2023
-

জয়তুনের অপেক্ষা
এই অঞ্চল থেকে সর্বশেষ পুরুষমানুষটাও বিদায় হইছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। এই সাড়ে তিন বছর সময়টা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে; দীর্ঘ হচ্ছে প্রতীক্ষা। জয়তুন বেগমের মাঝে মাঝে নাভিতে একটা মোচড় মারে, একটা কম্পন শুরু হয় বুকে, জগৎটাই আবার পুরুষশূন্য হইয়া গেল না তো! ১৩ বছর বয়সী নাতনি দাদিরে জিগায়, ‘পুরুষ মানুষ কী কামে লাগে?’ জয়তুন বেগমের…
-

রবীন্দ্রনাথের ‘অতিথি’ গল্পের মনস্তত্ত্ব ও ভাববাদী সাহিত্যশৈলী
গল্পের প্রাণই হচ্ছে মনস্তত্ত্ব, মনের কথা। মানুষের কথাবার্তা, পরিবার-সমাজে যাপিত জীবনের মধ্য দিয়ে তার প্রকাশ ঘটে। সমাজ ও সাংস্কৃতিক জীবনধারাও গল্পের চরিত্রদের মনোজগৎকে কেন্দ্র করে জীবন্ত হয়ে ওঠে, চারপাশের প্রকৃতিও লেখকের সৃজনক্ষমতার গুণে ‘আলাদা চরিত্র’ হিসেবে ফুটে উঠে বাস্তব চরিত্রদের মধ্যে ভাববাদী কল্পনাশক্তির তুমুল আলোড়ন তুলতে পারে। এই ভাব কিংবা কল্পনার প্রভাবে বাস্তব চরিত্রগুলি প্রভাবিত…
-

স্বর্ণবোয়াল : হারজিত অদ্বৈত নৈসর্গিক ঐক্যে বাঁধা
সেলিম আল দীনের স্বর্ণবোয়াল নাটকটি সম্প্রতি বাংলাদেশের দুটি বিশ^বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক ও নাট্যনির্দেশক নির্মাণ করেছেন। তাঁরা হলেন – জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুদীপ চক্রবর্তী। একই টেক্সটের দুটো প্রযোজনার উপস্থাপনরীতি কাছাকাছি হলেও তাদের ভেতর বৈচিত্র্য রয়েছে। নাট্যলক্ষ্যগত ভিন্নতাও রয়েছে। দুটিই এরিনা মঞ্চে বাংলানাট্যরীতির আলেখ্যে উপস্থাপিত। তারপরও দর্শন, আখ্যানবিন্যাস,…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ১৪ সারাদিন অবন্তির সঙ্গে যোগাযোগ হলো না বলে মন খারাপ লাগছিল ঋভুর। কথা তো হয়ইনি, এমনকি মেসেজেরও উত্তর দেয়নি অবন্তি। আজকে ও ব্যস্ত থাকবে, জানে ঋভু। তাই বলে এতটা? অংশুও সারাদিনে একবার খবর নিল না! অবশ্য ছুটির দিনে সেও নানা পারিবারিক বিষয়-আশয় নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ওদের জীবন আমার থেকে আলাদা, অন্যরকম – ভাবলো…
-
মুক্তিযুদ্ধ ও এক বীরাঙ্গনার আখ্যান
তালাশ উপন্যাসের শুরুতেই বোঝা যায় ঔপন্যাসিক শাহীন আখতার একজন বীরাঙ্গনাকে নিয়ে লিখতে বসেছেন, যাঁর নাম মরিয়ম; প্রকারান্তরে মেরী। শুরুর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদেই তিনি মরিয়মের অনুভূতি এভাবে প্রকাশ করেছেন, ‘শুধু যুদ্ধ নয়, যুদ্ধহীন শান্তির সময়ও নারীর জীবনকে যদি ভাবা হয় চার চাকার গাড়ি, তবে দেহ তার সারথি। নিয়মের বাঁধানো সড়ক থেকে দেহ একচুল সরে গেলে আস্ত গাড়িটাই…
-
ভাষাসমুদ্রে নির্ভার অবগাহন
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান জীবন-সায়াহ্নে একখানি অভিধান রচনা করে নাম দিয়ে গেছেন আমার অভিধান। পরিকল্পনা করেছিলেন একশ শব্দ দিয়ে এর কলেবর সাজানোর। পরে আশিতে নামেন, কিন্তু তাও বাস্তবায়ন করতে পারেননি, বাষট্টিতে থামতে হয়েছে তাঁকে। শেষতক তাই বাষট্টি শব্দ দিয়েই সম্পন্ন হয় নিজের সর্বশেষ পরিকল্পনার এই বই। ‘ছোট্ট এই বই, সম্ভবত বাংলা ভাষার ক্ষুদ্রতম অভিধান।’ বাংলা ভাষায়…
-

সম্পাদকীয়
জীবনের বহুমাত্রিক দিক উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ছোটগল্পে। বাংলা সাহিত্যের এই ধারায় বিস্তৃত পরিসর ও পটভূমি নিয়ে মানবজীবনের নানা অনুষঙ্গ প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পে মননধর্মিতার সঙ্গে সাধারণ লোকজীবন-উপলব্ধিকে প্রসারিত চেতনায় বিস্তৃত করেছিলেন। তাঁর হাতেই বাংলা ছোটগল্প সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথের চেতনাধারায় স্নাত হয়ে গল্পের ভুবন আরো সমৃদ্ধ ও বিচিত্র বৈভবে ঋদ্ধ হয়ে উঠেছিল।…
-

কফিকাপ
ঠিক মনে নেই, বেশ কয়েক বছর আগে এক বন্ধুর বাসায় কফি পানের সময় কাপটা চোখে পড়ে ফজলের। এটা অরিজিনাল কফিকাপ। বিশ^খ্যাত কোনো এক কোম্পানির কফি, তারা নিশ্চয় স্যুভেনির হিসেবে দিয়েছে। কাপটি চারকোনা। সাধারণত কাপ হয় গোল, এ-ধারার গড়ন ব্যতিক্রম। কফি কোম্পানি সেই ব্যতিক্রমটির শরণাপন্ন। আর এ-কথা সত্য যে, মানুষ মাত্রই নতুনের প্রতি আগ্রহী। সর্বজনীন। কাপটা…
-

পরিরাও নরকে বসবাস করে
পৌরাণিক মহাকাব্য রামায়ণের মধ্যমণি নারী সীতাকে সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হয় অগ্নিকুণ্ডে প্রবেশ করে। সীতার সেই অগ্নিপরীক্ষা সর্বজনবিদিত। রামচন্দ্র সর্বসমক্ষে পত্নীকে বলেছিলেন, তুমি রাবণের অঙ্গে নিমজ্জিত হয়েছ, এখন যদি তোমাকে পুনর্গ্রহণ করি, তবে কি করে নিজের মহৎ বংশের পরিচয় দেব? [বাল্মিকী রামায়ণ – সারানুবাদ – রাজশেখর বসু – পৃ-৩৮১ সীতাকে শেষ আশ্রয় নিতে হলো বসুমতীর কোলে…
-

ঠিকানা
নন্দীপাড়া থেকে ভ্যানগাড়িটা যখন চলতে শুরু করে, আতিউরের চোখ গেছে তার হাতঘড়ির দিকে, হাতঘড়ির কাচে শুকিয়ে যাওয়া রক্ত, একটা টিস্যু কাগজ দিয়ে ঘষে ঘষে রক্ত মুছে সে সময়টা দেখল, ৭ : ৩২। তার ধারণা হলো, কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে রাত দুটার বেশি লাগবে না। সময়টা তার জন্য ভালো, বাবা রাতের এই সময়ে বেঘোরে ঘুমিয়ে থাকেন,…
-

কঙ্কাল
বিকেলের সূর্য দিগন্তের ওপারে সবে ডুবতে শুরু করেছে। ছড়ানো সোনার কুচির সঙ্গে টকটকে লালের মাখামাখিতে এমন এক অপরূপ রঙের সৃষ্টি হয়েছে যে, চোখ সরানো যায় না। নদীতীরে বসে এই দৃশ্য দেখছিল নানি আর নাতি। সালেহার বয়স বেড়েছে। বেশ ডাগর হয়েছে নাতি রেজাউলও। সে যে কত কথা বলে! মুগ্ধ বিস্ময়ে সেসব কথা শুনতে শুনতে সালেহার মনটা…
-

চোর
কালো যুবতী কালী গোসল করছিল। সকালবেলায় পাড়ায় খদ্দের আসে না। এ-সময়টা রাতের পাপ ধুয়েমুছে ফেলার সময়। তারপর ঘরসংসার ঝগড়াঝাটি আছে। সুখদুঃখের কথা আছে। রান্নাবান্না আছে। রান্না করতে ইচ্ছে না করলে মোড়ের হোটেল থেকে খাবার কিনে আনা যায়। অনেক সময় রান্না করতে ইচ্ছে করে। সংসার সংসার খেলার স্বপ্ন জাগে। কিশোরীবেলার প্রিয় খাবারের কথা মনে পড়ে। কালীর মনে হয়…
