September

  • বিষাদ-সিন্ধুর মানস-পরিচর্যা : এ-সময়ের চোখে

    বিষাদ-সিন্ধুর মানস-পরিচর্যা : এ-সময়ের চোখে

    ছোট্টবেলার কিছু স্মৃতি, আত্মভঞ্জন শর্তে, পাঠকদের বলতে চাই। প্রসঙ্গ বিষাদ-সিন্ধুর গল্প। রাত্রির লণ্ঠনের আলোয় তখন – সুর করে পিতা পাঠ করছেন হাসান-হোসেন বা মাসহাব কাক্কার গল্প। মা ও তাঁর সন্তানরা অশ্রু ও ভয় নিয়ে তা শুনে চলেছেন। বুঝি সত্যিই আঁধার-ঘনানো অন্ধকারে দুলদুল ঘোড়ায় আসীন হোসেন খুব বিপদগ্রস্ত। অন্ধকারে হেঁটে আসছেন বুঝি তিনি! এমনটা চলছিল প্রায়…

  • আবার সঞ্চয়িতা পড়তে পড়তে

    আবার সঞ্চয়িতা পড়তে পড়তে

    এক তরুণ কবি ১২৮৯ বঙ্গাব্দের ভোরের সূর্যোদয় দেখতে দেখতে অনুভব করলেন তাঁর চারদিকে যেন কঠিন কারাগার, লিখলেন, ‘ওরে, চারি দিকে মোর/ এ কী কারাগার ঘোর -/ ভাঙ্ ভাঙ্ ভাঙ্ কারা, আঘাতে আঘাত র্ক।/ ওরে আজ কী গান গেয়েছে পাখি,/ এসেছে রবির কর ॥’ সেদিন কবি ওই সূর্যোদয় দেখেছিলেন কলকাতা মহানগরীর সদর স্ট্রিটের বারান্দা থেকে। আবার…

  • টান

    মিতুল সাইফ   তবে আর আমি কেন কেন তবে আমি? এ-পাড়ার কেউ বাকি নেই। সেইসব বুনো গন্ধ আমি চিনি। যারা টোলপড়া তোমার দিঘিতে ধুয়ে যায়, ফের আসে তারা তো তোমার আমন্ত্রিত। এই রাত্রিগুলো তুমি পুষে রাখো। তবে আর আমি কেন কেন তবে আমি? তবু খুব মায়া লাগে, আর নড়ে ওঠে মন। চেয়ো না অবাক চোখে…

  • কোজাগরি

    রহিমা আখতার কল্পনা   চোখ তো কাঁদে না আর, চোখে নিদারুণ মরু চোখের তারায় জল টলোমলো আয়না আকাশে বাড়ায় বাহু মনোবাসনার তরু ফিরে আসে হাত, নীলাকাশ ছুঁতে পায় না। চোখ তো কাঁদে না আর, চোখে নিদারুণ মরু চোখের তারায় জল টলোমলো আয়না।   কখনো আমার কিছু আপনজনেরা ছিল তখন আমার মাটিতে শিশির, মমতা উড়ে গেলে…

  • আসলে আমরা

    দিলীপ কির্ত্তুনিয়া   কাপড়কে না খুলে আসলে আমরা শরীরকেই খুলে রাখি কাপড় থেকে। স্কুলে গিয়ে দেখলাম – স্কুলে আমি যাইনি স্কুলই হেঁটে এসেছে আমার কাছে। বাজার থেকে আনাজপাতি ঘরে হেঁটে চলে আসে হুটহাট। টিউবওয়েল উপুড় হয়ে নামে কলসিতে টুপটাপ। এইসব অনেকদিন থেকে ঘটছে – অথচ সারাজীবন আমরা উলটোটা দেখলাম – উলটো বললাম। নিজের দোষ না…

  • একটি বিষন্ন বিবরণ

    দেবজ্যোতি রায়   গভীর সন্দেহ নিয়ে জেগে আছি যেতে হবে দূর অন্ধকারে। সাইডব্যাগে কাগজ, কলম, কিছু বই জলের বোতল ও লাল রঙের গামছা   কৃষ্ণচতুর্দশীর চাঁদ আমার জন্য ইনহেলার নিয়ে অপেক্ষা করছে পথে। রাত্রির বুক চিরে তীব্র হেডলাইট জলঙ্গি ব্রিজের কাছে একটি শেয়াল জাতীয় সড়ক পার হয়ে ঢুকে পড়ল জঙ্গলে।   বাতাস কমে আসছে সাতটি…

  • স্মৃতি

    আদিত্য নজরুল   একদিন বৃষ্টি হয়েছিল …   শহরের সবকটি গলি জল পেটে ধরে তুলেছিল পোয়াতি কোমল ঢেউ …   একদিন বৃষ্টি হয়েছিল …   তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে তোমার ঠোঁটের ঠিক মাঝ থেকে বৃন্তচ্যুত পাপড়ির মতো টুপ করে ঝরে পড়ল দু-একটা চুমো … সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম চুমোগুলো কুড়াতে কুড়াতে কেঁপে উঠেছিলাম …   একদিন বৃষ্টি হয়েছিল…

  • দেখি অট্টালিকা টালির ছাদ

    সেলিম মাহমুদ   কিছুই কি নেই গড়ার? গড়বেন একা শুধু রমাকান্ত কামার অথবা শ্রীকান্ত-পর্ব পড়ে, মজে যাব বারবার এই দেখি সেই দেখি উত্তম-সুচিত্রা দেখি আবার পুরনো চাল ভাতে বাড়ে হা-ভাতে চেনে ভাতের বেগার প্রজন্ম-নতুন চেনে চিকেন সসেজ আর বার্গার দেখি অট্টালিকা টালির ছাদ ড্যান ব্রাউন হিমু হুমায়ূন আজ কিংবা গত, ভুলে থাকি আকছার চাকরি খুঁজি…

  • যাপিত জীবন

    কাজী সুফিয়া আখ্তার   ক্যান্সার হওয়ার পরে কী যে হয়েছে আমার! শুধু মৃত্যুকে দেখি রয়েছে দুয়ারে দাঁড়িয়ে। অপারেশন, কেমোথেরাপি, সবই তো ঠিকঠাক হলো ডাক্তারের নির্দেশমতো চেকআপ নিয়মিত ওষুধ খাওয়া নিষ্ঠুর ঘড়ির কাঁটা জানিয়ে দিচ্ছে যাবার সময় অসম্ভব সুন্দর এই পৃথিবীতে মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মানুষ সহজ-সরল একটা জীবন তো যাপন করেছি; অতীত দিনের স্মৃতির ঝরনাধারায় পূর্ণতার…

  • ওপার-এপার

    সৌভিক রেজা   ময়-মুরুব্বিরা বলতেন বালাই ষাট; সেই ষাটের উলটোদিকে দাঁড়িয়ে তোমার ঝলমলে ডালপালাগুলো দেখি, পাতা আর ছায়াগুলো দেখতে-দেখতে বাইরে যাই। দেখি জারুলের বেগুনিময় ফুলের আলো। বালাই ষাট। মাঝে মাঝে আলো আর বাতাসের কাছ থেকেও দূরে সরে থাকি। এদিক-সেদিক যাই, তোমার ছায়া নিয়ে নিজের ছায়ায় ফিরতে চাই। হেনা, তুমি ষাটের ঘাটে ফুটে-ওঠা আঁধার-আলো-ছায়া

  • পা বাড়াই প্রাণের পথে

    তারিক সুজাত   ১. ঘুমিয়ে ছিলো প্রখর রোদে একলা একটি কূপ তার গভীরের গভীর থেকে তুলে আনলে তুমি জলের ঝলকানি!   ২. আমার শহর শূন্য ব্যথাদীর্ণ বৃক্ষ সারি সারি জানায় বিদায় পা খি আ মা র মেঘে মেঘে দেবে পাড়ি   আমি ধূলিকণা স্মৃতির ডানায় ভেসে শূন্য খাঁচায় এ কা এ কা উ ড়ি  …

  • রামবাবু রোডের সন্ধ্যামালতি (মঞ্জুশ্রী বিশ্বাসকে)

    শামসুল ফয়েজ   রামবাবু রোডের ভাড়াবাসার বারান্দায় ফুটে থাকত লাজুক সন্ধ্যামালতি সকাল-সন্ধ্যায় বেলপাতা-জবাফুল দিয়ে চলত তার পবিত্র আরতি। সন্ধ্যামালতির কপালের মাঝখানে জ্বলজ্বল করত সিঁদুররঙের টিপ। কোলাহলমুখর শহরে নির্জন বাড়িটা ছিল যেন এক আত্মমগ্ন অভিমানী দ্বীপ। তুলসীতলায় প্রতিটা সন্ধ্যায় জ্বলত সুস্নিগ্ধ প্রদীপ।   ব্রহ্মপুত্রের কিনারে, বুড়াপিরের মাজারে, কালীবাড়ি রোডে, লোকনাথ মন্দিরের আঙিনায় থরে থরে ফুটে থাকা…