রদোষকালের ছেঁড়া ছেঁড়া আলো পড়ে আছে ধানক্ষেতের ঢালে বাংলা ফুলের বিজনলাগা মুখ যেখানে অজস্র অ মানে যোগ আ মানে বিয়োগ ক মানে গুণ খ মানে ভাগ…
-
যাই
(কবি-সম্পাদক আবুল হাসনাতকে নিবেদিত) যাই, চলো যাই, যাবার বিকল্প নাই, চলো, রূপে ও অরূপে যাই; চলো, যেতে যেতে নিত্য বিবর্তনে যাই; স্থিরচিত্র থেকে স্বরূপ-অরূপ চিত্তে নিত্য সমর্পণে যাই। বদলপ্রবণ পায়ে এতদূর আমরা এসেছি। বিবর্তিত শুদ্ধচিত্তে বারবার আমাকে পেয়েছি। ফলনপ্রবণ দেহ, নিত্যবৃত্তে নবায়িত মন যুগলে ভ্রমণরত, সর্ব অঙ্গে ডানাসন্তরণ, বাঁক পার হয়ে বারবার অন্য এক বাঁকে; অনন্তবদলরূপ জীবেদের ডাকে শুধু ডাকে। আকৃতিবদল যদি বোধের ধরন সিদ্ধকাম মুনিঋষি বা বৈয়াকরণ মুহূর্তের রথযাত্রী, অনিত্য গড়ন, মূর্ত আর বিমূর্তের বিবিধ বাস্তবে; নীড় ভেঙে নীড়ে যাই সৃষ্টি কলরবে। ভ্রমণ মরণ নয়, মরণ ভ্রমণ : জন্মমৃত্যু নির্ধারিত দুই ইস্টিশন; সুরতবদল করে নিত্য পরিযায়ী সটান দণ্ডায়মান কিংবা শয্যাশায়ী পঞ্চভূতে যাত্রা অহর্নিশ: প্রাণীরা আহার-ঘ্রাণ ভেষজ-আমিষ। তারপর একদিন শীতলপাটিতে যদি মাটিতে বিলীন, মানুষ বদলযাত্রী রূপে রূপে দিগন্তে আসীন।
