January 2021
-
আমার আবেগ
(আবুল হাসনাত স্মরণে) তুমি দেখেছিলে একা, জেনেছিলে কতকিছু জীবনের দ্বন্দ্ব থেকে পেয়ে গেছো জ্ঞান আর স্মৃতি মাঝে মাঝে সেইখানে নেচে গেছে স্মৃতির চড়ুই – জেনেছিলে এই সত্য – সময় চলেছে উড়ে ক্রূরচোখ ঈগলের মতো – রূপসীর রূপের জাদুও তার নখে ছিঁড়েখুঁড়ে যায়, মানবশরীরও বাঁচে না শুধু হৃদয় বাঁচে অন্যদের হৃদয়-গভীরে তোমার নশ্বর দেহ চলে…
-
আবুল হাসনাতের স্মৃতির উদ্দেশে
বাংলা ভেঙে দু-টুকরো হয়ে গেছে কিন্তু বাঙালির মন পুরোপুরি দু-টুকরো হতে পারেনি। বাঙালির মনকেও ভেঙে দু-টুকরো করার জন্য আকাশে পতাকা তোলা হচ্ছে। ভয়াবহ সব ধর্মপতাকা। সেইসব অগণিত ভাঙনের পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে যাঁরা হাহা করে বিদ্রূপের হাসি হেসেছেন আপনি ছিলেন তাঁদের একজন। আপনার পতাকার নাম ছিল কালি ও কলম। পতাকাটি চিরদিন উড়বে …
-
আকাশই শুধু
প্রত্যেক মানুষ গাঙচিল যদিও তা স্বীকার করে না। শেষ অব্দি তার কাজ শুধু উড়ে যাওয়া। অন্য মানুষেরা মাটি থেকে আবছা দ্যাখে তাকে। মানুষ ও নীল এক হয়ে যায়। গাঙচিল ও মানুষ এক হয়ে যায়। থাকে না আকাশ বলে কিছু আর। অথবা আকাশই শুধু থেকে যায়। মানুষ তো সম্পাদক – অনেক উপর থেকে দেখতে পায় গাছ…
-

কয়েকটি সাক্ষাতের স্মৃতি
হাসনাতভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় মস্কোয় ১৯৮৬ সালে। বোধ করি ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে – শীতের ঠান্ডা তখনো পুরোমাত্রায়। গণসাহিত্যের সম্পাদক হিসেবে তাঁর নামের সঙ্গে আমি পরিচিত ছিলাম, কিন্তু সরাসরি সাক্ষাৎ সেই প্রথম। মস্কোয় তখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হয়ে এসেছেন সৈয়দ নাজমুদ্দীন হাশেম। তাঁরই বাসভবনে এক সন্ধ্যায় ডাক পড়ল। সেখানে এর আগেও বারকয়েক গিয়েছি। তিনি…
-

হাসনাতদা
বিশ্বব্যাপী অতিমারীর কারণে দীর্ঘকাল ধরে বাড়িতে বন্দি। এই অবসরে নিজের অসমাপ্ত কাজগুলো গুছিয়ে নেবার চেষ্টা করছি। তারপর প্রায় মাস আষ্টেক বাদে হঠাৎ একটা জরুরি কাজে শান্তিনিকেতন থেকে কলকাতায় চলেছি ভাড়া-করা বাহনে। বহুদিন পরে বিস্তীর্ণ খোলা আকাশের নিচে। চারদিকে ঝলমলে রোদ্দুর, দিগন্তবিস্তৃত সবুজ ধানক্ষেত্রের পরে তাল-খেজুরের সারি, কিছুটা দূষণমুক্ত বলে আকাশের রং ঘন নীল – অনেকদিন…
-

‘অনেক মাইল ব্যেপে পৃথিবীর রাঙা দীর্ঘশ্বাস’
নিকটজনের মৃত্যু ভিন্ন এক বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। যেসব মানুষের স্নেহ-মমতা আমরা একটু বেশি মাত্রায় পাই, তাঁদের মৃত্যু বেশি আঘাত দেয়। আর সেই আঘাত এতটা গভীর হতে পারে যা আগে থেকে কিছুই অনুভব করা সম্ভব নয়। অনেক গুণী মানুষ থাকেন সমাজে যাঁদের হারালে ক্ষতি হয় সমাজদেহের, কিন্তু কিছু কিছু গুণী মানুষ থাকেন যাঁদের বিদায় শুধু যে ক্ষতিই…
-

প্রিয় হাসনাতভাই
সাতমসজিদ রোডে ছায়ানটের অপরিসর আঙিনায় জনাপনেরো নারী-পুরুষ। সকাল থেকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। মাস্ক-মোড়া মুখে কয়েকজনকে চেনা-চেনা লাগলেও আমার দৃষ্টি অদূরে লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানের দিকে। কিন্তু ততক্ষণে ওটার ডালা আটকানো সারা, মৃদু শব্দে ভ্যানটা পিছিয়ে মূল রাস্তায় গড়িয়ে নামতে বাকি। কে যেন এগিয়ে এসে বললেন, দেখবেন? আমি ভ্যাবাচেকা খেয়ে ঘড়ি দেখছি, এখানে তো আরো আধঘণ্টার মতো থাকার…
-

হাসনাতভাই
নবাবপুরের মাঝামাঝি পশ্চিম দিককার এক রাস্তায় মানসী সিনেমা হল। মানসী হলের নাম তখন ছিল ‘নিশাত’। এই হলের ঠিক উলটোদিকে লোহার বিশাল একটা গেট, টিনশেডের দৈনিক সংবাদ অফিস। যতদূর মনে পড়ে তখন বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজ কিছুটা শুরু হয়েছে। ১৯৭৫-৭৬ সালের কথা। তখন দুটো দৈনিক পত্রিকার সাহিত্যপাতা অত্যন্ত জমজমাট। একটি দৈনিক বাংলার সাহিত্যপাতা, আরেকটি দৈনিক সংবাদের সাহিত্য…
-

সাহিত্য সম্পাদক আবুল হাসনাত
প্রারম্ভে কিছুটা ভণিতা। নেত্রকোনার কুমড়ি পল্লিতে আমার জন্ম হয়েছিল আমার নানাবাড়িতে। সেই বাড়িতে একটি বিশাল কোঠা ছিল। তখন প্রায় পরিত্যক্ত এই কোঠায় কাঠের একটি আলমিরা ছিল। একেবারে শৈশবে লুকোচুরি খেলতে খেলতে একদিন সেখানে লুকোতে গিয়ে আলমিরাটা খুলে ফেলেছিলাম। তখন সহসা সেখানে আমি অনেক পত্র-পত্রিকা দেখতে পাই। দেখে বেশ অবাক হই। আমার শিশুমন কিছুটা ভয়ও পায়।…
-

নীরব-সরব মানুষটি
ঢাকার বাইরে থাকি। ঢাকায় এলেই সুবীরকে (বেঙ্গল শিল্পালয়ের প্রয়াত পরিচালক সুবীর চৌধুরী) ফোন দিই : সুবীর, ঢাকায় এসেছি, একদিন আড্ডার আয়োজন করো। সাধারণত সেদিনই আয়োজনটি হয়ে যেত, কারণ সুবীরের আগ্রহ আমার চেয়ে কম নয়। আড্ডায় সস্ত্রীক আমি ছাড়া অবশ্য-সদস্য কাইয়ুম স্যার (আমার শিক্ষক হলেও পরবর্তীকালে বন্ধুসম), তাহেরা ভাবি (কাইয়ুম চৌধুরীর স্ত্রী) আর হাসনাতভাই। অনিয়মিত হলেও…
-

তিনি সম্পাদকদের সম্পাদক
আমার একটি বইয়ের উৎসর্গ-পাতায় আবুল হাসনাতের পরিচিতি এভাবে তুলে ধরেছিলাম : ‘সম্পাদকদের সম্পাদক’। বইটির পেছনে তাঁর অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। তবে তাঁরই আগ্রহে আমার যে আরেকটি বই বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে বেরিয়েছিল, যার বিষয়বস্তু ছিল শিল্পকলা, তার পেছনেও তো তিনিই ছিলেন অনুপ্রেরণা। সেই ১৯৭৫ সালে গণসাহিত্য পত্রিকায় কামরুল হাসানের ওপর একটা লেখা আমাকে দিয়ে না লিখিয়ে…
-

এক বিদগ্ধ রুচিমান ভদ্রলোক আবুল হাসনাত
কয়েকদিন আগে কালি ও কলম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক আশফাক খান সাহেবের কাছ থেকে একটি ই-মেইল বার্তা পাই যে কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাতকে স্মরণ করে একটি বিশেষ সংখ্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে, তাতে যদি আমি ওঁর সম্পর্কে একটি ছোট লেখা লিখি – এই অনুরোধ। সঙ্গে লুভা নাহিদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি, যা পড়ে জানতে পারলাম…
