January 2021
-

মিত্রমশায়, অন্য কিছু লিখুন
গত নভেম্বরের ১ তারিখে কালি ও কলম সম্পাদক, কবি, প্রাবন্ধিক আবুল হাসনাত প্রয়াত হয়েছেন নিউমোনিয়া হয়ে; শুনছি করোনা, আবার করোনা নয়। তিনি ঢাকার মানুষ। ঢাকা বিদেশ তো সত্য। ভিসা না হলে যাওয়া যায় না। আর করোনাকালে তো সেই শহর আমার এই কলকাতা শহর থেকে দূর-দূর লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ভারত আলাদা দেশ। কিন্তু…
-

আবুল হাসনাত : দূরের ও কাছের মানুষ
‘আবুল হাসনাতভাই নেই। অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। এই তো দেখা হলো গত ডিসেম্বর বাংলা একাডেমির সাধারণ সভায়। আমাদের সাহিত্যচর্চার পথে একজন অভিভাবক বিদায় নিলেন। দেখা হলেই বলতেন, লেখা দিয়েন। তিনি ছিলেন লেখক তৈরির কারিগর। সংবাদ সাময়িকীতে তিনি আমার প্রচুর প্রবন্ধ ছেপেছেন। রাজশাহী থেকে ঢাকায় গেলেই লেখক সম্মানী দ্রুত পরিশোধ করার ব্যবস্থা করতেন। কালি ও কলমের দক্ষ…
-

প্রিয় সম্পাদক হাসনাতভাইকে ভোলা যায় না
’৬৯ সালে হাসনাতভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। তাঁকে আমি হাসনাতভাই বলে সম্বোধন করতাম। সে-সময় থেকে ছাত্র ইউনিয়নের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেমন রক্তকরবীর মঞ্চায়ন, ছায়ানটের বৈশাখ-উদযাপন, নজরুল ও রবীন্দ্র জয়ন্তী ইত্যাদি অনুষ্ঠানে দেখা হতো। এভাবেই চলতে থাকল কিছুদিন। হঠাৎ ১৯৮১ সালের মে মাসের দিকে প্রয়াত শিল্পী কাজী হাসান হাবীব বলেন, ‘বীরেনদা আপনাকে হাসনাতভাই দেখা করতে বলেছেন, আগামীকাল…
-

একদিন
একদিন দিকচিহ্নহীন বিষণ্নতায় দেখেছি নৈরাশ্য কথা বলছে ভাঙা শরীরের সঙ্গে অলীক বিশ্বাস দোল খায় তুলসীমঞ্চ ও ধ্বংসস্তূপে ঘাতকের হাতের থাবায় পূর্ণিপুকুর, দলিল দস্তাবেজ, ঘরদোর, পাঁজিপুথি উধাও হলো আর্তনাদ আর বর্বরতায় বুনো পশু ছিন্ন করলো মালতী আর মিনতির দেহের সুষমা জীর্ণ ও শীর্ণ হয়ে যন্ত্রণায় স্মৃতির পথরেখা হয়ে সীমান্তের দিকে হারিয়ে গেল ডাবল-ডেকার বাসে যে তরুণী…
-

আবুল হাসনাত আমাকে লিখতে অনুপ্রাণিত করেছেন
হাসনাতভাই, এই তো মনে হয় সেদিনের কথা। এক সন্ধ্যায় আমাদের ঢাকার বাসায় বসে খুব আন্তরিকতার সঙ্গে পুরনো ঢাকার কিছু স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন। বিশেষ করে বলছিলেন আপনাদের একসময়ের প্রতিবেশী ডাক্তার নন্দী, তাঁর শিক্ষিকা স্ত্রী এবং তাঁদের দুই কন্যা ইন্দিরা ও মন্দিরার কথা। প্রসঙ্গটা এলো কেননা ঢাকার স্মৃতি নিয়ে এত বছর পরে লিখিত মন্দিরার একটি বই সম্প্রতি আপনি…
-

সম্পাদকের ব্যাপ্তি ও উচ্চতা
হঠাৎ তাঁর ফোন পেতাম। বুঝতাম লেখা চাইবেন। ঠিকই বিশেষ কোনো উপলক্ষে লেখার অনুরোধ জানাতেন এবং তারপর মাঝে মাঝে তাগাদা দিতেন। প্রথমে দৈনিক সংবাদের সাহিত্য পাতার জন্যে, তারপর গত সতেরো বছর ধরে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র কালি ও কলমের জন্যে। যতদূর মনে পড়ে একসময় মাসিক গণসাহিত্যের জন্যেও চেয়েছেন লেখা। হাসনাতভাইয়ের সঙ্গে পরিচয় অনেক দিনের…
-

আবুল হাসনাত প্রীতিভাজনেষু
কথাটা আপনাকে বলতে বড়ো দেরি হয়ে গেল। সেদিন থেকেই আমার অস্বস্তি কাটেনি। সকালবেলায় আপনি আমাদের বাড়িতে এলেন। সুন্দর গল্প-কথাবার্তা হলো। আমার স্ত্রী ঢাকার মানুষ। ঢাকার মানুষজন পেলে তিনি কত খুশি হন। এক সময়ে হায়াৎ আমাদের বাড়িতে আসতেন। একে তো যাদবপুরের ছাত্র। তাছাড়া আমাদের সুবীরের বন্ধু ও তার সঙ্গে গবেষণা করা লোক। আমাদের বেশ আড্ডা ছিল…
-

সাঁকোপথে এক স্বপ্নজন
এক. বর্ণমালার সাঁকোপথে শামসুর রাহমানকে প্রশ্ন করেছিলাম, আমরা আপনার বই এখানে পাই না কেন? আপনার মানে, আপনাদের। বাংলাদেশের লেখক-কবিদের বই কলকাতায় পাই না কেন? প্রশ্নটা করে ফেলার পর নিজেকে বেশ বোকা লাগল। আদতে যা। ভেবে-টেবে প্রশ্ন করিনি, পাশাপাশি হাঁটা ও গল্প করার মধ্যে হঠাৎই উঠে এসেছিল। তখন বিকেল। আজ থেকে পঁয়ত্রিশ-ছত্রিশ বা আরো আগে। এটা…
-

আবুল হাসনাত : রোদ্দুর ঢেকে যাচ্ছে কালো মেঘে
চলে যাওয়ার কয়েক মাস আগে জার্নিম্যান বুকস থেকে তাঁর শেষ বই বের হয় – হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে – অন্তরস্পর্শী এক স্মৃতির আখ্যান। সে-বই শেষ হয়েছে এক দার্শনিক-উপলব্ধির ভাষ্যে : ‘জীবন প্রবহমান। জীবনের পথে এখনও হেঁটে চলেছি। দেখা যাক চলতে চলতে কোথায় গিয়ে তা শেষ হয়। পথের শেষ কোথায়? তবু আমার এই পথ চলাতেই আনন্দ।’…
-

আমার বাংলাদেশের ভিসা
আবুল হাসনাত সাহেব ছিলেন আমার বাংলাদেশের ভিসা। ওঁর পাঁচ আঙুলের ছাপ না পড়লে আমার বাংলাদেশে ঢোকা নেই। বাংলাদেশের খুলনায় আমার পিতৃপুরুষের ভিটে, যা দেখা হয়েছে, কখনো থাকা হয়নি। কিন্তু সেই শৈশব থেকে অদম্য টান। সেই টানও এক জাদুটানে দাঁড়াল বছর কয়েক আগে হাসনাত সাহেবের দাক্ষিণ্যে। ব্যাপারটা ঘটল এরকম … হাসনাত সাহেব এসেছিলেন কলকাতা। আড্ডা হচ্ছিল…
-

হাসনাতভাই স্মরণে
অক্টোবরের উনিশ তারিখের দিকে খবর পেলাম লুভার কাছ থেকে যে, হাসনাতভাইয়ের শরীর খুব খারাপ করেছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একটা সময় ছিল সব রকম আশংকার ভেতর দিয়েও আশা করতাম চিকিৎসাধীন মানুষটা সুস্থ হয়ে আপনজনের কাছে ফিরে আসবেন। পরপর কয়েকটা মৃত্যু আমার সেই সাহসের জায়গাটা নড়িয়ে দিয়েছে। সুপ্রিয়কে দিয়ে এই ভীতির শুরু। এরপরে ভীষণ ধাক্কা খেলাম মুক্তিযোদ্ধা…
-

মঙ্গল বৃক্ষের ছায়া
‘মাতাল তরণীর মতো দোলে মন/ মনে পড়ে আমারও প্রেম ছিল, ধ্বংসস্তূপের দরজায় কড়া নেড়ে বলেছিল/ মঙ্গল বৃক্ষের নিচে দাঁড়াব হাত ধরাধরি করে …’ – লিখেছেন কবি মাহমুদ আল জামান, আমাদের প্রিয় সুহৃদ। শিষ্ট সৌম্য নম্র মৃদুভাষী সুভদ্র আবুল হাসনাত। হয়তো এখন তিনি মঙ্গল বৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত এই বৃক্ষের ছায়া কেড়ে নিল আমাদের এই…
