December 2004
-
ফেরৎ চাই না
একদিন ফিরিয়ে দেবে, বলে বেশ কিছু ভালোবাসা ধার নিয়েছিলে, ভালোবাসার তো সুদ-আসল নেই! তা হলে অপেক্ষা করছো কেন? ভাবছো খুব তাড়াতাড়ি মরে যাবো আমি! এখন আমি জানলায় তাকাই না, বাইরে বসন্ত এসে বসে থাকুক, নীলাকাশ নিয়ে কূজনবাজনা বাজাক না পাখি! ওই কাকলিভাষা বুঝতাম এককালে এখন বুঝি না, আসলে কোনো ঐহিকে এখন আমি কানই দিই না!…
-
বালক, তুমি একদিন ॥ তৃতীয় পাঠ
বালক, তুমি একদিন আমাদের কবি হবে, উড়ে যাবে কালের ফুৎকারে – আমি সেই শিরোনাম ছেপে দিচ্ছি আজকের মেঘাবৃত সংবাদপত্রে। দূরপ্রান্ত বালক, তোমাকে স্বাগত এবং শোকের ভেতরে টানটান আমি তোমার ওষ্ঠ্যের ভেতরে উপস্থিত, তোমার অভিষেকে আমি উপস্থিত। এই ঝকঝকে দুরবিন, ওই প্রজ্বলিত নীলাঞ্চল, এই চোখ, ওই নক্ষত্র, এই বিকাশমান দিন, ওই অস্তমান বিস্তার, এ সকলই একদা…
-
বিশেষ কেউ নও
ব্লন্ড চুলে সূর্য সমার্থক হয়ে রয়েছে, টিপয় যেমন থাকে টেবিল ঘেঁষে, সহজ এই কথাটা ব্যক্ত করতে চাইলাম তোমাকে : গ্রীক দেবতা জিউস যেরকম নারীর কাছে যেতেন অসঙ্কোচে তেমনি তোমার গম্বুজ খোঁপায় সূর্য এসে পুনর্বাসন খোঁজে। আসল কথা, স্বাতন্ত্র্যে কেউ নেই, তুমি আমায় এগিয়ে দিয়ে যেই বাড়ি ফিরবে আমার বাক্রীতি তোমার ঘুমে তখন জাগৃতি। লক্ষ কোরো,…
-
অবচেতনের আধো আলো থেকে
আমি কি প্রত্যহ ভীত সন্ত্রস্ত মানুষ হয়ে কাটাবো সময়? আমাকে মোড়ল আর তার সাঙাত এবং তল্পি-বাহকেরা দেখাবে রক্তিম চোখ যখন তখন আর আমি মাথা হেঁট ক’রে দূরে চলে যাবো আর গৃহকোণে লুকাবো নিজেকে? তাহ’লে আমি কি এভাবেই কাটাবো এখানে দিনরাত? বালিশে লুকিয়ে মুখ নিজেকে ধিক্কার দিয়ে ক্ষণে ক্ষণে ছিঁড়বো মাথার চুল? অমাবস্যা-রাতে হবো আত্মঘাতী?…
-
জরি গ্রাহাম ও আমেরিকার নতুন কবিতা
জরি গ্রাহাম আমার সমবয়সী। তাঁরও জন্ম ১৯৫০ সালে। নিউইয়র্ক সিটিতে জন্মালেও বড় হয়েছেন ইতালিতে। পরে চলে আসেন আমেরিকায়; নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন; আয়ওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পান এম এফ এ ডিগ্রি। আয়ওয়ার বিখ্যাত Writers’ Workshop -এর শিক্ষক হিসেবে বিপুল খ্যাতির অধিকারী হন। সেখান থেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্তি পান Boylston Professor of Rhetoric and Oratory পদে। গত…
-
ত্রিদিব দস্তিদার সত্তরের সৎ সন্তান
‘বিমল দাঁড়িয়ে আছে, অমল বাড়িয়ে আছে মুখ’ -প্রণবকুমার মুখোপাধ্যায় ÒDo not go gentle into that good night. Rage, rage against the dying of the light. – Dylan Thomasতাঁর কবিতা সত্তর-দশকের প্রতিনিধিস্থানীয়, ত্রিদিব দস্তিদারের শেষতম কাব্যগ্রন্থের আলোচনা প্রসঙ্গে লিখেছিলাম আমি। তিনি সর্বাংশে একমত হতে পারেননি, তাঁর স্বভাবসুলভ মৃদুকণ্ঠে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তবু অদ্যাবধি আমার ওই বিচার অনেকাংশে…
-
একদিন পথ ফুরোয়
তাঁর সামনে একটি সমুদ্র এগিয়ে দিলে তিনি সবটুকু জল পান করার শক্তি রাখতেন। এমনই ছিল তাঁর জীবনতৃষ্ণা। তিনি সেলিনা বাহার জামান। দুহাতে বেড় দিয়ে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন নিজেদের অর্জনের যা কিছু সঞ্চয়। কিন্তু তাঁকে চলে যেতে হলো অকালে। দৈনিক সংবাদ পত্রিকার সাহিত্য-সাময়িকীতে তিনি যে-আত্মজীবনী লিখতেন তার নাম ছিল ‘পথে চলে যেতে যেতে’। হ্যাঁ, একদিন পথ…
-
যে কেউ না, তার সঙ্গে
বিয়েটা জেসমিন মেনে নিল। তার বাবা বলল – ছেলের আগে একটা বিবাহ হইছে তো কী হইছে! এইটা কুনো ব্যাপার না। আমার মেয়ের দিকটাও দেখন দরকার। জেসমিন ভেবে দেখল – হ্যাঁ, তার দিকটাও দেখা দরকার বইকি। তার চেহারা বিশেষ ভালো নয়। তার গায়ের রং যদিও ফর্সা, নাক বোঁচা আর ঠোঁট একটু ছড়ানো, চোখদুটোয় কিছু মায়া আছে,…
-
শত্রু-সম্পত্তি
শাকের তখন ছোট ছিল, প্রাথমিক স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বাবার চেয়ে দাদার সঙ্গেই বেশি বের হয়, দাদা বেশি ভালোবাসে। দাদি অন্যরকম প্রিয়, দাদি শোনায় গল্প। গ্রামের নদী, বটগাছ, টিলা বা পাহাড়, ঝোপঝাড় আর মসজিদ – শাকেরের জীবনের বিশেষ বিশেষ প্রিয়। মসজিদ প্রিয়, কারণ শুক্রবারে সেখানে কোরান শিখতে যায়। নদী প্রিয় অনেক কারণে, সেখানে সাঁতার কাটে,…
-
‘জ্ঞান হওয়ার পর থেকে কখনো লিখতে ইচ্ছে হয়নি, এমনটা মনে করতে পারি না’ – হাসান আজিজুল হক
সাক্ষাৎকার গ্রহণ : হামিদ কায়সার তিনি রাঢ়ের সন্ত। সেই যে কবে একদিন কোনো এক কর্কশ রৌদ্রদিনে এসেছিলেন রাঢ়ের বুকে – পাশে বসেছিলেন রোদপোড়া ক্ষুধায় শীর্ণ হওয়া মানুষগুলোর, তারপর সারা দুপুর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন রাঢ় কিশোরের হাত ধরে, তারপর কত রাত কত অন্ধকারের সাক্ষী হয়ে রইলেন – পার হয়ে গেল কত শীত-গ্রীষ্ম, কত বর্ষা-বসন্ত, সেখান থেকে…
-
দেরিদার দার্শনিক বিতর্কের জগৎ
বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের প্রবল প্রভাবশালী দার্শনিক, সমালোচক ও তাত্ত্বিক জাক দেরিদার খ্যাতি মূলত তাঁর বিনির্মাণবাদ তত্ত্বের জন্য। গত কয়েক দশক ধরে বিনির্মাণবাদ ও দেরিদা শব্দদুটো সমার্থক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু মিশেল ফুকোর মতো তাঁর কপালেও প্রশংসার পাশাপাশি জুটেছিল ব্যাপক নিন্দা। বলা হয়ে থাকে, তাঁর প্রবন্ধে বাগ্বাহুল্য ও দ্ব্যর্থকতা প্রবল। তিনি প্রশ্নজিজ্ঞাসায় যতটা আগ্রহী উত্তরপ্রদানে ততটাই নিস্পৃহ।…
-
মুল্ক রাজ আনন্দ
দলিতজনের লেখক সুরেশ রঞ্জন বসাক মুল্ক রাজ আনন্দ প্রয়াত হলেন গত ২৮ সেপ্টেম্বর, নিরানব্বই বছর বয়সে। প্রায় শতাব্দী-বয়সী এ-মানুষটি একাধিক কারণে বিখ্যাত। তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাহিত্য ও শিল্প-সমালোচক। তিনি গান্ধিভক্ত, মার্কসভক্ত। ভারতের স্বাধীনতা-আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন। এসব কৃতিত্ব অনেকের আছে। তিনি ছাড়াও বহু ভারতীয় বিখ্যাত লেখক আছেন, সাহিত্য-শিল্প-সমালোচক আছেন, আছেন সত্যাগ্রহী ও বাম-দার্শনিক, কিন্তু কেউ মুল্ক…
