2021
-

বেলাশেষের গান : স্বাতী তারা স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত
নক্ষত্রের পতন। ধীরে ধীরে সূর্যের আলোয় বিচ্ছুরিত ছটা ছড়িয়ে পড়েছিল চারদিকে। আপন প্রতিভার সক্ষমতায় তিলে তিলে নিজেকে গড়ে তোলা। কি অভিনয়ে, কি নির্দেশনায়, নাট্য-রচনায় ও অনুবাদে, সাংগঠনিক কাজে, নাট্য-প্রশিক্ষণে, সংগীত পরিচালনায় ও পোশাক পরিকল্পনায় নিজের প্রাণমন সঁপে দিয়েছিলেন যিনি, তিনি স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। একেই বলে সাধনা। একটা কাজে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছিলেন সারাক্ষণ। কীভাবে দিন পার হয়ে…
-

‘যাত্রা’পথের পাঁচালী
পথের পাঁচালীর সঙ্গে ওতপ্রোত একটি উপাদানের কথা আমরা ভুলেই থাকি। সচরাচর নয়, বরাবর। খোদ সত্যজিৎ রায় এই ছায়াছবির উদ্যোগ-নির্মাণ-উত্তর পর্ব নিয়ে অনেক জায়গায় বলেছেন, লিখেওছেন। বাংলায় ইংরেজিতে। এ নিয়ে আলাদা করে আলোকপাত করেননি। দেশদুনিয়ার শিল্পসংস্কৃতির কত সমঝদার পথের পাঁচালীর কত দিক নিয়ে কত আলোচনা করেছেন। সত্যজিতের জন্মশতবর্ষেও তার জের চলছে। অথচ বাংলা সংস্কৃতির, বা বলা…
-

প্রত্যাবর্তন
দীর্ঘ পথ। সামনে পা ফেলতেই পেছনে বেয়াড়া ধুলো কুণ্ডলী পাকিয়ে উড়ছিল, কিছুক্ষণ পর আবার ধীরে ধীরে তা থিতিয়ে পড়ছিল। কিন্তু তারপরও ধোঁয়ার মতো একচিলতে ধুলো বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল। ধুলো এবং পায়ের নিচের পথের কথা মাথায় না এনে সে হেঁটে চলল। যদিও প্রতি পদক্ষেপে সে বন্ধুর পথের বৈরিতা হাড়ে-হাড়ে টের পাচ্ছিল। এমন নয় যে সে নিচের…
-

অ্যামেলিয়া
॥ ২১ ॥ জেরেমিস : কেন নয়? এমন মাঠ, এমন নীল আকাশ, রোদ্দুরে শুতে ইচ্ছে করে না? অমলিনী : [শুয়ে পড়ল দু’জনের মাঝে, গায়ে গা না লাগিয়ে] জানো, ছোটবেলায় আমরা এমন মাঠে শুয়ে পড়তাম। পাহাড় জঙ্গলে ঘেরা একটা ছোট গঞ্জে আমি বড় হয়েছি। কত বন্ধু! ছেলেমেয়ে কোনো তফাত করিনি। বন্ধু বন্ধুই। সকলে এটা বোঝে…
-

চর্যাপদ নিয়ে কথাসাহিত্য
কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের লুইপা’র কালসাপ গতানুগতিক ভাবধারা ও শ্রেণিবিন্যাসের দিক থেকে ভিন্ন আঙ্গিকের উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম সাহিত্যিক নিদর্শন চর্যাপদের আলো-আঁধারীতে লুকিয়ে থাকা বর্বরতা এবং যাপিত জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে এ-উপন্যাসের কলেবর। সর্বস্তরের মানুষের পাঠ-উপযোগী করে সচেতনভাবে উপন্যাসটি উপস্থাপনের প্রয়াস চালিয়েছেন লেখক। সংগত কারণেই উপন্যাসের কাহিনিতে আত্মনিমগ্ন হওয়ার পূর্বে লেখকের নিবেদন নামে পাঠ-পরিচিতির অবতারণা করেছেন…
-

পড়ন্ত বাংলাদেশের আখ্যান
তিমিরযাত্রা গল্পকার মোজাফফর হোসেনের প্রথম উপন্যাস। ২০২০ সালে প্রকাশিত এই বইয়ের প্রকাশক পাঞ্জেরী প্রকাশন। ভালো লাগা এই ব্যতিক্রম উপন্যাসকে ঘিরে আমার কিছু কথা পাঠকদের জানাতে চাইলাম। উত্তরাধুনিক ধাঁচে লেখা এটা একটি অবশ্যপাঠ্য উপন্যাস। বেশ যত্ন দিয়ে পরিশ্রম দিয়ে সাজানো। তিমিরযাত্রা এক স্মৃতিনির্মাণ, নাকি চলচ্চিত্রনির্মাণ! যেন সাদা দেয়ালে টানানো সাদা কাপড়ে কেউ প্রজেক্টর দিয়ে ছবি আরম্ভ…
-

-

বন্যা
‘শিল্পগুরু’ সফিউদ্দীন আহমেদ এদেশের আধুনিক শিল্পকলা চর্চায়, বিশেষত ছাপচিত্রের আধুনিকায়নে, পথিকৃতের ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে বাংলাদেশের আধুনিক ছাপচিত্রের ‘জনক’ বলা হয়। তিনি ছিলেন সর্বদাই পরিবর্তন-প্রয়াসী। গত শতকের চল্লিশের দশকে পশ্চিমবঙ্গে সাঁওতালদের জীবন ও প্রকৃতি নিয়ে যে-আঙ্গিকের কাজ করেছেন, পঞ্চাশের দশকে এসে তা পরিবর্তন করেছেন। নতুন চিত্রভাষা উপহার দিয়েছেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এবং বানভাসি মানুষ বিষয়ক কাজের…
-

সিরাজীর সৃষ্টিসত্য
ব্যক্তিজীবনের সীমিত আয়ু পেরিয়ে ২৪ মে ২০২১ তারিখে আমার বন্ধু কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী চিরজীবনে প্রবেশ করেছে। এখন থেকে তার সুপুষ্ট রচনাসম্ভারই তার প্রধান পরিচয়। দেখতে দেখতে পঞ্চাশ পেরিয়ে ষাট পেরিয়ে সত্তর পেরিয়ে তিয়াত্তরে প্রবেশ করেছিল সিরাজী। কর্মজীবনের শ্রেষ্ঠ পালকটি তখন তার মুকুটে। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক রূপে প্রায় তিন বছর অতিক্রান্ত। তারপরেই দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে…
-

সিরাজীর প্রথম কাব্য : ‘শব্দে শব্দে বিয়া’
প্রথম কাব্যগ্রন্থ দাও বৃক্ষ দাও দিন থেকেই হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কবিসত্তা নিজের পথ সন্ধান করে নিতে চাইছিল। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে, মোট ৪৫টি কবিতার সমাহার। তারপর শুধু লিখেই গেছেন অন্তরতাগিদে, একের পর এক কবিতাগ্রন্থ বের হয়েছে। বিবর্তিত ও বিকশিত হয়েছেন কি? সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে প্রবেশ করতে হয় তাঁর রচনার গভীরে, চিহ্নিত করতে হয়…
-

হাবীবুল্লাহ সিরাজী : কবিতা ও গদ্যের মায়াভূমি
ঈহার অন্দরে জীবনের সত্তর বসন্ত অতিক্রম করে একাত্তরে এসে বাংলা কবিতামালঞ্চে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর উপহার-কুসুম ঈহা (২০১৯)। প্রারম্ভ কবিতা ‘কুয়ো’, সমাপ্তি এবং নামকবিতা ‘ঈহা’। ১৯৭৫-এ দাও বৃক্ষ দাও দিন দিয়ে যে-কাব্যিক অভিযাত্রাবিন্দুর অবতরণিকা, ২০১৯-এ ঈহায় এসে তা নবমাত্রাগামী। না হলে পুস্তকের সূচনাতে কী করে কবি উচ্চারণক্ষম – আমি কবিতা পাঠ করি না অশ্রু পড়ি অতল কুয়োয়।…
-

আনিসুজ্জামান-জীবনকথা
এক ‘আনিসুজ্জামান ছিলেন একাধারে প্রবাদপ্রতিম শিক্ষক, অভিনিবিষ্ট গবেষক এবং অসাধারণ রকমের সংস্কৃতিসচেতন। এই তিন গুণের যে-কোনো একটিই একজন মানুষের জীবনকে চরিতার্থতা দেবার জন্য যথেষ্ট; তাদের একত্রযোগ তো একান্ত বিরল ঘটনা। আনিসুজ্জামানের ক্ষেত্রে এই বিরল ঘটনাটাই ঘটেছে। একজন ভালো শিক্ষক যে উচ্চমানের গবেষক হবেন, এমন কোনো নিয়ম নেই; আবার সার্থক গবেষকদের ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে তাঁরা…
