কবিতা
-
আরণ্যিক মেঘের চোখে
যা দেখি তার চেয়ে বেশি দেখি ধুলোর প্রলেপ ভাঙা রোদ, বিচূর্ণ ইচ্ছের স্বপ্নহীন মাতামাতি। রংধনু নকশা বলো, আর জোছনা মাখা ছায়াই বলো দৃষ্টিসীমায় পড়ে থাকে বন্ধ্যা জমিন, তৃষ্ণার্ত নদী। আরণ্যিক মেঘের চোখে যে বিচ্ছুরিত দ্যুতি তাতেও দেখি লৌকিকতার অসার ফুলঝুড়ি। আচ্ছন্ন হয়ে থাকা সমস্ত অভিজ্ঞানে জুড়ে থাকে নগ্ন ক্ষুধা, রক্ত মাটির মনছোঁয়া বেদনার্ত ঋণ। পাঁজর…
-
রূপের মাছ
চল্ যাই পদ্মায় – এ রাতে ধরি মাছ – বেশ তো দেখলাম নদীর ভাব ঝিলমিল-জোছনায় তারারা জ্বালে দীপ – চক্ষু মেললেই ঝিলিকলাভ ঝলমল ওই জল, নাচে কী আহা ঢেউ! উড়ছে গাঙচিল, ডানায় জ্বর আয় এই সন্ধ্যায় – গোপনে ছাড়ি নাও – জলদি দাঁড়, পাল জোগাড় কর্ স্বপ্নের নৌকায় দুজনে…
-
সে তো, আজন্ম পিপাসার জলে হতাশার আধেক নুন
মনে পড়ে না : সুখ নিয়ে সাত-সতেরো ভাবনায় কবিতা লিখতে চেয়েছে – বিবাগী এই মন! স্বল্প-আয়ুর সুখ? কবিতা লেখার টেবিল অবধি যেতে যেতে ফিরে গেছে সে অন্যের সিংহ-দরোজায় – বিষণ্ণতা? আনন্দের বিপরীত স্রোতে তীরের ফলার মতো ছুটে এসে, ভেঙেছে সে হৃদয়, হৃদয়ের নিঃসঙ্গতা ও একাকিত্ব! দুঃখ? কারণে অকারণে সে আমার বুকের মধ্যে মায়াবন-বিহারিণী, অথৈ বেনোজলে…
-
ডেভেলস ব্রেথ
সৌগন্ধহীন সাদা পাউডার যখন দিগন্তের পেছনে ছুটতে থাকে তখন হাওয়ায় উড়তে থাকে শূন্যতা! নৈঃশব্দ্যের ভেতরে মুদ্রিত হতে থাকে রঙের খেলা! নিঃশব্দে অচেনা পথ অচেনা মানুষের অনুগত হতে হতে জীবন খেয়ে ফেলে ডেভেলস ব্রেথ! কতটা নতজানু হলে বেমালুম সব ভুলে গিয়ে সর্বস্বান্ত হলে মুক্ত হওয়া যায়? এই রক্তাক্ত বিকেল বিমূঢ় অসিত্মত্ব, পচে যাওয়া মগজ, পাঁজর ভাঙার…
-
জন্মান্ধ সুন্দর
ছায়ার ভেতর বাগান সেখানে বৃক্ষর পরিচর্যা নেই আগাছায় ঢাকা গোলাপগাছেরা ভুলে গেছে ফুল ফোটানোর বৃত্তান্ত বকুলগাছের পাতা ঝরে লতা-গুল্মের সর্পিলতা চারদিক তালগাছের কা- ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে বামন গাছটি উঁচু হয়ে দাঁড়ায় লোকটি দেখেনি হৃৎকমলের গোপন সুন্দর – পাতার বিন্যাস সে ভুলে গেছে জন্মান্ধ হোমার উপাখ্যান।
-
মানুষের মনে বিস্ময় নেই
আলো কমে যাচ্ছে, বিস্ময় নিভে যাচ্ছে আমি বোধ হয় পৃথিবীর কেউ নই, মানুষের চোখে এখন আর বিস্ময় দেখা যায় না – আঘাতেরও ভয় নেই মানুষের। নতুন বসন্ত আসে না আর জীবনে মানুষের মনে নেই এখন আর জলের আলোড়ন – মানুষের মনের কোলাহলে নেই নদীর জল। মানুষের বুকে হেঁটে যায় না আর উজ্জ্বল রোদ মানুষের চোখ…
-
চেতনা
তন্দ্রাচ্ছন্ন পড়ে থাকি এক কোণে নিস্তব্ধ গভীরতায় ঝাঁকে ঝাঁকে স্বপ্ন এসে তাড়িত করে প্রতিশ্রম্নতির মুগ্ধতায় চোখে বুনে দেবে সবুজ ফসলের সম্ভার কোনো একদিন কেউ আশ্বাসের বিভোরতায় সযত্নে তুলে নিয়ে গেছে হৃৎপিণ্ড অসমাপ্ত গল্পের ফাঁদে শত শত কাকের করুণ আর্তনাদ বেজে ওঠে নিউরনে অনুভূতির মর্মরতা থেমে যায় তার হাতের মুঠোয় মৃত মাছের মতো নিষ্প্রভ চেয়ে থাকে…
-
চূর্ণ কবিতা
১. অদ্ভুত দাঁতকপাটি ভেতরে সজাগ জিভ, কিছু বলতে চায়, পারছে না! ২. এখানে আলোয় ভরা লতা গুল্ম গাছ ও আগাছা তথাপি মানুষ কুয়াশাপ্রেমিক! ৩. কলমের ভারবহনে অক্ষম আঙুলগুলোই সহসা বাচাল হয়ে ওঠে – ভাড়া খাটে যত্রতত্র। ৪. কবিতার সংবর্ধনা বোঝে যে যাপন সেখানে বাগান জুড়ে সারারাত শিশিরের গান।
-
রক্তপ্রবাহ
কতদিন এভাবে রক্ত-তখতের ওপর বসে রব – দাও ডালিম ও দ্রাক্ষার রস – কর্পূরের সুগন্ধে কী ভাষা থাকে, গোলাপের পাপড়িতে থাকে কোন কোন অনুপলব্ধ অভিমান? রঙের মধ্যে কে সেরা, তা নিয়ে কি ঈর্ষাযুদ্ধ চলে রঙধনুর শিরা-উপশিরায়? মরূদ্যান থেকে ফিরে ওসব নিয়ে ভাবব না হয় – এই রক্তপ্রবাহ নিষ্ঠুর, প্রাণঘাতী – এবার বিনোদ বৃষ্টি চাই – …
-
শুভ্রা
বৃন্তমঞ্জিমায় ফোটা বিন্দু অতুল মাতৃকাতরতায় সঞ্চরণ সমীপে শরৎ, হেমন্তের পরম আত্মীয় জবুথবু বিন্দু মৃদু গন্ধে ব্যাকুল। অনেক উঁচুতে লুকানো স্পন্দন গাঁথা আত্মিক বিকিরণে সঙ্গ জড়াই নিস্তব্ধ, সঞ্চিত স্বর গলে গলে যায় নির্ভার, নির্বিষ যেন বৃক্ষমাতা। তোমার প্রবল ও অন্তর্মুখ খসে পড়া টের পাই অন্ধকারে ফোটা শিহরণ আধো ভোর-আলো নিমগ্ন ঝরে পড়া আলো মাটিতে দপকালো…
-
প্রত্যাখ্যান নয়
প্রত্যাখ্যান নয়, যদি হৃদয় তাপে হৃদয় শুদ্ধ করে নিতে পারো এক পৃথিবী প্রেম উজাড় করে দিতে পারো কবিতার বাইরে দুজনার অসিস্ত রাখতে পারো হাতে হাত রেখে কিছুদূর হেঁটে যেতে পারো যদি চোখে চোখ রেখে কিছু কথা শুনতে পারো বসমেত্মর শুরুতে ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে পারো যদি রাত জেগে আমাকে গান শোনাতে পারো কপালে হাত রেখে কবিতা…
-
রহস্যময়ী
কেটে গেছে অনেকগুলো বছর পদ্মদিঘির পাড়ে জমে উঠেছে শ্যামলা রঙের দিনগুলো নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে হেরে যাচ্ছি সমাজ-বন্ধুর কাছে অযথা নিজেকে লুকিয়ে রাখার নির্মম বাসনায় পালিয়ে বেড়াই। গভীর থেকে গভীরতার মধ্যেও তলিয়ে যায়, সে কি আশ্রয় চেয়েছিল হাতের তালুতে, জানি না তবে সে ফিরেছে নৈর্ব্যক্তিক আঙ্গিকে ঘন কুয়াশার ভেতরে মিশে যাচ্ছে দুধসাদা জোছনার পথে…
