কবিতা

  • তৃষ্ণাদুপুর

    ও সূর্য যৌবন দাও, ঢেলে দাও আলোময় অতল ফাগুন। শতাব্দীর দুঃখভরা গভীর বিষাদ দূর হয়ে যাক, দ্রুত – শনশন ঝড়ের বেগে উর্বরা হাওয়ায়। চরম সত্যের পথে যদি পাহাড়ের বাধা, তবে কীভাবে যে ফুটবে ফুলের কুসুম! ডানা মেলে দেখা দেবে পাখির ঝলক। ছয়টি ঋতু কীভাবে যে গোপনেই গুছিয়ে ফেলে তোমার তৃষ্ণাদুপুর! ভাঙা বাসনায় যদি গ্রাস করে…

  • শস্যকথা

    বেলাভর মোহদানা মাটির শরীরে পুঁতে দিয়ে শব্দের কৃষক একা হেঁটে যান দূর ভাঙা-মন আলপথ ধরে। জীবন লিখিত হবে একদিন এই মাঠে খুব – কলমের নিখাদ আদরে।

  • কাঁটাতার

    দেবাশিস দাশ অবিভক্ত মানচিত্র ভাষার নিজস্ব ধর্মে স্থির। পার্বতী নামের সেই মুসলিম ঘরণীকে দেখি আল ধরে হেঁটে যাচ্ছে বিষাদ-সন্ধ্যার মাঠে-মাঠে। দূরে, নদীরেখা ধরে বিভাজিত হয়ে আছে মাটি। এপার-ওপার তবু একই কহু ওড়াউড়ি করে …

  • অরূপ জলসা

    মহল্লার সড়কগুলো জলমগ্ন হলে ফুরোয় না কথা তবুও বৃষ্টির কী-যে এতো কথা মনেতে আমার হাওরসুন্দরীর প্রেম জাগে, হাওরসুন্দরী ছোট ঘরটি হয়ে যায় জৌলুসময় প্রাসাদ জারুল হিজল পত্রে নেমে আসে পুরনো জোছনা, তাতার পাখি যখন বৃষ্টি সুরে কৃষ্ণ বাজে মাতাল হাওয়া, বৃন্দাবন বিবসন রাধা মনেতে কেবল হাওরসুন্দরী, যাদুকাটা নদী মাখামাখা জোছনা, দীঘল রজনী হাওরসুন্দরী রূপ নিয়ে…

  • দণ্ড

    মাথার ওপরে চড়া রোদ কখনো বেদম বৃষ্টি-ঝড় শকুনের চোখ পাক খায়, পাক খায় উন্মত্ত ক্রোধ – হাজার কোটি প্রকরণ ভিড়ে কিছু গাছ থাকে; দানাসহ ফল ধরে বুক ফুঁড়ে-ছিঁড়ে – কতশত সয়ে-বয়ে-সব্ব – কিণ¦ আকণ্ঠ ধারণ করা ২০২০ জন্মশতবর্ষে দগদগে ক্ষতচিহ্ন। অথচ অক্ষত বন্ধুবরেনেষু মাঠে-ঘাটে-প্রান্তরে, দ্বারে দ্বারে আশরাফুল মখলুকাত বিপন্ন সুজনেষু। ‘আমার হাতের তর্জনী কোথা গেল…

  • আবহাওয়া অধিদফতরের দোষ দিয়ে লাভ নেই

    ক্ষতি যতটুকু হওয়ার তা হয়ে গেছে এখন আবহাওয়া অধিদফতরের দোষ দিয়ে লাভ নেই। আবহাওয়ার খবরের কোনো সত্যতা থাকে না এটা তো সবাই জানে সকালে বৃষ্টির কথা বললেও দেখা যাবে কড়কড়ে রোদ উঠে ভরে গেছে বাড়িঘর আর রোদের কথা বললে ঝুপঝাপ নামবে বৃষ্টি, শহরজুড়ে। একটু-আধটু ভালোবাসা না পেলে ক্ষতি হয় না এসবের জন্য হাহাকার করতে নেই,…

  • অকস্মাৎ বৃষ্টিপাত

    অকস্মাৎ বৃষ্টিপাত শাহবাগে তারুণ্যের ফুলের কোরকে অপূর্ব জোয়ার জীবন সায়াহ্নে আজ নেমে আসে চন্দনের গন্ধমুখরিত রাত ফিরে আসে অরণ্যহৃদয় সেই সাথে ফিরে আসে বিশাল বিপুল জল কলকল এক হারানো স্বদেশ। ২১/২/২০১৩

  • কতকগুলো দুপুর

    কতকগুলো দুপুরের ভাষা আছে সুন্দর কতকগুলো দুপুরের জমে ওঠা সর তরতাজা সজীব কতকগুলো দুপুর আবার বড্ড বাজের বাজে কতকগুলো দুপুর এক্কেবারে যাচ্ছেতাই দাঁত বের করে হাসে ঠাঠা কতকগুলো সন্ত্রাসী দুপুর কোমরের ওই খাঁজে লুকিয়ে রাখে চকচকে পিস্তল কতকগুলো দুপুর আলসেমি করে শুধু পায়ে পায়ে ঠেস রাখে সারাটা সময় কতকগুলো দুপুর নিজেই আনমনা কি জানি কেন…

  • সপ্তপদী

    ১. দুই চাকাতে একটি গাড়ি চলে নড়ে বড়ে বৃষ্টি হয়ে মাটির পথ কাদায় যায় ভ’রে চলতে গিয়ে গতি অনেক শিথিল হয়ে পড়ে : তাই না দেখে গ্রামবালিকা হেসেই কুটিকুটি সেই হাসিতে ভড়কে গেলে বিভুল চোখ দুটি প্যাঁকের টানে আটকে চাকা কাদায় লুটোপুটি : চিৎপটাং! চিৎপটাং! হাসে বালিকা একা। ২. কাক ডাকে যে কা-কা ক’রেই, মোরগ…

  • অর্চনা

    ভেরেন্ডা ভাজা প্রতিদিন মাঝে মাঝে ফুটকড়াই দাঁতেও কাটে না – অর্চনা লিখেছে রচনা। এই তো দ্যাখা হলোও হাতভর্তি ঠোঙা তখন মেঘের নিচে               ফোঁটা-ফোঁটা অবিরাম – ভেরেন্ডার ফল। দিন যায় ফল পাড়তে, ফুল পাড়তে কার্নিশ ছাড়িয়ে রাতে                      গুনতে গুনতে তারা দ্যাখে, কবিতা স্বয়ম আগতা।

  • কেউ জানে না

    বৃষ্টি কেন হয়, বৃষ্টি কেন পড়ে কেন যে পাতা নড়ে মেঘের কাছে জানতে চাই তার বৃষ্টিকথা কী আছে বাকি আর গাছের কিছু বলার আছে বাকি হাওয়ার সাথে এতো যে মাখামাখি বৃষ্টি এলে বজ্র কেন বাজে মন লেগে যায় উদাস হওয়ার কাজে বাড়িগুলো আনন্দে স্নান সারে জানালা খোঁজে হারিয়েছিল যারে কেন যে মেঘ জলদি করে ডাকে…

  • ভোরের বিজ্ঞাপন

    মুছে যায় পথের অক্ষর যা ছিল ভোরের বিজ্ঞাপনে          বকুলগাছের নিচে ছায়ার ভ্রমণ ছিল দুপুরে চন্দ্রগ্রস্ত রাত্রিও ছিল ভিড় এড়িয়ে মুখোমুখি চোখের ভেতর-মাধুকরী                       ফুলের পাথর বৃষ্টির নিচে আগুন ছিল পুড়েছে রাতের দীর্ঘশ্বাসে মেঘের গোপন ডানা – ভোর-সন্ধ্যাবেলা শুধু পুড়ছে না তার হাসির ঘ্রাণ              প্রফুল্ল ছায়ার শব্দ