August 2021

  • হারিয়ে ফেলেছি পরশপাথর

    হারিয়ে ফেলেছি পরশপাথর

    ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথের ‘পরশপাথর’ কবিতা পড়ে ক্ষ্যাপা লোকটির জন্যে বড় কষ্ট হয়েছিল। শুধু মনে হয়, আহা যদি একটু খেয়াল করত! ফেলে যাওয়া রাস্তায় আবার পরিক্রম করতে হতো না। পৃথিবীতে এরকম অনেক ধরনের ক্ষ্যাপা আছে। কেউ শিল্পচর্চা করে, কেউ করে রাজনীতি … এমনি হাজার ধারা। এই বাংলায় তেমন ক্ষ্যপার অভাব নেই। রাজা রামমোহন থেকে শুরু করে ঈশ্বরচন্দ্র…

  • মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু মৈত্রেয়ী দেবীর সাক্ষ্য

    মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু মৈত্রেয়ী দেবীর সাক্ষ্য

    মৈত্রেয়ী দেবী (১৯১৪-৯০) এত রক্ত কেন? নামে একটি বই লিখেছিলেন, সে-বই কলকাতায় প্রকাশ পায় ১৯৮৫-এর আগস্টে। রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) রাজর্ষি (১২৯৩) আখ্যানে হাসি নামের একটি ক্ষুদ্র বালিকা মন্দিরে পশুবলির ‘রক্তস্রোতের রেখা’ লক্ষ করে সবিস্ময়ে রাজাকে প্রশ্ন করে, ‘এত রক্ত কেন!’ এই প্রশ্ন রাজার মনেও জাগে অভিন্ন কাহিনির ভিন্ন প্রেক্ষাপটে – রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন (১২৯৭) কাব্যনাটকে। এখানে মন্দিরে…

  • বঙ্গবন্ধুর ভাষা ও সাহিত্যচিন্তা

    বঙ্গবন্ধুর ভাষা ও সাহিত্যচিন্তা

    বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (১৯২০-১৯৭৫) বিশ্বব্যাপী একজন মুক্তিসংগ্রামী এবং মহান রাজনীতিবিদ হিসেবেই সমধিক পরিচিত। প্রকৃত প্রস্তাবেই তিনি রাজনীতির মানুষ – রাজনীতিই ছিল তাঁর জীবনের ধ্যান-জ্ঞান। তিনিই বাঙালির শ্রেষ্ঠতম জাতীয়তাবাদী নেতা। বাঙালির সম্মিলিত চেতনায় জাতীয়তাবোধ সঞ্চারে তিনি পালন করেছেন ঐতিহাসিক ভূমিকা। গণতান্ত্রিক মূল্যচেতনা এবং অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা – এই দ্বৈত…

  • বঙ্গবন্ধু বিষয়ক এক অনন্য সংকলন

    বঙ্গবন্ধু বিষয়ক এক অনন্য সংকলন

    সাহিত্য মাসিক কালি ও কলমের বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ সংখ্যা বিপুলভাবে পাঠক-আদৃত হয়েছিল।  এবার  আবুল  হাসনাতের  সম্পাদনায়  বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ স্মারক শিরোনামে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে তা গ্রন্থরূপ পেল (মার্চ, ২০২১)। কালি ও কলমের সম্পাদক প্রয়াত আবুল হাসনাতের এটি শেষ সম্পাদনাকর্ম। মিতায়তন ভূমিকায় তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম প্রসঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন এবং এই সংকলনের অন্তর্বস্তু ও তাৎপর্য…

  • কণা আর স্ফুলিঙ্গ রবীন্দ্রনাথ, আইনস্টাইন এবং বিজ্ঞানের কবিতা

    কণা আর স্ফুলিঙ্গ রবীন্দ্রনাথ, আইনস্টাইন এবং বিজ্ঞানের কবিতা

    অনুবাদ : কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় সাহিত্যের চেয়ে বিজ্ঞানের বই আমি বেশি পড়ি। যদি এই উৎসাহ আমার লেখায় প্রকাশ পায়, তার আনন্দ তুমি খুঁজে পাবে।১                  – হেমন্তবালা দেবীকে লেখা রবীন্দ্রনাথের চিঠি, ৬ বৈশাখ, ১৩৪৪ (১৯ এপ্রিল ১৯৩৭) ১৯৯৪ সালে সালজ্বার্গ উৎসবে প্রদত্ত বক্তৃতায় বরেণ্য সমালোচক জর্জ স্টেইনার সেই পৌরাণিক কাহিনিগুলোর কথা বলেন যেগুলো অতীতে মহৎ শিল্প ও…

  • আনিসুজ্জামান-জীবনকথা

    আনিসুজ্জামান-জীবনকথা

    (তৃতীয় কিস্তি) চৌদ্দ চট্টগ্রামে আসার পর প্রথমদিকে গবেষণার কাজে নিজেকে বিশেষভাবে নিয়োজিত রাখার সুযোগ আনিসুজ্জামান তেমন একটা পাননি। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার জন্যে প্রবন্ধ লিখতে গিয়ে যথেষ্ট শ্রম ও সময় দিয়েছিলেন। যথাসময়ে সেটি শেষ করতে পারেননি। তাঁর নিজের কথায় (এই সময়ে) ‘অন্যের বইয়ের ভূমিকা লিখেছি, স্মারকগ্রন্থের জন্যে প্রবন্ধ লিখেছি, খানিক গবেষণামূলক-খানিক সাধারণ-পাঠযোগ্য শ্রদ্ধাঞ্জলি লিখেছি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মৃত্যুতে।…

  • বিষ্ণু দে-র কবিতা ও একটি আত্ম-অন্বেষণ

    বিষ্ণু দে-র কবিতা ও একটি আত্ম-অন্বেষণ

    রবীন্দ্রনাথের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বিশ শতকে যেসব বাঙালি কবি একটা নতুন দিগন্তের অন্বেষণে নিমগ্ন হয়েছিলেন, ঠিক সেই সময়ে বাংলা কাব‍্যভুবনে প্রবেশ ঘটে কবি বিষ্ণু দে-র। তাঁর আত্মগত স্পর্ধিত উচ্চারণে রবীন্দ্রোত্তর বাংলা কবিতার মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেল এক নতুন ডাইমেনশন। রাবীন্দ্রিক ঐতিহ্য, পাশ্চাত্য মনন এবং স্বীয় প্রতিভার রসায়নে গড়ে উঠল এক নতুন কাব্যশরীর। ১৯০৯…

  • কবি লিখলেন মেঘ

    কবি লিখলেন মেঘ

    যেন অর্ধশান্ত নদীর ঢেউ। কবির মনে পড়ছে কয়েক মাস আগে দেখা যুবকটির কথা। উজ্জয়িনীর পাশঘেঁষে বয়ে চলা শিপ্রা নদীসৈকতের এই এলাকাটি কবির খুব প্রিয়। প্রকৃতির প্রতিটি অঙ্গ এখানে প্রাণপ্রাচুর্যে পূর্ণ। আর কবি যখন আসেন, রাত্রির শেষ ছায়া আর দিনের প্রথম আলোর সন্ধিক্ষণ। কৃত্রিম কোলাহল নেই, সবুজের নৈঃশব্দ্য, পাখির গান, শিপ্রার ওপারে নেমে থাকা আকশ; যে-কারো…

  • তিন নম্বর ফুসফুস

    তিন নম্বর ফুসফুস

    মোবাইল ফোন বেজে উঠল। অচেনা নম্বর। এইসব ফোন ধরবার কোনো মানে হয় না। ধরলেই যে কথাবার্তা হবে তা এইরকম … – আপনি কি শ্রী সুনীল তলাপাত্র? – হ্যাঁ। – আমি সোনালী মজুমদার, নিউ কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে বলছি … আপনার সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলতে চাই, বলা যাবে? – হুঁ, বলুন … একটু তাড়াতাড়ি … –…

  • অকিঞ্চিতের ঈশ্বর

    অকিঞ্চিতের ঈশ্বর

    এ -গল্পে অপুই মারা গেল বর্ষার টইটম্বুর পুকুরে নাইতে গিয়ে। ওর নাম আসলে অপু ছিল না, ছিল শ্রীমান অতুল কুমার দত্ত। অতটুকু নাম অতুল, তাকে আরো ছোট করে অতু বলে ডাকতো সবাই। ওর বড় বোনের নাম দুর্গা বলে আমি অতু না ডেকে অপু ডাকতাম। ছ-সাত বছরের অপু আমার অনেক কাজে লাগতো। ‘অপু, বাবলা গাছের কাঁটাআলা…

  • ফিকে জোছনা কিংবা রংজ্বলা চাঁদ

    ফিকে জোছনা কিংবা রংজ্বলা চাঁদ

    বিয়েটা ভেঙে গেল তিন মাসের মাথায়। তিন মাস পুরোও হলো না মনে হয়। তবে এটি খুব বড় কোনো সংবাদ নয়। তেমন কেউ মনেও রাখেনি বিষয়টি। যারা আগ বাড়িয়ে এসব বিষয় ঘাঁটাঘাঁটি করে তারাও ক্রমশ থেমে গেল। আর কাঁহাতক! এমন তো হতেই পারে। হয়েই থাকে। পাচুলির নিজেরই ভরসা ছিল না। কেননা, এমন ঘটনা সে বহু দেখেছে।…

  • রজকিনি

    মনটা যেদিন অধীর থাকে সেদিন আমি বসে থাকি রাজবাড়ির হাটবাজারে।            হাটুরেরা চেনাজানা।            হাজার কথার মধ্যিখানে            হঠাৎ শুনি বায়স ডাকে। মনটি তখন ভাবতে থাকে অতীতকথা, তখন আমি ধুলোর ভিতর লিখতে থাকি মণিদীপা এখন কোথায়! এমনি করে কাটে আমার সারাবছর হাটবাজারে,            মেঘের ছায়া হিংসা ভুলে            দেখতো যদি আমার বাড়ি যে বাড়িটা বানিয়েছিলাম…