October 2004

  • রবীন্দ্রনাথের মরণদর্শন

    রবীন্দ্রনাথের মরণদর্শন

    মৃত্যুদর্শনকে মরণদর্শন লিখলাম, বিষয়টা জীবনদর্শনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত বিধায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) মরণদর্শন গড়ে ওঠে তাঁর প্রায়-তেইশ বছর বয়সে লোকান্তরিতা নতুন বউঠাকুরাণী কাদম্বরী দেবীর মৃত্যু (১৮৮৪) থেকে, কবির তেরো বছর দশ মাস বয়সে প্রয়াতা মাতা সারদা দেবীর মৃত্যু (১৮৭৫) থেকে নয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনস্মৃতির ‘মৃত্যুশোক’ অধ্যায়ে লিখেছেন, ‘আমার চব্বিশ বছর (আসলে বাইশ বছর এগারো মাস…

  • গুরু, আমার উপায় করো না পিপাসার্ত এক যোগ্যতাহীনের কথা

    গানে যেন অচিন পাখির দেখা পাওয়া যাবে। সেই পাখির সন্ধানে লেগেছিলাম প্রথম কৈশোরে। পরিবারের প্রভাব, গানেতে অর্থকড়ি-সমস্যায় হিল্লার সম্ভাবনা, লেগে থাকতে পারলে যশ-প্রতিপত্তি-লাভের সুযোগ, এই মতো কোনো কিছু তো আমাকে গানে টানেনি। যাকে জানি না, অথচ ঠিক জানি সে সুন্দর, জাগতিক সব ক্ষুদ্র স্বার্থ-আবেগ-উদ্বেগের ঊর্ধ্বে এবং পবিত্র, তাকে যেমন করে হোক ঝলকমাত্রের জন্যে হলেও, আমার…

  • পাঠকের চিঠি

    অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্তকালি ও কলমে অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্ত : শতবার্ষিকী শ্রদ্ধার্ঘ্য নামে স্মারকগ্রন্থটির ওপর অনবদ্য একটি রচনার জন্য সনৎকুমার সাহাকে ধন্যবাদ। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক মিত্রের প্রকাশনায় কলকাতা থেকে ছাপানো এই বইটি, সত্যিকথা বলতে গেলে, পুস্তকপ্রেমিকদের কাছে একটি সংগ্রহের বস্তু (collector’s item) বলে বিবেচিত হতে পারে। অমিয়বাবুর বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী, পরিবারের সদস্য, অনুরাগী এবং অধ্যাপক অমিয়কুমার…

  • প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    প্রচ্ছদ-পরিচিতি

    কম্পোজিশনদেবদাস চক্রবর্তী দেবদাস চক্রবর্তী বাংলাদেশের চিত্রকলা-আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের শিল্পী। ১৯৪৮-৪৯ সালে তিনি কলকাতা আর্ট কলেজে চিত্রচর্চায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। বামপন্থি ছাত্র-আন্দোলনে সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে বহিষ্কৃত হন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন ও আচার্য জয়নুল আবেদিনের আনুকূল্যে ঢাকা চারু ও কারুকলা ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে তিনি এই কলেজ থেকে…

  • গুরু কৃপাহি কেবলম্

    গুরুদেব আমায় প্রচুর চিঠি লেখেন, কিন্তু পাঠানোর সময়ছিঁড়ে ছিঁড়ে দেন, আমি জমিয়ে জমিয়ে তৈরি করি ছিন্নপত্রআমি গুরুদেবকে প্রচুর পোয়েট্রি পাঠাই, তিনি তা জমিয়ে জমিয়েমহাভারত করেন।কালোর দোকানে চা খেতে খেতে বলেন, গুন্ডা-মাস্তানেজগৎ ভরে গেল, এখন আর কবি কোথায়? দুপুরে খেতে বসে বলেন,কী অপূর্ব ডাল ভাই ছুটি! আর একটু দাও।সূর্যাস্তের সময় জানলা দিয়ে চেয়ে থেকে বলেন, দুনিয়া…

  • কুসুম বিবির ক্যাটওয়াক

    কুসুম বিবি শিখেছে এবার ক্যাটওয়াকশহর এখন দেখছে তার নেটওয়ার্ক। কুসুম বিবির গ্রাম ছিলো এক সবুজ ঘাসেরধানের আলে নক্সা আঁকা চরণপাতের। কুসুম বিবির বর ছিলো এক বর্গা জমিরপান্তা খাওয়া গামছা কাঁধে স্মৃতি মমির। কুসুম বিবির শহর দেখা সাইবারেহটডগ আর পিজার জগৎ ধরলো তারে। কুসুম বিবির কথায় কথায় ইংরেজিটাইট-জিনসে লাগছে এখন ভীষণ ইজি। কুসুম বিবির প্লাস্টিকের অই…

  • স্বীকারোক্তি

    অনুবাদ : হাসান ফেরদৌস ঈশ্বর, তুমি তো জানোআমি ভালোবাসি স্ট্রবেরির মিষ্টি আচারভালোবাসি নারীর কৃষ্ণ মদিরতাআরো ভালোবাসি হিমশীতল ভোদ্কা,জলপাই তেলে মাখা হেরিং মাছগরম মশলা ও লবঙ্গের ঘ্রাণ।তাহলে এ কেমন যুগাবতার আমি?তোমার দূত পাঠালে কেন আমারই কাছে?অনেকেই তো স্বীকৃত অবতার, আস্থাভাজন তারা মানবেরআমার প্রতি আস্থা রাখে এমন আহাম্মক কই?কে না দেখেছেকেমন অনায়াসে পানপাত্র নিঃশেষ করি আমিঝাঁপিয়ে পড়ি…

  • অদ্ভুত রূপকথা

    রূপকথার মিথে মানুষগুলো ঘোরগ্রস্ত বিভ্রান্তভুলগুলো বুঝতে পারছে না নিজেদের অসুস্থতানারী, নদী, নৌকা বিষয়ক রূপকথায় আস্থা ১০০%অন্ধ বিশ্বাস ২০০ ভাগ দীনের দত্যিদানবে। বাস্তববর্জিত কাল্পনিকতায় মন মুগ্ধরঙিন রূপকথার গল্পগ্রন্থ পাঠ করে তারাপাঁচ বার কাঁদে, সাজায় সীমাবদ্ধ সংসার। রূপকথার সোনার কাঠি, রুপোর কাঠিমানুষকে বানিয়ে রেখেছে বানর।

  • গান গেয়ে বাজিমাত

    ঐ মেয়ে প্রেমের নামে মান-অভিমানে সারাক্ষণপুরুষ ভালোবাসুক, প্রশংসা করুক সময়-অসময়সকাল না হতে শুরু হোক হার-মানা ছেলে-খেলাভালো মেয়ে সত্যবাদিনী নিঃস্বার্থ অভিনয় জানা। ব্যস্ত থাক পুরুষের জাত সারাক্ষণ হাত ধরেসময় কাটাক, স্মরণ পিছু না হটে জন্মদিনউপঢৌকন না যেন বাদ পড়ে, দানের তালিকাদীর্ঘতর, তীব্র টান এক প্রাণ ঐ মেয়ের নামে। ঐ মেয়ে নিশ্চিত অন্যখানে করে গান, জন্মদিনঅন্য কার…

  • শুয়ে আছি কড়া বিছানায়

    ফুল ফুটে আছে। ভূমির চরিত্র বাঁকাচোরাশুধু আমি তাকাইনি।আজ এ বৃষ্টির দিন – বিন্দু বিন্দু চুম্বনবারতানেমে এল সন্তর্পণে। আমি বাড়িয়ে দিইনি হাত ফুরিয়ে যাবার ইচ্ছামৃত্যুর সমান ক্লান্তিদিন দিন এত রুগ্ন, বালিশ সাপটে থাকে মাথা কতভাবে মারা যায় তোমাকে আমাকে।এমনকী আমরাও মারি পরস্পরপদ্ধতি আবহমান –যদি বলা যায় সমস্বরে – চোর তুমি চোর –মাছিদের উত্তেজিত করে ঝাঁকে ঝাঁকেহাসাহাসি…

  • আমাদের মেঘমল্লার আমাদের হাওয়াগাড়ি

    কথা ছিল – বৃষ্টি আসুক বা না আসুক মেঘমল্লার হবেইভীমসেন যোশীই গাইবেন –আকাশে মেঘ দেখে এসব আসরের কথা ভেবেনিয়ে মিলেছি সবাইকিন্তু নান্দীপাঠ হচ্ছে মৃত্যু ও দালান-ভাঙাররাজনীতিতে মেতে উঠেছে ছিন্নপত্র উড়োখইআদেখ্লেপনার পৃষ্ঠপোষক সব চামড়াসর্বস্ব মধ্যবিত্ত নিজেদের কথাই কেবল বলে যাচ্ছি শ্রোতা পাই বা না পাই –ভুলে গেছি আজ মেঘমল্লার হবে –অন্তত মেঘমল্লার শোনার কথা ছিল। প্রচণ্ড…

  • আড়াল

    তুমি প্রথমে তোমার ওড়না দিয়েএকটা আড়াল তৈরি করলেতোমার সাথে আমার –তখনো তাতে তোমার গন্ধ স্পর্শ ছিল স্পষ্ট।তুমি বললে কারণটা সামাজিকখানিক আড়াল করা মঙ্গলজনক। তারপর ভারি চাদরপাতলা ওড়নাটাকে প্রতিস্থাপনকরলো, তুমি বললে অতটুকুবিভেদ এক্ষেত্রে দুজনের জন্যেই ভালো। তারপর খুব দ্রুতই মোটা চাদরকেপ্রতিস্থাপন করলো ছ’ইঞ্চি দেয়ালবারো ইঞ্চি আঠারো ইঞ্চি করে করে একসময়তা চীনের পাঁচিলের মতো দুর্ভেদ্যউঁচু আর দুর্লঙ্ঘ্য…