February

  • শিরোনামহীন

    প্রথম প্রজন্মের চিত্রশিল্পীদের মধ্যে আবহমান বাঙালির জীবন রূপায়ণ ও লোক-ঐতিহ্য কাইয়ুম চৌধুরীর তুলিতে প্রাণবন্ত, সজীব ও সৃজনের প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছিল। তাঁর পটে তিনি বাংলাদেশের মানুষ, নদী ও নিসর্গের নানা অনুষঙ্গকে বহুরূপে এবং বহুবর্ণে অঙ্কন করেছেন। কাইয়ুম চৌধুরী বিভিন্ন মাধ্যমে নিত্য কাজ করে এদেশের চিত্রশিল্পে এক অগ্রগণ্য চিত্রকরে পরিণত হয়েছিলেন। ষাটের দশকে তাঁর চিত্রে বাঙালির…

  • সম্পাদকীয়

    স্মরণ, কৃতজ্ঞতা, প্রত্যয় : ১৯তম বছরে কালি ও কলম একসময়, যখন দৃশ্যমাধ্যম বলতে ছিল চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন, এবং সেগুলোর দর্শকও ছিল সীমিত, বাংলাদেশে উঁচুমানের কিছু সাহিত্যজার্নাল প্রকাশিত হতো, যেমন সমকাল, কণ্ঠস্বর, পরিক্রমা এবং সুন্দরম। এর বাইরে ছিল ছোটকাগজ, যেগুলো বেরুতো সারাদেশ থেকে, এবং দু-এক পত্রিকার সাহিত্যসাময়িকী। দৃশ্যমাধ্যমের আগ্রাসন প্রবল হওয়ার কারণে হোক, উদ্যমী সম্পাদক-প্রকাশকের অভাব…

  • প্রকাশকের পত্র

    কালি ও কলম পত্রিকা এবারে ঊনবিংশ বর্ষে পদার্পণ করল। একটি মানসম্পন্ন সাহিত্য পত্রিকার অভাবমোচনের লক্ষ্যে কালি ও কলম আত্মপ্রকাশ করেছিল। আমাদের বিশ্বাস গত আঠারো বছরে এই পত্রিকাটি একটি রুচিবান সাহিত্যপত্রিকা রূপে নিজেকে তুলে ধরতে পেরেছে। সৃষ্টিশীলতা ও মননশীলতার যুগ্মস্রোত এখানে এসে মিলেছে একসঙ্গে। আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনে যা ঘটছে, তারও পরিচয় তুলে ধরারা চেষ্টা করছে এ-পত্রিকা।…

  • মাজু খাতুন

    মাজু খাতুন

    সুধা চুপিচুপি শতদ্রুর কানের কাছে মুখ নিয়ে বলেন, ‘এই যে দ্রুভাই, তোমার দাদাভাই সারাবাজার চষেও  খুঁজে পাননি তোমার নরেন মিত্তিরের রস।’ শতদ্রু তখন ঘুমের দেশ ছেড়ে ধীরে ধীরে তরী ভেড়াবে তীরে। সুধার কথাটা শুনে আচ্ছন্নের মতো বলে ওঠে সে, ‘আহা, বউমণি, দাদাভাইয়ের কি মাথা খারাপ হলো, বাজারে গেছে খুঁজতে, ওটা তো পাওয়া যাবে কলেজ স্ট্রিটে,…

  • ফ্ল্যাট নম্বর ৭/সি

    ফ্ল্যাট নম্বর ৭/সি

    রাজাবাজার তেরো নম্বর রোডে গিয়েছিলেন কখনো? যাননি মনে হয়। ওদিকের বাসিন্দা না হলে কে যায় ওই ঘিঞ্জি এলাকায়। কোনো অফিস-আদালত নেই, ভালো কোনো মার্কেট বা রেস্তোরাঁ নেই – কেন যাবেন? কখনো গেলে দেখবেন ওই রোডের মাথায় পানির পাম্পটির পাশেই একটি আটতলা বাড়ি। গেটের ওপর লেখা ‘একরাম ভিলা’। বাড়ির কোনায় একটি নারিকেল গাছ মরি মরি করেও…

  • ব্ল্যাকবোর্ড

    ব্ল্যাকবোর্ড

    পাঁচ ফুট উচ্চতার দেয়ালের ঠিক ওপাশে দু-জোড়া চোখ স্থির তাকিয়ে থাকে স্কুলভবনটির দিকে। তাদের দৃষ্টিতে গীতা মাসির চলে যাওয়ার অপেক্ষা। গীতা মাসি বড়নখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়া। প্রতিদিন সকাল নয়টার পর স্কুলে আসে, শিক্ষকদের বসার রুমের তালা খুলে রুম পরিষ্কার করে। রুমের সামনেই রঙ্গন ফুলের কয়েকটি কচি গাছ, প্রতীক্ষা করছে লালচে আলো ছড়ানোর। গাছগুলোতে প্রতিদিন…

  • ফুল বলে, ধন্য আমি …

    ফুল বলে, ধন্য আমি …

    অনুবাদ : ভার্গব বন্দ্যোপাধ্যায় ফার্ন হিল, দ্য ওকস্, হান্টারস্ লজ, দ্য পার্সোনেজ, দ্য পাইনস, ডাম্বারনি, ম্যাকিন্নন্স হল এবং উইন্ডারমেয়ার। ভারতের কোনো একটা পাহাড়ি শহরের চারপাশের অতিপ্রাচীন কয়েকটা বাড়ির নাম এগুলো। এগুলোর বেশির ভাগই ভেঙেচুরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাড়িগুলো অনেক পুরনো, একশ বছরেরও আগে তৈরি। সমতলের অসহ্য গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে ব্রিটিশরাই তৈরি করেছিল বাড়িগুলো।…

  • হারিয়ে যাওয়া রাস্তা

    হারিয়ে যাওয়া রাস্তা

    অনুবাদ : নাজনীন সুলতানা নীতি মার্ক জিরনডিন এতোদিন ধরে শহরের প্রকৌশল বিভাগের নথিপত্র শাখায় কাজ করছিলেন যে, এই শহরের প্রতিটি জায়গার অবস্থান, নাম, সড়ক বিভাজন থেকে শুরু করে সরু গলি, কানা গলি, সংকীর্ণ ঘুরতি পথের সবকিছু তার মন-মস্তিষ্কে একেবারে মানচিত্রের মতো আঁকা হয়ে গিয়েছিল। পুরো মন্ট্রিয়লে এতো জানাশোনার অধিকারী কেউ ছিল না; এমনকি একডজন পুলিশ…

  • নূরজাহান বেগম : এক বিজয়লক্ষ্মী নারীর সঙ্গে

    নূরজাহান বেগম : এক বিজয়লক্ষ্মী নারীর সঙ্গে

    প্রসঙ্গকথা নূরজাহান বেগম। জন্ম ৪ঠা জুন ১৯২৫, চাঁদপুরের চালিতাতলী গ্রামে, নানাবাড়িতে। মুসলিম নারীসমাজের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা বেগম-এর সম্পাদক তিনি। অন্ধকারাচ্ছন্ন বাঙালি মুসলমান সমাজে বাবা মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন ও কন্যা নূরজাহান বেগম যথাক্রমে সওগাত ও বেগম নিয়ে যে-সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, তা আজ কিংবদন্তির মর্যাদা লাভ করেছে। অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তচিন্তার অধিকারী মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন ছিলেন বাঙালি মুসলমান সমাজের সাংবাদিকতার…

  • সব শিল্প আত্মপ্রতিকৃতি

    (হোর্হে লুইস বোর্হেসের দি মেকার গ্রন্থে পাওয়া একজনের কাহিনি) তার বেঁচে-থাকা ছিল মহাবিশ্ব অংকনের ব্রত এঁকেছেন চিন্তাস্রোত, স্বপ্নরেখা, দর্শনের ধারা স্বর্বংসহা মৃত্তিকার বহুস্তর শরীর ও মন প্রেমের চোখের মতো তারাদের ঠোঁটচাপা হাসি চাঁদের উপুড় বাটি, পাহাড়ের ধ্যানের আলোক এঁকেছেন যুদ্ধজাহাজ, বারুদের জটিল ভাণ্ডার প্রাসাদের হাড়গোড়, মৃত কূপ, শূন্য আস্তাবল পড়ন্ত স্তনের মতো সিঁড়িধাপে থিতু অন্ধকার…

  • দ্বিধাঘোর

    হয়তো আমার চোখমুখে ছিল আবেগের গাঢ় রেখা  – চাঁদজ¦লা রাতে আলোর ইন্দ্রজালে যখন ছিলাম নিবিড় স্বপ্নে ডুবে দুজনে হেঁটেছি নীরবেই পাশাপাশি, সেটুকুই ছিল অর্জিত অধিকার – তবু মনে হলো কোথাও গহনে তার রয়ে গেছে দ্বিধাঘোর নাকি সে নিজেই ছিল দর্পিতা আরো – চোখ তার ছায়াময় খুঁজেও পায়নি মিলন-মাধুরী প্রিয় রয়েছে যা আঁকা মহাকাল মুখজুড়ে –…

  • মহাত্মা গান্ধির প্রতি

    সমস্ত যৌবন আপনার কথা ভেবেছি, গান্ধি! অনেক ভাবনায় ভুল ছিল – কিছু ভাবনা পার হয়েও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে                                       পারিনি আজো। অস্ত্র যেখানে দুর্বলতা হিংসা যেখানে পঙ্গুত্ব গোপনীয়তা যেখানে ক্ষুদ্রতা ষড়যন্ত্র যেখানে কাপুরুষতা সেখানে সূর্যালোকিত দেশ নীল অন্তহীন আকাশ সত্যের অপার সৌন্দর্য আর একজন একলা-মানুষ – আপনি – মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি। আপনি যতখানি ইংরেজদের বিরুদ্ধে…