September
-

হেঁসেল থেকে হৃদয় : বাঙালির স্বাদ আর সাধের মেলবন্ধন
প্রখ্যাত লেখক শিবরাম চক্রবর্তী তাঁর লেখায় নিজের জীবনের দুটি মাত্র লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন – ‘খাই আর শুই’। সাহস করে কিংবা লজ্জা ভেঙে মুখে না বললেও শিবরাম চক্রবর্তীর মতো ‘খাই আর শুই’ লক্ষ্য নিয়ে চলা বাঙালির সংখ্যা নেহায়েত কম হবে বলে বোধ করি না। আমরা খেতে বসে ‘ভাতঘুম’ দেওয়ার কল্পনায় উদ্বেলিত হই আবার ‘ভাতঘুম’ দিয়ে উঠে…
-

মালিবাগ মোড়ের গল্প
আপনি কে? আমার পিছনে পিছনে হাঁটছেন কেন? বিরক্তির সঙ্গে প্রশ্ন করে কেশবতী। আমি লক্ষ করেছি কয়েকদিন ধরে আপনি আমার পিছু নিচ্ছেন। কেন? চেনেন আমাকে? হঠাৎ একসঙ্গে এতো প্রশ্নের মুখোমুখি হবে, বুঝতে পারেনি সৈকত হালিম। বিব্রত মুখে একবার কেশবতীর চোখের দিকে আর একবার মাটির দিকে দৃষ্টি রাখে। গলি পার হয়ে চৌরাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে ওরা। আকাশে…
-

হাতেখড়ি
সবকিছুর একটা শুরু আছে। যেমন তার সঙ্গে শেষও। একমাত্র সময় কোথায় গিয়ে সমাপ্ত হবে কেউ বলতে পারে না। আমরা যেমন মহাশূন্যে হাঁটছি, তেমনি হাঁটছি সময়ের হাত ধরে। হাঁটি হাঁটি পা পা … শুরু হয় মা-বাবার হাত পাকড়াও করে। দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। এটা একটা খেলার মতো। তবে হারজিত নেই। তেমনি লেখাপড়ার শুরুতে অক্ষর চেনা ও…
-

রায়পুরা থেকে ময়মনসিংহ
প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে জীবন বীমা করপোরেশনের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কাজ করার এবং পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। প্রায় সবার কাছ থেকেই আমি সহযোগিতা পেয়েছি। সব মানুষ একরকম হয় না। সবার মনের উদারতাও একরকম হয় না। একজন নারী হয়েও কর্মক্ষেত্রে আমাকে কোনো ধরনের হয়রানি বা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি – এটা সিনিয়র-জুনিয়র সব সহকর্মীর মন-মানসিকতার…
-

তরুণ মজুমদার : অগ্নিজয়ী পুরুষ
প্রারম্ভবচন গত ৪ঠা জুলাই ২০২২ সোমবার বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং খ্যাতিমান পরিচালক তরুণ মজুমদার প্রয়াত হলেন। ৯২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুকে আমরা নিশ্চয়ই অকাল প্রয়াণ বলবো না। পরিপূর্ণ বয়সই বলবো বরং। বিস্ময়কর ব্যাপার, ২০১৮-তে যখন তাঁর বয়স ৮০, তখনো ছবি করেছেন তিনি। ফ্রান্সে যেমন জাঁ লুক গদার। ওই ২০১৮-তেই, গদার ছবি করেছেন ঞযব ওসধমব…
-
গীতগোবিন্দ
বাংলা কাব্য-রূপান্তর : অসীম সাহা পঞ্চম পর্ব নবম সর্গ গীত রাগ : রামকিরী ॥ তাল : যতি অভিসারে হরি গেছে তোমার ঐ ঘরে। এরচেয়ে কিসে সুখ, বলো সখি ওরে ॥ মাধবে করো না মান, হে অভিমানিনী! তাল-ফল হতে এ যে অতি গুরুভার। স্তন দুটি খুব বেশি সরস তোমার ॥ যতো কথা বলি, তাও মানো তুমি…
-
আমার মাতৃচুম্বনের আদি স্বর
মেঘেদের আড়ালে হাসছিলাম হাহা। ঠা-ঠা ডিগবাজি খাচ্ছিলাম সপ্ত-ঋষির পবনে-পর্বতে। মুহূর্তের তিমিরাক্ষী আলোকপোশাক রূপবদলরত অনবরত। ভীতসন্ত্রস্ত আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম স্বর্গমর্ত্য অমাদিগন্ত। আমার আগে-পেছনে আমাকে খুঁজে খুঁজে পাহারা দিচ্ছিল হাজার হাজার কোটি কোটি আমার আমি। যেহেতু আমার আগে-পেছনে আমার পেছনে-আগে ছুটছিলেন বড়শি হাতে আমার মানবজনক। জনক তো নয়, খলুই হাতে এক মৎস্যশিকারি। শিকারি তো নয়, সুদর্শন চক্র…
-
আশ্চর্যবিকেল
কয়েকটি মুহূর্তমাত্র, যেন একপলক দৃষ্টির লেনদেন, তারপর থেমে গেছে সব কথা বুকের ভেতরে জমা যত আলোড়ন, কিছুই নেয়নি সাথে শুধু নিয়ে গেল এক দারুণ বিস্ময়! রংধনু উঠেছিল বৃষ্টিভেজা আকাশে রৌদ্রের আলো মøান। এই দৃশ্য সত্য শুধু দুজনের কাছে; কোথাও সাক্ষ্য নেই কেউ পেছনে জানালা খোলা সেই জানালায় আকাশের রংধনু আজও তো তেমনই দৃশ্যমান! একটি শালিক…
-
স্বপ্নের ভেনিস
জলে জলে জলময়, সূর্যালোকে শুয়ে থাকে ভেনিস নগরী জলকন্যা অপ্সরী কি? উঠেছিল কোনোদিন সাগর মন্থনে এমন সুন্দরী নারী? দিকে দিকে ফুলরেণু স্বর্ণময়ী তরী ভেসে যায় অনায়াস, সারিবদ্ধ মানুষের অপরূপ ধনে কিভাবে এ-অধিকার, যেন তারা কোনোদিন আগুনের আঁচে করেনি শরীর স্নিগ্ধ, যেন খুব শীতলতা ও জলসিঞ্চনে বাগানে গোলাপচারা যা যেন হবে না দগ্ধ, পুরোনো গ্যারেজে মোটরবোটের…
-
বেহুলা বাংলা – সনেট ১
বাল্যে গড়ে মাটির পুতুল খেলেছি তোমার শরীর নিয়ে দুরন্ত কৈশোরে মুছেছি ঘাম ওই শুভ্র আঁচল দিয়ে যৌবনে কাঁধে রাইফেল ঘুরেছি নদীর পারে পথে-প্রান্তরে ছুড়েছি গ্রেনেড তোমার জন্যে বিজাতীয় শত্রুর বাঙ্কারে প্রৌঢ়ে স্বজন নিয়ে গড়েছি পুতুলের একান্ত সংসার বার্ধক্যে তুমি হয়েছ বেহুলা আরো আপন আমার তোমাকে ছাড়া আর তো কোনো নিশিস্বপ্ন দেখিনি তোমাতেই পেয়েছি খুঁজে আমার…
-
নদী যখন নদীকে চুমো খায়
একটা নদী আর একটা নদীর কাছে জল চাইতেই পারে, নদীর সাথে নদীর মৈত্রী আছে বলেই সে খরস্রোতা বহমান উত্তাল-ঊর্মিমুখর ও হিন্দোলিত। একটি নদীর উৎসধারা কোনখানে থাকে নদী তা ভালো করেই জানে! নদীতে নদীতে স্বাভাবিক সখ্য! নদীর হিংসে নেই-আকচাআকচি করে না ঈর্ষাপরায়ণ তো নয়! হিংসালু হবে কীভাবে? জলের ভেতরÑহিংসার আগুন জ¦লতে…
-
ওহে মঙ্গলময়
ওহে মঙ্গলময় – মঙ্গল করো অমঙ্গল নাশি, বিশ্ব জগৎময়। আছে যত দুঃখ জরা, ক্লেশ কলুষিত আশ। করুণাসাগরে ভাসায়ে সবারে, পাপ-তাপ করো নাশ। আঁধার মোচন করো গো প্রভু, দেখাও আলোর দিশা। সৎপথে চলার সৎকথা বলার, জাগাও মনে তৃষা। নাহি হিংসা ক্রোধ শুধু মমত্ববোধ, বিরাজে সবার মনে। হানাহানি আর বিদ্বেষ প্রভু, দূর করো জনে জনে। জীবে প্রেম…
