July 2026

  • শিরোনামহীন

    শিরোনামহীন

    আতিয়া ইসলাম এ্যানি বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পকলাচর্চায় স্বতন্ত্র শিল্পভাষার অধিকারী। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থান, বৈষম্য, নির্যাতন ও সহিংসতা তাঁর শিল্পচর্চার অন্যতম প্রধান বিষয়। একই সঙ্গে সামাজিক অসংগতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক-সামাজিক সংকটও তাঁর ক্যানভাসে প্রতিবাদী ভাষা পেয়েছে। নারীর দৃঢ় ও দাপুটে উপস্থিতি, বক্তব্যের স্পষ্টতা এবং তীব্র সামাজিক সমালোচনা তাঁকে দেশের শিল্পাঙ্গনে বিশিষ্ট স্থান এনে…

  • মুস্তাফা মনোয়ার শিল্প ও সংস্কৃতির পুরোধা

    মুস্তাফা মনোয়ার শিল্প ও সংস্কৃতির পুরোধা

    নব্বই পেরিয়ে অনন্তলোকে চলে গেলেন বাংলার শিল্প ও  সংস্কৃতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার। পরিণত বয়সেই তাঁর যাওয়া, তবু মনে হয় এই দুঃসময় দূর করে আমাদের শিল্প-সংস্কৃতির অন্তর্গত শক্তিকে জাগ্রত করতে বড় প্রয়োজন ছিল তাঁর। গত ২৯শে জুন, সোমবার, সকালেই পেলাম সেই শোকাবহ দুঃসংবাদ; আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনের কিংবদন্তি বর্ষীয়ান শিল্পী, সংস্কৃতি-সাধক, শিশুদের সুপ্রিয় শিল্পীভাই মুস্তাফা মনোয়ার…

  • আবুল কাসেম ফজলুল হক ‘প্রতিভাবানের প্রতীক্ষায়’

    আবুল কাসেম ফজলুল হক ‘প্রতিভাবানের প্রতীক্ষায়’

    ‘আবুল কাসেম ফজলুল হকের মতো ব্যক্তিও আজ বাংলাদেশে দুর্লভ।’ – কথাটি শুনেছি একদিনের আলাপচারিতায়, বাংলাদেশের মনীষাগত দুর্বলতা প্রসঙ্গে, বদরুদ্দীন উমরের মুখে। কেন তিনি কথাটি বলেছিলেন? কী অভিপ্রায় ছিল তাঁর এই বাক্যে? আবুল কাসেম ফজলুল হকের মনীষাগত কিংবা প্রত্যয়গত ন্যূনতার ইঙ্গিত ছিল কী এ-বাক্যে? না – এর কোনোটিরই ইঙ্গিত ছিল না সেখানে। শুধু বলতে চাওয়া হয়েছে…

  • আত্মপ্রতিফলনের শেষ জানালায়

    আত্মপ্রতিফলনের শেষ জানালায়

    ২০২৬ সালের ২রা জুলাই সমকালীন চারুকলার আকাশ হারিয়েছে এর অন্যতম এক দীপ্তিময় নক্ষত্রকে, দীর্ঘ দিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ৬৪ বছর বয়সে বিদায় নিয়েছেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক আতিয়া ইসলাম এ্যানি। মৃত্যুতে শিল্পীর শরীরী অবসান হলেও তাঁর রেখে যাওয়া ক্যানভাস, সমাজবাস্তবতার তীব্র ব্যবচ্ছেদ ও অবাধ্য রঙের আঁচড়গুলোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শিল্প-ইতিহাসে তিনি বেঁচে থাকবেন। নব্বইয়ের…

  • বুদ্ধদেব বসুর রবীন্দ্রনাথ

    বুদ্ধদেব বসুর রবীন্দ্রনাথ

    রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে বহুমাত্রিক লেখক বুদ্ধদেব বসু। মোটা দাগে বাংলা সাহিত্যে এমন তিনজন ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটেছে যাঁরা নিজেদের সময়ে সাহিত্যের অভিভাবকত্ব করেছেন – বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বুদ্ধদেব বসু। রবীন্দ্রনাথ আর বুদ্ধদেব বসু দুটি ভিন্ন সময়ের প্রতিনিধি, সেই ভিন্নতা শুধু সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি বিস্তৃত হয়েছিল সাহিত্যিক আদর্শ পর্যন্ত। বুদ্ধদেব…

  • প্রথম বিশ্বযুদ্ধ : কবি নজরুল ও রণদা প্রসাদ

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধ : কবি নজরুল ও রণদা প্রসাদ

    কাজী নজরুল ইসলাম এবং রণদা প্রসাদ সাহা স্বমহিমায় ভাস্বর দুই খ্যাতিমান বাঙালি। একজন সাহিত্যের বরপুত্র, কাব্যদেবী দু-হাত ভরে তাঁকে আশিস দিয়েছেন আর সেই আশীর্বাদধন্য হয়ে তিনি উপহার দিয়েছেন কালজয়ী অজস্র গান ও কবিতা। অন্যজন সোনা ফলিয়েছেন ব্যবসায়, গড়ে তুলেছেন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দুহাত উজাড় করে দান করেছেন, নিরন্নের মুখে তুলে দিয়েছেন অন্ন, তৈরি করেছেন মানবতার উজ্জ্বলতম…

  • সিরাজগঞ্জ ও নজরুল : যোগসূত্র-পরম্পরা

    সিরাজগঞ্জ ও নজরুল : যোগসূত্র-পরম্পরা

    সিরাজগঞ্জের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের যোগসূত্র স্থাপিত হয় ১৯২২ সালে; এবং সেটা হয় এ-মাটির যশস্বী সন্তান, জাতীয় জাগরণের অন্যতম অগ্রণী ব্যক্তি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন শিরাজী কর্তৃক নজরুলকে উপহার ও আশীর্বাণী পাঠানোর মাধ্যমে। তারপর অতিক্রান্ত হয়েছে একশ চার বছর। ১৯৩২ সালে ‘বঙ্গীয় মুসলিম তরুণ-সম্মেলন’  উপলক্ষে নজরুল সশরীরে সিরাজগঞ্জে আসেন এবং গান, কবিতা, অভিভাষণে এখানকার আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাকে উজ্জীবিত…

  • মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর বিকশিত রঙীন আখরের চিহ্ন

    মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর বিকশিত রঙীন আখরের চিহ্ন

    জীবনের সংকীর্ণ বৈষয়িক পাওয়া, যাকে বলা যায় মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনের পাওয়া, তাকে রবীন্দ্রনাথ অভিহিত করেছিলেন ‘আংশিকভাবে পাওয়া’ হিসেবে। তাঁর বিবেচনায় সেই ‘প্রয়োজনের জন্যে আমরা যাকে পাই তাকে তো কেবল প্রয়োজনের মতোই পাই, তার বেশি তো পাইনে।’ সেইজন্যেই তিনি মনে করতেন, শুধু মনে করাই নয়, বিশ্বাস করতেন যে, ‘পাওয়া বলতে যদি আমরা এই বুঝি তবে ঈশ্বরকে পাওয়া…

  • সাহিত্যে বাঙালি নারী : সেকাল ও একাল

    সাহিত্যে বাঙালি নারী : সেকাল ও একাল

    অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ছিলেন বহুমাত্রিক মানুষ। বহুরকম প্রকাশের মধ্যে সাহিত্য গবেষণার দিকে চোখ রাখলে প্রথমেই নজরে পড়বে তাঁর প্রথম ও সাড়া জাগানো মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য বইটির দিকে। সামাজিক ইতিহাসের পটভূমিকায় এতে বাঙালি মুসলমানদের সাহিত্যকর্মের (১৭৫৭-১৯১৮) আলোচনা আছে। অজ্ঞাত পূর্বতথ্য তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে ভাষা, সাহিত্য ও ধর্ম, রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কে সে-সময়ের লেখকদের ভাবনা…

  • বর্ষা-বন্দনা

    বর্ষা-বন্দনা

    বর্ষার মোহনী রূপ বাঙালির হৃদয় সজাগ করে, দর্শনেন্দ্রিয় পরিতৃপ্ত করে, কর্ণকুহরও সংবেদী করে সুর ধ্বনি এবং ছন্দব্যঞ্জনায়। বর্ষার জলের আছে সরসতা, প্রাণপ্রাচুর্য, সুরের ধ্বনিমাধুর্য, রঙের রূপলাবণ্য। তাই বাংলা বর্ষায় বিগলিত, বাঙালি বর্ষায় বিমোহিত। সবকিছু মিলিয়ে বর্ষা অনন্য। সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে এদেশে, প্রাচীন বাঙালির সেই কৌমজীবন থেকে ষড়ঋতুর সঙ্গে আমাদের বসবাস। এই কালপাঁচালি প্রতি রোমকূপে ও…

  • মায়ের পর আমার পালা

    মায়ের পর আমার পালা

    অমলেন্দু ডাক্তারের চিকিৎসায় মা সেরে উঠলেন। ভুগলেন প্রায় মাসখানেক। তারপর শরীর স্বাভাবিক হতে আরো এক মাস। সংসার চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। মায়ের সেরে ওঠাটা কত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এখন বুঝি। মা গত হলে আমরা ছ্যাওড় হয়ে যেতাম। এটা ঝামটিয়ার ভাষা। ছ্যাওড় মানে অভিভাবকহীন। আমরা তখন পরপর চার ভাই। সাত থেকে এক। কী দারুণ বা নিদারুণ অবস্থা। আমাদের…

  • বিশুদার গ্যারেজ

    বিশুদার গ্যারেজ

    কী রে, কনে গিছিলি ফাহাদ? – রাজেদের বাড়িতি গিইছিলাম। – কী অত্তি গিইছিলি সিয়ানে? – সিয়ানে মচ্ছব ছেল। খেইয়ে-দেইয়ে রওনা দিলাম। – তা কী খাওয়ালো? – অনেক অয়োজন ছেলো। ডাল, ভাজি, নাভ্রা, তরকারি, তেঁতুলির অম্বল, পায়েস; কত কিছু। – তা ভালোই হলো খাওয়া-দাওয়া, নাকি? – হয়। তো কিছুদূর আলি হেলিকাপ্টারডা গড়বড় কইরছে। দ্যাহো দি বিশুদা,…