February 2023
-

মুনীর চৌধুরীর টাইপযন্ত্র
১৯৪৭-এর দেশ-বিভাগের পর পাকিস্তান রাষ্ট্রকে সংহত করার প্রয়াসে একটি পাকিস্তানি ভাষা-সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ ছিল লক্ষণীয়। এর জন্য প্রয়োজন হয়েছিল বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতিকে খণ্ডিত করে ইসলামীকরণ। ১৯৪৭-৪৮ সালে বাংলাকে আরবি হরফে লেখা এবং পূর্ব বাংলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় আরবির প্রাধান্য আনার ঘোষণা ছিল এই উদ্যোগেরই অংশ। এসব ষড়যন্ত্রকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য বাংলা অক্ষরে…
-

বাংলাভাষাচর্চা : পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমির কিছু কাজকর্ম
১. ভাষা-শহিদ দিবসের রুটিন আর কর্তব্য শুরুটা করি পাশির্^ক প্রসঙ্গ দিয়ে – ভাষাশহিদ দিবস। আর সেইসঙ্গে বলি যে, এ-লেখাটি কিছুটা অনাচারিক বা ‘ইনফরমাল’ ভঙ্গিতে লিখছি, কারণ এতে ইতিহাসের তথ্যের সঙ্গে কিছুটা ভাষাশহিদ দিবস নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্বেগও থাকবে। তার প্রধান কারণ, এ-লেখার লক্ষ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সাধারণ পাঠকও। ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহিদ দিবস (পরে কানাডাপ্রবাসী বাঙালি দুই নাগরিকের…
-

মাহবুব উল আলম চৌধুরী ও তাঁর সীমান্ত পত্রিকা
মাহবুব উল আলম চৌধুরীর (১৯২৭-২০০৭) পরিচয় আমাদের কাছে একুশের বিখ্যাত কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’র রচয়িতা হিসেবে। যদিও, একই চট্টগ্রামের মানুষ হওয়ার কারণেই হয়তো, আজো অনেককে দেখি, আমাদের একজন প্রধান কথাসাহিত্যিক মাহবুব-উল আলমের (মোমেনের জবানবন্দী, মফিজন ও পল্টন জীবনের স্মৃতি খ্যাত) নামের সঙ্গে তাঁর নামটি গুলিয়ে ফেলতে। স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক…
-

বাঙালি লেখক-শিল্পীর গ্রামোফোনপ্রীতি ‘হিন্দুস্থান রেকর্ড’ সম্পর্কে অজানা অভিমত
একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাঙালির ঘরোয়া বিনোদনের প্রধান মাধ্যম ছিল ‘গ্রামোফোন’ – কালের হিসাবে ১৮৭৯ থেকে বিশ শতকের আশির দশক পর্যন্ত। একটু বিস্মিতই হতে হয় এ-কথা জেনে যে, টমাস আল্ভা এডিসনের ‘গ্রামোফোন’-যন্ত্র আবিষ্কারের (১৮৭৭) মাত্র দু-বছরের মধ্যেই এই যন্ত্রটি বঙ্গদেশে পৌঁছে যায়। পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান : ১৮৮৯ সালে স্যামুয়েল হ্যারাডেন ‘একটি নিম্নমানের ফোনোগ্রাম যন্ত্র’…
-

বাঙালি সংস্কৃতির রূপান্তর
মহাভারতেও আমরা বাঙালি জাতির উল্লেখ পাই। তাই সহজেই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, বাঙালির জাতিসত্তা কম করে হলেও পাঁচ হাজার বছরের। আজকে যুক্ত-বাংলায় আমরা যেসব ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী দেখি যেমন, সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা, গারো, হাজং, কোচ, রাজবংশী এবং দক্ষিণ-পূর্বের চাকমা, মগ, মুরং, বম ইত্যাদি এরা এই অঞ্চলের বাসিন্দা। তবে দক্ষিণের নৃগোষ্ঠীসমূহের স্থানান্তর তত প্রাচীন নয়। প্রাচীন বাংলায় যে-কটি…
-

জলের গভীরে
অনেকদিন হলো মন্মথপুরে কোনো উত্তেজনার ছোঁয়া নেই, সব হাওয়া। উত্তেজনা বলতে অন্য কিছু নয়, প্রেম-ভালোবাসা তো নয়ই, এখানে উত্তেজনার অপর নাম মারামারি-কাটাকাটি। এটা সবাই জানে। মাস ছয়েক আগেও ব্যক্তি আর গোষ্ঠী বিবাদে জর্জর হতো মন্মথপুর। যখন-তখন তুলকালাম বেধে যেত এলাকায়। রাস্তায় উষ্ণ রক্তের ভেতর গড়াগড়ি খেয়ে গোঙাত রামদার কোপ খাওয়া কিংবা টেঁটাবিদ্ধ মানুষজন, কেউ ভয়ে…
-

আত্মকথার দর্পণে বুদ্ধদেব বসু
রবীন্দ্রোত্তর বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে সব্যসাচী প্রতিভা বুদ্ধদেব বসু। বিভিন্ন গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায় ও প্রবন্ধে বিক্ষিপ্তভাবে নিজের জীবনকাহিনি শুনিয়েছেন তিনি। তবে সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি রচনায় তাঁর আত্মকথা পাওয়া যায় – ‘আমার ছেলেবেলা’, ‘আমার যৌবন’ ও ‘আমাদের কবিতাভবন’। যদিও শেষোক্ত রচনাটি তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে অসমাপ্ত, এরপরও ধারাবাহিকভাবে এই রচনা তিনটি পাঠে এক অসামান্য আত্মজীবনীমূলক সাহিত্যকর্মের স্বাদ অনুভব করা…
-

সাহিত্যের বিশ্বপট : মাঘনিশীথের কোকিলেরা
বিশ^বীক্ষা সাম্প্রতিক সাহিত্য-সমালোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বীজশব্দ। কোনো স্রষ্টার সৃষ্টিই এছাড়া তাৎপর্যপূর্ণ হয় না। জীবন ও জগৎকে দেখার বিশেষ ধরন যদি নান্দনিক যোগ্যতার সঙ্গে ব্যক্ত না হয়, তবে তার মূল্যই থাকে না কোনো। এই শব্দটি অবশ্য বিশ^ায়িত হয়েছে জার্মান ভাষা থেকে। কুটুর থেকে যেমন কালচার বা সংস্কৃতি, তেমনই ‘হ্বেলটানশাউঙ্গ’ থেকে বিশ^বীক্ষা। স্রষ্টা দ্রষ্টা চক্ষু দিয়ে…
-

অমৃতকথা
আমাদের বাড়ির ছাদের থেকে বোসবাড়ির ছাদটা এখনো দেখা যায়। চিলেকোঠার দেয়ালে সেই লোহার ঘোরানো সিঁড়ি। জংপড়া, ঝরঝরে। উঠে গেছে একেবারে চিলছাদে। তার ওপরে তো আর কিছু নেই। কেবল আকাশ। ওই সিঁড়িতে নিধু বসে থাকে। সকালে, বিকেলে। সূর্য ডুবে গেলে মাঝে মাঝে চিলছাদে ওঠে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। গোধূলির রং মাখে। তারপর অন্ধকার … পাড়াতে নিধুদের বাড়িটা…
-

ডলি কাকির নতুন চটি
অবশেষে চটি এলো বাড়িতে। কাকিকে চটিয়ে তবেই এলো। ঝগড়া হলো, মান-অভিমান হলো, কাকি ও কাকা দুই বিছানাতে ঘুমালো পর্যন্ত। অনেক জল গড়ানোর পর মোক্ষম সময়ে চটি জোড়া এলো। কাকি যেদিন বিয়েতে যাবে তার ঠিক আগের দিন। ডলি রানি পোদ্দার। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। পারে না, তবু টেনে টেনে সময় পার করছে এখন। সেই কবে ঢুকেছে স্কুলে।…
-

বাঙালির সংস্কৃতি ভাবনার শেকড়ের সন্ধানে
‘বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল’ এর থেকে জীবনের নির্যাস নিয়ে; এই ভূখণ্ডে গড়ে-ওঠা আবহমান সংস্কৃতির উদ্দীপনাকে প্রাণে ধারণ করে; ‘আ-মরি বাংলা ভাষা’য় মুখের বুলি ফুটিয়ে; ‘জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়’ যে জাতিকে দেখে ‘এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়’ – তা হলাম আমরা এই বাঙালিরা। বাঙালিকে বুঝতে হলে জানতে হবে তার…
-
বাবেলের থেকে দূরে – বহুদূরে
হিথরোতে দেখা হলো তার সাথে রেস্তোরাঁর খাবার টেবিলে কথা হলো ভাঙা ফরাসিতে – দুজনেই যেন এইমাত্র এসে গেছি বাবেলের অসমাপ্ত ভাঙা দুর্গ থেকে – কেউ কারো ভাষাও জানি না – মেয়েটির মুখচোখ আশ্চর্য ধারালো – হয়তো উঠেছে বেড়ে একালের দ্রুতগতি জঙ্গম জীবনের স্রোতে কোনো পুঁজির প্রাসাদে, আমি তার নীল চোখে চাই, দেখি এক আদিম অরণ্য…
