কবিতা

  • গহনে যে আকাশ

    ঊরুর গহনে যে আকাশ ‘খ’-পুষ্প সেখানে ঝরে, চন্দ্র-সূর্য, আছে গ্রহতারা আলোময় জন্ম, মৃত্যু; বলো, গিরিমুখ খুলে গেলে                     কী আহুতি। পারে পারে ঘাট কত মায়াবন, মরা ইতিহাস সেতুর ওপরে ওই দাঁড়িয়ে পথিক। বলো হে অক্ষরমালা, আজন্ম ঝঞ্ঝাট; অকিঞ্চিৎ লাগে জীবনের বাড়ি ফেরা।

  • অশেষ উপসংহার

    ১ আমি কি এক অচেনা জলবায়ু? স্তম্ভিত ভাঙার অন্তঃপটরেখা। যদি তাই … আমি কি ছিলাম           তোমার নিদ্রাহীনতা? যে তোমাকে প্রত্নসত্য বলে দিত। ঋতু এলোমেলো, কখন হেমন্ত গেছে, বৃষ্টি অন্য চলনে এলো, শীতে অনেক শালিক মরে গেছে। যদি তাই … নীরবে বাড়াই হাত           কাদা থেকে তুলতে বেড়ালের শাবক। উড়ে যায় অন্ধকার ফুটিয়ে জীবন্ত জীবাশ্ম-স্মৃতি।…

  • বাবার দৃষ্টির মুগ্ধতা

     কিছুই লাগতো না জানি বাবার জমির একমুঠো কলই শাক ছাড়া   অথচ অসুরের মতো ছিঁড়ে আনলি ফসলসমেত গোটা মাঠখানি। কিছুই লাগতো না জানি বাবার গাছের একটি কচি ডাব ছাড়া অথচ দানবের মতো ঘাড়ে করে বয়ে আনলি আস্ত দিঘিটাই। কিছুই লাগতো না জানি বাবার ভিটের একমুঠো বাসক ফুল ছাড়া অথচ দৈত্যের মতো ছিঁড়ে আনলি গোলাপের পুরোটা সংসার।…

  • কিছু কথা

    একটা সুন্দর দৃশ্য শতধারায় মনে থাকে অনেক কাল। বহু অনুপম ঘটনা জীবনের শূন্যরেখা পর্যন্ত – যায়। কিছু কথা মন থেকে মোছে না কখনো। রক্তের প্রবাহে লেখা হয় চেতনার চিলেকোঠায় থেকে যায় কিছু সুবাস জাগানো কথা।  আদিগন্ত সবুজে ভরা দুই একটা হাসি কান্না। সাগরের ঢেউ হয়ে ঘুরে বেড়ায় স্রোতে স্রোতে দুই একটা চোখের চাওয়া। প্রেম-চোখ,  ভালোবাসা-চোখ…

  • সংক্রামক

    দৃশ্যত ভয়ানক একটা কিছু হয়ে যেতে যেতে এক হ্যাঁচকায় অন্ধকার খাঁড়ির গা থেকে পিছলে যাওয়া পা-টাকে নিরাপদ আশ্রয়ে তুলে আনলাম। আমারই বরাতজোরে এ-যাত্রায় বিবশ প্রাণটুকু রক্ষা পেল! নইলে নিশ্চিত মরণ থেকে স্বয়ং ঈশ^রও বাঁচাতে পারতো কি না সন্দেহ। কিন্তু জীবন এ-কোন মোহনবাঁশির সুরে ভোলায় আমাকে? পাহাড়ে ধস নামলে যেভাবে নিম্নগামী পাথর পতনোন্মুখ হয়ে পড়ে অথবা…

  • দম্পতি

    রাত বাড়ে কিন্তু ওরা ঘুমাতে যায় না রাত আরো বাড়ে ওরা হাঁটে এ-ঘর থেকে ও-ঘরে ও-ঘর থেকে বারান্দায় বারান্দা থেকে আবার অনেক ভেতরে ওরা হেঁটে বেড়ায়। ঘুম যায় না! গভীর অন্ধকার ডিম লাইটের অস্পষ্টতার সাথে মিলেমিশে ঘন এক আবেগের জন্ম দেয় এলোমেলো বুকের ওপর গরম নিশ্বাস পড়ে তারপর একসময় কথা শেষ হয় নড়াচড়া থেমে যায়…

  • দুধভাত

    ভাবছি কোথায় আছি কানের কাছে হাওয়ার ফিসফিস খিদে পেলে দুধভাত খেতে বলছে কেউ দুধ কি সহজলভ্য, আর ভাত জোটে কি সহজে? চুরি হওয়ার পর মাছগুলো উড়ে গেছে দূরে কোথাও ভাবছি কোথায় আছি দেখছি মেঘের সাজ কেউ একজন বলছে ফুলের কথা অথচ লতা দেখে পাচ্ছি ভয়, যেন সরীসৃপ! কী নিয়ে লিখবো কবিতা দুধভাত খেতে বলছে কেউ…

  • কবিতাকাশের গুচ্ছ

    ১.  পান্হপাদপ হতে চেয়েছি –      ক্লান্ত বাউলের ছদ্মবেশে যদি আসো তুমি,      একতারা থেকে হয়তো সুর ঝরবে না,       হয়তো কোনো না-শোনা গান কখনো শোনা হবে না,       হয়তো আমাকে চিনতেই পারবে না,        ফিরে যাবে – ফিরেও তাকাবে না;        তবু যদি আসতে। ২.   ধুলোভরা পথ হতে চেয়েছি –       তোমার দুপায়ে জড়িয়ে…

  • এক জীবন

    এক জীবন যাপন করার সাহস রাখি; রাত হলে শব্দবান্ধবে ভবনদী পাড়ি দিই; একমুখী কুটিরের রোদ-সোনা মেঝেতে দণ্ডমুণ্ডের কর্তাকে নিয়ে পাশ ফিরে শুই। এক জীবন গুহামুখী আঁধারে চারিধার; বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে, মন ভালো সহবত; বিষম বিস্ময়ে, বিস্মরণে, দিন গুজরানো; মধ্যে মধ্যে সামাজিক, বাকি দিন যাযাবর।

  • জানি বৃষ্টি আসবেই

    সারাদিন বৃষ্টি-প্রার্থনায় থাকি একটুকরো মেঘের জন্যই প্রত্যাশা এমনকি রাত্রিও যায় বিষণ্ন রোদনে মাঠজুড়ে ধানকন্যার কষ্টের প্রলাপ মেঘেরা উড়ে উড়ে বনবাসে যায়, চৈত্র কি শাওন কি পৌষের হিম কোথাও বৃষ্টি নেই জনপদে শিশুদের তীক্ষ্ণ বিলাপ মায়েদের শুষ্ক ওলান, তবে এর সবকিছুই ক্ষণিক যেমন রাত্রি দিনের জন্যই নামে যেমন চমৎকার সকাল উপ্ত থাকে শর্বরীর ঘনকৃষ্ণ খামে তেমনি…

  • রেইনি

    বৃষ্টিবাদলার ঢাকা মেঘদূতের মহল্লা পুড়ে যাওয়া মল্লার ভেজা আত্মার এস্রাজ পট্যাটো রোস্টেড না ম্যাশ ভ্যান গঘ জানেন বেশ এই কাদাপানির রাস্তা সানাইয়ে বিষণ্ন বিসমিল্লা ও মেয়ের স্তনের বনাঞ্চল হঠাৎ প্রেম লেগে চঞ্চল হু-হু হাওয়ার সমাধি, আজীবন রোদ মাথায় আমি আজ তোমার মেঘলা মনের মুখোমুখি।

  • একটি প্রার্থনা

    সময়ের টুঁটি চেপে ধরে বলি তোমার আগেই রবে আমার শকট ভীরুতার তরবারি ভেঙে গেছে অশোকের হাতে গগনে তবু শুধু নৈরাজ্যিক মাঠ এখানে দেখবে মঞ্চে দর্শক টিকিট কেটে খেলা তাই তো এবার নয় পাতানো সংবাদ নিয়ে করতালি দেয়া এখন দুপুর নামে ভয়ার্ত তিমিরে মেঘলা চাদরে সব কিঙ্করীরা ঘুমে করোনা নামের এক দৈত্য এসে দরবারে বসে বাজায়…