কবিতা
-
সিতপুষ্পের পাশে
সিতপুষ্পের পাশ-ঘেঁষে পথ চলি দেখি বড়বেশি ম্লান-মুখ তার অবনত মাথা – শরীর দুভাঁজ এই গ্রহণের দিনে – ভূমি থেকে জল সরে গেছে বহুদূর কে জানে তা গেছে কিনা দৃষ্টির অগোচরে অসীম সুদূরে – আদরে-সোহাগে তাকে কাছে পাবো এমন ভরসা উধাও শূন্যে আজ; গ্রহণের দিনে ভয় মানি তাই অবিরাম ভয় মানি – পুষ্পপ্রণয়ী…
-
মেহরিন
মেহরিন, এই হৃদয় নিয়ে আমার অহংকারের দিন শেষ যেদিন অপরের হাতে তাকে তুলে দিতে হলো। মেহরিন, কত মুক্ত আর স্বাধীন ছিলাম, মনে পড়ে কিন্তু আজ তোমার সাথে দেখা হওয়ার পর কারাগার নির্ধারিত হয়ে গেল। মেহরিন, কথা রাখো সখি আমার সেই দিনের কথা মনে করে যেদিন সবকিছু ভুলে যাবে তুমি। মেহরিন, তুমি যেখানেই পা রাখো তার…
-
অসমাপ্ত গল্পের জীবন : সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণীয়েষু
পূর্ণ হলো না পাত্র। সত্য হলো দীর্ঘশ্বাস। অসময়ে অকালেই নিভে গেল দীপ। এম্ফিথিয়েটারে শুধু প্রতিধ্বনি শূন্যতা-রোদন। হাহাকার বেজে ওঠে, বীণা হয় হৃদয়বন্দিশ। হৃদয়তন্ত্রীতে গাঙে গহিনে বিষাদ-সুর। ছিলেন ব্যাখ্যাতা তিনি নন্দনতত্ত্বের, সৌম্য সুধী প্রজ্ঞা পুণ্যে ভারানত, কী করে ভুলবো তাঁকে! স্থিতধী মেধাবী সত্তা, স্মৃতিপটে প্রফুল্ল জাগর। আকস্মিক ছিঁড়ে গেছে তার। অবেলায়, দুঃসময়ে। গল্পের বুনট আর পূর্ণতার…
-
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্মরণে
হেমন্তের শূন্যভাঁড়ারে শস্যকাটা হয় না তবু বৈনাশিক ঝড় আর্তনাদ করে! ভেসে যায় এলোমেলো ভাসান জলে – আধকাটা শস্যের ভাঁড়ার পূর্ণ হবার আগেই থমকে থাকে জলের কিনারে! হাহাকারে শোকার্ত চাঁদ কান্নার প্লাবনে অবসাদ রেখে যায় শেষ বিকেলে! – এরকম অজস্র গন্ধবহ ছাতিম শিরিষ নিঃস্বস্বরে ঝরে পড়ে বনের আড়ালে! পাণ্ডুর কথাকলি ফিসফিস জানায় শোক – কতকাল এভাবেই…
-
আমার কবরে কোনো এপিটাফ নেই
ব্যাপারটা লক্ষ করা যাক – আমি অনেকের কাছে মৃত সেই অনেকের ভেতর অনেক জানাশোনা মানুষও আমার কাছে মৃতবৎ কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় যে, আমাদের মাঝখানে সুচিক্কণ চুড়ির শব্দের মতো শুধু কবিতার কোমল নিক্কণ বয়ে যেতে চায় আমার কবরে কোনো এফিটাফ নেই ওই অনেকের কবরেও সযত্নে খোদাই করা এপিটাফগুলো কখন…
-
প্রচ্ছায়া
তুমি নও শুধু ছবি; নিঃশব্দ নিñিদ্র ঘরে অমাবস্যার রাতের জোনাকি দুখিনী – কাদম্বরী নন্দনকাননে ঝরা পত্রালী, শুকনো ডাল, হরিদ্রাভ ঘাস। ওরাও ক্রন্দসী বিবর্ণ প্রভায়; থেমে গেছে মিলন স্মৃতির মূর্ছায়। নিশ্চল হয়ে যায় আস্তে আস্তে সব মিলিয়ে যাবে ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ট্যাবে স্মৃতিকণা শব্দের অঙ্গুলি; একেবারে জড় হবে রব। স্মৃতিকণার ফেলে রাখা শব্দাবলি পৌঁছে যাবে প্রজন্মের চৈতন্যে;…
-
একশ দিন নিয়েছি আকাশের সাক্ষাৎকার
(সাক্ষাৎকার নেওয়ার পর গোধূলিস্বরে আকাশ বলেছিল, ‘ছাপাবার আগে দেখিয়ে নিতে হবে।’ শীতার্ত স্বরের নির্দেশনা : ‘নীল কাগজে স্তম্ভিত সাদা মেঘ, পাশে প্রথম সকালের সূর্য, মাঝখানে স্বাধীনতাস্তম্ভে উড়ন্ত ডানা, আর নক্ষত্রের সামাজিকতার ইম্প্রেশন হবে।’ ক’দিন পর হাতে নিতেই ধ্রুবতারা জানালো, মহাকাশ প্রশ্ন ও উত্তরের সিংহভাগ কালপুরুষের আর্কাইভে রেখে দিয়েছে।) চল্লিশ শ্রাবণ গেছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে। গিয়েছি কবেকার…
-
শীত আসে
দুর্গম পাহাড়ের অনেক ভেতর থেকে শীত আসে আমাদের লোকালয়ে গভীর জঙ্গলের অন্ধকার গর্ত থেকে শীত আসে আমাদের খামারবাড়িতে আমরা কে কতটা বাবু হয়ে উঠেছি নিজস্ব ভঙ্গিতে, তা দেখতে শীত আসে। শীত আমাদের কুয়াশালিপ্ত মন ভালোবাসে পর্যটকের চোখ পড়ে থাকে চিম্বুক পাহাড়ে আর শীত আসে আমাদের সহ্যের সীমা বুঝিয়ে দেবে বলে হাড়ে হাড়ে!
-
আনন্দ তারই নাম
বিন্দু বিন্দু করে জমানো যে ধন হতে পারে, বুকের গভীরে তার বাস দেখেনি তা কেউ কোনো দিন, দেখবে না দৃশ্যমান না হলে তা অদৃশ্যই থাকে পুষে রাখি, ঢেকে রাখি অগোচরে এই – মানুষের চিলচক্ষু থেকে, গোপনে। আমার এমন দিন আসতেও পারে সেদিন শুধুই আমার আলো ছড়ানো তুমিও দেখবে তাই দুই চোখ ভরে ওই দুরন্ত আকাশের…
-
মাছ
মাছের চোখের ভেতর খেলা করে জলের জীবন। জন্ম থেকে জীবনের উৎসজল। জলের অলিগলিতে মাছের যাতায়াত। মা মাছ কিংবা মাছের ঝাঁক চেনে না জালের ফাঁদ। সাঁতারের প্রতিযোগিতা চলে পাখনা ও লেজের শক্তিতে। মাছের শ্রবণশক্তি প্রখর। যদিও কান পাতে না মানুষের সমালোচনায়। মৃত মাছের বাজারে মানুষের পকেট গরম আর ঠোঁট গরম। কোনো জীবিত মাছ এই সব দেখে…
-
শেষ দলিল
আমি এড়াতে পারি না আমার ব্যথিত করোটি অথবা যে গোলাপ ফুটে উঠছে আমার ভিতরে! আমি গণনা করবো সপ্তাহ, মাস, আমার চুলের মধ্যে এক-একটা চিহ্নিত দিনকে প্রসারিত করে। জমাট হিমতন্তু আমার মগজের ভিতরে, বিভক্ত ভূমি সবলে আমার পা উঁচু করে রাখে। পৃথিবী আমাকে যা জানতে বলে আমি সেই দিকে এগুচ্ছি। আমি এক দেবদূত বন্দুকের গুলির ভিতর…
-
মায়াগন্ধা জীবনের গান
এখানেই থেকে যাবো, কী মায়াবী আলোরাঙা ভোর! এই বাংলার মায়াগন্ধা নারী, তার জ্যোৎস্নাধোয়া সজল নমিত মুখ, তরুণীর রুমুঝুমু নাচের চমক; শস্যভারানত পূত-স্থির দিগন্তবিস্তৃত মাঠ; বুকের ওপর দিয়ে বয়ে চলা সহস্র নদীর ঢেউ; ইলিশের রুপালি ঝিলিক! কী নেই এখানে! আছে স্বপ্ন; হৃদয়ে হৃদয়ে পূর্ণপ্রাণ ভালোবাসা! ডুব দাও এই বাংলার রূপসাগরে, দেখো না হীরকদ্যুতির চেয়ে জ্বল্যমান তার…
