2024

  • বিপন্ন ভাষা

    বিপন্ন ভাষা

    রূপকথার দুই গ্রিম-ভাইয়ের এক ভাই – ইয়াকুব গ্রিম – আধুনিক তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাতত্ত্বচর্চার ক্ষেত্রে পথিকৃৎ ছিলেন। তাঁর মতে, জাতি হচ্ছে জনগণের সেই সমগ্রত্ব যা একই ভাষায় কথা বলে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে জাতির সংজ্ঞানিরূপণে উত্তরোত্তর ভাষার গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয়। ভাষার ওপর ভিত্তি করে সম্মিলিত ইতালি ও সম্মিলিত জার্মানির জন্ম। নরওয়ে ১৯০৫ সালে সুইডেন…

  • ফুরায় না সব লেনদেন

    ফুরায় না সব লেনদেন

    ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদ-গ্রন্থ, কালিদাসের মেঘদূত। আমি হাতে পেয়েছিলাম ষাট সালের দিকে। সংস্কৃত জানি না। স্কুল-ফাইনাল পর্যন্ত সংস্কৃত আমার পাঠ্যবিষয় ছিল, চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রচুর নম্বর মিলেছিল। ভাষাটার কিছুই না জেনে এত নম্বর কীভাবে পাওয়া যায়, সে-রহস্য এখন আমি জানি; সম্মানসহ সংস্কৃতে এম. এ. পাশ করার পরেও ওই ভাষাটির মর্মে একটুও ঢুকতে না…

  • তাকে

    জানতে কি, কতদিন                    ভেবেছি আকুল হ’য়ে                       তুমি না থাকলে                          কি করে থাকব। আজ তুমি নেই কত কাল।           তবু তো থেকেই গেছি। রোজ ভোরে উঠি,           কাজ নেই, সারাদিন ছুটি,                 খাওয়া দাওয়া, এটা ওটা দেখি, শুনি, দিন শেষ হলে শুতে যাওয়া।                 আবার সকালে ওঠা। এ…

  • বিহানবেলায়

    ধানখেতের ধারে কাঁটাতার। টানা কাঁটাতারের দুই দিকে এই বিহানবেলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে পরস্পরের দিকে পিঠ ফিরিয়ে দুইজন মানুষ। কেউই বলছে না কোনো কথা। ওরা প্রতিবেশী। মাঝে-মাঝে এইরকম হয়। মাঝে-মাঝে কাঁটাতারে আটকে থাকে বহতা সময়। কেউই বলে না কোনো কথা। মানুষ বলে না কথা, সমুদ্র ও নদীও বলে না। পাহাড় তো জন্মাবধি নির্বাক, কখনও সে কোনো ব্যাপারে…

  • সূর্যাস্তের রক্তরাগ

    কী করে বলি ব্যর্থ জীবন জন্মেই পেয়েছি মাতার স্নিগ্ধ স্তন্য দু’চোখে দেখেছি শ্যাম সমারোহ চারিদিকে জনারণ্য। গ্রীষ্মে পেয়েছি সুশীতল ছায়া শ্রাবণে পেয়েছি বৃষ্টি যৌবনে দেখেছি প্রেয়সীর মুখ গীতি-সুধাময় দৃষ্টি। আজকে যখন রক্ত ভাটায় নিঃস্ব তখনো দেখি, কী গভীর প্রেমে সজ্জিত এই বিশ্ব। জোয়ারের শেষে তাই তোমার আমার সন্ধি বয়েস খাঁচায় আমরা হবো না বন্দি। সৃষ্টির…

  • যেতে যেতে : দিন যায় রাত্রি যায়

    দিন চলে যায়, পায়ে পায়ে রাত্রি আসে স্বাভাবিকভাবে আসে, আসতে হয় আসে নিজস্ব নিয়মে আসে যখন যৌবন ছিল রক্তে শোনা যেত বাঘিনীর ডাক চিতাবাঘ এ কোণে ও কোণে, জঙ্গলে, সাবুই ঘাসের ঝোপে লুকিয়ে থাকতো উত্তুঙ্গ জীবনে ঘাপটি মেরে থাকা মৃত্যুর মতন স্বপ্নের মতন বিশ্বাসের মতো তারা সব ভেসে যাচ্ছে তারা আর দেহ নয়, ছায়া একটা…

  • কলগার্ল

    কলগার্ল বুদ্ধকে দিয়েছে তার আজকের দিনের উপার্জন। কারুণিক সঙ্গে-সঙ্গে তাকে দেখালেন  সমস্ত ভুবন জুড়ে ব্যাপ্ত এক অনন্তনাগের ফণায় ফণায় জ্যোৎস্না সমবিতরিত হয়ে আছে। অথচ দু-গজ দূরে ওঁৎ পেতে রয়েছে বৈমাত্রেয় ভাই-টাই – যাকে বলে আত্মীয়স্বজন – তাদের নগদ পাওনা লুফে নেবে ব’লে; অনন্তনাগের তুলনায় এরা ছোটখাটো সাপ, এদের ফণায় অন্ধকার টায়টায় হয়েছে বণ্টন। দু-চারজন তবু…

  • বালক, তুমি একদিন ॥ তৃতীয় পাঠ

    বালক, তুমি একদিন আমাদের কবি হবে, উড়ে যাবে কালের ফুৎকারে – আমি সেই শিরোনাম ছেপে দিচ্ছি আজকের মেঘাবৃত সংবাদপত্রে। দূরপ্রান্ত বালক, তোমাকে স্বাগত এবং শোকের ভেতরে টানটান আমি তোমার ওষ্ঠের ভেতরে উপস্থিত, তোমার অভিষেকে আমি উপস্থিত। এই ঝকঝকে দুরবিন, ওই প্রজ্বলিত নীলাঞ্চল, এই চোখ, ওই নক্ষত্র, এই বিকাশমান দিন, ওই অস্তমান বিস্তার, এ সকলই একদা…

  • পাথর ও রক্তের বিবাদ

    কি আছে অনাস্বাদিত? ঠোঁট রেখে কঠিন শিলায় পাথরের গন্ধ শুঁকি পেতে চাই সৃষ্টির লবণ। গ্রানিটে জিহ্বা লাগে, আলজিহ্বে শ্যাওলার স্বাদ স্বাদ নয়, এ কেবল পাথর ও রক্তের বিবাদ। অভুক্ত কবির মুখে, আলজিহ্বে জমেছে যে পানি এ দিয়ে নরম হয় জগতের প্রকৃতিনিচয়, কেবল অনম্য তুমি। পাথরের চেয়েও পাথর। হাসো বাসো নাশ করো মানুষের সব বরাভয়। ২…

  • সংশয়

    রক্ত এবং মাংস জুড়ে তোর কেন এই ভয় ভালো যদি বাসিস নারী কেনরে সংশয় ভালো যদি বাসিস তবে মাতাল হয়ে যা অন্ধ এবং বধির হয়ে অধীর হয়ে যা ভালো যদি বাসিস নারী ঢেউ তুলে যা মনে ভালোবাসা মরণ খেলা খেলবি দুইজনে তুইতো জানিস কেমন ক’রে বাসতে ভালো হয় কেমন ক’রে ঝড়ের মতো বাতাস শুধু বয়…

  • রমিত বসন্তে

    আদিতে তুমিই ছিলে অন্তে ছিলে তুমি আকাশ সমুদ্র ছিলে, ছিলে বনভূমি আঁধার আলোর মতো ছিলে গোধূলিতে বিশাল প্রকৃতি জুড়ে বিপুল সংগীতে প্রবল অস্থির ছিলে বাতাসের স্বরে নদীর বিস্তারে আর পাতার মর্মরে অস্থিতে মজ্জায় তুমি ছিলে চিরকাল আমার মাংসের মধ্যে আমার কঙ্কাল চুম্বনে নিমগ্ন একা ছিলে আলিঙ্গনে উন্মত্ত বৃষ্টির গানে শ্রাবণে শ্রাবণে স্তম্ভিত শব্দের মধ্যে ধ্বনিত…

  • একটি কবিতা

    এবার একটি কবিতা দিতে একটু দেরি হল। খুব দেরি হয়তো নয়,                       তবুও তো। আসলে আমার কোনো দোষ নেই। কবিতাটি এসে গিয়েছিল,                আশেপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। কখনো পাখির পালকের মতো উড়তে উড়তে, কখনো ঝিঁঝির ডাকের মতো ক্রমাগত, কখনো জানলার খড়খড়ির ফাঁকে আলো, কবিতাটি এদিক ওদিক ঘুরপাক খাচ্ছিল। এর মধ্যে কয়েকদিন খুব ঠান্ডা পড়ল, একদিন…