বুলবন ওসমান
-

মামা-২য় পর্ব
কয়েকদিন িবাড়িতে থেকে মামা কলকাতা চলে গেলেন। এর মধ্যে বালক হিসেবে আমি মামার নিত্যসঙ্গী হয়ে গেলাম। বাগান ও খালপাড়ে দূরে দূরে যাওয়া ছোটদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই আমি একা মামার সঙ্গী। আর মাত্র যুদ্ধফেরত এক সোলজারের একজন ব্যাটম্যান তো চাই। তাই আমি সেই জায়গাটা পূরণ করে ফেলি। মামাকে বুঝতে না দিয়ে লেফট রাইট করে পা…
-

সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজার ও ভাণ্ডারী
পশ্চিম গগনে সূর্য। মা’কে সঙ্গে নিয়ে নিজের আবাস বিক্রি করে সেগুনবাগিচায় ফ্ল্যাটে উঠতে হলো ফজলকে। ফার্নিচার খুব সামান্য। ভাণ্ডার বই-পুস্তকের। একটা কামরায় সব বই ঢেলে রাখল। পরে র্যাক তৈরি করে সাজাবে। রান্নাঘরে কোনো তাক নেই। ফলে মিস্ত্রিকে ডাক দিতে হবে অচিরে। রাস্তার পাশে পশ্চিমদিকের কামরা, তার শয়নকক্ষ, অথচ সকালটা কি নীরব। পাখ-পাখালির ডাক নেই। নেই…
-

মামা আসছে-১
জন্ম থেকেই শুনে আসছি মামা যুদ্ধে গেছেন। মামাকে দেখিনি অথচ আমি ছ’বছরের বালক। মা আর তাঁর দু’বোন – মামা একা। কিন্তু সবার বড়। ছবিতে দেখেছি ইংরেজ সোলজারদের মধ্যে। মামাকেও ইংরেজ মনে হতো। ছ’ফুট লম্বা, ফর্সা, মাথায় ফেল্ট হ্যাট। সেই গ্রুপ ছবিতে দেখে মামার পুরো চেহারা কল্পনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। মামা যুদ্ধে…
-

নানা-নানি : তৃতীয় পর্ব
নানারা তিন ভাই। আবার তাঁরা চার ভাইও। কারণ, নানার বাবা শেখ আবদুল জব্বার একজন বালককে পুত্র হিসেবে পালন করতেন। আর তা এতই নিবিড় ছিল যে, সবাই জানত তাঁরা চার ভাই। এমনকি আমার নানা বাড়ি বানানোর সময় বড় ভাইকে নিয়ে একসঙ্গে বাড়ি তৈরি করেন। অর্থাৎ বাড়ি একটাই। শুধু দুজনের অবস্থান দুদিকে। পুবে বড় ভাই, পশ্চিমে মেজো।…
-

সেগুনবাগিচার সারমেয়
ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গাড়িটা ডানে মোড় নেয়। ফজল খেয়াল করে, একটা সাদা-কালো ছোপ কুকুর তার গাড়ির পেছনে ভেক ভেক করে তেড়ে আসছে। বেশ অনেকটা দৌড়ে রণে-ভঙ্গ। ফজল চালককে বলে : হারুন, কুকুরটা গাড়ির পেছনে কেন দৌড় দিলো বলো তো? স্যার, গতকালও পেছনে এসেছিল, আপনি খেয়াল করেননি। কিন্তু কেন? ঠিক আছে স্যার, আমি জানার চেষ্টা করব।…
-

নানা-নানি : দ্বিতীয় পর্ব
যে-কোনো সমাজব্যবস্থা তার সংস্কৃতি ও ভাষার চলনকে নির্ধারিত করে দেয়। পুরুষশাসিত সমাজ বলে নানাকে আগে আনতে হয়। পরে নানি। যদিও আমার কাছে আমার জীবনের প্রথম দশ বছরের প্রিয় মানুষ ছিল নানি। সুখে-দুঃখে নানি-নির্ভর। মা-র চেয়ে বেশি। সেখানে নানা ছিলেন বলতে গেলে শাসক। আমার ক্ষেত্রে খলনায়ক। কর্তাব্যক্তিরা বাকিদের কাছে একরকম খলনায়ক হয়েই দাঁড়ায়। কারণ তিনি নিয়ম-কানুনের…
-

নানা-নানি : প্রথম পর্ব
জ্ঞান হওয়া থেকে নানিকে সবসময় পাশে পেয়েছি। নানা কলকাতায় এক ব্রিটিশ জাহাজ কোম্পানির ডাক্তারের সহকারী, অর্থাৎ কম্পাউন্ডার। কম্পাউন্ডারের কাজ হলো ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী শুকনো ওষুধ অনুপাতমতো মিশিয়ে মিক্সচার তৈরি করে দেওয়া। ওষুধের শিশি স্বচ্ছ বা পাটকিলে রঙের হতো। এই শিশির গায়ে কাঁচি দিয়ে নকশা করে কাগজ কেটে লেই দিয়ে সেঁটে দেওয়া। দিনে ক-দাগ খাবে তা…
-

স্বপ্ন ও সত্যি
ছেলেবেলায় আমি প্রায় প্রতি রাতে স্বপ্ন দেখতাম। কোনোটা মধুর। কোনোটা ভীতিকর। আর ভীতিকর হলে ঘুম ভেঙে যেত। মধুর স্বপ্ন না ভাবাই ভালো। আমাদের মানস-প্রক্রিয়ার বিচিত্র জালে মানুষ জড়িত। একে জানার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মনোবিদগণ। আজকে মনোবিদ্যা একটি পৃথক জ্ঞান-ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত এবং বিশ^বিদ্যালয় স্তরে পঠন দেওয়া হয়। বিশেষ করে জোর দেওয়া হয় মনোবিকলনের ওপর।…
-

প্রথম স্মৃতি
মানুষের প্রথম স্মৃতির কথা জানতে চাইলে সবাই একটা ধাঁধায় পড়ে যায়। মনে করতে থাকে প্রথম স্মৃতিচিত্র। অনেক ছবি ভেসে ওঠে সমান মর্যাদায়। প্রথমটা চিহ্নিত করতে বেশ বেগ পেতে হয়। কোনটা প্রথম? সব জড়াজড়ি করে সুপার ইম্পোজড হতে থাকে। আলাদা করা দুষ্কর। সবার মতো আমারো হয়েছে তাই। তবে একরাশ নয়, দুটি দৃশ্য পরস্পর জড়াজড়ি করে উঁকি…
-

চৈত্রপালা
জন্মের ঠিকুজি জানার সবচেয়ে প্রাথমিক উৎস মা। বাবা নন। মা জন্ম দিয়েছেন। বাবা পাশে থাকতেও পারেন, না-ও পারেন। থাকলে দিনক্ষণ বলতে পারবেন। নচেৎ শোনা কথা। বা নোটবুকে টুকে রাখা। কোনো মানুষই তার জন্মক্ষণ সম্বন্ধে বলতে পারে না। কারণ তার স্মৃতিকাণ্ড শুরু হয় ধীরে। এবং কয়েক বছর কেটে যায়। আমার সূত্র মা। তাই দ্বিধার কোনো বালাই…
-

কফিকাপ
ঠিক মনে নেই, বেশ কয়েক বছর আগে এক বন্ধুর বাসায় কফি পানের সময় কাপটা চোখে পড়ে ফজলের। এটা অরিজিনাল কফিকাপ। বিশ^খ্যাত কোনো এক কোম্পানির কফি, তারা নিশ্চয় স্যুভেনির হিসেবে দিয়েছে। কাপটি চারকোনা। সাধারণত কাপ হয় গোল, এ-ধারার গড়ন ব্যতিক্রম। কফি কোম্পানি সেই ব্যতিক্রমটির শরণাপন্ন। আর এ-কথা সত্য যে, মানুষ মাত্রই নতুনের প্রতি আগ্রহী। সর্বজনীন। কাপটা…
-

বাঙালি সংস্কৃতির রূপান্তর
মহাভারতেও আমরা বাঙালি জাতির উল্লেখ পাই। তাই সহজেই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, বাঙালির জাতিসত্তা কম করে হলেও পাঁচ হাজার বছরের। আজকে যুক্ত-বাংলায় আমরা যেসব ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী দেখি যেমন, সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা, গারো, হাজং, কোচ, রাজবংশী এবং দক্ষিণ-পূর্বের চাকমা, মগ, মুরং, বম ইত্যাদি এরা এই অঞ্চলের বাসিন্দা। তবে দক্ষিণের নৃগোষ্ঠীসমূহের স্থানান্তর তত প্রাচীন নয়। প্রাচীন বাংলায় যে-কটি…
