ছোট গল্প

  • কবি লিখলেন মেঘ

    কবি লিখলেন মেঘ

    যেন অর্ধশান্ত নদীর ঢেউ। কবির মনে পড়ছে কয়েক মাস আগে দেখা যুবকটির কথা। উজ্জয়িনীর পাশঘেঁষে বয়ে চলা শিপ্রা নদীসৈকতের এই এলাকাটি কবির খুব প্রিয়। প্রকৃতির প্রতিটি অঙ্গ এখানে প্রাণপ্রাচুর্যে পূর্ণ। আর কবি যখন আসেন, রাত্রির শেষ ছায়া আর দিনের প্রথম আলোর সন্ধিক্ষণ। কৃত্রিম কোলাহল নেই, সবুজের নৈঃশব্দ্য, পাখির গান, শিপ্রার ওপারে নেমে থাকা আকশ; যে-কারো…

  • তিন নম্বর ফুসফুস

    তিন নম্বর ফুসফুস

    মোবাইল ফোন বেজে উঠল। অচেনা নম্বর। এইসব ফোন ধরবার কোনো মানে হয় না। ধরলেই যে কথাবার্তা হবে তা এইরকম … – আপনি কি শ্রী সুনীল তলাপাত্র? – হ্যাঁ। – আমি সোনালী মজুমদার, নিউ কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে বলছি … আপনার সঙ্গে পাঁচ মিনিট কথা বলতে চাই, বলা যাবে? – হুঁ, বলুন … একটু তাড়াতাড়ি … –…

  • অকিঞ্চিতের ঈশ্বর

    অকিঞ্চিতের ঈশ্বর

    এ -গল্পে অপুই মারা গেল বর্ষার টইটম্বুর পুকুরে নাইতে গিয়ে। ওর নাম আসলে অপু ছিল না, ছিল শ্রীমান অতুল কুমার দত্ত। অতটুকু নাম অতুল, তাকে আরো ছোট করে অতু বলে ডাকতো সবাই। ওর বড় বোনের নাম দুর্গা বলে আমি অতু না ডেকে অপু ডাকতাম। ছ-সাত বছরের অপু আমার অনেক কাজে লাগতো। ‘অপু, বাবলা গাছের কাঁটাআলা…

  • ফিকে জোছনা কিংবা রংজ্বলা চাঁদ

    ফিকে জোছনা কিংবা রংজ্বলা চাঁদ

    বিয়েটা ভেঙে গেল তিন মাসের মাথায়। তিন মাস পুরোও হলো না মনে হয়। তবে এটি খুব বড় কোনো সংবাদ নয়। তেমন কেউ মনেও রাখেনি বিষয়টি। যারা আগ বাড়িয়ে এসব বিষয় ঘাঁটাঘাঁটি করে তারাও ক্রমশ থেমে গেল। আর কাঁহাতক! এমন তো হতেই পারে। হয়েই থাকে। পাচুলির নিজেরই ভরসা ছিল না। কেননা, এমন ঘটনা সে বহু দেখেছে।…

  • অমলের মৃত্যুর পর

    অমলের মৃত্যুর পর

    অমলের মৃত্যুর ক’দিন পর আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লাম। কোথায় যাবো মন ঠিক করে বেরোইনি। সুফিয়াকেও কিছু বলে আসিনি। বাড়িতে বলে-কয়ে কি আর গৃহত্যাগ সম্ভব? কোনোমতেই সম্ভব নয়। স্ত্রী-সন্তানেরা কেঁদে-কেটে বুক ভাসাবে। পরিবার-পরিজনের চোখের পানি দেখলে মন গলে যাবে। যা চাই, তা আর করা হবে না …। সমাজ-সংসার ত্যাগ করা খুবই কঠিন কাজ। সংসারে একবার…

  • কুহেলিকা

    কুহেলিকা

    দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত শীত এসেছে। বেশ জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়ছে। তীব্র, কনকনে ঠান্ডা। সঙ্গে অস্বস্তিকর কুয়াশা। এমন আবহাওয়ায় হাঁসের মাংস আমার খুব প্রিয়। আমি জানি, একমাত্র হাঁস-ই তার যাবতীয় উষ্ণতা বাঁচিয়ে রাখে নিজের শরীরের পালকের নিচে। সেই পালক উপড়ে আমি উষ্ণতা খুঁজি আমাদের কৈশোরবেলা থেকে। এ-কারণেই ছেলেবেলায় গ্রামে থাকতে আমি হাঁস পুষতাম। নিয়ামত ডিমবালার কাছ…

  • এইসব দুঃখকষ্ট, এইসব হাসিকান্না

    এইসব দুঃখকষ্ট, এইসব হাসিকান্না

    আকন্দ সাহেব মন খারাপ করে বাড়ি ফিরলেন। রাহেলা দরজা খুলে দিলো। অন্যান্য দিন আকন্দ সাহেব ঘরে ঢোকার সময় রাহেলাকে কিছু না কিছু একটা বলেন। কথা না বললেও রাহেলার দিকে তাকান, তাকিয়ে একটু হাসেন। আজ তিনি ওসবের কিছুই করলেন না। রাহেলা তার বাবার দিকে তাকিয়ে থাকল। সে-ও তার বাবার মতো চুপচাপ থাকে। আকন্দ সাহেবের মন কি…

  • রোবোটাব্দ

    রোবোটাব্দ

    আমার সবচেয়ে পছন্দের সাহিত্য সম্পাদক যখন এলেন সেদিন, তখন আমি ঝগড়া করছি। সপ্তাহখানেক হলো খুব বেগোড়বাই করছে চাকরটা। খাচ্ছে, দাচ্ছে, ঘুমোচ্ছে – কিন্তু কাজ করছে না কোনো। কী কী সমস্যার কথা নাকি বলছিল কদিন ধরে, শুনিনি বলেই অসহযোগ। এখন আবার কুলুপ এঁটেছে মুখে; গণ্ডগোলটা কী, বলছেই না। হাসপাতালে নিয়ে যাব, সে-সামর্থ্যও আপাতত নেই। এমনিতে গাধাটা…

  • অমিল-অংক

    অমিল-অংক

    ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি প্রচণ্ড শব্দে আকাশে উড্ডয়ন করল! দুপুরের আকাশে খণ্ড খণ্ড সাদা মেঘ। রাশেদের মনে হলো, পিচঢালা সড়কপথের বেশ ভারী রোস্টার মেশিনটি তার বুক পিষে নিয়ে গেল! যে-যন্ত্রটির পেষণে প্রৌঢ় রাশেদ ক্ষত-বিক্ষত। যন্ত্রণায় হাত-পা অবশ হয়ে আসছে তার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক নম্বর টার্মিনাল ছেড়ে সে আস্তে আস্তে পা বাড়ায়। ঘর্মাক্ত…

  • রোজভ্যালি

    রোজভ্যালি

    মিজানুর খান বাইরে থেকে কিঞ্চিৎ ধাক্কা দিতেই দরজাটা খুলে গেল। ক্যাঁচক্যাঁচ করে একটা চিকন শব্দ হলো শুধু। রুশনারার কাছে এই আওয়াজটা খুবই পরিচিত। ওর মুখস্থ হয়ে গেছে – কত জোরে ঠেলা দিলে ঠিক কতটুকু আওয়াজ হয়, কেমন হয় সেই আওয়াজ। তাই সে এখন আর আগের মতো বিরক্ত হয় না, হলেও নিজেকে বুঝ দেয় – আর…

  • না-বলা কথা

    না-বলা কথা

    লাউঞ্জের বাইরে বেরিয়ে বাবাইকে হাত নাড়তে দেখে এতক্ষণকার যাবতীয় উৎকণ্ঠা দূর হলো। প্রথমত এই আমার পয়লা আকাশপথে ভ্রমণ, তার ওপর সাত সমুদ্দুর তেরো নদী পেরিয়ে সম্পূর্ণ অজানা দেশে! টানা বারো ঘণ্টা একনাগাড়ে বসে থেকে হাতে-পায়ে যেন খিল ধরে যাওয়ার জোগাড়। আমার পাশের সিটে এক সাদা চামড়ার মাঝবয়েসি বিশালবপু সাহেব বসে ছিলেন। শুরু থেকেই আমার জড়সড়…

  • করোনা কথা

    করোনা কথা

    শিশির ভেবেছিল ওর হবে না। শেষমেশ ওরও হলো। সামান্য খুসখুসে কাশি আর না-বলার মতো জ্বর। একশর নিচে ওটা কি কোনো জ্বর ? তবু সে বরাবরই সচেতন মানুষ। তিন মাস আগে ডি ভিটামিন খেয়ে রেখেছে পেটপুরে। স্ক্যাবো, লং-চা, লেবুর সরবত, হোমিও ওষুধ – কোনটা নয়? মাস্ক-শিল্ডের আভরণে চেহারা চেনা দায়, মধ্যযুগের বর্ম পরা সৈনিক যেন সে।…