2022
-

আরণ্যক : এক প্রকৃতিমুগ্ধ ও ইতিহাস-অনুভবী মানুষের ডায়েরি
আজ থেকে ৮০ বছরেরও আগে, ১৯৩৯ সালে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরণ্যক উপন্যাসটি লিখেছিলেন। উপন্যাসের শুরুতে বিভূতিভূষণ একটি দু-পাতার ভূমিকা বা প্রস্তাবনা লিখেছেন, তারপর মূল উপন্যাসটি ১৮টি পরিচ্ছেদে লেখা হয়েছে। শুরুতে দেখা যায় এই উপন্যাসের কথক সত্যচরণ (যিনি আসলে বিভূতিভূষণ নিজেই) বেকার। কলকাতা শহরে সে কাজ খুঁজছে। এরপর সে এক বন্ধুর মাধ্যমে চাকরি পায় একটি জমিদারি ব্যবসায়,…
-

মনজুরে মওলার নষ্ট নীড় ও সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
শ্রদ্ধেয় অমিয় দেব সম্প্রতি (‘গুরুচণ্ডালি’, ২০২১) দান্তে ও শঙ্খ ঘোষ সম্পর্কে এক নিবন্ধে লিখেছেন : ‘কী লেখেন কবি? শব্দ। কী থাকে সেই শব্দে? বোধ। আর বোধ জুড়ে জুড়ে যা হয় তা-ই সত্য। আর তার জন্য তাকে জীবন বাঁধা রাখতে হয়। তার একমাত্র দেনা সত্যের কাছে।’ কী অর্থপূর্ণ কথা। শব্দ-বোধ-সত্য নিয়ে এই আলোচনা মূলত শঙ্খ ঘোষকে…
-

বৃষ্টি শোনার রাত
এমন একটা ঘটনার মধ্যে পড়তে হবে, আমাদের কল্পনায়ও ছিল না। আমি আর সোনালি চট্টগ্রাম যাছি। রেলভ্রমণ বরাবরই আমার প্রিয়। আর রাতের ট্রেন হলে তো কথাই নেই। দূরের হোক আর কাছের হোক, দুদিনের জন্য বা দু-সপ্তাহের জন্য হোক, বেশি কাপড়চোপড় সঙ্গে নেওয়া আমার পছন্দ নয়। সোনালিরও তা-ই। কোনো রকম চালিয়ে নিতে পারলেই হয়। বাড়তি কাপড়চোপড়ের বোঝা…
-

স্বপ্নসুখের কথকতা
পা ফেলতে ফেলতে থমকে দাঁড়ায় হরনাথ। কী এক মায়াবী আকর্ষণে বারবার পেছনে ফিরে তাকায় বুড়ো হরনাথ। আকাশের দক্ষিণ-পূর্বদিককার আগুনের গনগনে আভা হরনাথকে ভীষণভাবে চমকে দেয়। কার ডাকে-পদশব্দে সম্বিৎ ফিরে পায় হরনাথ। জয়নাল-মাইজপাড়ার তাজু বেপারির পড়ুয়া ছেলে – এখন মুক্তিবাহিনীর জাঁদরেল কমান্ডার। তাকে ইশারায় তাড়া দেয় জয়নাল – ‘একটু পা চালিয়ে হাঁটো কাকা, রাত পড়ে আসছে।’…
-

হেঁসেল থেকে হৃদয় : বাঙালির স্বাদ আর সাধের মেলবন্ধন
প্রখ্যাত লেখক শিবরাম চক্রবর্তী তাঁর লেখায় নিজের জীবনের দুটি মাত্র লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন – ‘খাই আর শুই’। সাহস করে কিংবা লজ্জা ভেঙে মুখে না বললেও শিবরাম চক্রবর্তীর মতো ‘খাই আর শুই’ লক্ষ্য নিয়ে চলা বাঙালির সংখ্যা নেহায়েত কম হবে বলে বোধ করি না। আমরা খেতে বসে ‘ভাতঘুম’ দেওয়ার কল্পনায় উদ্বেলিত হই আবার ‘ভাতঘুম’ দিয়ে উঠে…
-

মালিবাগ মোড়ের গল্প
আপনি কে? আমার পিছনে পিছনে হাঁটছেন কেন? বিরক্তির সঙ্গে প্রশ্ন করে কেশবতী। আমি লক্ষ করেছি কয়েকদিন ধরে আপনি আমার পিছু নিচ্ছেন। কেন? চেনেন আমাকে? হঠাৎ একসঙ্গে এতো প্রশ্নের মুখোমুখি হবে, বুঝতে পারেনি সৈকত হালিম। বিব্রত মুখে একবার কেশবতীর চোখের দিকে আর একবার মাটির দিকে দৃষ্টি রাখে। গলি পার হয়ে চৌরাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে ওরা। আকাশে…
-

হাতেখড়ি
সবকিছুর একটা শুরু আছে। যেমন তার সঙ্গে শেষও। একমাত্র সময় কোথায় গিয়ে সমাপ্ত হবে কেউ বলতে পারে না। আমরা যেমন মহাশূন্যে হাঁটছি, তেমনি হাঁটছি সময়ের হাত ধরে। হাঁটি হাঁটি পা পা … শুরু হয় মা-বাবার হাত পাকড়াও করে। দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। এটা একটা খেলার মতো। তবে হারজিত নেই। তেমনি লেখাপড়ার শুরুতে অক্ষর চেনা ও…
-

রায়পুরা থেকে ময়মনসিংহ
প্রায় ৪০ বছরের কর্মজীবনে জীবন বীমা করপোরেশনের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কাজ করার এবং পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে। প্রায় সবার কাছ থেকেই আমি সহযোগিতা পেয়েছি। সব মানুষ একরকম হয় না। সবার মনের উদারতাও একরকম হয় না। একজন নারী হয়েও কর্মক্ষেত্রে আমাকে কোনো ধরনের হয়রানি বা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি – এটা সিনিয়র-জুনিয়র সব সহকর্মীর মন-মানসিকতার…
-

তরুণ মজুমদার : অগ্নিজয়ী পুরুষ
প্রারম্ভবচন গত ৪ঠা জুলাই ২০২২ সোমবার বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং খ্যাতিমান পরিচালক তরুণ মজুমদার প্রয়াত হলেন। ৯২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যুকে আমরা নিশ্চয়ই অকাল প্রয়াণ বলবো না। পরিপূর্ণ বয়সই বলবো বরং। বিস্ময়কর ব্যাপার, ২০১৮-তে যখন তাঁর বয়স ৮০, তখনো ছবি করেছেন তিনি। ফ্রান্সে যেমন জাঁ লুক গদার। ওই ২০১৮-তেই, গদার ছবি করেছেন ঞযব ওসধমব…
-
গীতগোবিন্দ
বাংলা কাব্য-রূপান্তর : অসীম সাহা পঞ্চম পর্ব নবম সর্গ গীত রাগ : রামকিরী ॥ তাল : যতি অভিসারে হরি গেছে তোমার ঐ ঘরে। এরচেয়ে কিসে সুখ, বলো সখি ওরে ॥ মাধবে করো না মান, হে অভিমানিনী! তাল-ফল হতে এ যে অতি গুরুভার। স্তন দুটি খুব বেশি সরস তোমার ॥ যতো কথা বলি, তাও মানো তুমি…
-
আমার মাতৃচুম্বনের আদি স্বর
মেঘেদের আড়ালে হাসছিলাম হাহা। ঠা-ঠা ডিগবাজি খাচ্ছিলাম সপ্ত-ঋষির পবনে-পর্বতে। মুহূর্তের তিমিরাক্ষী আলোকপোশাক রূপবদলরত অনবরত। ভীতসন্ত্রস্ত আমি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম স্বর্গমর্ত্য অমাদিগন্ত। আমার আগে-পেছনে আমাকে খুঁজে খুঁজে পাহারা দিচ্ছিল হাজার হাজার কোটি কোটি আমার আমি। যেহেতু আমার আগে-পেছনে আমার পেছনে-আগে ছুটছিলেন বড়শি হাতে আমার মানবজনক। জনক তো নয়, খলুই হাতে এক মৎস্যশিকারি। শিকারি তো নয়, সুদর্শন চক্র…
-
আশ্চর্যবিকেল
কয়েকটি মুহূর্তমাত্র, যেন একপলক দৃষ্টির লেনদেন, তারপর থেমে গেছে সব কথা বুকের ভেতরে জমা যত আলোড়ন, কিছুই নেয়নি সাথে শুধু নিয়ে গেল এক দারুণ বিস্ময়! রংধনু উঠেছিল বৃষ্টিভেজা আকাশে রৌদ্রের আলো মøান। এই দৃশ্য সত্য শুধু দুজনের কাছে; কোথাও সাক্ষ্য নেই কেউ পেছনে জানালা খোলা সেই জানালায় আকাশের রংধনু আজও তো তেমনই দৃশ্যমান! একটি শালিক…
