ছোট গল্প

  • আহীর আলমের বাম পা

    আহীর আলমের বাম পা

    আর ইকটু ইকটু …শরীরের নিচের অংশ খাটের ওপর রেখে কোমরের ওপরের অংশ শূন্যে ভাসিয়ে পাশের টেবিলের ওপর থেকে পানির গ্লাসটা ধরার চেষ্টা করছেন আহীর আলম। বাঁ হাতে মাথার কাছের খাটের বাতা ধরে ঝুঁকে ডান হাত বাড়াচ্ছেন পানির গ্লাসটা ধরার জন্য। বারবার চেষ্টা করছেন; কিন্তু হাফ ইঞ্চির জন্য জলভরা জগটা পাচ্ছেন না নাগালে। চেষ্টা করে নাগালে…

  • আকালির করোনাকাল

    আকালির করোনাকাল

    গমগম আওয়াজে আকালির ঘুম ভেঙে গেল। ঠিক গমগম নয়, খেলার মাঠে দর্শকদের উত্তেজনামুখর আওয়াজের মতো কিছু। আর তার মনে হলো নিশ্চয় কোথাও ফুটবল খেলা হচ্ছে! নিশ্চয় সেখানে প্রচুর দর্শকের সমাগম। খেলাও তাহলে খুব জমে উঠেছে! না হলে এমন আওয়াজ তার কানে ভেসে আসবে কেন? আকালি বিছানায় উঠে বসল। আওয়াজটা ভালো করে কানে নিল এবং বুঝতে…

  • স্টেপ ব্রাদার

    স্টেপ ব্রাদার

    মোহাম্মদ কামরুজ্জামান অস্ট্রেলিয়া  থেকে  চাচার  জন্য  একটা  মোবাইল  সেট পাঠিয়েছে। চাচা সেই সেটটা বুকপকেটে রাখেন। সেটটা লম্বা। বুকপকেটে রাখলে সেটার আগা বের হয়ে থাকে। অফিসের কলিগরা দাম জানতে চান, মডেল জানতে চান, অপশন নতুন কী কী আছে জানতে চান। চাচা উদাস মুখে বলেন, ‘কী জানি!’ কলিগরা তখন বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘কিনেছেন – জানেন না! তাহলে…

  • জাঙ্গুলী

    জাঙ্গুলী

    নোনা বাতাসের ঝাপটা এসে লাগছে ওদের চোখেমুখে। জাঙ্গুলী আকাশের দিকে তাকিয়ে জলই দেখতে পেল। মেঘের রং ঘন কালো। পুরো আকাশই যেন একটা বিরাট কালো সাপের মতো ওদের মাথার ওপর দণ্ড তুলে দাঁড়িয়েছে। দূরে সাগরের জল স্থির, নদীর জলেই কেবল কাঁপন। নৌকায় দুজন মাত্র আরোহী। নৌকাটা বুড়োবুড়ির তট থেকে যাত্রা শুরু করেছে। গন্তব্য নামখানা। গতি একটু…

  • কুয়াশার হরিণ

    কুয়াশার হরিণ

    জয়পুর গ্রাম। নামটা এমনিতে খুব নিরীহ শোনালেও এই গ্রামটির ঠিক পাশ দিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের বিপজ্জনক সীমান্ত। বিপজ্জনক এই জন্য যে এদিকে বিজিবির কড়া পাহারা আর ওদিকে বিএসএফের নিñিদ্র নিরাপত্তা। তবে কথা হলো, সকল নিরাপত্তার মধ্যেও কিছু না কিছু ছিদ্র মনে হয় থেকেই যায়। নইলে লখিন্দরের ঘরে সাপও ঢুকত না আর লখিন্দরকেও সর্পাঘাতে মরতে হতো…

  • খাঁচার পাখি বলে

    খাঁচার পাখি বলে

    কোনো একসময় কাঁটাবনে কাঁটাময় লতাগুল্ম ঝোপঝাড় হয়তো ছিল, নইলে অমন ধারালো নাম কেন? নগণ্য সেই পড়ো অঞ্চলটি শোভন সাজসজ্জা আর কংক্রিটের রম্য ঘাড় তুলে এখন দাঁড়ানো। রাস্তা লাগোয়া দৃষ্টিনন্দন এক বহুতল ভবনের নিচের স্পেসে বসেছে অনেক বইয়ের দোকান। পায়েলের পছন্দসই জয়তী নামের দোকানটি ওখানে আলো করে আছে। অসহ্য জ্যামের শহরে চলাচলে ভোগান্তি, যাই যাই করেও…

  • থুতু-সম্রাট

    থুতু-সম্রাট

    এক খুব সন্তর্পণে একটা মাকড়সা ঘুরে বেড়াচ্ছে ভেতরে। অস্থির ভঙ্গিতে এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত দৌড়াচ্ছে কখনো; কখনো মেপে মেপে পা ফেলছে ঢিমেতালে, আবার কখনো একদম স্থির বসে থাকছে ঘাপটি মেরে। তখন আর তার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না বেশ কিছুক্ষণ। এই অবস্থাটাই নাসিরের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর। আচমকা কোন দিক থেকে ঝাঁপ দেবে সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হচ্ছে…

  • রোগ

    রোগ

    গত তিনদিন ধরে শহিদুলের বউ কাঁদছে। যেনতেন কান্না নয়, চিৎকার করে বস্তি মাথায় ওঠানোর মতো কান্না। প্রথম প্রথম আশেপাশের লোকজন আহারে-উহারে করলেও এখন তারা আর ব্যাপারটা নিতে পারছে না। ফরিদা ডুকরে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দরজায় চড়-ঘুষি দিয়ে মুখ খিস্তি করে গালাগাল করছে। ফরিদার অবশ্য তাতে কিছু আসে-যায় না। একমাত্র মেয়ের জন্য সে শোক করবেই। আহারে,…

  • রিবন

    রিবন

    ম্যারিনা নাসরীন এক  নভেম্বর মাসের একুশ তারিখ বিয়ের দিন ধার্য হয়েছে। হাতে আছে মাত্র দু-মাস। পল্টনে আড়াই কামরার ভাড়া করা বাসায় শফিকের সঙ্গে নাদিয়ার যুগলজীবন সেদিনই শুরু হবে। আড়াই কামরা বলতে দু-বেড আর ড্রইং কাম ডাইনিং। বিয়ের এক মাস আগে শফিক মেস ছেড়ে এই বাসায় এসে উঠবে, তেমনটাই ঠিক হয়েছে। নাদিয়ার কথা, নতুন সংসারের প্রতিটি…

  • আশ্চর্য অসুখ ও একটি চার মাসের ভ্রুণ

    আশ্চর্য অসুখ ও একটি চার মাসের ভ্রুণ

    সাত্যকি হালদার শতরূপার বিয়ে ভালোবেসে হয়নি। শতরূপা ভালোবেসে বিয়ে করতে পারেনি। বলা যায়, শতরূপা যাকে ইউনিভার্সিটির শেষদিক থেকে ভালোবাসত তার সঙ্গে ওর বিয়ে হয়নি। ও এমন একজনকে বিয়ে করেছিল যাকে ও আগে ভালোবাসার সুযোগই পায়নি। অথচ সেই বিয়েটাকে প্রবল ভালোবেসেছিল শতরূপা। এমন অনেক ভালোবাসা না-ভালোবাসা আঁকড়েই ওর চারপাশের জীবন। বিক্রমজিতের চেহারা-চরিত্র-রুচি, কোনো কিছুর সঙ্গে মিল…

  • চোরাকাঁটা

    চোরাকাঁটা

    শিল্পী নাজনীন পাশের ঘরে রেবু কাঁদছে। ফ‍্যানের আওয়াজ ছাপিয়ে ক্ষীণ শব্দ ভেসে আসছে কানে। তীরের মতো বিঁধছে। প্রতিদিনের এই অভ‍্যস্ততা হাঁপ ধরিয়ে দেয় মাঝে মাঝেই। দম বন্ধ লাগে তখন। রেবু তবু কাঁদে। রেবুকে অসহ‍্য লাগে আজকাল। প্রকাশ করি না। করতে পারি না। করা যায় না আদতে। অভিনয়ের এই ঘৃণ‍্য পারঙ্গমতা ধীরে ধীরে আমার ভেতরে কেমন…

  • সোঁদা মাটির ঘ্রাণ

    সোঁদা মাটির ঘ্রাণ

    এক সন্ধেবেলায় কোত্থেকে ফিরে এসে মা বলল, ‘এভাবে আর যে চলে না রে শুভ। এখানে থেকে আর কী হবে? তার চেয়ে চল আমরা গ্রামেই ফিরে যাই।’ হঠাৎ মায়ের মুখে গ্রামের কথা শুনে মনে হয়েছিল ভুল শুনছি বোধহয়। ফের একবার শোনার জন্য জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘কোথায়?’ মা বলেছিল, ‘গ্রামে।’ আমি যেন একটা ঘোরে পড়ে গিয়েছিলাম, ‘গ্রাম? কোন…