কবিতা
-
শকুন্তলার পোষা হরিণীর চোখ
রেখে দিতে পারো সম্পর্কের আলোকবর্তিকা, কিছু আবর্জনা হৃদয় নামক এক দেহগহ্বরের চোরাগোপ্তা পথে সংশ্লিষ্ট খণ্ডাংশে দেহানুভূতির মধ্যে আবেগের অভ্যুদয় কিছু ক্লান্তিবোধ, কিছু ফুল ফুটবার সাড়া … পাতা গজাবার ধ্যানে বৃক্ষের আহ্লাদে আর গণকবরের পাশে মৃত্তিকার অভিমান রেখে দিতে পারো, কিছু পিছুটান; রাত্রির কথোপকথন শেষে জীবনের সমতা আনতে পারে এ রকম কিছু নাম, কিছু সংহত কুঁড়ি…
-
অভিসার
শার্ট চেঞ্জ হয়। চেঞ্জ হয় মেরিলিন মনরোকে নিয়ে ভাবনার আদ্যোপান্ত। শুধু রাঙামাটি জুড়ে অদিতির বোন। দোয়েল চত্বর থেকে ঝুলন্ত ব্রিজের ওপর ভেসে আসে দূর পাহাড়ের মেঘ। সেই সাথে পুরনো চিঠির মতো ভালোবাসা ভালোবাসা। আমি দিকভ্রান্ত হই। অদিতির বোন শুধু স্বপ্ন এগিয়ে নেয় বুকে রেখে নীল ওড়নার ঘ্রাণ। বৃষ্টি সঙ্গী হয় আমার একাকিত্বের দীর্ঘ বারান্দায়।
-
অগ্নিপাঠ
আগুনকে বলেছি, যাও, জিহ্বাগুলোকে নমিত করো আগুন ফিরে এসে বললো আমাকে, মানুষ তো অগ্নিভুক, তারা আগুনকেই ভালোবাসে।
-
ফেরা
বারেবারে ফিরে ফিরে আসি পত্রপল্লবেরা ডেকে নিয়ে আসে বনের সকাশে, মাঠে, ধানে, রোদের মলাটে, আমি এক হীরামন পাখি পাতার সবুজ আমার শরীরে আঁকে সাত রং বর্ণালি আঁখি, নদীটার মতো বয়ে যাই, ধীরে, প্রভাত সমীরে শিরায় শিরায় সোনার প্রতিম রক্তকে ঢেলে দেয় সূর্যের ডিম।
-
সাম্যবাদ
বুঝতে পারি – কোন কোন শিরায় প্রবাহিত হয় আলো কোথা দিয়ে ঢোকে বিষ কারা কারা বাজায় বাঁশি কোথায় শূন্যস্থান থেকে উঠে আসে শিস! মনে করো – গাছ যদি ঝড়কে চোখ রাঙায় পুকুর যদি ফিরিয়ে দেয় সব ঢিল রাস্তা যদি উড়িয়ে দেয় সব ধুলো দরজা ছেড়ে যদি দাঁড়িয়ে থাকে খিল! এবার তাহলে – বালিতে মুখ গুঁজে…
-
প্রলুব্ধ করেছিল হাওয়া
শুধু কবিতায় তোমাকে স্পর্শ করা যায় – ভালোমন্দ জানা যায়, স্কয়ারে, মফস্বল থেকে এসে সারা বিকেল তোমার পাশে বসে থাকা যায়। এই যে তোলপাড় করা সংবাদ, মর্মর করে ভাঙছে পাঁজরের হাড়, তৌহিদা, কুহকে জড়ানো মহাসমুদ্রের তীর ধরে ছুটছে রিকশা, বহুকাল চোরাচালানের পর, যাত্রীবদলের মতো চাপা বেদনায় ঘামছে হাতের তালু, তোমার চুলগুলো নাচুনে পদ্মার ঢেউয়ের মতো…
-
অটোফ্যাজি
(ইয়োশিনোরি ওশামির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে) ধানের মরশুম ছিল উঞ্ছবৃত্তিকাল আমাদের শরীরস্বভাবে বরাবর কোষেদের স্বভোজন ছিল – ইঁদুরগর্তে চোখ পরিত্যক্ত ধান্যক্ষেতের উচ্ছিষ্ট হাতে ঘরে-ফেরা – স্পষ্ট সেইসব ছবি, স্পষ্টতর আমাকে দেখায় আজো অভুক্ত পথের সুষমা লোভের পসরা-সাজানো রাস্তার দু-ধার কখনো ডাকেনি; আমি কাফকার ক্ষুধাশিল্পী না-পাবার অন্যতর বেদনার কাছে নতজানু ঘিয়ের গন্ধভরা পাতে নিঃশব্দে জল ঢেলে দিয়ে…
-
চাতক-বৃষ্টি
যদি চাও স্নিগ্ধতার স্পর্শ, পাপড়ি মেলা দৈনন্দিন এবং সাক্ষাৎ পেতে চাতক বৃষ্টির, মেয়াদ উত্তীর্ণ ভোজ্যতেল, পণ্য ভেবে ছুড়ে ফেলে দাও ফিনকি দিয়ে ওঠা মানসিক চাপ; দূর করো পিছে লাগা বা লেলিয়ে দেওয়া চর্চা, প্রতিবেশী বা পরকে ডুবিয়ে মারার ছলাকলা। নিশ্বাস-বিশ্বাস থেকে হাওয়ায় ওড়াও কবুতর উড়াল পুড়িয়ে দেওয়ার বদ্ধমূল জেদ। কালি-তেল লাগা ভেতরটা ধুয়ে ফেলো অনুশোচনার…
-
ভ্রমণ
কত মানুষ প্রেমে পড়ে রোজ ডাল ধরে ডাল ছাড়ে, ভ্রমণের স্বাদ নাকি আলাদা হয়। ছাড়া আর ধরার মাঝে কি ভালোবাসা থাকে? নদী পাহাড় জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্তি আসে না? আমার তো প্রেম নেই, আছে একটা ঘর। মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে খুব – ভালোবাসলে কেমন লাগে।
-
আমার মাতৃচুম্বনের আদি স্বর
মেঘেদের আড়ালে হাসছিলাম হাহা। ঠা-ঠা ডিগবাজি খাচ্ছিলাম সপ্ত-ঋষির পবনে-পর্বতে। মুহূর্তের তিমিরাক্ষী আলোকপোশাক রূপবদলরত অনবরত। ভীতসন্ত্রস্ত আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম স্বর্গমর্ত্য অমাদিগন্ত। আমার আগে-পেছনে আমাকে খুঁজে খুঁজে পাহারা দিচ্ছিল হাজার হাজার কোটি কোটি আমার আমি। যেহেতু আমার আগে-পেছনে আমার পেছনে-আগে ছুটছিলেন বড়শি হাতে আমার মানবজনক। জনক তো নয়, খলুই হাতে এক মৎস্যশিকারি। শিকারি তো নয়, সুদর্শন চক্র…
-
আশ্চর্যবিকেল
কয়েকটি মুহূর্তমাত্র, যেন একপলক দৃষ্টির লেনদেন, তারপর থেমে গেছে সব কথা বুকের ভেতরে জমা যত আলোড়ন, কিছুই নেয়নি সাথে শুধু নিয়ে গেল এক দারুণ বিস্ময়! রংধনু উঠেছিল বৃষ্টিভেজা আকাশে রৌদ্রের আলো মøান। এই দৃশ্য সত্য শুধু দুজনের কাছে; কোথাও সাক্ষ্য নেই কেউ পেছনে জানালা খোলা সেই জানালায় আকাশের রংধনু আজও তো তেমনই দৃশ্যমান! একটি শালিক…
-
স্বপ্নের ভেনিস
জলে জলে জলময়, সূর্যালোকে শুয়ে থাকে ভেনিস নগরী জলকন্যা অপ্সরী কি? উঠেছিল কোনোদিন সাগর মন্থনে এমন সুন্দরী নারী? দিকে দিকে ফুলরেণু স্বর্ণময়ী তরী ভেসে যায় অনায়াস, সারিবদ্ধ মানুষের অপরূপ ধনে কিভাবে এ-অধিকার, যেন তারা কোনোদিন আগুনের আঁচে করেনি শরীর স্নিগ্ধ, যেন খুব শীতলতা ও জলসিঞ্চনে বাগানে গোলাপচারা যা যেন হবে না দগ্ধ, পুরোনো গ্যারেজে মোটরবোটের…
