October 2021
-
অধিক
যে যাবার তাকে যেতে দাও জলে ভেসে যাক যত পাপ যত অভিশাপ। একাকী মুখ ও মুখোশ অভিযোজনের দৈর্ঘ্যরে মধ্যে সম্ভাব্য সূত্র খুঁজতে খুঁজতে দিশেহারা যাকে ভালোবাসতে চাও সে বহুকাল ধরে বহুগামী হয়ে ছলনার বিষজাল ধরে অধিক হয়ে মধ্যগগনে উড়িয়ে দিয়েছে মন। চেয়ে দ্যাখো চারপাশে তুমি ছাড়া কেউ নেই। একাকী আয়নায় নাচতে থাকে বায়োস্কোপ স্বপ্নের রূপ…
-
কালবৈশাখি দ্বৈরথে
জাহিদ মুস্তাফা আনত কুসুমে ওমে প্রাণহরা মায়ার উজানে চৈত্রসংক্রান্তির মেঘ ডাকে – রুদ্র কালবৈশাখি দ্বৈরথে! ঝড়ো হাওয়া ছুটে আয় – যা উড়িয়ে নিয়ে যা জঞ্জাল আশঙ্কার অতিমারি কোভিড-প্লাবন! প্রাণভরে বাঁচার আকাক্সক্ষাগুলো চারপাশে দোল খায় নববর্ষ সম্মিলনে ছায়ানটে রমনার বটমূলে মঙ্গল শোভাযাত্রায় সাতজন্মভর দেখা কত চেনামুখ চোখে চোখ রাখে কথা কয় স্মৃতিজাগানিয়া! কচি তালপাতার বাঁশিতে চিরপরিচিত…
-
ধূসর উন্মোচন
তার সঙ্গে থাকে, নির্জনে থাকে না কখনো একসঙ্গে খায়দায়, ঘোরে, অরণ্যে যায় নিশিপাখির মতো এ-ডালে ও-ডালে ঝোলে লুপ্ত সাধনার পাশে, রেলপথ সমানে সমান নিষ্ফলা ক্ষেতের মাটিতে পুঁতে রাখে বীজ বশীকরণ, সংহার, প্রহেলিকা ধূসর প্রান্তরে মন ডিঙিয়ে ওড়ে, নবদরজার চৌকাঠে, গুঞ্জনে ইনবক্সে থেকে থেকে পাখি ডেকে যায় অনেক পথের পাশে গিরগিটি হাঁটে, রং পালটায়, বাঁশিসুর নিভন্ত…
-
শূন্যতা পোষা নদী
পৌষের হিমেল রাতগুলোতে নিঃসঙ্গ সুতিয়ার বুকের ভেতর কতটা শূন্যতায় পূর্ণ! পূর্ণিমার চাঁদ কুয়াশা ভেদ করে আবছা মুখ দেখে নদীর বুকে; তখন কেমন লাগে নদীটার কে জানে! একবার শুভ্র কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মৃত মন নিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম সুতিয়ার তীরে; মনে হলো গোরস্তানে শুয়ে আছি – নীরব-সুনসান গোরস্তান শীল-কড়ইয়ের ডাল ঝুঁকে নেমেছে কবরের ওপর মৃত মন অথবা হ্যালুসিনেশন…
-
বই
ছেঁড়া মলাটের বই তোর ভাঁজে ভাঁজে হারানো মানিক খুঁজি। হয়তো নতুন আচ্ছাদনে নতুন রঙে অন্য ঘ্রাণে চমকে দেওয়া বইয়ের তাকে তুই। তবু তোকে সুখে-শোকে খুব গোপনে মনের কোণে প্রয়োজনে অকারণে ছুঁই।
-

অ্যামি জিরালডাইন স্টকের কবিতা
ভাষান্তর : কাজল বন্দ্যোপাধ্যয় আইরিশ মা-বাবার পরিবারে অ্যামি জিরালডাইন স্টক ১৯০২ সালের ২২শে মার্চ জন্মগ্রহণ করেন, অক্সফোর্ডে। বন্ধুবান্ধবের কাছে তিনি ডিনা আর আত্মীয়-বান্ধবের কাছে অ্যামি জিরালডাইন নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বাবা পেমবোর্ক কলেজের স্নাতক ছিলেন; কিন্তু অক্সফোর্ডে পড়াতেন। পড়াতেন ক্ল্যাসিকস। বিশেষ আগ্রহ ছিল একটি বিব্লিক্যাল কনকর্ড্যান্স প্রণয়ন করাতে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে এর প্রকাশনা স্থগিত হয়ে যায়,…
-

পিয়ানো শিক্ষকের ছাত্র
অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ শিক্ষক বললেন : ‘ব্রামস১? আমরা কি ব্রামস চেষ্টা করে দেখব?’ মিস নাইটিংগেলের কাছে এই প্রথম অনুশীলন ছেলেটির, কিছু বলল না ও, নীরব মেট্রোনোমের২ দিকে তাকিয়ে একটুখানি হাসল, যেন মৌনতাই ওর ভালো লাগছিল! তারপর পিয়ানোর চাবি স্পর্শ করে সুর তুলতেই মিস নাইটিংগেল বুঝলেন এ-বালক প্রতিভাবান। পাতলা গড়নের, শান্ত সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত, মৃদুভাষী মিস…
-

আমেরিকার চোখে রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন পাঁচবার। ১৯১২-তে তাঁর প্রথম সফর, ১৯৩৯-এ শেষ। প্রথমবারের যাওয়াটা ঠিক করেছিলেন হঠাৎই। ইংল্যান্ডে সে-বছর তিনি গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যোন্নতির জন্য। সেখান থেকে পাড়ি দিলেন মার্কিন মুলুকে। সঙ্গে ছিলেন রথীন্দ্রনাথ ও পুত্রবধূ প্রতিমা দেবী। রবীন্দ্রনাথের নামের সঙ্গে সে-দেশ তখনো খুব পরিচিত নয়। ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রথীন্দ্রনাথ তখন ছাত্র। সে-সূত্রেই সেখানকার বিদ্বৎসমাজ রবীন্দ্রনাথের নামের সঙ্গে পরিচিত হন।…
-

শিল্পীর প্রতিবেশ, শিল্পের প্রতিবাদ সিআরবির উন্মুক্ত পরিসরে যৌথ চিত্র-প্রদর্শনী
চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, অনন্যসাধারণ এক দুর্লভ সবুজ ভূস্বর্গের নাম সিআরবি, যার কথা এতোদিনে দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর কারোরই আর অজানা থাকার কথা নয়। এহেন এক অতুলনীয়, শতবর্ষী বৃক্ষশোভিত নিসর্গভূমিতে বিকট ও বহুতল হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন বেশ কিছুদিন ধরে। সোচ্চার ও সরব সেই প্রতিবাদের মিছিলে যুক্ত…
-

সুলতানের পঞ্চাশ বছরের শিল্পসৃজন নিয়ে প্রদর্শনী
লালমাটিয়াসংলগ্ন ধানমণ্ডির সাবেক ২৭ নম্বর সড়কের বাড়িটি অনেক বদলে গেছে। এর নিচতলায় এখন বেঙ্গল বই ও বেঙ্গল ক্যাফেটেরিয়ার জায়গা হয়েছে। বইপ্রেমী আর আড্ডাপ্রিয় মানুষের প্রাণবান ভিড় এড়িয়ে সিঁড়ির কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে দোতলায় উঠলে কম ভিড়ের আরেকটি ক্যাফে! এর পেছনে সামান্য এগোলেই বেঙ্গল শিল্পালয়। এখানেই বাংলার বরেণ্যশিল্পী এস এম সুলতানের (১৯২৩-৯৪) পঞ্চাশ বছরের চিত্রকর্মের সঙ্গে তাঁর…
-

অপরাজিতা মারিনা : শিল্পকলাকে ভয় জয় করার হাতিয়ার করেছেন যে-শিল্পী
‘Men are not afraid of things, but of how they view them.Õ― Epictetus শিল্পী মারিনা আব্রামোভিচকে একবার একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তিনি নারীবাদী কি না। তিনি সরাসরি উত্তর দিয়েছিলেন – না, তিনি তা নন। তবে তিনি কী? মারিনা আব্রামোভিচকে ‘পারফর্মিং আর্টের গ্র্যান্ডমাদার’ বলা হয়। মারিনা খুব সোজাসাপ্টা কথা বলতে পছন্দ করেন এবং আমরা জানি…
-

পল গঁগা হৃদয় ভেঙে চলে গেলেন তাহিতিতে
স্ত্রী মেটিকে ফেলে এসেছিলেন প্যারিসে। মেটি তাঁদের সংসার যেমন আসবাবে পরিপূর্ণ করেছিল তেমনি সন্তানসন্ততিতে। ‘এসব আমার ভালো লাগে না। এমন জীবন আমার কাম্য নয়।’ – এভাবেই জীবন শেষ হবে সেটি তিনি চাননি। এর মধ্যে বিখ্যাত শিল্পী কামিল পিসারোর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে তাঁর। যেন এতোদিন পর তিনি বুঝতে পারছেন ছবি আঁকার জন্যই তাঁর জন্ম। তাই একদিন…
