August
-
যুদ্ধ জয়
যদি আমাদের আর কোনোদিন দেখা না হয়। স্মৃতিটিতি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেও। জানি তুমি কবি নও। স্মৃতিটিতি এসব কবি অথবা পাগলের কারবার। চলে যেতে ইচ্ছে করে খুব, যেথায় কোনো বন্ধন নেই। বেশ নির্ভার লাগে। চলে যাওয়ার এটাই উপযুক্ত মৌসুম। এবার তৃপ্তি মিলুক সমর্পণে। মৃত্যু আসুক প্রিয়তম হয়ে। বাসরজাগা প্রিয়ার মতো মৃত্যুকে দু-বাহুতে জড়িয়ে ঘুমাব চিরঘুমে।…
-
ফড়িংয়ের গান : ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার পদ্য
ভাষান্তর : কাজল বন্দ্যোপাধ্যায় স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের শহিদ কবি ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকার এক বিস্ময়কর ধারা ছিল লোককাব্যকে শিশুতোষ ছড়ার সঙ্গে যুক্ত করার। আর এসবের তলদেশে থাকতো নিরেট বাস্তব এবং প্রবল জীবন। এখানে ফড়িংয়ের গান সংকলনে পাচ্ছি আমরা কবিতার বই ঠিক নয়, একটি সংকলন। যৌবনে লোরকা সহযোগী ছিলেন গ্রানাডা এলাকার খ্যাতিমান সুরকার ম্যানুয়েল দ ফালা’র। জীবনে সবকিছুর-সকলের…
-

গীতগোবিন্দ
বাংলা কাব্য-রূপান্তর : অসীম সাহা চতুর্থ পর্ব সপ্তম সর্গ তাহার মনে চাঁদের হইলো উদয়। তাহার আলোতে জ্যোৎস্না নির্মল হয় ॥ তা দেখে বেশ্যার মন মানে না প্রবোধ। নিজের ভেতরে তার হলো পাপবোধ ॥ দেহের কলঙ্ক তার স্পষ্ট দেখা যায়। আকাশমণ্ডলী তাতে সুন্দর দেখায় ॥ দিকচক্রবাল যেন সিঁদুরের ফোঁটা। তেমনি সম্পূর্ণ হইলো চন্দ্রের ওঠা ॥ বৃন্দাবনমাঝে…
-

রায়পুরা থেকে ময়মনসিংহ
পঁয়ত্রিশ আমরা বন্ধুরা মিলে যে শুধু বাংলাদেশ ঘুরেছি তা নয়। আমাদের বন্ধুত্বের ২৫ বছরে আমরা ভারত, নেপাল, ভুটান ছাড়াও মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড গিয়েছি। একবার নার্গিস এবং তার স্বামী নুরুল ইসলাম মোল্লা দিল্লি যাওয়ার সময় আমাকে এবং জরিফাকেও তাদের ভ্রমণসঙ্গী করে। দিল্লি থেকে আমরা হায়দারাবাদ এবং ব্যাঙ্গালোরও গিয়েছি। মুসি নদীর তীরে অবস্থিত হায়দারাবাদ শহরটি নানা কারণে…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ৮ সকালে ঘুম ভাঙতেই অবন্তির মনে হলো, আজ সে কোথাও যাবে না। অবশ্য অংশু আর ঋভুর সঙ্গে আড্ডায় যাওয়া ছাড়া গত কয়েক দিনে অন্য কোথাও যায়ওনি সে। আজ ওদের কাছেও যাবে না। ঘুম ভাঙার পর প্রথম অনুভূতিটা এরকম হলো কেন, এ নিয়ে কিছুক্ষণ ভাবলো অবন্তি। রাতের কথা মনে পড়লো। ঋভুর বাসায় আড্ডা, আকস্মিক…
-

মাধব-মালঞ্চী : নির্মল বিনোদনের নাটক
‘শিল্পের জন্য শিল্প? নাকি মানুষের জন্য শিল্প?’ – শিল্প-আন্দোলনের নানা বিতর্ক, নানা মতাদর্শ মানুষকে নানাভাবে ভাবিত করলেও একজন দর্শকের নির্মল আনন্দপ্রাপ্তিকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখা যায় না। তবে সে-আনন্দ মানুষ, সমাজ, জাতিসত্তা, সভ্যতা-সংস্কৃতি কিংবা নীতিবোধের বাইরে নয়। গত ২১শে জুন শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল মঞ্চে তেমনই এক নির্মল আনন্দের প্রকাশ ঘটালো থিয়েটার আর্ট ইউনিট নাট্যদলের নতুন…
-
নির্বিরোধ তরুণের মুক্তিযুদ্ধের কাল
শহুরে নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলে মশিউলের পলায়নপর আর নির্বিরোধ জীবনের সংকট-সন্ত্রস্ততার ভেতর দিয়ে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ের আখ্যান বর্ণিত হয়েছে সিরাজুল ইসলামের উপন্যাস গুহাতে। নিম্ন জীবনমান আর চরম দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত পরিবারটির সংকট যেন ঘুচতেই চায় না। অশিক্ষিত বাবা-মায়ের নৈমিত্তিক কলহ আর মায়ের ওপর বাবার শারীরিক নির্যাতন; বেড়ে ওঠার সময় থেকেই পরিবারের প্রতি এক ধরনের…
-
বাংলার সংগ্রামী নারীর আখ্যান
তানভীর মোকাম্মেলের বেহুলা বাংলা ও অন্যান্য কবিতা কাব্যগ্রন্থের শুধু বেহুলা বাংলা সিরিজের কবিতাগুলি নিয়ে আমি এ-আলোচনাটা করব। সেই দশম-দ্বাদশ শতাব্দী থেকে বাংলার প্রাচীন যেসব সাহিত্যনিদর্শন রয়েছে, যেমন চর্যাপদ, সেখানে আমরা নদীর কথা পেয়েছি, পেয়েছি নৌকা বাওয়ার কথা, জেলেদের কথা, মাছ ধরা ও মাছ ধরার নানা উপকরণ এবং মাঝিদের কথা। অর্থাৎ বাংলার প্রকৃতির মাঝে সাধারণ মানুষের…
-
আনন্দ-বিষাদ আর নিমগ্নতার কবিতা
‘কবিতার দরজায় কড়া নেড়ে চলেছি’ – এইসব অনুভব-এর একটি কবিতা (‘আনন্দের ভৌগোলিক অবস্থান’) এই কটি কথা দিয়ে শুরু হয়েছে। শেষ হয়েছে দুটি পঙ্ক্তি দিয়ে, যাদের সঙ্গে শুরুর কড়ানাড়ার একটা গভীর যোগসূত্র আছে : ‘নিঃসঙ্গ সময়ের আবর্তে খুঁজি/আনন্দের ভৌগোলিক অবস্থান।’ কড়া যে আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী ভুল ঠিকানায় এসে নাড়েননি, তা এই বইতে সংকলিত কবিতাগুলি পড়লে বোঝা…
-

-

হারিয়ে ফেলেছি পরশপাথর
ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথের ‘পরশপাথর’ কবিতা পড়ে ক্ষ্যাপা লোকটির জন্যে বড় কষ্ট হয়েছিল। শুধু মনে হয়, আহা যদি একটু খেয়াল করত! ফেলে যাওয়া রাস্তায় আবার পরিক্রম করতে হতো না। পৃথিবীতে এরকম অনেক ধরনের ক্ষ্যাপা আছে। কেউ শিল্পচর্চা করে, কেউ করে রাজনীতি … এমনি হাজার ধারা। এই বাংলায় তেমন ক্ষ্যপার অভাব নেই। রাজা রামমোহন থেকে শুরু করে ঈশ্বরচন্দ্র…
-

মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু মৈত্রেয়ী দেবীর সাক্ষ্য
মৈত্রেয়ী দেবী (১৯১৪-৯০) এত রক্ত কেন? নামে একটি বই লিখেছিলেন, সে-বই কলকাতায় প্রকাশ পায় ১৯৮৫-এর আগস্টে। রবীন্দ্রনাথের (১৮৬১-১৯৪১) রাজর্ষি (১২৯৩) আখ্যানে হাসি নামের একটি ক্ষুদ্র বালিকা মন্দিরে পশুবলির ‘রক্তস্রোতের রেখা’ লক্ষ করে সবিস্ময়ে রাজাকে প্রশ্ন করে, ‘এত রক্ত কেন!’ এই প্রশ্ন রাজার মনেও জাগে অভিন্ন কাহিনির ভিন্ন প্রেক্ষাপটে – রবীন্দ্রনাথের বিসর্জন (১২৯৭) কাব্যনাটকে। এখানে মন্দিরে…
