May-June 2026
-

সম্পাদকীয়
সাহিত্য পত্রিকা বা সাময়িকপত্রের পাঠকরা গল্প পড়তে চান কেন? এর সাদামাটা উত্তর আমার যা মনে হয়, প্রধানত গল্পের কাহিনি বা সৃষ্ট চরিত্রগুলির মধ্যে তাঁরা তাঁদের চেনা জীবনের কিছু প্রতিফলন দেখতে পান বলে। কাহিনিপ্রধান গল্প সে-কারণেই অধিকাংশ পাঠক পড়তে ভালোবাসেন। তবে এও ঠিক যে, বাংলা গল্পের সূচনাকাল থেকে এ-পর্যন্ত গল্পের কলা-কাঠামো এবং কাহিনি ও চরিত্র নির্মাণের…
-

আমার গল্প লেখার গল্প
প্রতিটি গল্পে লুকিয়ে থাকেন লেখক স্বয়ং। শুধু গল্পের পেছনে বা আড়ালে নয়, কখনো-বা মিলেমিশে একাকার হয়েও থাকেন। সাহিত্যবোদ্ধা সমালোচকের মতে, সফল গল্প আসলে লেখকের জীবনের অভিজ্ঞতা, উপলব্ধি, পর্যবেক্ষণ, সত্যান্বেষণ, কামনা-বাসনা, আনন্দ-বেদনা, স্বপ্ন-কল্পনা ইত্যাদি সহজ-কঠিন ও জটিল মানবিক বিষয়ের প্রতিফলন, ভাষায় যার শৈল্পিক নির্মাণ স্থান-কালের সীমা ছাপিয়ে পাঠকচিত্তে সাড়া জাগায়। লেখক মরে যান, কিন্তু তাঁর সৃষ্ট…
-

সাতোরি
রিভারভিউ রিসোর্টে পাবলিক রিলেশন্স অফিসার পদে যোগ দেওয়ার পর থেকে আনোয়ার আমাকে বেশ কয়েকবার সেখানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বলেছে, ঢাকার কাছে এমন নিরিবিলি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা খুব কমই আছে। তারপর বলেছে, অন্য কেউ হলে বলতাম এমন নিখুঁত রিসোর্ট আর কোথাও খুঁজে পাবেন না। আমাদের এখানে মনাস্টারির সলিচুড আছে, সেইসঙ্গে ফাইভ স্টার হোটেলের সুযোগ-সুবিধা। আমরা…
-

উন্মাদিনী আধুনিকা
রাস্তার পাশে ফ্ল্যাট বলে এমনিতে গাড়ির শব্দ যন্ত্রণা দেয়। তার ওপর কয়েকদিন ধরে একটি তীক্ষ্ণ-কর্কশ-বামা কণ্ঠ ভুগিয়ে চলেছে ফজলকে। তাঁর লেখার টেবিলটা ঠিক জানালার পাশে। রাস্তার ওপারে একটি অফিস – ওদের ক্রিয়াকাণ্ড সব সময় দফতর কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকে না। মাঝে মধ্যে সেলিব্রেটি বদমাশরা এলে তার চেল্লা-চামুণ্ডারা অঞ্চলে শোরগোল পাকিয়ে একটা জলসাকেন্দ্র বানিয়ে তোলে। এরকম হরসঙ-মার্কা…
-

সমর্পিত
মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। শীতের শেষবেলার বিষাদমাখা সময়ে রত্নাবলীর তাই মনে হয়। এই অশ্রুজল, বুক মন্থন করা দীর্ঘশ্বাস – সব তো সৌমেনের জন্য। একত্রিশ বছর আগে যার হাত ধরে শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন, তিনি পৃথিবীর কোথাও নেই। রত্নাবলী শুনেছেন, আত্মা অবিনশ্বর, অজেয়, অমর। রত্নার বুকের ভেতরে কলরোল জাগে – তাহলে কি তিনি আমাকে দেখতে পাচ্ছেন? অনুভব…
-

যাত্রাপালা যাত্রাপালা – ঝিনুকমালা
জলঢাকা চেনেন? বাহের দেশ। সেই দেশে মাঘের শীত, বাঘেও ডরায়! কুয়াশায় নেড়িকুত্তাগুলা কেমন কাঁই-কুঁই করে গো। গাছসকল ঝিমায় সেজদায়। খালি নাদের ব্যাপারী গেঞ্জি গায়ে, ধুধু চান্দি বান্ধে নতুন গামছায়। হাঁড়ি বান্দে খাজুর গাছে। সুয্য তখনো ঘুমে। … ঝিনুক দুই হাতের দশ আঙুলে কুয়াশা হটায়া দৌড় ধরে। বালিকা উড়াল পাখি – দুই কচি ডানায় বেশুমার আনন্দ।…
-

বাইজি
বাড়ির নাম দিলশাদ মহল। বাঈজী দিলশাদ বেগমের গানের প্রতি যে মমতা ও প্রেম, সেই মমতা আর ভালোবাসায় বাড়িটি তৈরি করেছেন। বাড়ির বয়স একশ বছর পূর্ণ হয়েছে। একশ বছর আগে শেষ মোগল সম্রাট বাহাদুর শাহর কাছ থেকে নজরানা পান তরুণী রূপসী বাইজি দিলশাদ বেগম। জনমানবহীন এই বিরানভূমিতে যখন এসে পৌঁছালেন হতাশ হয়েছিলেন বইকি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস…
-

শরবিদ্ধ সময়
এখন ওরা থাকে চামেলীবাগের ভেতরে এঁদো ডোবার পাশের ছোট্ট টিনের ঘরটায়। আগে কিন্তু এখানে থাকতো না। এ-পরিবেশেও না। সবাই বলাবলি করে, সময় নাকি ওদেরকে এ-পরিবেশে টেনে এনেছে। গলির মুখে যে একটা জামগাছ তারই তলায় দাঁড়িয়ে থাকে রোজ রোজ হাতের মুঠোয় একটুকরো ভাঙা ইট কিংবা পাথর নিয়ে। ছেঁড়া প্যান্ট। ময়লা গেঞ্জি। মাথার চুলগুলো ঘাড় পর্যন্ত নেমে…
-

বালাভাইয়ের অভিনয়
ট্রেন থেকে নেমে, স্টেশনের মূল ফটক পেরুলে, যে-রাস্তাটা সাপের মতো এঁকেবেঁকে পুবদিকে চলে গেছে, সেই রাস্তার মুখে বালাভাইয়ের ঝলমলে স্টেশনারি দোকান। মূল ফটকের বাইরে এলে বালাভাইয়ের দোকান সকলের নজর কাড়ে। স্টেশনটা ছোট। এখানে মেইল ট্রেন থামে না। তারপরও এই স্টেশনের গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই ট্রেনে যাতায়াত করে। এই এলাকার বিশাল অংশের মানুষের…
-

আড়ালে মহিমা
বৃষ্টিমুখর দুপুর ফুরিয়ে গেলে ধূসর আকাশের বিকেল হয়ে ওঠে কৃষ্ণময়। অযোগ্য ময়লা রাস্তার ভাঙা টুকরো টুকরো অংশে ওই বৃষ্টির জল জমে আছে। চামেলিবাগের সরু ঘুরপ্যাঁচে প্রয়োজন ছাড়া এলাকার মানুষও মরা দিনে তেমন চলাচল করে না। নতুন-পুরনো বিল্ডিংয়ের বারান্দা-দেয়াল-গেট ধরে ছাইছায়া সন্ধ্যা নীরবতা ছড়িয়ে নেমে আসে। সকালে ডানে মোচড় কাটা রাস্তার দেয়াল ঘেঁষে খণ্ডকালীন বাজার বসে।…
-

অপার
মতিবিবি বাড়ি এলো সন্ধ্যার দিকে। আগেই ফোনে জানিয়েছিল। বাড়িতে প্রস্তুতি ছিল। রাবেয়া পাঙাশ মাছ রান্না করে রেখেছে। নদীর পাঙাশ পাবে কোথায়? ম্যালা দাম। চাষ করা পাঙাশ এনে দিয়েছে বশির। বশিরের একটা পা খোঁড়া। এজন্য লোকে ডাকে ‘ল্যাংড়া বশির’। গৌধূলিয়া বাজারে তার একটা চায়ের দোকান আছে। তবে দোকানের আয়ে পাঁচজনের সংসার চলে না। সংসার ছিল ছয়জনের।…
-

চিতা বহ্নিমান
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছে। আঠারো দিনের যুদ্ধ। আঠারো অক্ষৌহিণী সৈন্য নিধন হয়েছে। কুরুক্ষেত্রটি যেন যজ্ঞকুণ্ড। নরমেধ যজ্ঞ। প্রতিদিন গড়ে দুই লাখ আঠারো হাজার সাতশো জন মানুষ বিসর্জিত হয়েছে এই নরমেধ যজ্ঞকুণ্ডে। কুরুক্ষেত্রকে শুধু নরমেধ যজ্ঞকুণ্ড বললে ভুল হবে। এটি পশুমেধ যজ্ঞকুণ্ডও। এই যুদ্ধে হস্তি এবং অশ্বও কম নিহত হয়নি। মনুষ্য শোণিতের সঙ্গে পশুরক্ত মিশে কুরুক্ষেত্রে…
