March

  • সাম্যবাদ

    বুঝতে পারি … কোন কোন শিরায় প্রবাহিত হয় আলো কোথা দিয়ে ঢোকে বিষ কারা কারা বাজায় বাঁশি কোথায় শূন্যস্থান থেকে উঠে আসে শিস! মনে করো … গাছ যদি ঝড়কে চোখ রাঙায় পুকুর যদি ফিরিয়ে দেয় সব ঢিল রাস্তা যদি উড়িয়ে দেয় সব ধুলো দরজা ছেড়ে যদি দাঁড়িয়ে থাকে খিল! এবার তাহলে … বালিতে মুখ গুঁজে…

  • অপুরুষতন্ত্র

    তারা উচ্ছল, সধবা রমণীর দিকে পাহাড়ের চূড়া আর সমুদ্রের অবাধ বিস্তারে       অরণ্যভূমি ও ফসলি জমির বুকে               হনন-উদ্যত হায়েনার মতো চেয়ে থাকে জাঁকালো অট্টালিকার বিশাল বিন্যাসে                      ভঙ্গিল ভঙ্গিতে হাঁটে পিস্তল ও মেশিনগানের                  উত্তরোত্তর কার্যকারিতা                  সীমান্ত বিরোধ              তারকাঁটায় ঝুলন্ত লাশ সাবমেরিনের অপঘাতী তৎপরতা পরখ করে                                       দীর্ঘক্ষণ                                 খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে তারা বাঘের…

  • ঘাসমানুষ

    আমার ভ্রƒর মধ্যে একটা শীতকাল চোখের মধ্যে নীরবতার তাঁবু বুক বরফের পম্পেই শীতবস্ত্রের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ঘাসমানুষ উষ্ণতা অধরা পণ্য হাজার হাজার আলোর কণা জোড়া দেয়া এক সেতু জুডাস যিশুর কপালে চুমু দিলে যেটুকু উষ্ণতা তার চেয়ে বেশি কিছু নয় আমরা বাঁচি সব ঋতুর অপেক্ষায় আর ভাবি অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা অতীতে নেই থাকবো…

  • হৃদয়ের হিমালয়ে

    তোমার হৃদয়ের হিমালয়ে – এখনো যাইনি পুরোপুরি ক্ষয়ে! দেখো – রয়েছে আমার জীবাশ্মের চিহ্ন! হলো অগ্ন্যুৎপাত,        গলিত লাভাস্রোতে ভরে গেছে                   কতটুকু আশপাশ! হলো বৃষ্টিপাত,         জলে জলে ডুবে গেছে                    কতটুকু আশপাশ! জমেছেও বরফ,          কঠিন বরফে ঢেকে গেছে                     কতটুকু আশপাশ! আমি জানি – আমি হই আবির্ভূত তোমার কঠিন শিলার পর্বতমালায়, যদিও…

  • চন্দ্রালোক

    বলছি না যে এটুকুই শস্যভূমি,কিষানির আলতা পা যেখানে অরণ্য নাবিকেরা সব প্রচ্ছন্ন মৌন প্রশ্রয়ে নোঙর ফেলেছিল বাউল বিবাগে। বলছি না যে এটুকুই চন্দ্রালোক, এটুকুই তৃষ্ণা ও জলাধার মুছে যাবে সমস্ত ছায়ানীল কষ্ট তিলক। যে-কথাটি শিল্পস্বর হতে হতেও খাবি খাচ্ছে সারমেয়র পশমি করতলে – বলতে কি পারি যে সে কথাটিও কবিতার কিন্নরি পঙ্ক্তি হবে? হলে হোক…

  • ক্ষরণ

    ভা‌লোবাসা, ম‌নে রাখা এত সহজ নয় এর জন্য শঙ্কাতুর হবারও কো‌নো মা‌নে নেই। বনভূ‌মি উজাড় হ‌য়ে গে‌লেও অদৃষ্ট কা‌কে ফেরায়? ম‌র্মে বা‌জে দুঃস্ব‌প্নের দাহ বছর শেষ হ‌য়ে গে‌লেও মানু‌ষের মর্মা‌ন্তিক প‌রিণ‌তি থে‌কে মু‌ক্তি নেই।‌ শেষ ট্রেন ধর‌বে ব‌লে যারা বে‌রি‌য়ে প‌ড়ে‌ছিল তারাও মৌন হ‌য়ে আশ্রয়হীন স্মৃ‌তির প্র‌কো‌ষ্ঠে পথ ও দৃশ্যসীমার ওপা‌রে চ‌লে যে‌তে চায়। এক‌দিন…

  • যুদ্ধ যখন অহেতু ধেয়ে আসে

    রোদ্দুরে ধুয়েছি গা         প্রেমের ছোঁয়ায় বাতাসে উড়ছে মন        ডানা মেলা পাখি নদীরাও কল্লোলিত        মৃদু কুয়াশায় সমুদ্দুর পাড়ি দেয়         হৃদয়-জোনাকি মানববসতি যদি           গড়ে তুলি ঋণে প্রেমের বন্ধনে বাঁচি        রাতে ও দিনে রক্ত দেখে কাঁপে বুক      মানবার্দ্র মন তবু যুদ্ধ ভিত্তিহীন          রক্তপায়ীগণ থামাও থামাও আজ        যুদ্ধ-বিভীষিকা এ-জগৎ মানুষের           চির-অধিবাস এক্ষুনি থামাতে চাই        মৃত্যু-আণবিকা এ-পৃথিবী শান্তিময়         স্বস্তির নিশ্বাস…

  • মরে যাব

    বহুবিধ সকালে আমরা জেগে উঠে ঘুমের ভেতর – যেসব রাস্তায় অনেক প্রাাচীন গাছ বাপ-মাহারা গানের মতো স্বরলিপিহীন মূর্ছিত সবুজ স্মৃতির নীচে মানুষ নয়, রাক্ষসের আত্মা নিয়ে জাগে – তার ওপর দিয়ে বহুবিধ সকালে উড়ে খুঁড়ে আমি আরও কবি হতে হতে ঢাকার গাড়িতে উঠব তাই ভোরের রক্তের মধ্যে দলা পাকিয়ে আমরা ছুটেছি ঝিনেদা ৩ কিমি… আর…

  • আমায় নিয়ে লিখো

    একটা পদ্য লিখো তো – বেশ বড়সড় একটা পদ্য, মহাপ্লাবনে ভেসে যাওয়া নুহের নৌকার মতো বিশাল। সেই পদ্যে আমায় ঠাঁই দিও, অন্য সবার মতো জোড়া নয়; একাকী থাকব আমি – ইচ্ছে হলে তুমি জোড়া মিলিও। অনন্তকাল ভাসতে থাকব তোমার পদ্য-তরীতে সকাল বিকাল রাতে ক্ষুধা তৃষ্ণাহীন আমৃত্যু। আমার জন্য একটা পদ্য লিখো। না হয় খুব দামি…

  • যার হদিস নেই

    দূর অতীত যে অনতিক্রম্য, অগম্য, তার কাছে যাবার কোনো উপায় নেই, তবু, স্মৃতিকণায় যে ভরে থাকে মন, ভবিতব্যের হাতে সবকিছু ছেড়ে দেই! কার মুখ আর দেখবো পেছন ফিরে – এই রুক্ষ, শূন্য, বিবর্ণাতুর অবেলায়, সবই ধোঁয়াশা এখন, কুজ্ঝটিকার মতো, নতমুখে ফিরে যাই অতীত আঙিনায়! কার মুখ জীবন্ত জেগে থাকে এই মনে কার ছায়া নিশিদিন পিছু…

  • বঙ্গনারী

    শ্যামল শোভার নদী একে একে মেশে এসে যে সমুদ্রে শোভিত সে-সমুদ্রও অপলক দ্যাখে যার রূপের উদ্ভাস সে অতুল বঙ্গনারী, সবুজ কাঁটার ঝাড়ে গ্রীবাউঁচু ফুল। যদিও সৃজনীপ্রভা তার উপেক্ষিত স্বীকৃতির প্রতিবন্ধী চোখে জীবনের খরপথে অবিরাম হেঁটে হেঁটে বিক্ষত পা প্রকৃতিপ্রেম ও শিল্পচেতনার নিভৃত আকর সে জ্বলে প্রেমের মোতি প্রেমিকের চোখে সে তার আপন চোখে ছেঁড়ে তবু…

  • অচেনাবৃত্তের চেনা সন্ধ্যা

    অচেনাবৃত্তের চেনা সন্ধ্যা

    সংগীতজগতের বিস্ময় গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে ‘কিন্নরকণ্ঠী’ বলে ডাকতেন সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তারাশঙ্করের লেখা গান ‘মধুর মধুর বংশী বাজে কোথা কোন কদমতলিতে’ সন্ধ্যার কণ্ঠের অনবদ্য নিবেদনে সংগীতের দুনিয়ার এক চিরন্তন সম্পদ হয়ে আছে। গান গাইবার ক্ষেত্রে, গীতিকার, সুরকার, যন্ত্রশিল্পী প্রত্যেকের সঙ্গে একটা সম্পর্ক গড়ে তুলতেন বলেই হয়তো তাঁর প্রতিটি গান যুগ যুগ ধরে শ্রোতার হৃদয়ে একটা…