2021
-

জীবনবাদী ঔপন্যাসিক পার্ল এস বাক ও দ্য গুড আর্থ
পার্ল এস বাকের অনেক পরিচয়। তিনি মানবতাবাদী, জীবনবাদী, নারীবাদী, প্রতিবাদী। চীনের প্রান্তিক মানুষ আর ততোধিক প্রান্তজন যে নারী তাদের কথা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উঠে এসেছে তাঁর কলমে। তাদের জন্য মমতায় আর্দ্র হয়েছেন তিনি। ১৮৯২ সালের ২৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার হিলসবরোতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পার্লের বাবা-মা দুজনই ছিলেন মিশনারি। বিয়ের পর তাঁরা স্থায়ী হন চীনে। মায়ের কাছে…
-
স্মৃতিগদ্যের টান অথবা স্বদেশাত্মার পুনরাবিষ্কার
শঙ্খ ঘোষের এই স্মৃতিগদ্যটি একটানা পড়া যায় না, নিজের অজান্তেই চোখের পাতা ভিজে ওঠে। আমরা যারা কিছুটা স্বেচ্ছায়, খানিকটা পরিস্থিতির চাপে দেশত্যাগ করেছি, তাদের কাছে জন্মভূমির টান এক অনন্য মায়াময় স্মৃতিমেদুরতায় ভরা। নাড়িছেঁড়া এ এক অদৃশ্য বন্ধন। তাই তো দেশ ছেড়ে এলেও দেশের স্মৃতি আমাদের ছাড়ে না। এ যেন সেই অনপনেয় টান, উন্মূল মানুষের অন্তরাত্মার…
-
বেকারের তুঙ্গ লড়াই
শুরুতে মনে হতে পারে উপন্যাসটি বোধকরি বিসিএস ক্যাডারবিষয়ক নসিহতনামা। আদতে পৃষ্ঠা জুড়ে শিক্ষিত তরুণ বেকার প্রজন্মের অনুকূলে বিশেষ ব্যবস্থাপত্র! জীবিকার ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার’ পাড়ি দিতে কতবার হোঁচট খেতে হয়। কতবার শিরদাঁড়ায় নতুন উদ্যম সঞ্চয় করতে হয়। বিসিএস ক্যাডার ম্যানিয়া-আক্রান্ত নব্য যুবসমাজের আদ্যোপান্ত মর্মভেদী আশা-নিরাশার দোলাচল চাকরিনামা। হারুন পাশা বহুকৌণিক তরিকার ইশতেহারও দিয়েছেন। মূলত…
-

-

শিরোনামহীন
আমিনুল ইসলাম এদেশের প্রথম প্রজন্মের শীর্ষ শিল্পী এবং আধুনিক শিল্প-আন্দোলনের অন্যতম প্রধান পুরুষ। ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত আর্ট স্কুলে যে-কজন হাতে-গোনা শিল্পী ভর্তি হন তিনি তাঁদের অন্যতম। ছাত্রজীবন থেকে তিনি অগণিত শিল্প-শিক্ষার্থীকে চিত্রসৃজনে নানাভাবে উৎসাহিত করেন। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও অঙ্গীকারের চেতনা দ্বারা তাঁর শিল্পীসত্তা চালিত হয়েছিল। সেজন্য তাঁর পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের কাজে এদেশের মানুষের…
-

নতুন বীক্ষা নতুন সংজ্ঞা : নতুন কবিতার সন্ধান
কবিতার কথা শীর্ষক গ্রন্থের ‘সত্য, বিশ্বাস ও কবিতা’ নাম্নী প্রবন্ধে কবি জীবনানন্দ দাশের বলা কয়েকটি কথা দিয়ে শুরু করছি – ‘… গত তিন চার হাজার বছর মানুষের সভ্যতায় দর্শন কাজ করে গেছে, এই বারে বিজ্ঞান কাজ করবে বলে মনে হয়। … তবে দর্শনের চেয়ে গণস্পষ্ট পৃথিবীর দরবারে শুভ সত্যকে বিজ্ঞান বেশি আয়ত্ত করতে পারবে বলে…
-

শিলং : রবি ও রাণু
জিৎভূম : শেষের কবিতার আঁতুরঘর শিলং শহরের কেন্দ্রবিন্দু পুলিশ বাজার থেকে রিলবং অনধিক চার কিলোমিটার। ঢেউ খেলানো পাহাড়ি পথে ট্যাক্সি পৌঁছে দেয় দশ মিনিটে। কাছাকাছি এসে বাঁক ঘুরতে চিনতে পারি। ড্রাইভার রাজু চৌধুরীকে নামিয়ে দিতে বলি। বাড়ির উলটোদিকে নেমে দেখতে থাকি। সেই একই রকম রয়েছে, কাঠের গেট, গেটফলকে লেখা ‘জিৎভূম’, গেটের একপাশে বিরাট গোলাপ গাছ।…
-

আধুনিকবাদ রবীন্দ্রনাথ ও একটি বিতর্ক
১৯৬৮ সালের এপ্রিলে আবু সয়ীদ আইয়ুবের আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথ বেরোবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কবি অরুণকুমার সরকার (১৯২১-৮০) বইটির সমালোচনা লেখেন কলকাতা পত্রিকায় (১/২, জুলাই ১৯৬৮)। আইয়ুব উত্তর লিখতে দেরি করেননি। একই পত্রিকার চতুর্থ-পঞ্চম যুগ্মসংখ্যায় সেটি প্রকাশিত হয়। এই আলোচনা-প্রত্যালোচনা আধুনিকতা ও রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় সংস্করণ থেকে পরিশিষ্টে মুদ্রিত হয়ে আসছে। অরুণকুমার সরকার ছিলেন মুখ্যত কবি। পঞ্চাশের…
-

আনিসুজ্জামান-জীবনকথা
(দ্বিতীয় কিস্তি) সাত ১৯৬৯ সালের জুন মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন আনিসুজ্জামান। দীর্ঘ ষোলো বছর পর ১৯৮৫ সালের আগস্ট মাসে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে এসেছিলেন তিনি। তাঁর এই দীর্ঘ ষোলো বছর চট্টগ্রামে অবস্থান নিয়ে প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন তাঁর একটি স্মৃতিচারণমূলক রচনায় লিখেছেন : ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্য অনেকের যোগদানের চেয়ে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের যুক্ত হওয়ার তাৎপর্য ছিল…
-

পোড়োজমির ভেতর দিয়ে, ভুবনডাঙার দিকে : মাহমুদ আল জামানের কবিতাসমগ্র
আমাদের দেশে কলম-নামের আড়ালে থাকা কোনো কবি বা লেখকের পরিচিতিটা সামনে বেরিয়ে আসতে সময় লাগে না, যেহেতু কবি-লেখক হিসেবে নিজের নিভৃত ভুবনে তাঁর জীবন কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব হয় না। তাঁকে একটা পেশায় স্থিত হতে হয়, তাঁকে সভা-সমিতিতে যোগ দিতে হয়, তাঁর পরিচিতজনের বলয়টাও বড় হতে থাকে। কিন্তু মাহমুদ আল জামান তাঁর বেছে নেওয়া এই নামেই…
-

দীপা বন্দ্যোপাধ্যায় : কেবলমাত্র গানে গানে
দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার প্রথম দেখা আজ থেকে পঞ্চাশ বছরেরও আগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির ছাত্রী হয়ে তাঁর আসা। খুলনা থেকে। দৌলতপুরে বি.এল কলেজের ছাপ নিয়ে। তখন শিক্ষা ও সংস্কৃতির আবহ ছিল খুলনায় প্রাণবন্ত। মহেশ্বরপাশায় সুবোধ মজুমদার স্বয়ং একটা ইনস্টিটিউশন। অঙ্কশাস্ত্রের সর্বজনমান্য অধ্যাপক, কিন্তু আরো গভীরভাবে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে প্রাণবান সমন্বয়ের ধারক। সেখানে কেন্দ্রভূমিতে রবীন্দ্রনাথ। উদার আভিজাত্যে ধারণ…
-

মনুষ্যত্ব
‘উত্তিষ্ঠত! জাগ্রত!’ উত্থান করো, জাগ্রত হও – এই বাণী উদ্ঘোষিত হইয়া গেছে। আমরা কে শুনিয়াছি, কে শুনি নাই, জানি না – কিন্তু ‘উত্তিষ্ঠত জাগ্রত’ এই বাক্য বার বার আমাদের দ্বারে আসিয়া পৌঁছিয়াছে। সংসারের প্রত্যেক বাধা প্রত্যেক দুঃখ প্রত্যেক বিচ্ছেদ কতশতবার আমাদের অন্তরাত্মার তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে আঘাত দিয়া যে ঝংকার দিয়াছে তাহাতে কেবল এই বাণীই ঝংকৃত হইয়া…
