2023
-
সময়ের সমীকরণ
রাত্রি-দিন সম্পূর্ণ চকচকে কীলকের মতো, প্রভাত মাঝের একটা শূন্যস্থান। অতীত আবার আগামীও। জীবনের তলদেশে রয়েছে বাতাসের অস্তিত্ব, উৎপত্তি থেকে বহমান বেষ্টিত উত্তেজনা একটা রেখার মতো, এবং জীবনের অসীম সংখ্যা সব রাখা হয়েছে একই অবস্থায়। চাঁদ দাঁড়িয়ে আছে দূরত্বে, হৃদয়ের স্পন্দন ভেসে যায় … সবকিছু হারিয়ে ফেলার পরও রয়েছে আলো। কখনো জীবনের সূত্র পরিবর্তন করতে দেখি,…
-
তবু ঝড় ওঠে
চাবুকের মতো আছড়ে পড়েছ তুমি যদিও আচ্ছন্ন হয়ে আছে তুকতাক, ঘোর কৃষ্ণরাত কোমর অবধি পোঁতা দেবদারু, হোমোসেপিয়ান্স আর গন্দম ফলের ঘ্রাণে ধেয়ে আসছে নারী মৌমাছির ঝাঁক। পুরুষেরা অনুগামী। যেন স্বর্গের চাতালে লতিয়ে উঠছে ঝাউগাছ। আশীর্বাদ নাকি অভিশাপের মতো গড়িয়ে নামছে রাত। গুহার চিত্রের মতো ফেনিয়ে উঠছে চাবুকের দাগ। কে জানে কত রিচুয়াল এসে মিশে গেছে। কত কত পুরাণ বিশ^াসের মতো গেঁথে আছে শতাব্দীপ্রাচীন অন্ধকারে। তবু ঝড় ওঠে। ঝেঁটিয়ে উড়িয়ে নিয়ে যায় বর্জ্য ও পতিত পাতাদের। ঝড় থেমে গেলে প্রতিটি আড়াল থেকে বেরিয়ে আসে আলো। কেমন নেতিয়ে যায় অন্ধকারাচ্ছন্ন শতাব্দীপ্রাচীন ইতিহাস।
-
পুষ্পাঞ্জলি ঘাট
১. ‘বুক রাখি ভালোবাসার ঘাটে’ মন থেকে জন্ম নেয় শিল্প, অতঃপর প্রণয়। বেঁধে রাখি সৃজন কানন, প্রণয়ের দড়ি – কেবলই শব্দ, চিত্র, কল্প, ছন্দ, উপমারা ভ্রমর সাজে। ও-ভ্রমর ছেড়ো না আমার; বুকের ভেতরে প্রণয়ের লেনাদেনা ঘাট। ২. ‘ঢেউয়ের দোলায় এসো মাতাল ভ্রমর’ ও বাউল ডেকো নাগো আর। একতারার বৈকুণ্ঠ হতে। হাটে যদি এসো তবে নিও…
-
পর্যটক
আমি সেই পর্যটক, সমুদ্রভ্রমণ সীমানা পেরিয়ে সাগরের লোনাজল আমাকে স্পর্শ করো অথবা করো না চুম্বন আমি সমুদ্রে যাবো আমাকে সমুদ্র-গভীরে যেতে দাও – আমি জানি পূর্বজন্মে আমি ছিলাম এক মৎস্যকুমারী জলজ পৃথিবীতে ডুবে যেতে যেতে আমি সাগরের নীল ঢেউ মাছের পেটে জন্ম নিয়েছিলাম জন্ম নিয়েছিলাম জলে পৃথিবী বড় সুন্দর বড় সুন্দর এই অবচেতনের দুনিয়া বড়…
-
শিরোনামহীন কবিতা
বেশি কিছু চাইনি, চেয়েছিলাম একঝাড় কলকাসুন্দা ফুটে থাকুক পথের ধারে, চেয়েছিলাম বুনো ঝোপঝাড়ে কিছু কিছু থাকুক শহুরে জীবনের সাথে – এ সবই এখন আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। তেমনি প্রেমময় একটি জীবন হবে – এ কথা ভুলতে বসেছি। শুধু মন কষাকষি চলে, প্রেম যেন কাঠফাটা রোদ্দুর। প্রেমিক-প্রেমিকারা সবচেয়ে বেশি প্রেমের অভিনয় করে। প্রেম যেন বাঘের চোখ,…
-
আমাগেরই ক্যান ঘর পোড়ে
আগুন লাগলি শুদু আমাগেরই ক্যান ঘর পোড়ে? কিচু কতি পারিস গুপাল? প্রতিবার বন্যা এইসে কেইড়ে নিয়ে যায় সপ। মরার খরায় পুইড়ে পুইড়ে আমাগের ব্যাবাক ফসল মইরে পইড়ে থাকে! আমার উনি তো বোজে না সোজে না শুদু ওপরআলাকে গালি দেয়। আমি কত মানা করি, সে কতা শোনে না তুই কতি পারিস গুপাল? শুদু আমাগের সাতে তার…
-

চৈত্রপালা
জন্মের ঠিকুজি জানার সবচেয়ে প্রাথমিক উৎস মা। বাবা নন। মা জন্ম দিয়েছেন। বাবা পাশে থাকতেও পারেন, না-ও পারেন। থাকলে দিনক্ষণ বলতে পারবেন। নচেৎ শোনা কথা। বা নোটবুকে টুকে রাখা। কোনো মানুষই তার জন্মক্ষণ সম্বন্ধে বলতে পারে না। কারণ তার স্মৃতিকাণ্ড শুরু হয় ধীরে। এবং কয়েক বছর কেটে যায়। আমার সূত্র মা। তাই দ্বিধার কোনো বালাই…
-

ছেলেবেলার কথা
অধ্যাপক অমিয় দেব তুলনামূলক সাহিত্যের যশস্বী শিক্ষক। দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন যাদবপুর বিশ^বিদ্যালয়ের তুলনামূলক ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে। তাঁর হার্দ্য, অনুভববেদ্য বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি সাহিত্য সমালোচনার নৈর্ব্যক্তিক ঘরানার গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা বিশ্লেষণের পাশাপাশি নিরন্তর পাঠকের সাহিত্যপাঠের পদ্ধতিকে প্রশ্নে তাড়িত করে এবং সাহিত্যের সঙ্গেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদানকে সম্পৃক্ত করে নেয়। বুদ্ধদেব বসু ও সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে তাঁর লেখা…
-

অসম্মতির পাল্টা শক্তি ও একটি খসড়ার পটভূমি
ঢাকার বেঙ্গল গ্যালারিতে ‘অসম্মতির মানচিত্র’ প্রদর্শনীতে যে-উপাদানসমূহ একত্রিত হয়ে একটি প্রস্তাবকে সামনে হাজির করেছে, সেটি এ-অঞ্চলের মানুষের ঔপনিবেশিক অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরে। ইতিহাসের আলোকে বর্তমানকে ব্যবচ্ছেদ করা এবং একটি প্রাতিষ্ঠানিক আঙ্গিকে আধুনিকতা/ ঔপনিবেশিকতাকে বিশ্লেষণাত্মক উপায়ে দেখার একটি প্রয়াসও বলা যায়। শিল্পী নিজেই এখানে একটি আধার। যৌবনে শিল্পী ঢালী আল মামুন ও তাঁর প্রজন্ম বাংলাদেশে দেখেছেন সামরিক…
-

নব্য উদারনীতিবাদ ও জিরো ক্যালোরি সংস্কৃতি
মাত্রা ডিঙিয়ে খাবার খেয়ে আমরা মুটিয়ে যাই। তবে এ আমাদের না চাইতেই পাওয়া দেহগড়ন। ইথিওপিয়ার বদি জনগোষ্ঠীর পুরুষরা যদিও তাদের সাধনা করে বানানো মোটা পেটকে দেহের সৌন্দর্য মনে করে, মুটিয়ে যাওয়া সমসাময়িক নগর-সংস্কৃতিতে যেন তা একেবারেই বেমানান। নব্য উদারনীতিবাদের এই গ্লোবাল জমানায় ফিট শরীর ও খাদ্য গ্রহণের বেলায় পরিমিতি বোধকে প্রশংসা করা হলেও অন্যান্য ভোগ-বিলাসিতাতে…
-

চৈতন্যমঙ্গল
চৈতন্যদা আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত। মাঝেমধ্যে দেখা হয়। দেখা হলেই গল্পের ঝাঁপি খুলে বসে – নিজের কথা বলতে। নিজের সাফল্য, সমস্যা কিংবা পরিচিত কোনো ঘটনা। এমন নয় সে আত্মকেন্দ্রিক। আসলে কথা বলতে ভালোবাসে। যেহেতু তাঁর জগৎটা ছোট, ঘুরেফিরে তাই নিজের প্রসঙ্গ এসে যায়। নিজের সম্পর্কে তাঁর কোনো রাখঢাক নেই – সে দাম্পত্য কলহ হোক কিংবা অন্য…
-

জোছনা-প্লাবিত
মাঝে-মধ্যে ইচ্ছে হয় মাঘী-পূর্ণিমার রাতে বোধিবৃক্ষের জোছনামাখা ছায়ায় মুখোমুখি চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকি। সে কে, যার সঙ্গে চন্দনার ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করে? বয়সের এই মরা-কাটালের সময় নির্দিষ্ট করে কারো নাম এখন মুখে আনতে ভালো লাগে না। শুধু মনে হয়, কেউ একজন থাকলেই হলো। কিছুটা মানবিক বোধসম্পন্ন হলেই হলো। আহা, পাখির নামে তার নাম – চন্দনা!…
