September

  • ফেলে আসা দিন

    সুজিত বসু গলির মোড়ে প্রথম দেখি তাকে নরম ভোরে পথে পটের ছবি সর্বনাশই হাতছানিতে ডাকে দু-চোখ হলো প্রতীক্ষাতে লোভী গলির মোড়ে বাগানওলা বাড়ি গোলাপ গাঁদা মল্লিকা মালতী ফুলকে দিত মৃদু জলের ঝারি আর আমাকে লাগামছাড়া ক্ষতি বুকে তখন কচি ঘাসের ঝোপ গলার স্বরও ভাঙতে থাকে রোজ তার দু-গালে লজ্জাগাঢ় ছোপ না চাইতেই নয়নসুখী ভোজ অতীতে…

  • পিতলের ঘুঘু

    পিতলের ঘুঘু আমি, খুঁটে খাচ্ছি নিকেলের কণা ডানায় কালের চিহ্ন – শিল্পীর নিখুঁত কারুকাজ; তুলির রহস্য-মায়া, সাধনার অধরা কম্পন আমার গম্ভীর ডাকে প্রযুুক্তির বন ভারি আজ  দ্বিপ্রহর বাজায় নূপুর নাকি অদৃশ্য মর্মর অরণ্যের বুক জুড়ে নিরন্তর বহে ছেলেবেলা পড়ন্ত বিকেল ছাড়ে দীর্ঘশ্বাস, হাওয়ার ঘর্ঘর  কণ্ঠে ঝুলে আছে তীব্র তৃষ্ণা, ঘু-ঘু ডাকছি কেবল

  • গল্পবৃত্ত

    সময় তোমাকে-আমাকে টোনাটুনির গল্পের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছে আমি চাল আনি, তেল আনি, নুন আনি তুমি কোটনা কোট, বাটনা বাট আর অনন্তের চুল্লিতে জ্বেলে দাও অন্তরের আগুন সে-আগুনে রান্না হয় সুস্বাদু খাবার আমাদের চারচোখে বিভোর বিস্ময়

  • সংযোগটি বিচ্ছিন্ন আছে

    সুমী সিকানদার আত্মহননের সময়ে একমাত্র নেশা মৃত্যুকে সফল করা। যে আত্মাকে বিনাশ করছে বলে ভাবছে সে মূলত দেহকে বিচ্ছিন্ন করছে, পৃথিবীর সংযোগ থেকে পরিচিতদের সংযোগ থেকে সর্বোপরি নিজের সংযোগ থেকে। এখন সিলিংয়ের শান্ত পাখার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ সে মনে মনে মাপজোখ করে নিল দ্রুত সিøপিং পিল গিলে নিল নিশ্চিন্তে তারপর খুব কটকটে রঙের ওড়না নিজের…

  • প্রতিটি সহবাস

    প্রতিটি আশ্রয় আজ বাতিহীন গুমঘর হয়ে নিবিড় অন্ধকার ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি বিকেল এখন অসফল দিনের শেষ পথ খুঁজে না পাওয়ার যন্ত্রণা গুমরে কাঁদে। প্রতিটি রূপকথার মধ্যে ছদ্মবেশী সন্ত্রাস অসম্ভব রক্তচাপে থাকে সন্ধ্যার কলকাতা। প্রতিটি সহবাস এখন পাথুরে কোনারক শিথিল বাহুবন্ধে সরে যায় রাত্রির সোহাগ।

  • ঘুম

    পৃথিবীতে ঘুমের চেয়ে পবিত্র আর কিছু নেই সাদা ধবধবে জায়নামাজের মতো তীর্থ এক নাও বিছানা পেতে একবার ঘুমিয়ে গেলে – সহজেই মানুষ আর ফেরেশতার দূরত্ব ঘুচে যায়। ঘুম এক অমোঘ প্রার্থনা, নত হও জান্নাতুল ফেরদাউস – খোলা দরোজা গলে হাসে গোলাপ বাহার ফুল পাখি শারাবান তহুরা চঞ্চল শৈশব মাধবীলতা নিজেরই ছায়ায় বসে পাঠমশগুল আমছিপাড়া। হানাহানি…

  • সিনেমার মতো

    সিনেমার অর্ধজীবন্ত পোস্টার, এমন তো হওয়াই যেত! দৃশ্য থেকে দৃশ্যান্তর হতে থাকে ফুটপাতের বাস্তব – স্বাধীনতার পতাকা উড়ছে লজেন্সের ছেঁড়া কাগজের গল্প, মুহূর্তে মনে পড়ে ছবি দিদিমণির মুখ; পতাকা তুলে স্যালুট করতেন ঠিক সিনেমার মতো। প্রেরণা-অনুপ্রেরণার উৎসের মায়া। সিগনালের সবুজ আলোয় ছুটতে থাকে ছেঁড়া-খোঁড়া জীবন্ত পোস্টার। দিদিমণি সেঁটে আছে দেয়ালে সাদা-কালো রংহীন ফ্রেম, ক্রমশ জায়গা…

  • পৃষ্ঠার ধূলি এখন হীরক দানা

    এখন তুমি ছেঁড়া পৃষ্ঠার উজ্জ্বল অক্ষর উঠোনে রোদের ছায়া গ্যালারিতে সাঁটানো নীল কাপড় ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকা ভাঙা ভায়োলিন অন্ধকারে গাছের তলায় তুমি দেখেছিলে একখণ্ড হেম ভুল তর্জমায় গল্পের পৃষ্ঠায় ধূলি মেখে  স্বপ্নিল নৌকোয় উঠে খুঁজে নিলে আকাশ ও জলের                                                সীমানা অতঃপর হঠাৎ একদিন দেখি তুমি বসে আছ শূন্যতায় ঘেরা ভাঙা নৌকোর গলুইয়ে কোনো…

  • সোনালি ভোরের আশায়

    পালক গজানো পাখির ছানার মতো বারবার ডানা ঝাড়ে মন। নিষিদ্ধ আঁধারে কতদিন কেটে গেল, কত প্রার্থনায় কথা বলি – একটা ভোরের আলো দাও, গেয়ে উঠি পাখির মতো। যত যন্ত্রণায় হয়েছে ক্ষত পৃথিবীর দেহ, সব ভুলে যেতে চাই। সবুজ ছায়ায় পাখির নীড়ের কথা ভাবি, সকাল ও সন্ধ্যায়। একটা ধবল রাত যদি আসে সব পেঁচা গান গাবে,…

  • ঘুম, মৃত্যু কিংবা শূন্য

    শরীরের ওপরে নক্ষত্রের ছায়া পড়ে সর্বক্ষণ। দেখা যায় না কিন্তু সে থাকে, বালক বয়সের প্রথম প্রেমের মতো। সেই নক্ষত্রের ছায়া ঘাস মাঠ পেরিয়ে এসে পড়ে শরীরে। লোকসভা ভোটের চেয়েও বেঁটে আমাদের জীবনের সেই সমুদ্রগভীর ছায়ার কথাই বলতে চেয়েছিলাম তোকে নীলাঞ্জন। আমাদের মৃত্যু কি ঘুম এক? সত্তাহীন ঘুম? সেই ঘুমের ভেতরে কি কেউ স্বপ্ন দেখে? গুলঞ্চ…

  • শত খণ্ডের উপন্যাস

    আদিত্য রহমান তুমি আমি শত খণ্ডের উপন্যাস। যার পাতায় পাতায় লেখা থাকবে পৃথিবী সাজানোর সহস্র গল্প। যার একটি গল্প হবে; – স্বপ্নহীন মানুষের স্বপ্নদ্রষ্টা। – জগৎ প্রেমময় করার জন্য থাকবে একটি দুর্লভ কবিতা। যার প্রতি স্তবকে থাকবে প্রেমের মন্ত্র। যে-মন্ত্র প্রেমহীন মানুষের হৃদয়ে প্রেম জাগাবে। অর্ধমৃত আত্মাকে নবশক্তিতে বাঁচাবে যার অতীন্দ্রিয় শক্তিতে পৃথিবীর বুকে নামবে…

  • আমার আব্বি

    আমার আব্বি

    যাঁকে নিয়ে আজ লিখছি, তিনি আমার পিতা। ‘আব্বি’ সম্বোধন করি তাঁকে। প্রায় সব কন্যাসন্তানের মতোই আমারও জীবনের প্রথম প্রেম যাঁর সঙ্গে, তিনি আমার আব্বি, কথাসাহিত্যিক বশীর আল্হেলাল। তাঁর আদি, পিতৃপ্রদত্ত নাম নেয়ামাল বশীর। অগ্রজের নাম ছিল নেয়ামাল বাসির। আরবি-ফার্সি-উর্দুর পণ্ডিত তাঁদের পিতার জ্ঞান-বিবেচনায় ত্রিশের দশকে তাঁর এই দুই সন্তানের জন্মের পর ‘বশীর’ আর ‘বাসির’ শব্দ-দুটো…