কবিতা

  • দখল

    অঋব যেখানে যেখানে যেত, আমি এখন যাইবাবা যেখানে যেখানে যেত, আমি ঘুরে আসি সব অনায়াসে ঘুরে আসা যায় শূন্যস্থানপায়ে হাঁটা লাগে না চাইলেই ঘুরে আসা যায় বিষণ্নতা গুলিও বাবা যেসব জমিতে চাষ দিতেনবাবা যেসব জমিতে আঁচড়া ও নিড়ানি দিতেনআমিও তাই তাই করি মনকৃষিতে আমার ছেলে অঋব যেসব অবিশ^াস্য কাজ করতবা দুষ্টুমি করত, এখন আমিও করিএকা…

  • মৃতদের গল্প

    আকাশ যে নীল নয়এ-কথা জেনে গেছে মৃতরাওতারাও ওড়াতো ঘুড়ি এতোকালরংধনু কেটে কেটে ভাসাতো ধীবরকালেকতশত সাতরঙা নাও। নেবুলা গুঞ্জনে আকাশ কি আজ ফালা ফালা?শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে মৃতদের? আকাশ যে নীল নয় এ-কথা জানার পরমৃতরাও পালালো শহর ছেড়েআকাশের গল্প নিয়ে সেই থেকেখেদ নেই কারো আর আকাশবিহীন অন্ধকার রাত পৃথিবীতে নেমে এলেমিল্কিওয়ে ঘুরে ঘুরেএকাকী জোনাকি শুধু জ্বলে আর…

  • মথুরাপুরের সুদর্শনা

    বুধবার প্রেমার বন্ধ থাকে –সেদিন মথুরাপুরের পোলাপানদেরমন খারাপ হয়।বাজারের নরসুন্দর নিশিকান্তশচীনকর্তার গান বাজায়। পোলাপানরা ডাল ভাঙেগৃহস্থের গাছ হতে ফল পেড়ে খায়সন্ধ্যা নামলেই বেনোজলের আশায়গন্তব্য তাদের ইসলামপুর ঘাট। বাজারের আধাপাগল রঘুহাসিখুশি পানদোকানদার সুজনেরও নাকি কষ্ট হয়।বুধ যায় বৃহস্পতি আসে, একই ভাবে শুক্র, শনি!কষ্টরা জড়ো হয় ব্রেনের ঠিক মাঝখানে। আশ্বিন মাসের প্রথম দিন হলুদ সকালবেলানগরকীর্তন দলে তারে…

  • বিরহগাথা

    কবিতার সঙ্গে অনেকদিন কথা বলা হয়নিশোনা হয়নি অনেকদিন তার হৃদয়ের ধুকপুকআজ কাছে গেলে মুখ ঘুরিয়ে নিল কবিতা,অভিমানে বসে রইল নিশ্চুপ অপরাধী আমি অনর্গল কথা বলে চললামমান ভাঙাতে কথা গেঁথে গেঁথে পরিয়ে দিলাম শব্দের মালাসাময়িক বিরতি বিরহের জন্ম দিলে গাঢ় হয় প্রেম,বারবার বোঝালাম সে-কথা কবিতা হাসল না কবিতা কাঁদল নাছিঁড়ে ফেলতে উদ্যত হলো শব্দের মালাআমি দাড়ি,…

  • দর্পচূর্ণ

    অবান্ধব দর্পে কেবলই একাকিত্বের ব্যাধি,বিরান শীত-তাপে মর্মপীড়ারা ফিরে পায় খাস জায়গা।ইথারের মাঝে মেঘের ঘনঘটালিখে ফেলে যত দেনা-পাওনার লহরি জানতাম, একদিন তুমিও একা হবে!অর্ঘ্য সাজিয়ে ডাকবে ঈশ্বরকে,নীড়হারা বিহঙ্গের মতোঅঝোর নয়নে কাঁদবে।সেদিন এক ফোঁটা জলও হয়ে উঠবে রুপার দানা!দম্ভের আশকারায় কিছুই হারানোর থাকবে না –ঈর্ষার নথিপত্রে নিয়মের অনিয়ম ভেঙেই দ্যাখো একবার।

  • বিদ্বেষ ও ভ্রান্তির শেষে

    কী করে এলাম এই এতদূরে বিমূঢ় চাতালে পথে পথে ছিল বুঝি ভ্রান্তির বিদ্বেষ        হয়তো সেটাই ছিল হিসেবের ভূত – হাতছাড়া হয়ে গেছে কতকিছু        প্রায় শূন্য হয়ে এলো আমার ভাঁড়ার, হয়তো প্রবীণ দিন খুবলে খাবে আরো কতকিছু! তখন ব্যাকুল হাত হাতড়াবে স্মৃতির খনিই নাকি ওকেই বলেছে কেউ           জ¦লে-ওঠা দ্যুতিগর্ভ জীবনআধার! সারাটা জীবন আমি…

  • তাকাও একবার তুমি  

    যে-দৃষ্টিতে তাকালে অঝরে মন্ত্রবাণী ঢেলে দেয় নিষ্ফলা আকাশ সে-দৃষ্টিতে তাকাও একবার  যে-দৃষ্টিতে তাকালে রাত সেও বনে যায় রমণীয় চুলের বিস্তার সে-দৃষ্টিতে তাকাও একবার যে-দৃষ্টিতে তাকালে পাখির ঝাঁকের মতো স্বপ্নেরা বাড়ি ফিরে আসে সে-দৃষ্টিতে তাকাও একবার। বাগানের ফুল নয়, আত্মার গহন থেকে রং তুলে দাও মস্তকপ্রসূত প্রেম নয়, অকৃপণ রোদ হয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাও তাকাতেই প্রেমে…

  • কেবলই ছবি

    জীবন যখন আমি যেভাবে সাজাই কেবলই ছবি হয়ে যাই – অপরাহ্ণের রোদ ক্রমে দীর্ঘ হতে হতে যেভাবে ছায়া হয়ে যায় – যেভাবে অস্তমিত সূর্যের আগুন-উৎসবে মিশে যায় ধ্বংসোন্মুখ ছায়াচিত্র দিন – সেভাবেই; আকাশে বিছিয়ে-থাকা বৃক্ষের শাখারা বিছিয়েছে ছায়া পথে পথে – সেরকম কেবলই ধাবমান মেঘের ছায়ারা ছুটে যায় বৈশাখী রোদের ভেতর; আমিও তেমন যেন কোন…

  • বেলা বয়ে যায়

    বেলা বয়ে যায়, বিকেল ঝিমোয়, সন্ধের নেই দেরি বেলা বয়ে যায়, বৃথা তন্দ্রায় ভালো না কালক্ষেপ বয়ে যায় বেলা, শেষ হয় মেলা, ওপারে যাওয়ার ফেরি ফেলেছে নোঙর, মনের পাথরে মাথা খুঁড়ে আক্ষেপ গত মুহূর্ত অতীতের দিকে অনেক দূর তো গেল কিছুই হলো না, শরতের সোনা রোদ্দুর দিলো ফাঁকি ভেসেছি উজানে, টেলিফোন কানে লাগিয়েই শুনি হ্যালো…

  • দেশভাগ

    প্রেমিক-প্রেমিকারা আজো   বনের ছায়ায়   লেখে নাম  অবিরাম কেবল   কিশোরী এক   কোন অভিমানে লিখেছিল গাছের বাকলে   ‘আমরা চলিয়া গেলাম;’ কারা কারা গিয়েছিল  কেই-বা কোথায় লক্ষ্মী কী রাখে খোঁজ    কে কেন হারায় কিংবা   রাতের আকাশে   অসীম শূন্যতার মাঝে যে তারা   রয়েছে ঢেকে    মেঘের ছায়ায় ভালোবেসে তারে    কেউ কী ফেরায়; শুধু কবি শোনে   ঝরা পাতার মৃদু মর্মরধ্বনি যেন…

  • শালবীথি ও রবীন্দ্রনাথ

    আমি তোমার সাথে হেঁটেছি শালবীথি ভুবনডাঙার পথ – সে ছিল মধ্যরাত ঘুমায়নি শালতল – তোমার  সাথে কথা বলবে বলে বেছে নিয়েছে রাত জোছনা-গলা হাত আমার সাথে ওরাও নিশিরাত; নির্জনতার অন্ধকারে পাশেই মৃণালিনী শম্পা এসে বললে ধরে হাত – কেন? কবির সাথে যাবে কোথায় তুমি? সর্বনাশা পথ – কবি ছাড়া ওখানে কেউ নেই; যাক না কবি …

  • জীবন

    উঠোনের একপাশে আটপৌরে পুরনো বাগানে হাওয়ার সেতার শুনে ঘুম ভাঙত কণ্ঠী ঘুঘু – বনতুলসী-মাধবীলতার। রোদ্দুরে হাত-পা সেঁকে শীতের সকালে আমরাও আসতাম সুন্দরের খোঁজে। পঞ্চশর হাতে যার, যে-অতনু বন্ধ দরোজা খুলে দেয়। বৃষ্টিধোয়া তরুণী গাছের সাজগোজ শান্ত চোখে মিশে যেত গোধূলি তরঙ্গে দশ খুশির বোল আর জয়ঢাক সারাদিন বাজত এই বুকে। পাহাড়ের চূড়া ছুঁয়ে প্রসন্ন সন্ন্যাসী…