June 2021
-
প্রিয়তম পৃথিবী আমার
গাছেরা মেতেছে খুব নান্দনিক নাচে অবেলার এই অকাল বসন্তে এবার, গাঢ় নীল আকাশের তলে পাতারাও নামিয়েছে সবুজের অঢেল সুন্দর – দূর শৈশবের পরে বাহারি ফুলের দল ছত্রিশ রঙের আয়োজনে কখনো এমন মেতেছে বলে মনেও পড়ে না; ছায়াতলে শীর্ণ গাছেরাও যৌবনের নানারং ঘাগরা মেলে আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে সেও ফেলনা কেউ নয়; অন্যদিকে মানবসংসারে আজ তীব্র হুলস্থূল…
-
নাগরিকপঞ্জি
যেন অকালদণ্ড দুলছে দোলনায় তীরে গাছগুলি ঝাপটায় ডানা উড়ন্ত কদম্বরেণু বাতাস উজাড় করে আঁখি তোমার ঢুলে আসে ঘুমে অলাতচক্রের মধ্যে ঝাঁপ দিলো কে? মহাদেশ মহাকাল ভেসে যায় ফুলগুলি ঝরে – শিউলি দোপাটি ব্যারিকেড পার হলে বিপুল আনন; চোখদুটি জ্বলজ্বল করে যেন অকালদণ্ড দুলছে দোলনায়!
-
লন্ডনের লিসা
বলবয় থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দুরূহ স্বপ্নের প্ররোচনা আমাকে কেবলই করেছে বিদীর্ণ। আশা ছিল সঠিক আঘাতে বার্ডি পেয়ে যাবো বারবার, কখনো হঠাৎ পাবো সোনালি ঈগল। স্বপ্নের ধূসর ছাইভস্ম মেখে কী অদ্ভুত চেহারা আমার! সোনালি ঈগল পাওয়ার আকাক্সক্ষা সুদূরপরাহত। কাঁটা ঝোপ, পানির পরিখা পার হয়ে বল আমার কেবলই হয় লক্ষচ্যুত বারবার আমার কপালে মিলে বগি, ভুল শুধরে…
-
সেতু
এ সেতু ভেঙো না এ সেতু সকাল-সন্ধ্যা সোনালি বাঁধন এ সেতু চিৎপ্রকর্ষের উৎকর্ষ সাধন। এ সেতু ভেঙো না এ সেতু স্বপ্ন প্রেম শৈলী শিল্প এ সেতু হৃদয়ের ইতিহাস রেনেসাঁ গল্প। এ সেতু ভেঙো না নিও না খুলে পাথর সুড়কি মেরো না গাইতি শাবল আঘাত করো না এর বুকে এ সেতু তোমার আমার…
-
কবোষ্ণ কবিতার কাপ
ফুলের অসুখে আক্রান্ত মন হলুদে ভরেছে অবারিত সবুজের মাঠ স্বপ্ন জাগানিয়া তাপে উঠছে নামছে প্রেমের পারদ, হৃদয় ফ্লাস্কে কবোষ্ণ ভালোবাসা প্রতিদিন ঢালি কবিতার কাপে … আমলকি আদরে উষ্ণতা বাড়ে চুমুকে চুমুকে পান করি জীবন লাউয়ের ডগার মতো বাড়ে তৃষ্ণার পাতা ভালোবাসার শরীর ভেজাই ভেষজ বিশ্বাসে দৃষ্টির দুধ আর চেতনার চা-চিনি উজ্জীবিত করে আমার চেতনার ক্যাফেইন…
-
পথ
বিছানো রয়েছে পথ বহুদূর অবধি সর্পিল পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গিয়েছে যে নদী তারই কোলঘেঁষে – প্রকৃতি ও মানবনিবাস গেছে বহুদূর অজানায় – তারপর নদী ও পাহাড়ের কোল তাকে স্বপ্নের মতো করে নিয়েছে জড়িয়ে বহুদূর মেঘের ওপারে; আমরাও হেঁটেছি কত জীবনের অনিকেত পথ হারিয়েছে সেই দিন জ্যোৎস্নার মিথ্যে কুহকে! শৈশবের আলপথে হেঁটে হেঁটে কেটে গেছে যেই…
-
তোমার গোড়ালি
হয়তো অনেক কিছু বলতে পারোনি এই ধূলিকণা ছাইভস্ম নিষ্পাপ উঠোন সমীকরণের নামে কিছু কুসুমকল্লোল তালিকাবিহীন সুখ বেহিসেবি ঝড় ভবঘুরে চাঁদ কিংবা আকাশনূপুর ভাঙা পাঁচিলের শোক আর বিষণ্ন আগুন প্রার্থনাসভার শেষে হলুদ বিষাদমাখা বাউলের গান বেখেয়ালি আয়ুর নিশান হয়তো হঠাৎ এসে উড়িয়েছে নীল উত্তরীয় বলতে পারোনি এ সমস্ত বলার…
-
রাজকন্যা
কী যে ভালোবাসি মেয়ে, কী যে ভালোবাসি। তুমি তা বোঝো না বোঝো না। বোঝো না বলে আবার হলুদ দোতলা বাড়ি নিয়ে কবিতা লিখছি। ছাইরঙা জানালায় মিশে যাওয়া তোমার লজ্জা, আলো নিভিয়ে দেবার পর আরো আলোকিত ঘরের রহস্য আমাকে গোলকধাঁধায় ফেলে। তুমি চুল বাঁধতে বাঁধতে আমার বোকামো দেখে হেসে কুটিকুটি। ময়ূরের পেখম ছুঁয়েছি কবে, কবে দেখেছি…
-
বাঁক
তুমি তার কথা বলো না। তার পদচ্ছাপ মুছে দিয়েছে আবাল নাবিক, শুয়োর আর কুকুর শাবকগুলো ম্যাড়মেড়ে হাসে, তাঁবুর মধ্যে জ্বালিয়ে দেয় লজ্জাবতী রোদ্দুর। তুমি পিছল পথের বাহু ছুঁয়ে ছুঁয়ে নেমে যাও চারুকলার ক্যানভাসে ফ্লোরের রেখায় রেখায় তুলিতে তুলিতে ক্রিম মেখে নাও, একটা আঙুল জানে ভঙ্গুর জাতির ভেতর কী করে প্রোথিত করে দিতে হয় দৃঢ় প্রত্যয়। …
-
দৈব
মাঝে মাঝে এভাবেই একা হয়ে যাই – মৃত্যুর সবুজ সরণিতে ব্যথাতুর গানে কোনো ভিখারি জানিয়ে যায় – তার শেষ ইচ্ছের কথা প্রপঞ্চ অন্ধকারে দাঁড়িয়ে দেখেছি, মাতাল অবয়ব ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার আগে যিশু এঁকেছিলেন – ক্ষমাসুন্দর কোনো রুকস্যাক ক্রমশ ভুলে যাচ্ছি – আমাদের মধ্যযুগ, মনসামঙ্গলের রাত কিংবা বেহুলার বিমর্ষ উচ্চারণ … প্রতিদিন উপাচার এঁকে…
-
চিঠির আমলের কবিতা
চিঠির আমলে এক বৃহস্পতিবারে আগরবাতি-মোমবাতি নগদ দশ টাকাসহ বুড়াপিরের মাজারে গিয়েছিলাম যেন গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুলের সব থেকে স্মার্ট ধবধবে ফর্সা পুতুলটা চিঠির উত্তর দেয় সরাসরি আমার হয় আর মনোবাসনা রয়েসয়ে পূর্ণ হ’তে থাকলে চিঠি আসে আপনি স্বতঃস্ফূর্ত স্বপ্নবাজ চিঠি আসে কাঁপুনে হাঁটু শক্ত ক’রে সমাজে মর্যাদার বীজ বপন করুন চিঠি আসে বাবা সরকারি চাকুরে তল্পিতল্পা…
-
পুরুষের নাচ
নারীরা ধর্ষিত হতে হতে শিশুরা নির্যাতিত হতে হতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর মায়েরা গর্ভবতী না হওয়ার ও শিশুরা জন্মগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ। এখন আর কোনো নারী নেই কোনো শিশু নেই পথে কেবল কয়েকটা পুরুষ ঘুরছে পশুর ভঙ্গিতে। তাই দেখে ফুল পাখি ঝরনা ও বৃক্ষরা ক্ষুণ্নস্বরে বলাবলি করছে – পশুরা খাদ্য মজুদ করে…
