September
-

অদ্বৈত মল্লবর্মণের সংগীতমানস
একটিমাত্র সাহিত্যকর্মের জন্য নিজ ভাষার সাহিত্যে এমনকি বিশ্বসাহিত্যে অমর হয়ে আছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষার সাহিত্যের ইতিহাসে এমন বিরলপ্রজদের একজন, বাংলাসাহিত্যের অকালপ্রয়াত কথাসাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-৫১)। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে উচ্চবর্গের এবং উচ্চবর্ণের একচ্ছত্র আধিপত্যের মধ্যে, বলতে গেলে, প্রায় একমাত্র নিম্নবর্গের লেখক অদ্বৈত মল্লবর্মণ তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসের মাধ্যমে কালোত্তীর্ণ অক্ষয় একটি আসন পেতে বসে আছেন।…
-

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্পে চেতনাপ্রবাহরীতি
তত্ত্বগত দিক থেকে দেখলে বলা যায়, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্পের বুনটে নানা রীতি-পদ্ধতির এক অপূর্ব সংশ্লেষ ঘটেছে। গল্পের গঠনশৈলীতে কেবল নয়, এটা ঘটেছে বিষয়-ভাবনার নানা স্রোতের সম্মিলনীতেও। তাঁর উপন্যাসও এই বক্তব্যের ব্যতিক্রম নয়। ইলিয়াস প্রবলভাবে সমাজ-সচেতন লেখক। এমন কিছু গল্প তাঁর আছে যেখানে ব্যক্তিচৈতন্যের অন্তর্গূঢ় ভাবনা প্রাধান্য পেয়েছে, সমাজ তথা রাষ্ট্রের যেখানে প্রত্যক্ষতা নেই, সেখানেও ইলিয়াস…
-

জল-বন্দনা
এসো এসো হে তৃষ্ণার জল, কলকল্ ছলছল্… ভেদ করো কঠিনের ক্রূর বক্ষতল কলকল্ ছলছল্ ॥ – রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথের এই গানের বাণীর ভাবার্থ – কঠিনের ক্রূর বক্ষতল ভেদ করার চেষ্টা-না করে বরং জল নিয়ে জলো কথা দিয়েই শুরু করা যাক। আমরা সবাই জানি, পৃথিবীর তিন ভাগ জল, এক ভাগ স্থল। বিজ্ঞান বলে, দুটি হাইড্রোজেন…
-

স্বর্ণতৃষা
নাহ, এয়ারপোর্টে কোনো অসুবিধা হয়নি। যদিও ঢাকা এয়ারপোর্টে সমস্যা হতে পারে – এরকম একটা আশঙ্কা মেজর আজমত শিরওয়ানীর ছিল। তবে পাসপোর্টের তথ্যে তিনি তো কোনো ‘মেজর’ নন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রাক্তন অফিসারও নন। স্রেফ ‘আজমত শিরওয়ানী’ নামে দুবাইয়ের এক ব্যবসায়ী। ফলে সমস্যা হওয়ার কথাও ছিল না। তবে ঢাকা এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশনে মেজর আজমত শিরওয়ানীর যে কোনো সমস্যা…
-

ভুখ
তোর বহুত ভুখ, তাই না রে বউ? জাবেদ আলি পাশে শুয়ে থাকা কমলার তপ্ত পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলো। প্রথমে কিছু বুঝতে পারলো না কমলা, তারপর বালিশ থেকে মাথা তুলে জাবেদ আলির মুখের দিকে তাকিয়ে আবার শুয়ে পড়লো। দুপুর পর্যন্ত চালকলে কাজ করে খুব ক্লান্ত। তার ওপর ফিরে এসে জাবেদ আলিকে গোসল করিয়ে খাইয়ে…
-

মজা নদীর মানুষ
লু ঙ্গি পর্যন্ত খোলা পিঠটা চিকচিক করছে। ঘামের ওপর পড়ছে জ্যৈষ্ঠের রোদ। খালি গায়ে আছে কুদ্দুস। লুঙ্গিটা অবশ্য আঁটসাঁট করে বাঁধা। তার গিঁটের মতো কুদ্দুসের শরীরখানাতেও গিঁট পড়ে গেছে। যেভাবে নদীটা শুকিয়ে খোল পড়ে গেছে, তার শরীরটাও সেরকম একটা খোল। বিত্তির খিলের মতো হাড় বেরিয়ে এসেছে কবেই! এই হাড়গিলে শরীরটায় রোদ পড়লে বুকের বাতিগুলি স্পষ্ট…
-

রফিকের বন্ধুত্ব : ক্ষণকালের ও চিরকালের
মোহাম্মদ রফিকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল সহপাঠী আলতাফের মাধ্যমে। আলতাফ বাংলায় পড়ত, আমি ইংরেজিতে। তখনই ওর কবিখ্যাতি কিছু হয়েছে, কণ্ঠস্বরে কবিতা ছাড়াও রবীন্দ্রনাথের গান নিয়ে একটি অসাধারণ গদ্য প্রকাশিত হয়েছে। সেই লেখায় আলতাফ গীতবিতানকে বলেছিল সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মগ্রন্থ। নোবেলপ্রাপ্তির আগেই গীতাঞ্জলি ও রবীন্দ্রনাথের আরো অনুবাদ পড়ে আইরিশ ইংরেজ কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস তাঁর কিছু গানের মধ্যে অধ্যাত্ম…
-
মোহাম্মদ রফিকের কবিতা
আত্মজৈবনিক তুমি-আমি যোগ-বিয়োগের ফলাফল একটি দাঙ্গা, তোমাকে করেছে ভিনদেশি – আর আমি পরবাসী নিজ দেশে; তুমি-আমি শূন্যের কোঠায় শ্বাস নিই একটি যুদ্ধ বেশুমার স্মৃতিবহ স্বাধীনতা ফিরে আসা দগ্ধগৃহে : দেশ-দেশান্তরে বিভাজন রেখা টেনে দিলে তুমি আজ কালের গহ্বরে অমলিন আমি ধুঁকে মরি আত্মধিক্কারে লজ্জায়; তুমি আজ বিস্মৃতির সহচর বিস্তারিত নীলিমায় সন্ধ্যামণি ফুল, আর আমি অর্ধমৃত…
-

মিলান কুন্ডেরা : উপন্যাসে অস্তিত্ব এবং চেতনার প্রভাব
সম্প্রতি প্রয়াত চেক লেখক মিলান কুন্ডেরার দ্য আনবিয়ারেবল লাইটনেস অফ বিইং উপন্যাসটির কথা স্মরণ করে লেখাটি শুরু করা যাক। এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র টমাসের চাকরিচ্যুতি, হাসপাতালের সার্জন থেকে উইন্ডো ক্লিনার হওয়া, কখনো নিজের স্ত্রীর ওপর বিরাগভাজন হয়ে অন্য মহিলাদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে জড়ানো – এরকম টুকরো টুকরো গল্পে উপন্যাসটি সাজানো, যেসব গল্পে জড়িয়ে থাকে…
-

নানা-নানি : প্রথম পর্ব
জ্ঞান হওয়া থেকে নানিকে সবসময় পাশে পেয়েছি। নানা কলকাতায় এক ব্রিটিশ জাহাজ কোম্পানির ডাক্তারের সহকারী, অর্থাৎ কম্পাউন্ডার। কম্পাউন্ডারের কাজ হলো ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী শুকনো ওষুধ অনুপাতমতো মিশিয়ে মিক্সচার তৈরি করে দেওয়া। ওষুধের শিশি স্বচ্ছ বা পাটকিলে রঙের হতো। এই শিশির গায়ে কাঁচি দিয়ে নকশা করে কাগজ কেটে লেই দিয়ে সেঁটে দেওয়া। দিনে ক-দাগ খাবে তা…
-

সালমান রুশদির ‘মধ্যরাতের সন্তানেরা’ বুকারপ্রাপ্তির চার দশক
সালমান রুশদির (১৯৪৭) বিখ্যাত উপন্যাস মিডনাইটস চিলড্রেন তথা ‘মধ্যরাতের সন্তানেরা’ প্রকাশের চল্লিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৮১ সালে বিলেতে। সে-বছরই উপন্যাসটি ব্রিটেনের সাহিত্যাঙ্গনের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার বুকার লাভ করে; রুশদি পান তারকাখ্যাতি। ‘আমি নিদ্রা হতে উত্থিত হয়ে দেখলাম আমার নাম ছড়িয়েছে দেশজুড়ে।’ রোমান্টিক যুগের ইংরেজি কবি বায়রনের (১৭৮৮-১৮২৪) মতো রুশদিও এমনটি বলতে পারতেন…
-
পদ্ম
ডুবিল আসমানের তারা চান্দে না যায় দেখা। সোনালী চান্নির রহিত আবে পড়ল ঢাকা॥ – মৈমনসিংহ গীতিকা সখী, সখী আমার মরিবে সে, মরিবে নিশ্চয় জানি; জানি না কোন ঘোরে যে উঠিল এমন তুমুল ঝড় চাঁদ-তারা ডুবিল ঘন মেঘের ভিতর, ভাঙিল ঘর আর ছাড়িল শখের সংসার সন্তান আর বন্ধু ছিল যত। এখন নিঃসঙ্গ পথে পথে…
