November 2004
-
বস্তুর পরিচয়
‘ম্যাটার রিয়ালিজম’ শিরোনামে ফরিদা ইয়াসমিনের একক চিত্র-প্রদর্শনী হয়ে গেল জয়নুল গ্যালারিতে। ফরিদা ইয়াসমিন বিমূর্তবাদী চিত্রশিল্পী। বিমূর্তবাদের সঙ্গে বস্তুর ত্রিমাত্রিকতার সম্পর্কই ছিল এই প্রদর্শনীর মূল ভাব। বস্তু ও নির্বস্তুতার উপকরণগত বাস্তবতার বিষয়টি শিল্পী ফরিদা চিহ্নিত করেছেন এ-প্রদর্শনীতে। বাংলাদেশে বিমূর্তবাদের দীর্ঘ ও দৃঢ় ইতিহাস বিদ্যমান। তরুণ শিল্পী যাঁরা বিমূর্তবাদের পক্ষে ছবি আঁকছেন তাঁদের বিশিষ্টতা হবে যদি তাঁরা…
-
১১ শিল্পীর চোখে রূপলাবণ্যে বাংলাদেশ
নদীমাতৃক বাংলার শ্যামল নিসর্গ, রাঢ়বঙ্গের ঊষর জমিন, বঙ্গোপসাগরের কোল ছুঁয়ে যাওয়া অপরূপ সৌন্দর্য আর পাহাড়বেষ্টিত অফুরান সবুজের দেশ বাংলাদেশ। মাত্র সাড়ে পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের এই ছোট ভূখণ্ডে যেন সুন্দরের সব আয়োজনই উপস্থিত। এই বৈচিত্র্যময় নিসর্গের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবন আর জীবনের জয়গান, আনন্দ-বেদনার উপাখ্যান, আশাপূরণ আর আশাভঙ্গের পদাবলি। স্বদেশ-নিসর্গের অপার সৌন্দর্য নিয়ে যেমন অসংখ্য কবিতা…
-
আটশিল্পীর চিত্রকর্মশালা এবং তাঁদের বহুমুখী শিল্পরচনা
ঢাকার অভিজাত চিত্রশালা শিল্পাঙ্গনে আটজন শিল্পীর চিত্রশালা নিয়ে একটি আকর্ষণীয় চিত্রপ্রদর্শনী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে তাঁরা শিল্পাঙ্গনে একটি আর্টক্যাম্প বা চিত্রকর্মশালা স্থাপন করেন যেখানে কয়েকদিন যাবৎ নিজেরাই নিজেদের চিত্রাঙ্কন-সামগ্রী যেমন ইজেল, রং, তুলি সরবরাহ করে সেই জায়গায় আড্ডা দিতে দিতে গান শুনতে শুনতে চা-নাস্তা খেতে খেতে খুব আটপৌরে এবং সত্তার স্বাধীন পরিবেশে নির্দিষ্ট ছবি যাঁর…
-
দূরত্ব : সঙ্গ-নৈঃসঙ্গ্যের সেলুলয়েড ফলো
‘চলচ্চিত্র’ একচেটিয়া পুঁজিবাদের এবং ‘টেলিভিশন’ বহুজাতিক পুঁজিবাদের দৃশ্যশ্রাব্য উপস্থাপনার সাংস্কৃতিক রূপ। একচেটিয়া পুঁজিবাদের বিকাশ ঘটে ১৮৯০-এর দশকে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির প্রচলনের ফলে এবং বহুজাতিক সংস্থার পুঁজিবাদের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪০ সালে পরমাণুশক্তির উদ্ভবের মধ্য দিয়ে। বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির প্রচলনের ফলেই ১৮৯৫-এর পরপরই চলচ্চিত্রশিল্প সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে পেরেছে। প্রযুক্তিনির্ভর চলচ্চিত্র প্রথম দিকে একচেটিয়া পুঁজিবাদের…
-
হচ্ছে-হবে
ক্যাটওয়াক সেদিন এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলাম। আজকাল বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে, বিশেষ করে পুরনো বন্ধুদের বাড়িতে, খুব কমই যাতায়াত হয়। এ-বাড়িতেও গেলাম প্রায় চার-পাঁচ বছর পরে। বন্ধুর মা মারা গেছেন। সুবচনী স্নেহশীলা মহিলা। আমাকে খুব ভালোবাসতেন। অল্পবয়সে কতবার বেলা-অবেল ায় বন্ধুর বাড়ি গেছি, তিনি জোর করে ধরে খাইয়ে দিয়েছেন। আমি তখন খেতাম হোটেলে। তাই বন্ধুজননীর একটা অন্যরকম…
-
মহাজাগতিক সংঘর্ষ
কোনো জিনিস আকারে খুব বড় হলে সেটি সাধারণত আমাদের ভেতরে এক ধরনের মুগ্ধ বিস্ময়ের জন্ম দেয়। মাঝে মাঝে অবশ্য আমরা তার ব্যতিক্রম খুঁজে পাই, এমন কোনো জিনিস আমাদের চোখে পড়ে যার আকারটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিশাল এবং তার বিশালত্ব নিজের কাছে ক্ষতিকর, অনেক সময় দৃষ্টিকটু এবং এরকম জিনিসকে আমরা ডাইনোসর বলে উপহাস করি। তার কারণ পৃথিবীতে একসময়…
-
স্তনবতী
ছায়ারা মেঘেদের কতটুকু চেনে গাছেরা জানে মাটির সরসতা বুকের গহন জানে কীভাবে কষ্ট মিশে যায় স্তরে স্তরে… আমি মাথা রেখে শুয়ে মায়াবতীর কোলে মাটির আঁচলে নিবিড় আগাছার মতো তাকে বুঝে নিতে হয় ধীরে ধীরে সবুজ মায়ার মতো রাতে। দীঘল চুলের মতো প্রণয়ে। হৃদয়ের রঙের মতো বিভূতি মিশিয়ে অতঃপর প্রেম অতঃপর কাম নিঃশব্দ জীবন খেলার নিস্তরঙ্গ…
-
হাড় ও আকাশ
অইখানে হাড় পোঁতা আছে। পাড়াস না, মাড়াস না! – ‘কার হাড় পোঁতা আছে আব্বাজান? শেয়ালের না কি শকুনের?’ অতো কথা কস্ ক্যান! যা কইচি দিলে গ্যাঁথা রাখ। বেশি বুঝ ভালা না, ভালা না। জামানা বেজায় খারাপ, মুস্কিল-মুসিবত কোন দিক থন আহে কহন কি যায়? জলদি জলদি পা ফালায়্যা বাড়িত চ’ দিকি বাপ! কার হাড় পোঁতা…
-
এপার ওপার
কেমন আছিস শবনম তুই কেমন আছিস একা শেষ চিঠিতে লিখেছিলিস বিয়েটা তোর পাকা। সেই থেকে যে কতো চিঠি লিখেছি রোজ তোকে মন-বাকসোয় ফেলেছি সব লিখেছি এক ঝোঁকে। থাক্ সে কথা – এখন বল্ কেমন আছিস একা স্থাপত্যপাট ছেড়ে এসে লাগছে কি খুব ফাঁকা? আসলে দ্যাখ জীবনটাই তো কাঁটায় কাঁটায় ঘেরা তোকে কি আর আগলে রাখে…
-
বৃষ্টি
মেয়েটির জন্মের সময় বৃষ্টি অন্নপ্রাশনের দিনে বৃষ্টি ঋতুবতী হবার দিনেও বৃষ্টি বিয়ের শুভরাত্রির দিনে বৃষ্টি। বৃষ্টি নামের একটি ফুটফুটে মেয়ে শিশু জন্ম দিতে গিয়ে বৃষ্টি রাশির মেয়েটি শ্রাবণের এই বৃষ্টি দিনে হাসতে হাসতে চলে গেল শ্মশানে, অন্তিমে। বর্ষণের অমিয় ধারায় কি অপরূপ সাজে মেয়েটির জীবনের ধারাপাতবৃষ্টিময় শব্দে-বর্ণে বিধাতা সাজিয়েছেন!
-
ডাক এসে ফিরে চলে শুধু
পুত্র তন্ময় সমদ্দার (টিটো)-কে প্রাণোচ্ছল যুবা স্বপ্ন দেখে যাবে কিনা অন্যদেশে পিছুটান নেই বটে উদ্যমের শেষ নেই জানি অকস্মাৎ জনেকের বাসে বেধে কী যে করে কীট খুব তাড়াহুড়ো করে দণ্ড দুই অপেক্ষার দায় নিতে অপারগ হয়ে বড় বেশি বোঝা চেপে যায় মেলবোর্নে নিখিলের ডাক এসে ফিরে চলে শুধু ধীরে ধীরে উপলব্ধি হতে থাকে আশা বাস্তবের…
-
নট
দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা ব্রেসিয়ার একঘেয়ে লাগে মেহেদিওলার চোখে হ্যাজাকের ঝিম-ধরা আলো দেখে আমি চিনে ফেলি তারা-ওঠা শহরের গলি মাঝে মাঝে মনে হয় – কে আমায় এখানে পাঠাল? তবু ঠিক বেঁচে থাকি। রাতের আকাশে ভাঙে চাঁদ চাকরির পায়ে দেখি গেঁথে আছে জং-ধরা তীর তাঁবুর ভিতরে ব’সে মাঝে মাঝে খুব শীত করেসবার জীবনে আজ বড় বেশি মুখোশের…
